কবি শশিশেখরের বৈষ্ণব পদাবলী
*
নবহ রুচি মেহ সখি নীপমূলে পেখলু
নবহু রুচি দেহ সখি নীপহি মূলে পেখনু
নবহুঁ রুচি সেহ সখি নীপহুঁ মূলে পেখলুঁ
কবি শশীশেখর
এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ১২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুরট জয়জয়ন্তী - জপতাল॥

নবহ রুচি মেহ সখি                নীপমূলে পেখলু,
নয়ন মন ভুলল মঝু ভরমং।
তরুণ তমাল কিএ,             কিএ দামিনী অম্বরে,
লখিতে নারিলু সখি শ্যাম কিএ গৌরং॥
উচ্চ চূড়া টেড়া,                নব পুচ্ছ তহি উপর,
বিরাজিত সতত তছু বামং।
ইন্দ্রধনু আকৃতি,                   চূড়াপরি শোভই,
শোভিত মণি মুকুতার দামং॥
অঙ্গাকৃতি ভঙ্গী বাঁকা,               বঙ্কিম সুচাহনি,
করেতে বাঁশী অধরে হাসি শোভং।
শশিশেখর সঙ্গে হাম,             যোই রূপ পেখলু,
সোই রূপ জাগয়ে নিশি দিবসং॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

নবহু রুচি দেহ সখি          নীপহি মূলে পেখনু
নয়ন মন ভুলল মঝু ভরমং।
নৌতুন তমাল কিয়ে          কিয়ে দামিনী অম্বর
লখিতে নারিনু হাম কাল কি গউরং॥
উচ্চ চূড়া টেড়া নব            পুচ্ছ তাহে কাপড়
বিরাজিত সতত তছু বামং।
ইন্দ্রধনু আকৃতি                   চূড়াপর শোভই
শোভিত মণি মুকুতার দামং॥
অঙ্গাকৃতি ভাঙ্গ বাঁকা              বঙ্কিম সুচাহনী
করেতে বাঁশী অধরে হাসি শোভং।
শশী শেখর সঙ্গে হাম               যৈরূপ পেখনু
সেইরূপ জাগে হৃদি নিশি দিবসং॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ॥

নবহুঁ রুচি সেহ সখি          নীপহুঁ মূলে পেখলুঁ
নয়ন মন ভুলল মঝু ভরমং।
তরুণ তমাল কিয়ে          কিয়ে দামিনী অম্বরে
লখিতে নারিনু সখি গৌর কিয়ে শ্যামং॥
উচ্চ চূড়া টেড়া           শিখি পুচ্ছ তহি উপরি
বিরাজিত সতত তছু বামং।
ইন্দ্রধনু আকৃতি               চূড়োপরি বিরাজই
সুশোভিত মণি মুকুতা দামং॥
অঙ্গাকৃতি ভঙ্গী বাঁকা              বঙ্কিম সুচাহনি
করেতে বাঁশী অধরে হাসি শোভং।
শশিশেখর সঙ্গে হাম            সোইরূপ পেখলুঁ
জাগরে রূপে নিশি দিবস লোভং॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নবহুঁ রুচি মেহ সখি নীপহুঁ মূলে                         
পেখলুঁ নয়ন মন ভুলল মঝু ভরমং।
তরুণ তমাল কিয়ে কিয়ে দামিনী অম্বরে                
লখিতে নারিনু সখি গৌর কিয়ে শ্যামং॥
উচ্চ চূড়া টেড়া শিখি পুচ্ছ তহি উপরি                
বিরাজিত সতত তছু বামং।
ইন্দ্রধনু আকৃতি চূড়োপরি বিরাজই                     
সুশোভিত মণি মুকুতা দামং॥
অঙ্গাকৃতি ভঙ্গী বাঁকাবঙ্কিম সুচাহনি                     
করেতে বাঁশী অধরে হাসি শোভং।
শশিশেখর সঙ্গে হাম সোইরূপ পেখলুঁ                  
জাগরে রূপে নিশি দিবস লোভং॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
আওত শ্রীদামচন্দ্র সুরঙ্গ পাগড়ী মাথে
আওয়ে ছিদাম চন্দ্র রঙ্গিয়া পাগুড়ি মাথে
ভণিতা শেখর / শশিশেখর
কবি শশিশেখর
এই পদটি ১৯২২ সালে, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আওত শ্রীদামচন্দ্র সুরঙ্গ পাগড়ী মাথে। স্তোককৃষ্ণ অংশু বল দাম
বসুদাম সাথে। করে পাঁচনি বঙ্কিম ধটী বেণুবর বাং কাঁখে। জিতি কুঞ্জর, গতি
মন্থর, ভাই ভাই কলি ডাকে॥ গোছাদন ডুরি কন্ধন, কানে রুণ্ডল খেলা।
গলে লম্বিত গুঞ্জাবলী, ভুঞ্জে অঙ্গদ বালা॥ ফুট চম্পকদল নিন্দিত উজ্জ্বল তনু-
শোভা। পদপঙ্কজে নূপুর বাজে শশীশেখর লোভা॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” গ্রন্থের পদ।

গোষ্ঠবিহার
॥ তুড়ী - তাল খেমটা॥

আওয়ে                     ছিদাম চন্দ্র
রঙ্গিয়া পাগুড়ি মাথে।
একে অর্জ্জুন                  অংশুমান
দাম বসুদাম সাথে॥
কটি কাছনি                  রঙ্গিন ধটি
বেণু-বর বাম কাখে।
জিতি কুঞ্জর                  গতি মন্থর
ভায়া ভায়া বলি ডাকে॥
গলে লম্বিত                     গুঞ্জাবলি
ভুজে অঙ্গদ বালা।
গো-ছান্দন                    ডুরি কন্দল
কাণে কুণ্ডল-খেলা॥
স্ফুট-চম্পক-                  দল-নিন্দিত
উজ্জ্বল তনু-শোভা।
পদ-পঙ্কজে                   নূপুর বাজে
শেখর-মন-লোভা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০২১  পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে

॥ গোষ্ঠবিহার॥

॥ তুড়ী – তাল খেম্ টা॥
আওয়ে ছি-                    দাম চন্দ্র
রঙ্গিয়া পাগুড়ি মাথে।
সুবলার্জ্জুন                     অংশুমান
দাম বসুদাম সাথে॥
কটি কাছনি                   রঙ্গিম ধটি
বেণু-বর বাম কাঁখে।
জিতি কুঞ্জর                  গতি মন্থর
ভায়া ভায়া বলি ডাকে॥
গলে লম্বিত                     গুঞ্জাবলি
ভুজে অঙ্গদ বালা।
গো-ছান্দন                  ডুরি কান্ধেতে
কাণে কুণ্ডল-খেলা॥
স্ফুট-চম্পক-                   দল-নিন্দিত
উজ্জ্বল তনু-শোভা।
পদ-পঙ্কজে                     নূপুর বাজে
শশিশেখর লোভা॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আওয়ে ছিদাম চন্দ্র                            
রঙ্গিয়া পাগুড়ি মাথে।
সুবলার্জ্জুন অংশুমান                          
দাম বসুদাম সাথে॥
কটি কাছনি রঙ্গিম ধটি                        
বেণু বর বাম কাঁখে।
জিতি কুঞ্জর গতি মন্থর                        
ভায়া ভায়া বলি ডাকে॥
গলে লম্বিত গুঞ্জাবলি                           
ভুজে অঙ্গদ বালা।
গো ছান্দন ডুরি কান্ধেতে                       
কাণে কুণ্ডল খেলা॥
স্ফুট চম্পক দল নিন্দিত                        
উজ্জ্বল তনু শোভা।
পদ পঙ্কজে নূপুর বাজে                        
শশিশেখর লোভা॥


.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
বাজত সব গোঠ বাজন নাচত বলবীরে
বাজত সব গোঠ বাজনা সাজল বলবীরে
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯২২ সালে, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দেব গোষ্ঠ।

বাজত সব গোঠ বাজন নাচত বলবীরে। মদঘুর্ণিত নয়ান-যুগল পাগ লটপটি
শিরে॥ গলে বনমালা, বাহেটার বালা, শ্রবণের কুণ্ডল সাজে। কানাই কানাই
কানায়ে বলে ঘন ঘন শিঙ্গা বাজে॥ নবনটবর নীলাম্বর লম্ফে লম্ফে আওয়ে।
মধুমদে যেন মাতল কুঞ্জর উলটী পালটি চাহে॥ আপন ছায়রি হেরি
ক্রোধাবেশ হই। হুঁ হুঁ পথ ছোড়ই বলি ঘন অঙ্গুলি দেই। করে পাঁচনি
কক্ষে দাবি রাঙা ধূলা গায়ে মাখে। কানাই কানাই কানাইয়া বলে, ঘন ঘন
ঘন শিঙ্গা ডাকে॥ করাঘাত মারি        বলে তিন বেরি স্থির হও ধ ধ ধরণি।
শশিশেখরে, কহে হলধরে, পদতলে যাও নিছনি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদের ৭ম কলি “নব নটবর নীলাম্বর” ইত্যাদি থেকে
শেষ অবধি, একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবে পাওয়া গেছে। পাঠকের জন্য আমরা দুটি পদ একত্রে তুলে দিলাম।

বলরামের গোষ্ঠসজ্জা
॥ টোরি॥

বাজত সব                   গোঠ বাজনা
সাজল বলবীরে।
মদ ঘুর্ণিত                       যুগল নেত্র
পাগ লটপটি শিরে॥
বলাইএর মুখ নয় যেন বিধুরে।
বুক বাহি পড়ে               মুখের লালা
শ্বেত কমলের মধুরে॥
গলে বনমালা              বাহে ওড়িবালা
কাণে কুণ্ডল সাজে।
ধবধব ধব-                    লী বলিয়া
ঘন ঘন শিঙা বাজে॥
নব নটবর                       নীলাম্বর
লম্ফে ঝম্পে আও রে।
কুঞ্জর গতি                   মন্থর অতি
উলটি পালটি চাও রে॥
আপন তনু                 ছায়রি হেরি
ক্রোধাবেশে দোলে।
হো হো পথ                 ছোড়হ বলি
অঙ্গুলি ঘন লোলে॥
কর পাঁচনি                    কক্ষে দাবি
রাঙা ধূলি গায়ে মাথে।
কাক্কা কাক্কা                 কানায়া বলি
ঘন ঘন ঘন ডাকে॥
পদাঘাত মারি           কহে বেরি বেরি
সুস্থিরা ভব ধরণী।
শশিশেখর                   কহে হলধর
পদতলে যাও নিছনি॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠলীলা।
॥ শ্রীরাগ - ছোট চলতি জপতাল॥

বাজত সব                গোঠ বাজনা
সাজল বলবীরে।
মদ-ঘুর্ণিত                   নয়ন যুগল
পাগ লটপটি শিরে॥
বলাইর মুখ নয় যেন বিধুরে।
বুক বাহি পড়ে          অধরের লাল,
যেন শ্বেত কমলের মধুরে॥ ধ্রু॥
গলে বন মালা,        বাহে তাড় বালা,
শ্রবণে কুণ্ডল সাজে।
ধব-ধব-ধব,               ধবলি বলিয়া,
ঘন ঘন শিঙা বাজে॥
নব নটবর,                     নীলাম্বর,
লম্ফে ঝম্পে আওয়ে।
মদে মাতল,                   কুঞ্জরগতি,
উলটি পালটি চাওয়ে॥
আপন তনু-                ছায়রি হেরি,
রোখা-বেশ হোই।
হুঁ হুঁ পথ,                   ছোড়হ বলি,
অঙ্গুলি ঘন দেই॥
করে পাঁচনী,                   কক্ষে দাবি,
রাঙা ধূলি গায় মাখে।
কা-কা কা-কা কা-কা,   কানাইয়া বলিয়া,
ঘন ঘন ঘন ডাকে॥
পদাঘাত মারি,           কহে তিন বেরি,
স্থিরাভব ধরণী।
শশি শেখর,                  কহে হলধর,
পদতলে যাঙ নিছনি॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৪০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি “বাজত সব গোঠ বাজনা” ইত্যাদি পদটির দ্বিতীয়ার্ধ, সামান্য পাঠান্তর
সহ। পাঠকের জন্য আমরা দুটি পদ একত্রে তুলে দিলাম।

অথ বলরামের আগমন
॥ তাল লোফা॥

নব নটবর, নীলাম্বর লম্ফে ঝম্পে আওয়ে। মদে মাতাল,
যেমন কুঞ্জর, উলটি পালটি চাওয়ে॥ আপন তনু, ছায়রি হেরি,
ক্রোধাবেশ হোই। হুঁ হুঁ পথ, ছাড়হ বলি, অঙ্গুলি ঘন দেই॥
করে পাচনী, কক্ষে দাবি, রাঙাধূলা গায়ে মাথে। কা কা কাকা
কাকা কানাইয়া বলি, ঘন ঘন ঘন ডাকে॥ পদাঘাত মারি, বলে
তিন বেরি, স্থিরা ভব ধরণী। শশি-শেখর, কহে হলধর, পদতলে
যাই নিছনি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাজত সখ১ গোঠ বাজনা                
সাজল বলবীরে।
মদ ঘুর্ণিত যুগল নেত্র                     
পাগ লটপটি শিরে॥
বলাইএর মুখ নয় যেন বিধুরে।           
বুক বাহি পড়ে মুখের লালা               
শ্বেত কমলের মধুরে॥
গলে বনমালা বাহে ওড়িবালা             
কাণে কুণ্ডল সাজে।
ধবধব ধবলী বলিয়া                        
ঘনঘন শিঙা বাজে॥
নব নটবর নীলাম্বর                        
লম্ফে ঝম্পে আও য়ে।
কুঞ্জর গতি মন্থর অতি                     
উলটি পালটি চাও য়ে॥
আপন তনু ছায়রি হেরি                    
ক্রোধাবেশে দোলে।
হো হো পথ ছোড়হ বলি                     
অঙ্গুলি ঘন লোলে॥
কর পাঁচনি কক্ষে দাবি                       
রাঙা ধূলি গায়ে মাথে।
কাক্কা কাক্কা কানায়া বলি                    
ঘন ঘন ঘন ডাকে॥
পদাঘাত মারি কহে বেরি বেরি              
সুস্থিরা ভব ধরণী।
শশিশেখর কহে হলধর                        
পদতলে যাও নিছনি॥

১। “সখ” - “সব” হবে। সম্ভবত মুদ্রাণ প্রমাদ।


.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
নব নটবর নীলাম্বর লম্ফে ঝম্পে আওয়ে
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৪০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি “বাজত সব গোঠ বাজনা” ইত্যাদি পদটির দ্বিতীয়ার্ধ, সামান্য
পাঠান্তর সহ। পাঠকের জন্য আমরা দুটি পদ একত্রে তুলে দিলাম।

অথ বলরামের আগমন
॥ তাল লোফা॥

নব নটবর, নীলাম্বর লম্ফে ঝম্পে আওয়ে। মদে মাতাল,
যেমন কুঞ্জর, উলটি পালটি চাওয়ে॥ আপন তনু, ছায়রি হেরি,
ক্রোধাবেশ হোই। হুঁ হুঁ পথ, ছাড়হ বলি, অঙ্গুলি ঘন দেই॥
করে পাচনী, কক্ষে দাবি, রাঙাধূলা গায়ে মাথে। কা কা কাকা
কাকা কানাইয়া বলি, ঘন ঘন ঘন ডাকে॥ পদাঘাত মারি, বলে
তিন বেরি, স্থিরা ভব ধরণী। শশি-শেখর, কহে হলধর, পদতলে
যাই নিছনি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদের ৭ম কলি “নব নটবর নীলাম্বর” ইত্যাদি থেকে
শেষ অবধি, একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবে পাওয়া গেছে। পাঠকের জন্য আমরা দুটি পদ একত্রে তুলে দিলাম।

বলরামের গোষ্ঠসজ্জা
॥ টোরি॥

বাজত সব                গোঠ বাজনা
সাজল বলবীরে।
মদ ঘুর্ণিত                   যুগল নেত্র
পাগ লটপটি শিরে॥
বলাইএর মুখ নয় যেন বিধুরে।
বুক বাহি পড়ে             মুখের লালা
শ্বেত কমলের মধুরে॥
গলে বনমালা           বাহে ওড়িবালা
কাণে কুণ্ডল সাজে।
ধবধব ধব-                   লী বলিয়া
ঘন ঘন শিঙা বাজে॥
নব নটবর                      নীলাম্বর
লম্ফে ঝম্পে আও রে।
কুঞ্জর গতি                   মন্থর অতি
উলটি পালটি চাও রে॥
আপন তনু                 ছায়রি হেরি
ক্রোধাবেশে দোলে।
হো হো পথ                 ছোড়হ বলি
অঙ্গুলি ঘন লোলে॥
কর পাঁচনি                   কক্ষে দাবি
রাঙা ধূলি গায়ে মাথে।
কাক্কা কাক্কা                কানায়া বলি
ঘন ঘন ঘন ডাকে॥
পদাঘাত মারি        কহে বেরি বেরি
সুস্থিরা ভব ধরণী।
শশিশেখর                 কহে হলধর
পদতলে যাও নিছনি॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
তুঙ্গ মণি মন্দিরে ঘন বিজুরি সঞ্চরে
ভণিতা শশিশেখর
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯২২ সালে, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তুঙ্গ মণি মন্দিরে ঘন বিজুরি সঞ্চারে মেঘরুচি বসন পরিধান। যত যুবতী
মণ্ডলী পহু ইহ পেখই কোই নহে রাই সমান॥ প্রতি দিবস নতুন ইহ, মৃগ
লোচনা অতএ তুই ইহারি অনুরাগী। ভাই বিহি তোহারি সুখ লাগি॥ রূপগুণ
সায়রি সৃজল ইহ নায়রি ধনিরে ধনি ধন্য তুহুঁ ভাগি॥ রতন অট্টালিকা উপরে
বসি রাধিকা তোহারি হৃদি মাঝ রহু জাগি। দিবস উর যামিনি হরি সুধা
কামিনি ধাই রহু শশিশেখর ভাগি।

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ খাম্বাজ॥

তুঙ্গ মণি মন্দিরে              ঘন বিজুরী সঞ্চরে
মেঘরুচি বসন পরিধানা।
যত যুবতী মণ্ডলী                পন্থ ইহ পেখলু
কোই নহে রাইক সমানা॥
ভাই বিহি তোহারি সুখ লাগি।
রূপেগুণে সায়রি                সৃজল ইহ নায়রি
ধনিরে ধনি ধন্য তুয়া ভাগি॥ ধ্রু॥
দিবস অরু যামিনী               রাই অনুরাগিনী
তোহারি হৃদি মাঝ রহু জাগি।
নিমেষে নব নৌতুনা          সুবেশা মৃগী লোচনা
অতয়ে তুহুঁ উহারি অনুরাগী॥
রতন অট্টালিকা               উপরে বসি রাধিকা
হেরি হরি অচল পদ পাণি।
রসিকজন মানসে                 হরিগুণ সুধারসে
জাগি রহু শশিশেখর বাণী॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠলীলা।
জাবট মিলন।
॥ ললিত - বৃহৎ জপতাল॥
সুবলের উক্তি।

তুঙ্গ মণিমন্দিরে,               ঘন বিজুরি সঞ্চরে,
মেঘরুচি বসন পরিধানা।
যত যুবতী মণ্ডলী,                পন্থ ইহ পেখলি,
কোই নহে রাইক সমানা॥
অতএ বিহি তোহারি সুখ লাগি।
রূপে গুণে সায়রী,                সৃজল ইহ নায়রী,
ধনিরে ধনি ধন্য তুয়া ভাগি॥ ধ্রু॥
দিবস অরু যামিনি,              রাই অনুরাগিনী,
তোহারি হৃদি মাঝ রহু জাগি।
নিমেষে নব নৌতুনা,              রাই মৃগলোচনা,
অতয়ে তুহুঁ উহারি অনুরাগী॥
রতন অট্টালিকা,              উপরে বসি রাধিকা,
হেরি হরি অচল পদ পাণি।
রসিক জন মানসে,              হরি-গুণ-সুধা রসে,
জাগি রহু শশিশেখর-বাণী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে

॥ গোষ্ঠবিহার॥
( বনগমন সময়ে )
॥         ললিত ঝাঁপতাল॥

তুঙ্গ মণি মন্দিরে              ঘন বিজুরি সঞ্চরে
মেহরুচি বসনপরিধানা।
যত যুবতি মণ্ডলী                পন্থমাঝ পেখলি
কোই নহ রাইক সমানা॥
অতএ বিহি তোহারি সুখ লাগি।
রূপ গুণ সায়রি               সৃজিল ইহ নায়রি
ধনিরে ধনি ধন্য তুয়া ভাগি॥
দিবস অরু যামিনী              রাই অনুরাগিনী
তোহারি হৃদি মাঝ রহু জাগি।
নিমেষে নব নৌতুনা          সুবেশা মৃগ লোচনা
অতএ তুহুঁ উহারি অনুরাগী॥
রতন অট্টালিকা                উপরি রহু রাধিকা
হেরি হরি অচল পদ পাণি।
রসিকজন মানসে                 হরিগুণ সুধারসে
লাগি রহু শশিশেখর  বাণী॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তুঙ্গ মণি মন্দিরে ঘন বিজুরি সঞ্চরে                
মেহরুচি বসনপরিধানা।
যত যুবতি মণ্ডলী পন্থমাঝ পেখলি                
কোই নহ রাইক সমানা॥
অতএ বিহি তোহারি সুখ লাগি।                   
রূপ গুণ সায়রি সৃজিল ইহ নায়রি                  
ধনিরে ধনি ধন্য তুয়া ভাগি॥
দিবস অরু যামিনী রাই অনুরাগিনী                
তোহারি হৃদি মাঝ রহু জাগি।
নিমেষে নব নৌতুনা সুবেশা মৃগ                     
লোচনা অতএতুহুঁ উহারি অনুরাগী॥
রতন অট্টালিকা উপরি রহু রাধিকা                
হেরি হরি অচল পদ পাণি।
রসিকজন মানসে হরিগুণ সুধারসে                  
লাগি রহু শশিশেখর বাণী॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
সুচারু চন্দ্রিকা ফুটিল জানি
ভণিতা শশী
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯২২ সালে, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত
সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
২১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জ্যোত্স্না অভিসার।

সুচারু চন্দ্রিকা ফুটিল জানি। শ্যাম-অভিসারে চলল ধনি॥ লোটনে
লম্বিত মালতী মাল। সৌরভে মাতল ভ্রমরাজাল॥ কুচ শ্রীফল চন্দন মাখা।
সে পুন ধবল বসনে ঢাকা॥ সোণায় জড়িত মুকুতা কষা। ওষ্ঠ মাঝে
সে লম্বিত নাসা॥ গজ দশনের সুচারু শাখা। করমূলে কিবা দিঞেছে
দেখা॥ শশী অঙ্গে অঙ্গ মিশান করি। শশী কহে কুঞ্জে মিলল গোরী॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানসী॥

সুচারু চন্দ্রিকা ফুটিল জানি। শ্যাম
অভিসারে চলল ধনি॥ লোটনে লম্বিত
মালতী মাল। সৌরভে মাতল ভ্রমরা
পাল॥ কুচগিরিফল চন্দন মাখা। নূপুর
ধবল বসনে ঢাকা॥ দৌহাতে জড়িত
মুকুতা কসা। ওঠ মাঝে খেলে লম্বিত
নাসা॥ গজদশনের সুচারু শাখা। কর-
মূলে কিবা দিয়াছে দেখা॥ নিশী সঙ্গে
অঙ্গ মিশান করি। শশী কহে কুঞ্জে
মিলিল গোরী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

সুচারু চন্দ্রিকা ফুটিল জানি।
শ্যাম-অভিসারে চলল ধনি॥
লোটনে লম্বিত মালতি-মাল।
সৌরভে মাতল ভ্রমর-জাল॥
কুচ-শিরিফল চন্দন মাখা।
নূপুর ধবল-বসনে ঢাকা॥
সোনাতে জড়িত মুকুতা কসা।
ওঠ মাঝে খেলে লম্বিত নাসা॥
গজ-দশনের সুচারু শাঁখা।
কর-মূলে কিবা দিয়াছে দেখা॥
নিশি সঙ্গে অঙ্গ মিশাল করি।
শশি কহে কুঞ্জে মিলল গোরি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
"বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুচারু চন্দ্রিকা ফুটিল জানি।
শ্যাম-অভিসারে চলল ধনি॥
লোটনে লম্বিত মালতি মাল।
সৌরভে মাতল ভ্রমর জাল॥
কুচ শিরিফল চন্দন মাখা।
নূপুর ধবল বসনে ঢাকা॥
সোনাতে জড়িত মুকুতা কসা।
ওঠ মাঝে খেলে লম্বিত নাসা॥
গজ দশনের সুচারু শাঁখা।
কর মূলে কিবা দিয়াছে দেখা॥
নিশি সঙ্গে অঙ্গ মিশাল করি।
শশি কহে কুঞ্জে মিলল গোরি॥


.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
আজি অদভূত তিমির রঙ্গ
আজু অদভুত তিমির রঙ্গ
ভণিতা শশী
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯২২ সালে, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত
সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
২১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তিমির অভিসার।

আজি অদভূত তিমির রঙ্গ। আপনে না চিনে আপন সঙ্গ॥ নিরখি
রাই কমল মাতঙ্গ অঙ্কুশ নাহি মানরে। সাজল ধনি শ্যাম বিহারে শিথিল কৃত-
কবরী ভারে, নীলোত্পল রচিত হার কন্ঠহি অনুপামরে॥ নীল বসন সোণার
গায়, মেঘে কি বিজুরি লুকায় যায়, মদনদীপ পথ দেখায়, জনু আগুয়ান রে।
পরিমল পাই ভমর পুঞ্জ, বেঢ়ল আসি চরণ কুঞ্জ, মন্দ মন্দ মধুর গুঞ্জ লালস মধু-
পানরে॥ মুখমণ্ডল শশী উজোর, হেরি ধাওল তহি চকোর, পথে পরমাদ
দেখিয়ে রাই, নীল বসনে মুখ ঝাঁপাই সঙ্কেতে মিলল ত্বরিতে যাই, যাহা
নিবসই কানরে। রাই আগমন নিরখি কান, শীতল ভেল তপত প্রাণ নিজ
দেহ দেই বাঢ়াই জনু আগুসারিরে॥ এস এস বলি ধরল হাত, লহু লহু বোলে
পুছত বাত, শশী কহে শুন পরাণ নাথ, আজু বড় আন্ধিয়ার রে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার॥

আজি অদভূত তিমির রঙ্গ। আপনি
না চিনে আপন অঙ্গ॥ নিরখি রাইক মন
মাতঙ্গ। অঙ্কুশ নাহি মানেরে॥ সাজল
ধনী শ্যাম বিহার। শিথিলীকৃত কবরী
ভার॥ নীলোত্পল রচিত হার। কন্ঠহি
অনুপামরে॥ নীল বসন দোহার গায়।
কিমেখে বিজুরি লুকিয়া যায়॥ মদন দীপ
পথ দেখায়। অনুরাগ আগুয়ান রে॥
পরিমল পাই ভ্রমর পুঞ্জ। বৈঠল আসি
চরণ কুঞ্জ॥ মন্দ মন্দ মধুর গুঞ্জ। লাগল
মধু পানরে॥ মুখমণ্ডল শশী উজোর।
হেরি ধায়ল তহি চকোর॥ উড়িয়া পড়ে
হই বিভোর। চাহে পীযূষ দান রে॥
পথে পরমাদ হেরিয়া রাই। নীল বসনে
মুখ ছিপাই॥ সঙ্কেত মিলল আই। যাহা
নিব সই কানু রে। রাই আগমন নিরখি
কান। শীতল ভেল তপত প্রাণ॥ নিজ
দয়িতার বাঢ়ৈয় মান। আদরে আগুসার
রে॥ আইস আইস বলি ধরল হাত।
নহু নহু পুছত বাত॥ শশী কহে শুন
পরাণ নাথ। আজি বড় আঁধিয়ারি রে॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৪৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

[ দিনান্তরে ]

আজু অদভূত তিমির রঙ্গ
আপনি না চিহ্নে আপন অঙ্গ
নিরখি রাইক মন-মাতঙ্গ
.                অঙ্কুশ নাহি মানে রে॥
সাজলি ধনী শ্যাম-বিহার
শিথিলী-কৃত কবরী-ভার
নীলোত্পল-রচিত হার
.                কন্ঠহি অনুপাম রে॥
নীল-বসন দোহার গায়
কি মেঘে বিজুরী লুকিয়া যায়
মদন-দীপ পথ দেখায়
.                অনুরাগ আগুয়ান রে॥
পরিমল পাই ভ্রমর-পুঞ্জ
বৈঠল আসি চরণ-কুঞ্জ
মন্দ মন্দ মধুর গুঞ্জ
.                লাগল মধু পান রে॥
মুখমণ্ডল শশী উজোর
হেরি ধায়ল তহিঁ চকোর
উড়িয়া পড়ে হই বিভোর।
.                চাহে পীযূষ দান রে॥
পথে পরমাদ হেরিয়া রাই
নীল বসনে মুখ ছিপাই
সঙ্কেত-মিলল আই
.                যাহাঁ নিবসই কানু রে॥
রাই আগমন নিরখি কান
শীতল ভেল তপত প্রাণ
নিজ দয়িতার বাঢ়ায় মান
.                আদরে আগুসার রে॥
আইস আইস বলি ধরল হাত
লহু লহু নাথ পুছত বাত
শশী কহে শুন পরাণ নাথ
.                আজু বড় আন্ধিয়ারি রে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার॥

আজি অদভূত তিমির-রঙ্গ
আপনি না চিনি আপন অঙ্গ
নিরখি রাইক মন-মাতঙ্গ
.            অঙ্কুশ নাহি মান রি।
সাজল ধনি শ্যাম-বিহার
শিথিলীকৃত কবরি-ভার
নীলোত্পল –রচিত হার
.            কন্ঠহি অনুপাম রি॥
নীল বসন সোণার গায়
মেঘে কি বিজুরি লুকিয়া যায়,
মদন-দীপ পথ দেখায়
.             অনুরাগ আগুয়ান রি।
পরিমল পাই ভমর পুঞ্জ
বেঢ়ল আসি চরণ-কঞ্জ
মন্দ মন্দ মধুর গুঞ্জ
.             লালস মধু-পান রি॥
মুখ-মণ্ডল শশি উজোর
হেরি ধাওল তহিঁ চকোর
উড়িয়া উড়িয়া পড়ত ভোর
.            চাহে পিযূষ-দান রি।
পথে পরমাদ হেরিয়া রাই
নীল-বসনে মুখ ছপাই
সঙ্কেত-বনে মিলল যাই
.            যাহাঁ নিবসই কান রি॥
রাই আগমন নিরখি কান
শীতল ভেল তপত প্রাণ
নিজ দয়িতার বাঢ়ায় মান
.              আদরে আগুসারি রি।
আইস আইস বলি ধরল হাথ
লহু লহু লহু পুছত বাত
শশি কহে শুন পরাণ-নাথ
.        আজু বড় আঁধিয়ারি রি॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও
শ্যামাপদ চৌধুরী সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

আজি অদভূত তিমির-রঙ্গ
আপনি না চিহ্নে আপন অঙ্গ
নিরখি রাইক মন-মাতঙ্গ
.            অঙ্কুশ নাহি মান রে।
সাজল ধনি শ্যাম-বিহার
শিথিলীকৃত কবরী-ভার
নীলোত্পল–রচিত হার
.            কন্ঠহি অনুপাম রে॥
নীল বসন দোঁহার গায়
কি মেঘে বিজুরী লুকিয়া যায়
মদন-দীপ পথ দেখায়
.             অনুরাগ আগুয়ান রে।
পরিমল পাই ভমর-পুঞ্জ
বেঢ়ল আসি চরণ-কুঞ্জ
মন্দ মন্দ মধুর গুঞ্জ
.             লালস মধুপান রে॥
মুখ-মণ্ডল শশী উজোর
হেরি ধাওল তহিঁ চকোর
উড়িয়া উড়িয়া হই বিভোর
.            চাহে পীযূষ দান রে।
পথে পরমাদ হেরিয়া রাই
নীল-বসনে মুখ ছিপাই
সঙ্কেত-কুঞ্জে মিলল আই
.            যাঁহা নিবসই কানু রে॥
রাই আগমন নিরখি কান
শীতল ভেল তপত প্রাণ
নিজ দয়িতার বাঢ়ায় মান
.              আদরে আগুসার রে।
আইস আইস ধরহ হাত
লহু লহু নাথ পুছত বাত
শশী কহে শুন পরাননাথ
.        আজু বড় আন্ধিয়ারি রে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”, ১২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজি অদভূত তিমির-রঙ্গ
আপনি না চিনি আপন অঙ্গ
নিরখি রাইক মন-মাতঙ্গ
.            অঙ্কুশ নাহি মান রে।
সাজল ধনি শ্যাম-বিহার
শিথিলীকৃত কবরী-ভার
নীলোত্পল–রচিত হার
.            কন্ঠহি অনুপাম রে॥
নীল বসন দোঁহার গায়
কি মেঘে বিজুরী লুকিয়া যায়,
মদন-দীপ পথ দেখায়
.             অনুরাগ আগুয়ান রে।
পরিমল পাই ভমর-পুঞ্জ
বেঢ়ল আসি চরণ-কঞ্জ
মন্দ মন্দ মধুর গুঞ্জ
.             লালস মধুপান রে॥
মুখ-মণ্ডল শশী উজোর
হেরি ধাওল তহিঁ চকোর
উড়িয়া উড়িয়া হই বিভোর
.            চাহে পীযূষ দান রে।
পথে পরমাদ হেরিয়া রাই
নীল-বসনে মুখ ছিপাই
সঙ্কেত-বনে মিলল যাই
.            যাঁহা নিবসই কানু রে॥
রাই আগমন নিরখি কান
শীতল ভেল তপত প্রাণ
নিজ দয়িতার বাঢ়ায় মান
.              আদরে আগুসারি রে।
আইস আইস ধরহ হাত
লহু লহু নাথ পুছত বাত
শশী কহে শুন পরাননাথ
.        আজু বড়ো আন্ধিয়ারি রে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
"বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজি অদভূত তিমির রঙ্গ
আপনি না চিনি আপন অঙ্গ
নিরখি রাইক মন মাতঙ্গ
.            অঙ্কুশ নাহি মান রি।
সাজল ধনি শ্যাম বিহার
শিথিলীকৃত কবরি ভার
নীলোত্পল রচিত হার
.            কন্ঠহি অনুপাম রি॥
নীল বসন সোণার গায়
মেঘে কি বিজুরি লুকিয়া যায়
মদন দীপ পথ দেখায়
.             অনুরাগ আগুয়ান রি।
পরিমল পাই ভমর পুঞ্জ
বেঢ়ল আসি চরণ কঞ্জ
মন্দ মন্দ মধুর গুঞ্জ
.             লালস মধু পান রি॥
মুখ মণ্ডল শশি উজোর
হেরি ধাওল তহিঁ চকোর
উড়িয়া উড়িয়া পড়ত ভোর
.            চাহে পিযূষ দান রি।
পথে পরমাদ হেরিয়া রাই
নীল বসনে মুখ ছপাই
সঙ্কেত বনে মিলল যাই
.            যাহাঁ নিবসই কান রি॥
রাই আগমন নিরখি কান
শীতল ভেল তপত প্রাণ
নিজ দয়িতার বাঢ়ায় মান
.              আদরে আগুসারি রি।
আইস আইস বলি ধরল হাথ
লহু লহু লহু পুছত বাত
শশি কহে শুন পরাণ নাথ
.        আজু বড় আঁধিয়ারি রি॥


.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
হরি অভিসার কাজে
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণী॥        

হরি অভিসার কাজে। উলটা সকল
সাজে॥ মাথে মুকুতার মালা। হিয়াতে
হেম মেখলা॥ চরণ কঙ্কণ পরি। ত্বরিতে
চলিলা গোরী॥ নূপুর পাণির মূলে। অঞ্জন
রঞ্জন ভালে॥ সিন্দূরে অরুণ আঁখি।
চিবুকে চন্দন মাখি॥ হেন বিপরীত বেশে।
মিলিল শ্যামের পাশে॥ শশিশেখর পহুঁ।
হেরি হাসে নহু নহু॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০২৩  পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে

॥ কল্যাণী॥        

হরি-অভিসার কাজে।
উলটা সকল সাজে॥
মাথে মুকুতার মালা।
হিয়াতে হেম-মেখলা॥
চরণে কঙ্কণ পরি।
তুরিতে চলিলা গোরি॥
নূপুর পাণির মূলে।
অঞ্জন রঞ্জন ভালে॥
সিন্দূর অরুণ আঁখি।
চিবুকে চন্দন মাখি॥
হেন বিপরীত বেশে।
মিলল শ্যামের পাশে॥
শশিশেখর পহুঁ।
হেরি হাসে লহু লহু॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
"বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি-অভিসার কাজে।
উলটা সকল সাজে॥
মাথে মুকুতার মালা।
হিয়াতে হেম মেখলা॥
চরণে কঙ্কণ পরি।
তুরিতে চলিলা গোরি॥
নূপুর পাণির মূলে।
অঞ্জন রঞ্জন ভালে॥
সিন্দূর অরুণ আঁখি।
চিবুকে চন্দন মাখি॥
হেন বিপরীত বেশে।
মিলল শ্যামের পাশে॥
শশিশেখর পহুঁ।
হেরি হাসে লহু লহু॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
প্রাণের দোসরি নবীন কিশোরী
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার॥

প্রাণের দোসরি, নবীন কিশোরী,
তোরে কি কহিব আর। মোর প্রতি
তোর, এত অনুরাগ, কি দিয়া শোধিব ধার॥
একে আধিয়ারি, বরিখত বারি, কুলিশ পড়য়ে
তায়। নিবারিতে জল, দেখিয়ে কেবল,
সবে নীলাম্বর গায়॥ শিরীষের ফুল,
হইতে কোমল, রাতুল চরণ তোর। ইথে
কি করিয়া, আইলে চলিয়া, অঙ্গ সঙ্গ লাগি
মোর॥ ধনী ধনী ধনী, রমণী রমণী,
তোমার নিছনি যাই। তিত বাস ছাড়ি,
মরুণিমশাড়ী পরলহ পহি রাই॥ বসন
পরিয়া, বৈসল আসিয়া, আমি ধোয়াইব
পা। শশী বলে শ্যাম, ত্বরিত করিয়া আগে
মুছি দেহ গা॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
৪৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার॥

প্রাণের দোসরি                নবীন কিশোরী
তোঁরে কি কহিব আর।
মোর প্রতি তোঁর                এত অনুরাগ
কি দিয়া শোধিব ধার॥
একে আঁন্ধিয়ারী                বরিখত বারি
কুলিশ পড়য়ে তায়।
নিবারিতে জল                দেখিয়ে কেবল
সবে নীলাম্বরী গায়॥
শিরীষের ফুল                  হইতে কোমল
রাতুল চরণ তোর।
ইথে কি করিয়া               আইলে চলিয়া
রস সঙ্গ লাগি মোর॥
ধনি ধনি ধনি                     রমণী রমণী
তোমার নিছনি যাই॥ @
[ শশী শেখর ]

@ - ভণিতা সহ শেষ তিনটে কলি বাদ পড়েছে। কিন্তু সম্পাদক এখানে বন্ধনীতে
শশী শেখর উল্লেখ করেছেন।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কুঞ্জে শ্রীরাধার প্রতি শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ মল্লার॥

প্রাণের দোসরি                 নবীন কিশোরি
তোরে কি কহিব আর।
মোর প্রতি তোর                 এত অনুরাগ
কি দিয়া শোধিব ধার॥
একে আঁধি ঘোরি                বরিখত বারি
কুলিশ পড়য়ে তায়।
নিবারিতে জল                  দেখিয়ে কেবল
সবে নীলাম্বর গায়॥
শিরীষের ফুল                    হইতে কোমল
রাতুল চরণ তোর।
ইথে কি করিয়া                 আইলে চলিয়া
অঙ্গ-সঙ্গ লাগি মোর॥
ধনি ধনি ধনি                      রমণীর মণি
তোমার নিছনি যাই।
তিতা বাস ছাড়ি                অরুণিম শাড়ী
পর নহে পহিরাই॥
বসন পরিয়া                     বৈসহ আসিয়া
আমি ধোয়াইব পা ।
শশি বলে শ্যাম                  তুরিত করিয়া
আগে মুছি দেহ গা॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রাণের দোসরি নবীন কিশোরি                        
তোরে কি কহিব আর।
মোর প্রতি তোর এত অনুরাগ                        
কি দিয়া শোধিব ধার॥
একে আঁধি ঘোরি বরিখত বারি                        
কুলিশ পড়য়ে তায়।
নিবারিতে জল দেখিয়ে কেবল                        
সবে নীলাম্বর গায়॥
শিরীষের ফুল হইতে কোমল                          
রাতুল চরণ তোর।
ইথে কি করিয়া আইলে চলিয়া                        
অঙ্গ সঙ্গ লাগি মোর॥
ধনি ধনি ধনি রমণীর মণি                              
তোমার নিছনি যাই।
তিতা বাস ছাড়ি অরুণিম শাড়ী                        
পর নহে পহিরাই॥
বসন পরিয়া বৈসহ আসিয়া                            
আমি ধোয়াইব পা।
শশি বলে শ্যাম তরিত করিয়া                        
আগে মুছি দেহ গা॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
তল্প রচিয়া রসের ভরে
তনু পরচিঞা রসের ভরে
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সৌরঠী॥

তল্প রচিয়া রসের ভরে। আপনার
তনু ধরিতে নারে॥ সখীগণ সঙ্গে সঙ্গীত
গায়। কেহ তান ধরে কেহ বাজায়॥
আনে নাচাইয়া আপনি নাচে। স্বেদ জল
নীল-বসনে মুছে॥ কর্পূর সহিত খপুর
পান। খায়ে হাসে ভাসে রসের প্রাণ॥
সখীগণ সঞে পাশক খেলে। বপুপণে
শশিশেখর বলে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০২৪  পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে

বাসকসজ্জা।
॥ সৌরঠী॥

তনু পরচিঞা রসের ভরে।
আপনার তনু ধরিতে নারে॥
সখীগণ সঙ্গে সঙ্গীত গায়।
কেহ তাল ধরে কেহ বাজায়॥
আলি নাচাইয়া আপনি নাচে।
শ্রম-জল নীল-বসনে মুছে॥
কপূর সহিত খপুর পাণ।
খায়ে হাসে ভাসে রসের বান॥
প্রিয়-সখী সঞে পাশক খেলে।
বঁধু-পণে শশিশেখর বলে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
"বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তনু পরচিঞা রসের ভরে।
আপনার তনু ধরিতে নারে॥
সখীগণ সঙ্গে সঙ্গীত গায়।
কেহ তাল ধরে কেহ বাজায়॥
আলি নাচাইয়া আপনি নাচে।
শ্রম জল নীল বসনে মুছে॥
কপূর সহিত খপুর পাণ।
খায়ে হাসে ভাসে রসের বান॥
প্রিয় সখী সঞে পাশক খেলে।
বঁধু পণে শশিশেখর বলে॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর