কবি পীতাম্বর দাস - জন্মগ্রহণ করেন সপ্তদশ শতকের সম্ভবত মধ্যভাগে। পিতা, ১৬৪৩-১৬৭৬ খৃষ্টাব্দে
রচিত “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ রসকল্পবল্লী” বৈষ্ণব পদাবলী সংকলনের রচয়িতা
গোপালদাস বা রামগোপাল দাস

পিতা রামগোপাল দাসের আজ্ঞায়, পুত্র পীতাম্বর দাস “রসমঞ্জরী” নামে একটি বৈষ্ণব অলঙ্কার বিষয়ক গ্রন্থ  
রচনা করেন। সেই গ্রন্থে শুধুমাত্র অষ্ট নায়িকার পরিচয় ও তাঁদের বৈশিষ্টাদি বর্ণিত হয়েছে।

এই গ্রন্থের ভণিতার কলি থেকে জানা যায় যে পীতাম্বর দাসের দীক্ষাগুরুর নাম ছিল শচীনন্দন।
শ্রীশচীনন্দন প্রভু ঠাকুর আমার।
পীতাম্বর দাস কহে রসের বিস্তার


পিতা
রামগোপাল দাসের “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ রসকল্পবল্লী” বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন থেকে তাঁদের বংশ ও
পরিবার সম্বন্ধে বহু তথ্য পাওয়া যায়। যেমন আদি পঞ্চম পুরুষ চক্রপাণি এবং তাঁর ভাই মহানন্দ
রঘুনন্দনের শিষ্য ছিলেন এবং তাঁরা নীলাচলে গিয়ে
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন।

পীতাম্বর দাসের দীক্ষাগুরু শচীনন্দনের পিতা
রতিপতি ঠাকুর ছিলেন রামগোপাল দাসের দীক্ষাগুরু।
রতিপতি ঠাকুর ছিলেন শ্রীচৈতন্য পরিকর
নরহরি সরকার ঠাকুরের ভাই মুকুন্দের বংশধর।
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি -                                   পাতার উপরে . . .  
শিক্ষাবীদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও প্রাচীন পুথির সংগ্রাহক,
শ্রী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, সুরেশচন্দ্র  
সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯১৮), তাঁর “সঙ্গীত শাস্ত্রের  
একখানি প্রাচীন গ্রন্থ” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .
“. . .
বৈষ্ণব পদাবলীর মত সুন্দর জিনিস বঙ্গসাহিত্যে আর নাই। কাণের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া প্রাণ
আকুল করিয়া তুলিতে পারে, এমন সুধাস্রাবী ঝঙ্কার বৈষ্ণব পদাবলী ভিন্ন বাঙ্গালায় আর কিছুতে নাই
।”


আমরা পীতামেবর দাসের রচিত "অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও রসমঞ্জরী” থেকে তাঁর প্রাপ্ত একটি মাত্র পদ এবং গ্রন্থের
কয়েকটি পয়ার এখানে তুলে দিলাম।

আমরা
মিলনসাগরে  কবি পীতাম্বর দাসের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।


কবি পীতাম্বর দাসের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।   


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ৩১.৮.২০১৭

...
রসমঞ্জরী পুথির আলোচনায় অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণের উদ্ধৃতি  
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি    
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
*
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
পীতাম্বর দাসের রসমঞ্জরী পুথির নিয়ে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণের উদ্ধৃতি -     পাতার উপরে . . .   
১৩৩৩ বঙ্গাব্দে (১৯২৬ খৃষ্টাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত, বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ ও
তারাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য্য সংকলিত, অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ”, ৩য় খণ্ড
২য় সংখ্যায়, পীতাম্বর দাসের “রসমঞ্জরী” পুথির আলোচনায় বিদ্যাভূষণ মহাশয়, ১৭১-পৃষ্ঠায় লিখেছেন . . .

যে সকল পদকর্ত্তাদের পদ এই পুথিতে উদ্ধৃত হইয়াছে, এখানে তাঁহাদের নামের তালিকা প্রদত্ত হইল ; ---
গোপালদাস, গোবিন্দদাস, কবিরঞ্জন, যশোমন্তরাজ খান, বিদ্যাপতি, জয়দেব, কবিশেখর, লোচনদাস, সনাতন
গোস্বামী। ইহা ছাড়া গ্রন্থকার আরো অনেক পদ গ্রন্থমধ্যে উদ্ধৃত করিয়াছেন ; কিন্তু সেই সকল
পদের ভণিতার অংশ না থাকায়, সেগুলি কোন্ কোন্ কবির রচিত, তাহা জানিবার উপায় নাই। গ্রন্থকারের
নিজকৃত একটি পদও পুথিতে স্থান পাইয়াছে। পদকর্ত্তাদের নামের তালিকার মধ্যে যশোমন্ত খানের নাম
দেওয়া হইয়াছে। ইহাঁর একটি পদের ভণিতায় হুসেন শাহের নাম পাওয়া যায় ; তাহা এই ;---
শ্রীজুত হসন                জগতভূবন
.        সোই ইহ রষ জান।
পঞ্চ গৌড়েশ্বর                ভোগ পুরন্দর
.        ভণে জষমন্তরাজ খান॥

সঙ্গীতদামোদর, কৃষ্ণমঙ্গল, গীতগোবিন্দ, গীতাবলী, পদ্যাবলী, কৃষ্ণামৃত, সঙ্গীতশেখর, কাব্যসন্তোষ, এই সকল
পুস্তক হইতে পীতাম্বরদাস প্রমাণ উদ্ধৃত করিয়াছেন। গ্রন্থের প্রারম্ভে তিনি বলিয়াছেন যে, তাঁহার পিতা,
রসকল্পবল্লী নামে একখানি বই রচনা করেন ; তাহার অষ্টম কোরক অবলম্বন করিয়া, তিনি ‘রসমঞ্জরী’
সংকলন করিয়াছেন।

যদিও পীতাম্বর, রসমঞ্জরীতে তাঁহার পিতৃ-পিতামহের পরিচয় কিছুই দেন নাই, কিন্তু তাঁহার পিতার রচিত
রসকল্পবল্লীতে এ বিষয়ের বিস্তৃত বর্ণনা আছে। তাহা হইতে জানা যায় যে, চৈতন্য মহাপ্রভুর নীলাচলে
অবস্থানকালে রঘুনন্দনের শিষ্য চক্রপাণি ও মহানন্দ নামে দুই ভাই মহাপ্রভুকে দর্শন করিতে যান। মহাপ্রভু
মহানন্দকে সেবাধর্ম্ম সাধন করিতে এবং চক্রপাণিকে গৃহে গমন করিতে আদেশ করেন। চক্রপাণি চৌধুরীর
পুত্র নিত্যানন্দ, তাঁহার পুত্র গঙ্গারাম চৌধুরী। গঙ্গারামের পুত্র শ্যামরায়, তত্পুত্র জ্যেষ্ঠ মদনরায় চৌধুরী---ইনি
গোবিন্দলীলামৃতের অনুবাদ করেন এবং কনিষ্ঠ রামগোপাল---রসকল্পবল্লীর রচয়িতা এবং পীতাম্বরদাসের
পিতা।

শ্রীখণ্ডনিবাসী শ্রীশচীনন্দন ঠাকুর পীতাম্বরের গুরু ছিলেন, এ কথা গ্রন্থকার প্রতি অধ্যায়ের শেযে বলিয়া
গিয়াছেন। রামগোপালদাস ১৫৬৫ শকাব্দের বৈশাখ মাসে রসকল্পবল্লীর রচনা আরম্ভ করিয়া, ঐ সালের
কার্ত্তিক মাসে শেষ করেন
।”
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
পীতাম্বর, পীতাম্বর দাস
.