কবি শশিশেখরের বৈষ্ণব পদাবলী
*
শমন ঔর রমণ মোহে ভুলল রে প্রিয় সখি
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী” , ১০২৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে

॥ তথারাগ॥

শমন ঔর রমণ
মোহে ভুলল রে প্রিয় সখি
.        করি কি উপায় বুদ্ধি বল না।
ইহ দিবস যামিনী
কৈছে বিরাময়ব
.        এতহু দুখে হত এ জীউ গেল না॥
এ দুখ হেরি করুণা করি
বিদরে যদি বসুমতী
.        তবহু হাম পৈঠী তছু মাঝে।
শ্যাম গুণধাম
পরবাসে হাম পামরী
.        এ মুখ দরশায়ব কোন্ লাজে॥
পিয়াক গুঢ় গরবে হাম
কবহুঁ ধরণীতলে
.        তৃণহু করি কাহুক না গণলা।
নৈলে কেন ঐছে গতি
কাহে ভেলরে সখি
.        সোই অভিশাপ মুঝে ফললা॥
পুনহু যদি কোই আসি
কহে কুশল কাহিনী
.        পরম সুখে আছয়ে হরি রায়।
তবহু হাম এসব দুখ
সুখ করি মানিয়ে
.        শশিশেখর কহিয়া না পাঠায়॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ১০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই - ঝাঁপতাল॥

শমন উর রমণ মোহে,                  ভুললরে প্রিয় সখি,
করি কি উপায় বুদ্ধি বল না।
ইহ দিবস যামিনী,                        কৈছে নিরবাহব.
এতহু দুখে ততহু জীউ গেলনা রে॥
এ দুখ হেরি করুণা করি,            বিদরে যদি বসুমতি,
তবহু হাম পৈঠি তছু মাঝে।
শ্যাম গুণ-ধাম পর-                        বাসে হাম পামরী,
এ মুখ দরশাওব কোন লাজে॥
পিয়াক গুরু গরবে হাম,                    কবহু ধরণীতলে,
তৃণহু করি কাহুক না গণলা।
নৈলে কেন ঐছে গতি                   কাহে ভেল রে সখি,
সোই অভিশাপ মুঝে ফলনা॥
পুনহুঁ যদি কোই আসি,                  কহে কুশল কাহিনী,
পরম সুখে আছয়ে হরি রায়।
তবহু হাম এ সব দুখ,                     সুখ করি মানিই,
শশীশেখর কহিয়া না পাঠায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শমন ঔর রমণ মোহে ভুলল রে প্রিয়        
সখি করি কি উপায় বুদ্ধি বল না।
ইহ দিবস যামিনী কৈছে বিরাময়ব            
এতহু দুখে হত এ জীউ গেল না॥
এ দুখ হেরি করুণা করি বিদরে যদি          
বসুমতী তবহু হাম পৈঠী তছু মাঝে।
শ্যাম গুণধাম পরবাসে হাম পামরী             
এ মুখ দরশায়ব কোন্ লাজে॥
পিয়াক গুঢ় গরবে হাম কবহুঁ ধরণীতলে      
তৃণহু করি কাহুক না গণলা।
নৈলে কেন ঐছে গতি কাহে ভেলরে          
সখি সোই অভিশাপ মুঝে ফললা॥
পুনহুঁ যদি কোই আসি কহে কুশল             
কাহিনী পরম সুখে আছয়ে হরি রায়।
তবহুঁ হাম এসব দুখ সুখ করি মানিয়ে       
শশিশেখর কহিয়া না পাঠায়॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
শীতল তছু অঙ্গ হেরি পরশ রস লালসে
শিতল তছু অঙ্গ দেখি সঙ্গ সুখ লালসে
ভণিতা শশিশেখর
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ৪৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

শীতল তছু অঙ্গ হেরি            পরশ রস লালসে
করল কুল ধরম গুণ নাশ।
সো যদি তেজল               কি কাজ ইহ জীবনে
আনলো রো সখি গরল করি গ্রাস॥
প্রাণাধিকা রে সখি            কাহে তোরা রোয়সি
মরিলে করবি কিছু কাজে।
নীরে নাহি ডারবি               অনলে নাহি দাহবি
রাখবি তনু ইহ বরজ মাঝে॥
হামারি দুহু বাহু ধরি              সুদৃঢ় করি বান্ধবি
শ্যামরুপী তরু তমাল ডালে।
ললাটে যদি বাহুমূলে               শ্যাম নাম লেখবি
তুলসী দাম দেয়বি গলে॥
ললিতা লেহ কঙ্কণ              বিশাখা লেহ অঙ্গুরী
চিত্রা লেহ নির্ম্মল চুড়িতে।
বিরহ অনলে রাধে                  সততহি কাতর
শুনি শেল শশিশেখর চিতে॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” গ্রন্থের পদ।

মাথুর বিরহ
॥ সুহই॥

শিতল তছু অঙ্গ দেখি                সঙ্গ-সুখ লালসে
খোয়লুঁ কুল ধরম গুণ নাশে।
সোই যদি তেজল কি                কাজ ইহ জীবনে
আনহ সখি গরল করি গ্রাসে॥
প্রাণ সঞে অধিক তুহুঁ          রোয়সি রে কাহে সখি
মরিলে হম করিহ ইহ কাজে।
অনলে নহি দাহবি রে               নীরে নহি ডারহি
এ তনু ধরি রাখবি ব্রজ-মাঝে॥
হমারি দোন বাহু ধরি              সুদৃঢ় করি বাঁধবি
শ্যাম-রুচি-তরু-তমাল-ডালে।
প্রতি দিবস সবহুঁ মিলি           নিচয়ে আসি দেখবি
শয়ন তেজি উঠই উষ-কালে॥
সকল পরসঙ্গে মিলি          স্মৃতি করবি মোরি সখি
নাম লেই অভাগি ধনি রাই।
এ গজ-মতি হার লেহ              আপন-গলে ধারবি
তোহে নিজ-চিহ্ন দেই যাই॥
বিশাখা সখি বলয় লেহ             ইন্দু-রেখা অঙ্গুরি
নাস-আভরণ লেহ চিত্রা।
লম্ব-অবতংস লেহ                শ্রুতি-যুগলে ধারবি
সুদেবি অতি নিরমল-চরিত্রা॥
এতহুঁ সংবাদ কহি                 খোলই সব ভূখণে
দেই সব আলি-গণে বাঁটি।
পাণি-তলে ঘাত বুকে               মাথে সভে মারই
শশিশেখর মরত জিউ ফাটি॥

ই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত "বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য
বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা", ২৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শিতল তছু অঙ্গ দেখি                সঙ্গ সুখ লালসে
খোয়লুঁ কুল ধরম গুণ নাশে।
সোই যদি তেজল                কি কাজ ইহ জীবনে
আনহ সখি গরল করি গ্রাসে॥
প্রাণ সঞে অধিক তুহুঁ          রোয়সি রে কাহে সখি
মরিলে হম করিহ ইহ কাজে।
নীরে নহি ডারবি                  অনলে নাহি দাহবি
এ তনু ধরি রাখবি ব্রজ মাঝে॥
হমারি দোন বাহু ধরি              সুদৃঢ় করি বাঁধবি
শ্যামরুচি তরু তমাল ডালে।
প্রতি দিবস সবহুঁ মেলি           নিচয়ে আসি দেখবি
শয়ন তেজি উঠই ঊষ কালে॥
সকল পরসঙ্গে তোরা        স্মৃতি করবি মোরি সখি
নাম লেই অভাগি ধনি রাই।
ললিতা মতি হার লেহ              আপন গলে ধারবি
তোহে নিজ চিহ্ন দেই যাই॥
বিশাখা সখি বলয় লেহ              ইন্দুরেখা অঙ্গুরি
নাস আভরণ লেহ চিত্রা।
লম্ব অবতংস লেহ                শ্রুতি যুগলে ধারবি
সুদেবি অতি নিরমল চরিত্রা॥
এতহুঁ সম্বাদ কহি                  খোলই সব ভূখণে
দেই সব আলিগণে বাঁটি।
পাণিতলে ঘাত বুকে                  মাথে ঘন মারই
শশিশেখর মরত জিউ ফাটি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই ॥

শিতল তছু অঙ্গ দেখি               সঙ্গ-সুখ লালসে
খোয়লুঁ কুল ধরম-গুণ নাশে।
সোই যদি তেজল কি               কাজ ইহ জীবনে
আনহ সখি গরল করি গ্রাসে॥
প্রাণ সঞে অধিক তুহুঁ        রোয়সি রে কাহে সখি
মরিলে হম করিহ ইহ কাজে।
অনলে নহি দাহবি রে               নীরে নহি ডারহি
এ তনু ধরি রাখবি ব্রজ-মাঝে॥
হমারি দোন বাহু ধরি              সুদৃঢ় করি বাঁধবি
শ্যাম-রুচি-তরু তমাল-ডালে।
প্রতি দিবস সবহুঁ মিলি          নিচয়ে আসি দেখবি
শয়ন তেজি উঠই উষ-কালে॥
সকল পরসঙ্গে মিলি         স্মৃতি করবি মোরি সখি
নাম লেই অভাগি ধনি রাই।
ললিতা মতিহার লেহ              আপন গলে ধারবি
তোহে নিজ-চিহ্ন দেই যাই॥
বিশাখা সখি বলয় লেহ             ইন্দু-রেখা অঙ্গুরি
নাস-আভরণ লেহ চিত্রা।
লম্ব-অবতংস লেহ                 শ্রুতি-যুগলে ধারবি
সুদেবি অতি নিরমল-চরিত্রা॥
এতহুঁ সংবাদ কহি                 খোলই সব ভূখণে
দেই সব আলি-গণে বাঁটি।
পাণি-তলে ঘাত বুকে                 মাথে সভে মারই
শশিশেখর মরত জিউ ফাটি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শিতল তছু অঙ্গ দেখি সঙ্গ সুখ লালসে                
খোয়লুঁ কুল ধরম গুণ নাশে।
সোই যদি তেজল কি কাজ ইহ জীবনে                
আনহ সখি গরল করি গ্রাসে॥
প্রাণ সঞে অধিক তুহুঁ রোয়সি রে কাহে                
সখি মরিলে হম করিহ ইহ কাজে।
অনলে নহি দাহবি রে নীরে নহি ডারহি                
এ তনু ধরি রাখবি ব্রজ মাঝে॥
হমারি দোন বাহু ধরি সুদৃঢ় করি                      
বাঁধবি শ্যাম রুচি তরু তমাল ডালে।
প্রতি দিবস সবহুঁ মিলি নিচয়ে আসি                    
দেখবি শয়ন তেজি উঠই উষ কালে॥
সকল পরসঙ্গে মিলি স্মৃতি করবি মোরি                
সখি নাম লেই অভাগি ধনি রাই।
ললিতা মতিহার লেহ আপন গলে                      
ধারবি তোহে নিজ চিহ্ন দেই যাই॥
বিশাখা সখি বলয় লেহ ইন্দু রেখা                      
অঙ্গুরি নাস আভরণ লেহ চিত্রা।
লম্ব অবতংস লেহ শ্রুতি যুগলে ধারবি                
সুদেবি অতি নিরমল চরিত্রা॥
এতহুঁ সংবাদ কহি খোলই সব ভূখণে                
দেই সব আলি গণে বাঁটি।
পাণি তলে ঘাত বুকে মাথে সভে মারই                
শশিশেখরে মরত জিউ ফাটি॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
রাম গুণধাম করু খেলা
হোর দেখ ভাই রাম গুণধাম করু খেলা
ভণিতা শশীশেখর
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৮৪৯ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
২০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

রাম গুণধাম করু খেলা। তপন তনয়া নীরে
নিরখি নিজ ছায়রি তা সঞে হাসি করত কত লীলা॥ রজত
গিরি খর্ব্ব করি গর্ব্ব মহীমণ্ডলে শরদ শশী দমন মুখ শোভা।
চূড়ে অবতংস শিখী পুচ্ছে নবমল্লিকা গন্ধে অলি বৃন্দ মন
লোভা॥ দশনে দাপী অধর খর নয়ন শরে তাড়ই বাহু
মূলে তাল ধরি গাজে। দম্ভ করি লম্ফ দেই কম্পে মহীমণ্ডল
নীল ধটী আটি সমরে সাজে॥ আপন সমরূপ সমরূপ সম
ভঙ্গিয়া নিরখি তাহারে পুনঃ পুছে। কে কেরে কেরে তুতুই
তুই পপ পরিচয় দে দেনারে আর কি ব বলদেব ব্রজে আছে॥
দাম শ্রীদাম বসুদাম  ভাভা ভাইরে দে দেখ আসি য যমুনা
নীরে। দ্বিতীয় বলরাম আসি মোহে পর বঞ্চই শশীশেখর
নিকটে নাহি দূরে॥

ই পদটি ১৯২২ সালে, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

রাম গুণধাম করু খেলা। তপন-তনয়ানীরে নিরখি নিজ ছায়রি তা সঞে
হাসি করত কত লীলা॥ রজতগিরি খর্ব্ব করি গর্ব্ব মহীমণ্ডলে শরদশশীদমন
মুখশোভা। চূড়ে অবতংস শিখিপুচ্ছে নবমল্লিকা গন্ধে অলিবৃন্দ মনলোভা॥
দশনে দাপি অধর খর নয়ন-শরে তাড়ই বাহুমূলে তাল ধরি গাজে। দম্ভ করি
লম্ফ দেই কম্পে মহীমণ্ডল নীল ধটি আঁটি সমরে সাজে॥ আপন সমরূপ সমরূপ
সমভঙ্গিয়া নিরখি তাহারে পুন পুছে। কে কেরে কেরে তু তুই তুই প প
পরিচয় দে দেনারে, আর কি ব বলদেব ব্রজে আছে॥ দাম শ্রীদাম বসুদাম
ভা ভা ভাইরে, দে দেখ আসি য যমুনা নীরে। দ্বিতীয় বলরাম আসি মোহে পর-
বঞ্চই শশীশেখর নিকট নাহি দূরে॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠলীলা।
॥ সারঙ্গ - বৃহৎ জপতাল॥

হোর দেখ ভাই রাম গুণধাম করু খেলা।
তপন-তনয়া-নীরে                        নিরখি নিজ ছায়ারে,
তাসঞে হাসি করত কত লীলা॥ ধ্রু॥
রজত গিরি গর্ব্ব,                        করি খর্ব্ব তহি বৈভব
শারদশশী দমনি মুখ শোভা।
চূড়ে অবতংস শিখী                          পুচ্ছে নবমল্লিকা
গন্ধে অলিবৃন্দ মন লোভা॥
দশনে দাপী অধর খর                        নয়ন শরে তাড়ই
বাহুমূলে তাল ধরি গাজে।
দম্ফ করি লম্ফ দেই                           ঝম্প মহীমণ্ডলে
নীল ধটি আঁটি সমরে সাজে॥
আপন সমরূপ সম                            ঠাম সম ভঙ্গিয়া
নিরখি রূপ তাহারে পুন পুছে।
কে-কেরে কেরে তুতু-তুই তুই       প-প-পরিচয় দে-দেনারে
আর কি ব বলদেব ব্রজে আছে॥
ওরে দাম শ্রীদাম বসু-                  দাম  ভ-ভ-ভাইয়ারে,
দে দেখ আসি য য-যমুনাক নীরে।
দ্বিতীয় বল দেবা আসি                        মোহে পরবঞ্চই
শশি শেখর নিকটে নাহি দূরে॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
ধনী চলিল রে আমার রাই কমলিনী
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী শঙ্করাভরণ - তাল লোফা অথবা ঝাঁপতাল॥

ধনী চলিল রে, আমার রাই কমলিনী, শ্যাম দরশনে। ধনীর
আকুল চিত্ত, নয়ন নৃত্য, খঞ্জন জিনিয়া রে॥ ঘন গরজিত, হৃদি
উলসিত, ধায় তৃষিত চাতকী রে॥ শ্যাম দরশনে। ধনী আপনি
কহে বঁধুর কথা, আপনি ঢুলায় বদনখানি। আহা মরি মরি, কি
রূপ মাধুরী, কানু মনোহারি যায় রে॥ শ্যাম দরশনে। ধনী
ভাবিতে ভাবিতে বঁধুর কথা, আপনি কহে আপন মনে। এসো
এসো ওহে পরাণ বঁধুয়া, নিয়ড়ে বৈস কানরে॥ শ্যাম দরশনে।
তখন হাসিয়া কহত ললিতা সখী, ধনী ধনী অনুরাগিণী। শশিশেখর
হেরিয়া বিভোর, সপল জনম মানরি॥ শ্যাম দরশনে॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
অট্টালিকা উপরি বসিয়া কিশোরী ভাবয়ে
ভণিতা শেখর দাস
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯২২ সালে, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত
সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ভণিতা শেখর দাস হলেও পদটি গ্রন্থের সূচীতে
শশীশেখরের নামেই রয়েছে।

অট্টালিকা উপরি বসিয়া কিশোরী ভাবয়ে সে রূপখানি। শ্রীদাম সুদাম, শ্যাম
বলরাম, করয়ে বেণুর ধ্বনি॥ শুনি বেণু রব, চমকিত সব, হইল অস্থির বালা।
শ্বাস নাহি বহে, প্রাণ নাহি দেহে, বাড়িল বিরহ জ্বালা॥ হেন কালে তথা, আইল
ললিতা, বিশাখা করিয়া সঙ্গে। দেখে কমলিনী, পড়িয়ে ধরণী, ধূলায় সোটায়
অঙ্গে॥ ত্বরান্বিত হয়ে, রাধারে তুলিয়ে, ললিতা লইল কোলে। কহ কমলিনি,
পাগলিনী হেন, কেন পড়ে ধরাতলে॥ লইয়া বত্স গাই, মোরা চল যাই, ধরিয়া
রাখাল বেশে। শুনিয়া বচন, আনন্দিত মন, কহয়ে শেখর দাসে॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
আর এক কই লেখা তোমার বন্ধুর সখা
ভণিতা শেখর
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯২২ সালে, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত
সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ভণিতা শেখর দাস হলেও পদটি গ্রন্থের সূচীতে
শশীশেখরের নামেই রয়েছে।

আর এক কই লেখা, তোমার বন্ধুর সখা, দুই চারি সখা তার আছে। কহি
পুন তার কথা, পাছে হেট কর মাথা, ননী চুরি কর ব্রজমাঝে॥ এই ব্রজের
গোপনারী, দধির পসরা করি, মথুরায় বিকে যায় তারা। পথ আগুলিয়া রহ,
দধি দুগ্ধ কাড়ি খাহ, একি তোমার আচম্বিত ধারা॥ নারিগণ স্নান করে,
বসন রাখিয়া তীরে, তাহা চুরি কর কি লাগিয়া। বাজায়ে মোহন বাঁশী, রুল-
বধু কর দাসী, আপনা অপনি বড় হইয়া॥ খাওয়াও পরের খন্দ, এখনি
করিব বন্দ, লয়ে যাব কংসের গোচর। শেখর কহয়ে হরি, বান্ধলে বান্ধিতে
পারি, তোমার নাহিক কিছু ডর॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
ভাসি প্রেমজলে নন্দজায়া বলে
ভণিতা শেখর
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯২২ সালে, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত
সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ভণিতা শেখর হলেও পদটি গ্রন্থের সূচীতে
শশীশেখরের নামেই রয়েছে।

ভাসি প্রেমজলে, নন্দজায়া বলে, যে কথা বলিলি মোরে। হরের ঘরণী
গণেশ জননী, তিনি আসি রক্ষা করে॥ তারে সেবি কোলে, পেয়েছি কোমলে,
তবে আর ভয় কি। নেরে রাম ধর, বাড়াইয়া কর, গোপালে সঁপিয়ে দি॥ রাম
করে হরি, যশোদা সুন্দরী, সোঁপিছে যাদব রায়। নয়নের জল, করে ছল ছল,
বসন তিতিয়ে যায়॥ রাম করে হরি, সমর্পণ করি, যশোদা মুরছা হইল।
কহিছে শেখর, হইয়ে কাতর, কেমনে যাইবে বল।

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
রামগুণধাম অনুপাম কি যে মনোহরং
ভণিতা শশিশেখর
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯২২ সালে, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত
সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রামগুণধাম অনুপাম কি যে মনোহরং। রোহিণীকৃত রচিত কত
বেশং॥ কুঞ্জরজিতি গমন অতি মন্থর ধরণী’পরে, নীলধটী শোভিত কটিদেশং।
বিহানে যুগ বারুণী পানে, রাতুল দুটী লোচন শারদশশী জিনিয়া মুখচন্দ্রা।
হারে রে রে রে বলি গভীর নাদ গরজই, ভৃঙ্গগণ ভ্রমই সব দ্বন্দ্বা॥ সবহু ব্রজ-
বালক মিলি রুহিণীসুত বেষ্টিত নন্দগৃহে প্রবেশে সভে যাই। দেখিয়ে ব্রজবাসক
শিশু, যতন করি কহিবিরে, কি লাগি তোরা আয়লি সব হেথা। বিবিধ সর
মাখন চিনি, খাইয়ে হরি রাখিয়ে যারে, শশিশেখর পায়ই মনে ব্যথা॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
ললিতা কেমনে উপায় করি
ভণিতা শেখর
কবি  শশিশেখর
এই পদটি ১৯২২ সালে, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত
সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৩-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ভণিতা শেখর হলেও পদটি গ্রন্থের সূচীতে শশীশেখরের
নামেই রয়েছে।

ললিতা কেমনে উপায় করি। শ্রীদাম সুগাম, আর বলরাম, সঙ্গে লয়ে
গেল হরি॥ ধ্রু॥ প্রাণনাথ গেল, মোরা যাই চল, আন গুঞিজ গাভা। ললিতা
বিশাখা, আর ইন্দুরেখা, সাজিয়া করহ শোভা॥ ললিতা সুন্দরী জানয়ে চাতুরী,
বলাই সাজিবে ভাল। বিশাখারে ভাল, সাজিবে সুবল, এই সে উপায় কয়।
তুঙ্গবিদ্যা আসি, হাসি কাছে বসি, কহে যোড় কর করি। শুন প্রাণেশ্বরী, বচন
হামারি, তোমারে সাজাব হরি॥ এতেক বচন, শুনিয়া তখন, কমলিনী ধনি
রাই। শেখর আসিয়ে, কহয়ে হাসিয়ে, গুঞ্জা গাভা কোথা পাই॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর