কবি শশিশেখরের বৈষ্ণব পদাবলী
*
বাজীকর বেশ করত বৃন্দাবন চান্দ
ভণিতা শশিশেখর
কবি  শশিশেখর        
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের বাজীকর বেশ
॥ তথারাগ॥

বাজীকর বেশ করত বৃন্দাবন চান্দ।
কন্ঠে ছিদ্র কড়িল মাল জগমোহন ফান্দ॥
বাহু দন্ডে স্ফটিক মাল বাঁধন বহু ছান্দে।
গিরি গৈরিক তনু লেপন ভার করল কান্ধে॥
যুগল পাণি পাদমূলে লৌহাঙ্গদ বালা।
কর্ণমূলে কিয়ে শঙ্খকুণ্ডল করু খেলা॥
মল্লছান্দে পিন্ধল হরি জীর্ণ মলিন বাস।
শিরে বান্ধল পাগ লটপটি শশিশেখর হাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৮৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাজীকর বেশ করত বৃন্দাবন চান্দ।
কন্ঠে ছিদ্র কড়ির মাল জগমোহন ফান্দ॥
বাহু দণ্ডে স্ফটিক মাল বাঁধন বহু ছান্দে।
গিরি গৈরিক তনু লেপন ভার করল কান্ধে॥
যুগল পাণি পাদমূলে লৌহাঙ্গদ বালা।
কর্ণমূলে কিয়ে শঙ্খকুণ্ডল করু খেলা॥
মল্লছান্দে পিন্ধল হরি জীর্ণ মলিন বাস।
শিরে বান্ধল পাগ লটপটি শশিশেখর হাস॥


.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
জয় ভবানী ভূতেশ্বরী সাধহ মম কাজ
ভণিতা শশিশেখর
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০২৭  পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥        

জয় ভবানী ভূতেশ্বরী সাধহ মম কাজ।
ঐছন ধ্বনি বদন ভরিয়া সাজল নটরাজ॥
নগর নারি পুরুখ নিরখি চিনহী নাহি পাব।
বাজীকর নন্দলাল সুবল ঢুলকিদার॥
ললিতা সনে নন্দিত মনে
.            যেখানে আছেন রাই।
সোই কুঞ্জে প্রবেশল হরি মধুর গীত গাই॥
সুবল চাঁদ ঢুলকিদার ঢুলকে দেওল ঘা।
শশিশেখর কহে সো ধনী শুনি উলসিত গা।

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
"বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জয় ভবানী ভূতেশ্বরী সাধহ মম কাজ।
ঐছন ধ্বনি বদন ভরিয়া সাজল নটরাজ॥
নগর নারি পুরুখ নিরখি চিনহী নাহি পাব।
বাজীকর নন্দলাল সুবল ঢুলকিদার॥
ললিতা সনে নন্দিত মনে
.            যেখানে আছেন রাই।
সোই কুঞ্জে প্রবেশল হরি মধুর গীত গাই॥
সুবল চাঁদ ঢুলকিদার ঢুলকে দেওল ঘা।
শশিশেখর কহে সো ধনী শুনি উলসিত গা।


.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
হের দেখসিয়া নুমনু হাসিয়া
হের দেখসিয়া মু মলুঁ হাসিয়া
ভণিতা শশি
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

হের দেখসিয়া নুমনু হাসিয়া, গবাক্ষ
দুয়ারে রাই। প্রাণনাথ সনে, একত্র শয়নে,
মানিনী হৈয়াছে রাই॥ একি প্রেমের
কুটিল গতি। নহিলে বা কেনে, দুহার
মিলনে, কলহ উপজে নিতি॥ আপনার
নখ, পদপরতেক, হেরিয়া নাগর উরে।
কানু পিঠ করি, বসিলা সুন্দরী, নাগর
কাঁপিছে ডরে॥ কত পরকারে, অনুনয়
করে, অধীন হইয়া হরি। শশী বলে মান,
হব সমাধান, কেমন উপায় করি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অহৈতুক মান
॥ বিহগড়া॥

হের দেখসিয়া              মু মলুঁ হাসিয়া
গবাক্ষ-দুয়ারে চাই।
প্রাণনাথ সনে                 একত্র শয়নে
মানিনী হৈয়াছে রাই॥
একি প্রেমের কুটিলা গতি।
নহে বা কেনে               দুহাঁর মিলনে
কলহ উপজে নিতি॥ ধ্রু॥
আপনার নখ-               পদ পরতেখ
হেরিয়া নাগর উরে।
কানু পিঠ করি              বসিলা সুন্দরী
নাগর কাঁপিছে ডরে॥
কত পরকারে                অনুনয় করে
অধিন হইয়া হরি।
শশি বলে মান                হব সমাধান
কেমন উপায় করি॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
যেই যে নাগরী, আরাধিল হরি
এই যে নাগরী আরাধিল হরি
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যেই যে নাগরী, আরাধিল হরি,
নিশ্চয় করিনু তোরে। প্রাণের গোবিন্দ,
পাইয়া আনন্দ, সঙ্গতি লইল যারে॥ আমা
সবাকারে, পরিহরি দূরে, তোরে লৈঞা
সঙ্গোপনে। মদন বিলাস, করে পরকাশ,
বুঝিলাম অনুমানে॥ রমণী রমণ, দুহুঁ
পদচিহ্ন, পড়িয়া আছয়ে পথে। সফরী
পতাকা, ধ্বজ ঊর্দ্ধ রেখা, বজর অঙ্কুশ
তাতে॥ আমরা গোপিনী, সবে ভাগিহিনী,
ভাগ্যবতী এই নারী। শশী কহে সতী,
বরজ যুবতী, তাহে অনুকূল হরি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাসে অপরা গোপীগণের উক্তি
॥ করুণা-শ্রী॥

এই যে নাগরী                   আরাধিল হরি
নিশ্চয় করিলুঁ তোরে।
প্রাণের গোবিন্দ                 পাইয়া আনন্দ
সঙ্গতি লইল যারে॥
আমা সভাকারে                  পরিহরি দূরে
তারে লৈয়া সঙ্গোপনে।
মদন-বিলাস                     করে পরকাশ
বুঝিলাম অনুমানে॥
রমণী-রমণ                        দুহুঁ-পদ-চিহ্ন
পড়িয়া আছয়ে পথে।
শফরী পতাকা                 ধ্বজ ঊর্দ্ধ-রেখা
বজর অঙ্কুশ তাতে॥
আমরা গোপিনী                সভে ভাগি হীনী
ভাগ্যবতী এই নারী।
শশি কহে সতি                    বরজ-যুবতি
তারে অনুকূল হরি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এই যে নাগরী আরাধিল হরি                          
নিশ্চয় কহিলুঁ তোরে।
প্রাণের গোবিন্দ পাইয়া আনন্দ                        
সঙ্গতি লইল যারে॥
আমা সভাকারে পরিহরি দূরে                        
তারে লৈয়া সঙ্গোপনে।
মদন বিলাস করে পরকাশ                            
বুঝিলাম অনুমানে॥
রমণী রমণ দুহুঁ-পদ চিহ্ন                               
পড়িয়া আছয়ে পথে।
শফরী পতাকা ধ্বজ ঊর্দ্ধ রেখা                         
বজর অঙ্কুশ তাতে॥
আমরা গোপিনী সভে ভাগি হীনী                        
ভাগ্যবতী এই নারী।
শশি কহে সতি বরজ যুবতি                           
তারে অনুকূল হরি॥


.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
অতি শীতল মলয়ানিল
ভণিতা শশিশেখর
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অর্দ্ধ বাহ্যদশা
॥ গান্ধার॥

অতি শীতল                     মলয়ানিল
মন্দ মন্দ বহনা।
হরি বৈমুখী                     হমারি অঙ্গ
মদনানলে দহনা॥
কোকিলগণ                   কুহু কুহু স্বরে
ঝঙ্করু অলি  কুসুমে।
হরি লালসে                     তনু তেজব
পাওব আন জনমে॥
সব সঙ্গিনী                      ঘেরি বৈঠত
গাওত হরিনামে।
যৈখনে শুনি                     তৈখনে উঠি
নব-রাগিণী গানে॥
ললিতা কোরে                   করি বৈঠল
বিশখা ধরে আটিয়া।
শশিশেখর                         কহত ধনি
যাওত জিউ ফাটিয়া॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” গ্রন্থের পদ।

মাথুর বিরহ
॥ সুহই॥

অতি শীতল                    মলয়ানিল
মন্দ-মন্দ-বহনা।
হরি-বৈমুখ                     হমারি অঙ্গ
মদনানলে দহনা॥
কোকিলা-কুল                   কুহু কুহরই
অলি ঝঙ্করু কুসুমে।
হরি লালসে                     তনু তেজব
পাওব আন-জনমে॥
সব সঙ্গিনি                     ঘিরি বৈঠলি
গাওত হরি-নামে।
যৈখনে শুনে                     তৈখনে উঠে
নব-রাগিণি গানে॥
ললিতা কোরে                   করি বৈঠত
বিশখা ধরে নাটিয়া।
শশিশেখরে                     কহে গোচরে
যাওত জিউ ফাটিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী গান্ধার - তাল লোফা॥

অতি শীতল, মলয়ানিল, মন্দ মন্দ বহনা। হরি বৈমুখী,
হামারি অঙ্গ, মদনানলে দহনা॥ কোকিল কুল, কুর্ব্বতি কল,
অলি ঝঙ্কারে কুসুমে। হরি লালসে, তনু তেয়াগব, পাওব আন
জনমে॥ সব সঙ্গিনী, ঘেরি বৈঠবি, গাওবি হরিনামে। যৈখনে
শুনি, তৈখনে উঠি, নবরাগিণী গানে॥ ললিতা কোরে, করি
বৈঠল, বিশখা ধরল আঁটিয়া। শশিশেখর, কহতহি, যাওত
জিউ ফাটিয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০২৮  পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে

॥ সুহই ॥

অতি শীতল                 মলয়ানিল
মন্দ-মন্দ-বহনা।
হরি-বৈমুখ                হমারি অঙ্গ
মদনানলে দহনা॥
কোকিলা-কুল               কুহু কুহরই
অলি ঝঙ্করু কুসুমে।
হরি লালসে                তনু তেজব
পাওব আন-জনমে॥
সব সঙ্গিনি                 ঘিরি বৈঠলি
গাওত হরি-নামে।
যৈখনে শুনে               তৈখনে উঠে
নব-রাগিণি গানে॥
ললিতা কোরে               করি বৈঠত
বিশাখা ধরে নাটিয়া।
শশিশেখরে                কহে গোচরে
যাওত জিউ ফাটিয়া॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস - একতালা॥

অতি শীতল                    মলয়ানিল
মন্দ মন্দ বহনা।
হরি বৈমুখ                   হামারি অঙ্গ
মদনানলে দহনা॥
কোকিলাগণ                   কুহু কুহু রব
অলি ঝঙ্কার কুসুমে।
হরি-লালসে                   প্রাণ তেজব
পাওব আন জনমে॥
সব সঙ্গিনী                    ঘেরি বৈঠলি
গাওত হরি নামে।
যৈখনে শুনে                    তৈখনে উঠে
নব রাগিণী গানে॥
ললিতা ক্রোরে                   করি বৈঠত
বিশাখা ধরে নাটিয়া।
শশীশেখর                      কহে গোচরে
যাওত জিউ ফাটিয়া॥

ই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দশমদশা।

অতি শীতল                 মলয়ানিল
মন্দমধুর-বহনা।
হরি বৈমুখ                হমারি অঙ্গ
মদনানলে-দহনা॥
কোকিলকুল                কুহু কুহরই
অলি ঝঙ্করু কুসুমে।
হরি-লালসে                তনু তেজব
পাওব আন জনমে॥
সব সঙ্গিনী                 ঘিরি বৈঠলি
গাওত হরিনামে।
যৈখনে শুনে               তৈখনে উঠে
নবরাগিণী গানে॥
ললিতা কোরে              করি বৈঠত
বিশখা ধরে নাটিয়া।
শশিশেখরে                 কহ গোচরে
যাওত জিউ ফাটিয়া॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অতি শীতল মলয়ানিল মন্দ মন্দ বহনা,
হরি বৈমুখী হামারি অঙ্গ মদনানলে দহনা।
( প্রাণ আর বাঁচে না গো, আমার প্রাণ আর বাঁচে না গো, আমি
মলাম কৃষ্ণের বিরহেতে প্রাণ আর বাঁচে না গো )
মদনানল দহনা॥
কোকিলাগণ কুহু কুহু স্বরে ঝঙ্কারে অলি কুসুমে,
গুণ গুণ গুণ গুণ স্বরে, ঝঙ্কারে গুণ গুণ গুণ গুণ স্বরে, এক
ফুলে যুগল হয়ে ঝঙ্কারে গুণ গুণ গুণ গুণ স্বরে )
ঝঙ্কারে অলি কুসুমে॥
কোকিলাগণ কুহু কুহু স্বরে ঝঙ্কারে অলি কুসুমে,
হরিলালসে তনু ত্যজব পায়ব আন জনমে।
( আন জনমে পাব, এবার মলে আন জনমে পাব, এ জনমে
পেলাম না আন জনমে পাব )
পায়ব আন জনমে।
সব সঙ্গিনী ঘেরি বৈঠত গায়ত হরিনামে,
( একবার নাম শুনাগো, একবার কৃষ্ণ না শুনাগো, কৃষ্ণ নামের
সহিত প্রাণ যাক্ কৃষ্ণনাম শুনাগো )
গায়ত হরিনামে।
যৈখনে শুনি তৈখনে উঠি নব রাগিণী গানে।
( গান শুনতে শুনতে, কৃষ্ণ গুণগান শুনতে শুনতে, কৃষ্ণ অনুরাগিণী
ধনি কৃষ্ণ গুণগান শুনতে শুনতে )
নব রাগিণী গানে॥
ললিতা কোরে করি বৈঠল বিশখা ধরে আঁটিয়া,
( কি হ’ল কি হ’ল বলে, রাধার কি হ’ল কি হ’ল বলে, এই যে
কথা কইতেছিল কি হ’ল কি হ’ল বলে )
বিশখা ধরে আঁটিয়া।
শশি শেখর কহত ধনি যায়ত জীউ ফাটিয়া।
( দশা দেখে, রাধার দশা দেখে, মুখ দেখে বুক ফেটে যায় রাধার
দশা দেখে )
যায়ত জীউ ফাটিয়া।

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদসঙ্কলন”, ২১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী” থেকে নিলেও প্রথম কলিতে পাঠান্তর রয়েছে।

অতিশীতল                     মলয়ানিল
মন্দমধুর-বহনা।
হরি-বৈমুখ                    হামারি অঙ্গ
মদনানলে দহনা॥
কোকিলাকুল                   কুহু কুহরই
অলি ঝঙ্করু কুসুমে।
হরি লালসে                    তনু তেজব
পাওব আন জনমে॥
সব সঙ্গিনি                    ঘিরি বৈঠলি
গাওত হরি নামে।
যৈখনে শুনে                   তৈখনে উঠে
নবরাগিণী গানে॥
ললিতা কোরে                 করি বৈঠত
বিশাখা ধরে নাটিয়া।
শশিশেখরে                   কহে গোচরে
যাওত জিউ ফাটিয়া॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অতি শীতল মলয়ানিল                                
মন্দ মন্দ বহনা।
হরি বৈমুখ হমারি অঙ্গ                                
মদনানলে দহনা॥
কোকিলা কুল কুহু কুহরই                              
অলি ঝঙ্করু কুসুমে।
হরি লালসে তনু তেজব                                
পাওব আন জনমে॥
সব সঙ্গিনি ঘিরি বৈঠলি                                
গাওত হরি নামে।
যৈখনে শুনে তৈখনে উঠে                               
নব রাগিণি গানে॥
ললিতা কোরে করি বৈঠত                               
বিশাখা ধরে নাটিয়া।
শশিশেখরে কহে গোচরে                               
যাওত জিউ ফাটিয়া॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
ইয়াদিকির্দ্দ গুণসমুদ্র শত সাধু শ্রীরাধা
ভণিতা শশিশেথর
কবি শশিশেখর
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৪৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি "চন্দ্রশেখর" ভণিতাতেও রয়েছে।

ইয়াদিকির্দ্দ গুণসমুদ্র শত সাধু শ্রীরাধা।
সমুদারস্য চরিত তস্য পূরাহ মম সাধা॥
তস্য খাতক হরি নায়ক বসতি ব্রজপুরী।
কস্য কর্জ্জ পত্রমিদং লিখিনং সুকুমারী॥
ঠামহি তব প্রেম দুর্লভ লইনু কর্জ্জ করি।
ইহার লভ্য পাইবে দিব্য প্রেম অখিল ভরি॥
একুনে তিন বাঞ্ছা পূরণ পরিশোধ কলি যুগে।
ইহার সাক্ষী ললিতা সখী শত মঞ্জরী ভাগে॥
তারিখ তস্য দ্বাপরস্য শশিশেখরে লিখিলাম।
করুণা করহে রাধা প্যারী এই মত লিখি দিলাম॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৬৩-পৃষ্ঠায় “চন্দ্রশেখর” ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি "শশিশেখর"
ভণিতাতেও প্রাপ্ত হয়েছে।

ইয়াদিকির্ধ গুণসমুদ্র শত সাধু রাধা। সুদ্বারস্য সুচরিত্র পূরাহ মনের সাধা॥
তস্য খাতক হরি নায়ক বসতি ব্রজপুরী। কস্যজ করজপত্রমিদং লিখিলাম সুকুমারী॥
ঠামহি তব প্রেম দুল্লভ লইনু করজ করি। ইহার লভ্য পাইবে ভব্য প্রেম অখিল ভরি॥
একুনে তিন বাঞ্ছা করি পরিশোধ কলিযুগে। এহিক বারে করজ লইলাম ইসাদ মঞ্জরী ভাগে॥
ইতি সন দ্বাপর শেষ চন্দ্রশেখর লেখনি। করুণা করি রাধা পেআরী এই খত লিখিলাম আমি॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
কি করবি দশ দিন দুঃখ ললাটে ছিল
ভণিতা শশিশেখর
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” গ্রন্থের পদ।

শ্রীরাধার প্রতি সখীর প্রবোধ-উক্তি
॥ সুহই॥

কি করবি দশ দিন         দুঃখ ললাটে ছিল
চির-দিনে যে লিখল ধাতা।
তাকর লাগি নিজ             দেহ খোয়ায়বি
খায়বি সহচরি-মাথা॥
ধৈরজ বান্ধবি চীতে।
সবহুঁ দিবস তোর             দুখে নহি যায়ব
বিহি পুন মিলায়ব মীতে॥ ধ্রু॥
পথিকিনি-হাতে             পাতি লিখি ভেজলুঁ
আজু রজনি-পরভাতে।
সো অব এতখণ                মধুপুর পহুঁছল
প্রাতে দেয়ব হরি-হাতে॥
পুনহুঁ কালি হম                 সহচরি ভেজব
বৈঠব হরি নিজ-চিন্তে।
কহে শশিশেখরে            করতলে বুক ধরি
আনি মিলায়ব কান্তে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার প্রতি সখীর প্রবোধ-উক্তি
॥ সুহই ॥

কি করবি দশ দিন         দুঃখ ললাটে ছিল
চির-দিনে যে লিখল ধাতা।
তাকর লাগি নিজ             দেহ খোয়ায়বি
খায়বি সহচরি-মাথা॥
ধৈরজ বান্ধবি চীতে।
সবহুঁ দিবস তোর           দুখে নহি যায়ব
বিহি পুন মিলায়ব মীতে॥ ধ্রু॥
পথিকিনি-হাতে            পাতি লিখি ভেজলুঁ
আজু রজনি-পরভাতে।
সো অব এতখণ               মধুপুর পহুঁছল
প্রাতে দেয়ব হরি-হাতে॥
পুনহুঁ কালি হম                 সহচরি ভেজব
সখী মথুরাপুরী প্রান্তে।
কহে শশিশেখরে           করতলে বুক ধরি
আনি মিলায়ব কান্তে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি করবি দশ দিন দুঃখ ললাটে ছিল                
চির দিনে যে লিখল ধাতা।
তাকর লাগি নিজ দেহ খোয়ায়বি                    
খায়বি সহচরি-মাথা॥
ধৈরজ বান্ধবি চীতে।                                
সবহুঁ দিবস তোর দুখে নহি যায়ব                   
বিহি পুন মিলায়ব মীতে॥
পথিকিনি হাতে পাতি লিখি ভেজলুঁ                  
আজু রজনি পরভাতে।
সো অব এতখণ মধুপুর পহুঁছল                      
প্রাতে দেয়ব হরি-হাতে॥
পুনহুঁ কালি হম সহচরি ভেজব                        
সখী মথুরাপুরী প্রান্তে।
কহে শশিশেখরে করতলে বুক ধরি                  
আনি মিলায়ব কান্তে॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
চির দিবস ভেল হরি রহল মথুরাপুরী
চির দিবস ভেল হরি রহই মথুরা পুরী
ভণিতা শশিশেখর
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

চির দিবস ভেল হরি             রহল মথুরাপুরী
অতএ হাম বুঝিয়ে অনুমানে।
মধুনগর যোষিতা১            সবহু তারা পণ্ডিতা
বান্ধল মন সুরত রতি দানে॥
গ্রাম্য কুলবালিকা            সহজে পশু-পালিকা
হাম কিএ শ্যাম সুখ ভোগ্যা।
রাজকুল সম্ভবা               শোড়শী নব গৌরবা
যোগ্য জনে মিলয়ে জন ভোগ্যা॥
তত দিবস জীবই                   নিম্বফল চাখই
অমিয়ফল যাবত নাহি পাওয়ে।
অমিয় ফল ভোজনে               উদর পরিপূরণে
নিম্বফল দীগে নাহি ধাওয়ে॥
তবে ত অলি গুঞ্জরে              যাই ধূতরা ফুলে
মালতী ফুল যাবত নহি ফুটে।
রাই মুখ কাহিনী               শশিশেখর শুনি শুনি
রোখে ধনী কহয়ে কিছু ঝুটে॥

১। যোষিতা - স্ত্রীলোক।

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি গাড়াদহের পুথি থেকে প্রাপ্ত।

মাথুর বিরহ
॥ সুহই॥

“চির-দিবস ভেল হরি           রহই মথুরা পুরী
অবহুঁ সখি বুঝহ অনুমানে।
মধু-নগর-যোষিতা          সবহুঁ তারা পণ্ডিতা
বান্ধি মন সুরত-রতি-দানে॥
কর্ম্ম-গত বালিকা          সহজে পশু-পালিকা
হাম কিয়ে শ্যাম-উপভোগ্যা।
রাজ-কুল-সম্ভবা              সরসিরুহ-গৌরবা
যোগ্য-জনে মিলয়ে জন যোগ্যা॥”
“তাবত দিন যাপই               নিম্ব-ফল চাখই
অমিয়-ফল যাবত নহি পাই।
অমিয়-ফল-ভোজনে             উদর-পরিপূরণে
নিম্ব-ফল দীগ নহি চাই॥
তাবত অলি গুঞ্জরে             যাই ফুল ধূতরে
মালতি ফুল যাবত নহি ফোটে।”
রাই-মুখ-কাহিনি                 শশিশেখরে শুনি
রোখ-ভরে কহই কিছু ওঠে॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী গান্ধার - তাল ঝাঁপ॥

চির দিবস ভেল হরি, রহল মথুরাপুরী, অতয়ে হাম বুঝিনু
অনুমানে। মধুনগরী১ যোষিতা২, সবহুঁ রসে পণ্ডিতা, বাঁধল মন সুরত
রতি দানে॥ গ্রাম্য কুলবালিকা, সহজে পশুপালিকা, হাম
কিয়ে শ্যামসুখ ভোগ্যা। রাজকুলসম্ভবা, সরসীরুহ৩ গৌরবা,
যোগ্যজনে মিলয়ে যেন যোগ্যা॥ তত দিবস জীবই, নিম্বফল চাখই,
অমিয়ফল যাবত নাহি পাওয়ে। অমিয়াফল ভোজনে, উদর পরি-
পূরণে, নিম্বফল দীকে নাহি ধাওয়ে॥ তাবত অলি গুঞ্জরে,
যাই ধুতূরা ফুলে, মালতী ফুল যাবত নহি ফুটে। রাই মুখ
কাহিনী, শশিশেখর শুনি শুনি, রোখ ভরে কহয়ে কিছু ঝুটে॥

১। মধুনগরী - মথুরা, ২। যোষিতা - স্ত্রীলোক, ৩। সরসীরুহ - পদ্মিনী।

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৩১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিরহখণ্ড
॥ শ্রীরাগ - জপতাল ও ঝাঁপতাল॥

চির দিবস ভেল হরি,             রহল মথুরাপুরি,
অতয়ে সখি বুঝহ অনুমানে।
মধু-নগর-যোষিতা              সবহুঁ তারা পণ্ডিতা
বান্ধল মন সুরত-রতি-দানে॥
গ্রাম্য গোপ-বালিকা,             সহজে পশুপালিকা
হাম কিয়ে শ্যাম-উপভোগ্যা।
রাজকুল-সম্ভবা,                    সরসীরুহ-গৌরবা
যোগ্য জনে মিলয়ে জনু যোগ্যা॥
তাবত দিন যাপই                     নিম্বফল চাখই
অমিয়া-ফল যাবত নহি পাওয়ে।
অমিয়া-ফল ভোজনে,               উদর পরিপূরণে
নিম্বফল দিক নাহি চাওয়ে॥
তাবত অলি গুঞ্জরে,                যাই ফুল ধূতুরে
মালতি ফুল যাবত নহি ফুটে।
রাই-মুখ-কাহিনী,                শশিশেখর শুনি শুনি
রোখভরে কহিয়া কিছু উঠে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে

॥ সুহই ॥

চির-দিবস ভেল হরি             রহই মথুরা পুরী
অবহুঁ সখি বুঝহ অনুমানে।
মধু-নগর-যোষিতা             সবহুঁ তারা পণ্ডিতা
বান্ধল মন সুরত-রতি-দানে॥
গ্রাম্য গোপ বালিকা           সহজে পশু-পালিকা
হাম কিয়ে শ্যাম-উপভোগ্যা।
রাজ-কুল-সম্ভবা                  সরসিরুহ-গৌরবা
যোগ্য-জনে মিলয়ে জনু যোগ্যা॥
তাবত দিন যাপই                   নিম্ব-ফল চাখই
অমিয়-ফল যাবত নহি পাওয়ে।
অমিয়-ফল-ভোজনে                উদর-পরিপূরণে
নিম্ব-ফল দীগ নহি চাওয়ে॥
তাবত অলি গুঞ্জরে                যাই ফুল ধূতরে
মালতি ফুল যাবত নহি ফোটে।
রাই-মুখ-কাহিনি                     শশিশেখর শুনি
রোখ-ভরে কহই কিছু ওঠে॥ 
ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ি - জপতাল॥

চির দিবস ভেল হরি,             রহল মথুরা পুরী
অতয়ে হাম বুঝিয়ে অনুমানে।
মধুনগর-যোষিতা,              সবহু তারা পণ্ডিতা,
বাঁধল মন সুরত-রতি দানে॥
গ্রাম্য কুল বালিকা,             সহজে পশু পালিকা
হাম কিয়ে শ্যাম-উপভোগ্যা।
রাজকুল-সম্ভবা,                  সরসিরুহ গৌরবা,
যোগ্য জনে মিলয়ে যেন ভোগ্যা॥
তত দিবস যাপই,                    নিম্বফল চাখই,
অমিয়া ফল যাবত নাহি পাওয়ে।
অমিয়া ফল ভোজনে,              উদর পরিপুরণে,
নিম্বফল দীগে নাহি ধাওয়ে॥
তাবত অলি গুঞ্জরে,                যাই ফুল ধুতূরে,
মালতী ফুল যাবত নহি ফুটে।
রাই মুখ কাহিনী,                শশিশেখর শুনি শুনি,
রোখভরে কহয়ে কিছু উঠে॥

ই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিরহ-হতাশ

চিরদিবস ভেল হরি             রহল মথুরাপুরী
অতএ হাম বুঝিএ অনুমানে।
মধুনগর-যোষিতা            সবহুঁ তারা পণ্ডিতা
বাঁধল মন সুরতরতিদানে॥
গ্রাম্য-কুলবালিকা             সহজে পশুপালিকা
হাম কিয়ে শ্যাম-উপভোগ্যা।
রাজকুলসম্ভবা                 ষোড়শী নবগৌরবা
যোগ্যজনে মিলয়ে যেন যোগ্যা॥
তত দিবস যাপই                  নিম্ব-ফল চাখই
অমিয়-ফল যাবত নাহি পাওয়ে।
অমিয়া-ফল ভোজনে             উদর-পরিপুরণে
নিম্বফল দিগে নাহি ধাওয়ে॥
তাবত অলি গুঞ্জরে             যাই ধুতুরা-ফুলে
মালতী-ফুল যাবত নাহি ফুটে।
রাই-মুখ কাহিনী                শশিশেখরে শুনি
রোখে ধনী কহয়ে কিছু ঝুটে॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”,
২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চিরদিবস ভেল হরি,             রহল মথুরাপুরী,
( চিরদিবস ভেল - আমার পিয়া কেন আর এল না গো, চিরদিবস
ভেল - আমার পিয়া কেন আর এল না, আমায় কাল্ আসব বলে
গেল পিয়া কেন আর এল না গো )
চিরদিবস ভেল হরি,             রহল মথুরাপুরী,
অত-এ হাম বুঝিনু অনুমানে।
(অত-এ হাম বুঝিনু অনুমানে বুঝা গেল, বুঝি আর পিয়া
আসবে না তার অনুমানে বুঝা গেল )
অত-এ হাম বুঝিনু অনুমানে॥
মধুনগরী ঘোষিতা          সবহুঁ রস পণ্ডিতা,
(মধুনগরী ঘোষিতা তারা রূপে যেমন আর গুণে তেমন, সেই
মথুরাবাসিনী রূপে ষেমন আর গুণে তেমন )
মধুনগরী ঘোষিতা          সবহুঁ রস পণ্ডিতা,
বাঁধি মন সুরত রতিদানে॥
( আরে সখি ) (বাঁধি মন সুরত তারা রতিদানে বেঁধেছে গো,
আমার পিয়ার মনকে তারা রতিদানে বেঁধেছে গো, সবহুঁ রস পণ্ডিতা
তাই রতিদানে বেঁধেছে গো )
বাঁধি মন সুরত রতিদানে॥
গ্রাম্য গোপ বালিকা, সবহুঁ পশুপালিকা
(গ্রাম্য গোপ বালিকা আর আমরা কৃষ্ণ সেবার কিবা জানি,
হলাম আহিরিণী তাই কুরূপিনী কৃষ্ণ সেবার কিবা জানি )
গ্রাম্য গোপ বালিকা, সবহুঁ পশুপালিকা,
হাম কিয়ে শ্যামসুখ ভাগ্যে। (আরে সখি)
( হাম কিয়ে শ্যাম এমন ভাগ্য কি আমাদের হবে, আমরা কৃষ্ণ
সেবার দাসী হব, এমন ভাগ্য কি আমাদের হবে )
হাম কিয়ে শ্যামসুখ ভাগ্যে। (আরে সখি)
তারা রাজকুল সম্ভাবা ষড় রসিকা গৌরবা,
( রাজকুল সম্ভাবা তারা রাজকুলের কুলবতী, আমার পিয়ার মনকে
ভুলায়েছে তারা রাজকুলের কুলবতী )
রাজকুল সম্ভাবা ষড় রসিকা গৌরবা,
যোগ্যজন মিলল যাই যোগ্যে। ( আরে সখি )
( যোগ্যজন মিলল তাদের যোগ্যে যোগ্য মিলেছে গো, আমার
শ্যাম যেমন আর তারা তেমন যোগ্যে যোগ্য মিলেছে গো ) যোগ্যজন
মিলিল যাই যোগ্যে। ( আরে সখি )
তাবত দিন যাওই,        নিম্বফল চাখই,
অমিয়া ফল যাবত নাহি পাওয়ে। ( আরে সখি )
(অমিয়া ফল যাবত ছিল নিম্বকে অমিয়া করে, অমিয়া কেমন
জানতো না গো নিম্বকে অমিয়া করে ) অমিয়া ফল যাবত নাহি
পাওয়ে। ( আরে সখি )
এখন অমিয়া ভোজনে                 উদর পরিপূরণে,
নিম্বফল দিকে নাহি চাওয়ে॥ ( আরে সখি )
( নিম্বফল দিকে এখন নিম্বফল আর খাবে কেন, অমিয়া ফল
পেয়েছে গো নিম্বফল আর খাবে কেন )
নিম্বফল দিকে নাহি চাওয়ে॥ ( আরে সখি )
তাবত অলি গুঞ্জরে, যাইয়া ফুল ধুতুরে,
মালতী ফুল যাবত নাহি ফুটে। (আরে সখি)
(মালতী ফুল যাবত ছিল ধুতুরাকে মালতী করে, মালতী ফুল
অভাবে ছিল ধুতুরাকে মালতী করে )
মালতী ফুল যাবত নাহি ফুটে॥ (আরে সখি)
রাই মুখ কাহিনী,       শশিশেখর শুনি,
ক্রোধভরে কাঁপিয়া তনু উঠে। ( আর রইতে নারে )
(ক্রোধভরে কাঁপিয়া তনু আর ধৈকজ ধরতে নারে, শ্রীরাধিকার
দশা দেখে আর ধৈরজ ধরতে নারে )
ক্রোধভরে কাঁপিয়া তনু ওঠে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চির দিবস ভেল হরি রহই মথুরা পুরী                     
অবহুঁ সখি বুঝহ অনুমানে।
মধু নগর যোষিতা সবহুঁ তারা পণ্ডিতা                     
বান্ধল মন সুবত রতি দানে॥
গ্রাম্য গোপ বালিকা সহজে পশু পালিকা                   
হাম কিয়ে শ্যাম-উপভোগ্যা।
রাজ কুল সম্ভবা সরসিরুহ গৌরবা                        
যোগ্য জনে মিলয়ে জনু যোগ্যা॥
তাবত দিন যাপই নিম্ব ফল চাখই                         
অমিয় ফল যাবত নহি পাওয়ে।
অমিয় ফল ভোজনে উদর পরিপূরণে                      
নিম্ব ফল দীগ নহি চাওয়ে॥
তাবত অলি গুঞ্জরে যাই ফুল ধূতরে                      
মালতি ফুল যাবত নহি ফোটে।
রাই মুখ কাহিনি শশিশেখর শুনি                          
রোখ ভরে কহই কিছু ওঠে॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
নৃপতি-সুখ বাঞ্ছ যদি
নৃপতি-সুখ বাঞ্ছতা যদি
ভণিতা শশিশেখর
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি গাঁড়াদহের পুথি থেকে প্রাপ্ত।

মথুরায় শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি
॥ জয়জয়ন্তী॥

নৃপতি-সুখ                     বাঞ্ছ যদি
ব্রজে কি আশ পূরে না।
গোপ-কুলে                  বসতি কেবা
নন্দ ঘোষে জানে না॥
রাইকে ছাড়ি                রহলি ভুলি
তাও কি মনে লয় না।
তারে হরি                   চাহসি যদি
কুবুজা সঞে মিল না॥
জননি হেরি                আয়বি ফিরি
অন্য সব রহ দূরে।
গোপি প্রতি                  না কর কিছু
কহই শশিশেখরে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মথুরায় শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি
॥ জয়জয়ন্তী॥

নৃপতি-সুখ                     বাঞ্ছ যদি
ব্রজে কি মন মানে না।
গোপ-কুলে                  বসতি কেবা
নন্দ ঘোষে জানে না॥
রাইকে ছাড়ি                 রহলি ভুলি
তাও কি মনে নিল না।
তারে হরি                   চাহসি যদি
কুবুজা সঞে মিল না॥
জননি হেরি                আয়বি ফিরি
সবহুঁ রহ দূরে।
গোপি প্রতি                  না কর কিছু
শশিশেখরে ঝুরে॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নৃপতি সুখ বাঞ্ছতা যদি ব্রজে কি আশা মেটে না হে,
( তোমার রাজা হবার কি এত সাধ হে, তবে নন্দকে বল নাই কেন রাজা হবার কি এত সাধ )
নৃপতি সুখ বাঞ্ছতা যদি ব্রজে কি আশা মেটে না হে,
গোপ কুলে বসতি কেও নন্দঘোষ তায় বলেনা হে।
( ওহে হেথা তোমার বেশী কি হে, তুমি সেথা ছিলে রাজার ছেলে
হেথা তোমার বেশী কি হে )
গোপ কুলে বসতি কেও নন্দঘোষ তায় বলেনা হে॥
রাইকো ছাড়ি রহলি ভুলি তাও কি মনে পড়ে না হে।
( সোনার মুখ কি মনে পড়ে না হে, ষোলকলা পূর্ণ বিধু বদন কি
মনে পড়ে না হে )
রাইকো ছাড়ি রহলি ভুলি তাও কি মনে পড়ে না হে॥
কিন্তু হরি চাহসি যদি কুব্জা সম মেলে না হে॥
( আমরা বাঁকা নারী কোথা পাব, আমাদের ব্রজে সবাই সরল
আমরা বাঁকা নারী কোথা পাব )
কিন্তু হরি চাহসি যদি কুব্জা সম মেলে না হে॥
আমাদের রাই রূপসী হতে কুব্জা বড় সুন্রী,
বুক পিঠে আছরে কুচগিরি। ( দেখে লাজে মরি )
( আমরা দেখে লাজে মরি, তোমার আঁখিতে কি লাজ নেই হে
দেখে লাজে মরি )
বুক পিঠে আছরে কুচগিরি॥
জননী হেরি আওবি ফিরি অন্য সব রহু দূরে,
গোপিকা প্রতি না কহ কিছু কহয়ে শশি শেখরে॥
( তোর মাকে দেখে ফিরে আসবি, একবার ব্রজে চল্ বঁধু তোর
মাকে দেখে ফিরে আসবি, আমরা ধরে রাখব না তোর মাকে দেখে
ফিরে আসবি )
গোপিকা প্রতি না কহ কিছু কহয়ে শশি শেখরে॥ 
ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নৃপতি সুখ বাঞ্ছ যদি                        
ব্রজে কি মন মানে না।
গোপ কুলে বসতি কেবা                    
নন্দ ঘোষে জানে না॥
রাইকে ছাড়ি রহলি ভুলি                     
তাও কি মনে নিল না।
তারে হরি চাহসি যদি                      
কুবুজা সঞে মিল না॥
জননি হেরি আয়বি ফিরি                   
সবহুঁ রহ দূরে।
গোপি প্রতি না কর কিছু                    
শশিশেখরে ঝুরে॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
মুরলী শিখাও নাথ মুরলী শিখাও
ভণিতা শশিশেথর
কবি শশিশেখর
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
"বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মুরলী শিখাও নাথ মুরলী শিখাও।
কদম্বে হিলন দিয়ে যেমতি বাজাও॥
মুরলী শিখিতে গৌরী বহু ধন লাগে।
তুমিতো কুলের বধু ধন কোথা পাবে॥
আমি তো রাজার ঝি বহুধন মিলে।
মুরলী শিখিতে পারি কোন ধন দিলে॥
আগেত শিখাও বাঁশী পিছু ধন দিব।
শ্যাম কহে শেখ বাঁশী আগে ধন নিব॥
মুরলী শিখিবে গৌরী বৈস তরুতলে।
উভ করি বাঁধ কেশ বানে যেন টলে॥
গলে বনমালা নাও পীতবাস পর।
চরণে চরণ দিয়ে করে বাঁশী ধর॥
অনেক যতনে বৃদ্ধ মুরলী শিখায়।
রাধা নাম বলিতে বাঁশী শ্যাম নাম গায়॥
প্রেম সরোবরে ভাসে রসিক শিরোমণি।
শশিশেখর কহে মজিল রমণী॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর