| কবি শশিশেখরের বৈষ্ণব পদাবলী |
| জীতি কুঞ্জর গতি মন্থর ভণিতা শশিশেখর কবি শশিশেখর এই পদটি ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী গবেষণা কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কুঞ্জর বর গতি মন্থর চলত গমন নারী। বংশীবট জাবচ তট বনহি বন হেরি॥ মদনকুঞ্জ শ্যামকুঞ্জ রাধাকুঞ্জ তীরে। দ্বাদশ বন ফিরত সঘন শৈলহি কিনারে॥ জাঁহা সব ধেনু রব তাঁহা চলত জোরে। ছিদাম সুদাম মধুমঙ্গল দেখত বনবীরে॥ যমুনাতীরে নীপহি মূলে ঢুরত বনআরি। শশিশেখর ধূলিধূসর কহত প্যারি প্যারি॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ২৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কলহান্তরিতা। ॥ শ্রীরাগ - জপতাল॥ জিতি কুঞ্জর গতি মন্থর, গমন করত নারী। বংশী-বট যাবচ তট বনহি বন নেহারি॥ শ্যাম-কুণ্ড মদন-কুণ্ড শ্রীরাধা-কুণ্ড তীরে। দ্বাদশবন হেরত সঘন শৈলহুঁ কিনারে॥ যাঁহা সব ধেনু চরত তাঁহা চলত জোরে। শ্রীদাম সুদাম দাম বসুদাম দেখত বলবীরে॥ যমুনা কূলে নীপহু মূলে লুঠত বনোয়ারী। শশি শেখর ধূলি ধূসর কহত প্যারী প্যারী॥ এই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কৃষ্ণ অন্বেষণে বৃন্দাদূতীর গমন। জীতি কুঞ্জর গতি মন্থর, গমন করত নারী। বংশী বট, যাবচ তট, বনহী বন হেরি॥ শ্যাম কুণ্ড মদন কুঞ্জ রাধা কুণ্ড তীরে। দেখে দ্বাদশবন হোরত সঘন সইলহু কিনারে॥ যাঁহা সব ধেনু রব তাঁহা চলত জোরে। দেখে শ্রীদাম সুদাম মধু মঙ্গল দেখত বলবীরে॥ যমুনা কূলে নীপহু মূলে পড়িরহু বনয়ারী। শশিশেখর, ধূলি ধূসর, জপতহি প্যারি প্যারি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| খল সংহতি সরলা জন জীবন শর ভেল ভণিতা শশিশেখর কবি শশিশেখর এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ১২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সঞ্চারি বেহাগ - জপতাল॥ খল সংহতি, সরলা জন, জীবন-শর ভেল। প্রতি ঘরে ঘরে, উঠল রব, কানু সনে মেল॥ অলপ বয়েসে নয়ান ভঙ্গ বিপদে পড়ল তোসব সঙ্গরে, কিয়ে কাল পঙ্কে ডারসুঁ, . শঙ্কা দূরে গেল। শাশুড়ি কটি বিকট ভাষ, ননদি অতি দেয় তরাস ঘরে ঘরে মোর সবহু বৈরী, . মমতা দূরে গেল॥ (যদি) কাহুক বদনে শ্যামের নাম, না শুনি তবে জ্বলত প্রাণ, আন কহিতে কহিয়ে আন, . ধৃতি মতি দূরে গেল। (যদি) কাহুক বদনে শ্যামের নাম, শুনি তবে মোর উলসিত প্রাণ, শশি শেখর চিত অভিমত, . সরম ভরম গেল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ও শঠ লম্পট কোটি নটিনী ভট ভণিতা শশিশেখর কবি শশিশেখর এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ১৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখীর উক্তি। ॥ ললিত - তেওট॥ ও শঠ লম্পট কোটি নটিনী ভট রাই নিয়ড়ে মতি যাহ। কহিলাম বেরি বেরি ওথা না যাইহ হরি যদি নিজ মরিযাদ চাহ॥ তোহে কহুঁ করি নিজ দীব। তোহে হেরি সিন্দরী মোরে পাঠায়ল আওয়ে মতি হামারি সমীপ॥ ইথে যদি যাওবি কলহ বাঢ়ায়বি বৈরি হাসায়বি প্রাতে। রোই রোই যাওবি থেহ না পাওবি কর অবলম্বন মাথে॥ এত কহি সো সখি তাহি চলল ফেরি কানু চলত তছু সাথ। কহে শশি শেখর লাজ নাহি যাকর তা সঞে কিয়ে আর বাত॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দধি মন্থ ধ্বনি শুনইতে নীলমণি ভণিতা শশীশেখর কবি শশিশেখর এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা। ॥ মায়ূর - দশকুশী॥ দধি মন্থ ধ্বনি শুনইতে নীলমণি আওল সঙ্গে বলরাম। যশোমতী হেরি মুখ পাওল মরমে সুখ চুম্বয়ে চাঁদ বয়ান॥ কহে শুন যদুমনি, তোরে দিব ক্ষীর ননী, খাইয়া নাচহ মোর আগে। নবনী লোভিত হরি, মায়ের বদন হেরি, কর পাতি নবনীত মাগে॥ আদি অনাদি, পরম পুরুষোত্তম, কপট বালক বেশ ধরি। চারি বেদ যার, অন্ত না পাওত, সো হরি নবনী-ভিখারী॥ ধ্রু॥ নাচ লালন মোরি বচন, হেরি অঙ্গন মাঝে। কটী মাঝহি, ঘাঘর ঘুঙুর, অতি সুমধুর বাজে॥ পদ পঙ্কজে, নুপুর বাজে, ধরি পঞ্চম তান। ভালো শোভে, অলকাবৃত, হেরি জুড়াওত প্রাণ॥ সেবি শঙ্কর, দেব দিগম্বর, দিয়া ঘৃত গঙ্গানীরে। উড়ি তণ্ডুল, শ্রীফল দল, দিয়াছিলাম শিবের শিরে॥ নয়ন কমল, ও মুখ মণ্ডল, হেরি জুড়াওত আঁখি। খাও মাখন, মেরি বচন, শশীশেখর সাখী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ধনি চলিল রে ভণিতা শশীশেখর কবি শশিশেখর এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৫১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মিশ্র বিভাস - যপতাল॥ ধনি, চলিল রে--- ধনির কেশরী জিনিয়া মাঝহি খীনী, তাহে শোভিছে কিঙ্কিনী চরণ কমলে নূপুরের ধ্বনি, . কুণু ঝুণু রুণু তানরে। নীল বসন উড়ানী গায়, মেঘেতে বিজরী লুকায়ে যায়, নীল কমল রচিত হার, . হিয়া মাঝে অনুপাম রে। মুখ মণ্ডল শশী উজোর, ভরমে ধাওল চকোর রে, উড়ি পড়ত হ’য়ে বিভোর, . মাগে পীযূষ দানরে। পরিমল পাই ব্রমর পুঞ্জ বৈঠত আসি চরণে মন্দ মন্দ মধুর গুঞ্জ . লুব্ধ মধু পান রে। পথে পরমাদ হেরিয়া রাই বসনে ঝাঁপয়ে বদন খানি, হেরি হসত সখিনি বৃন্দ . করত সাবধান রে। ভাবিতে ভাবিতে বঁধুর কথা, আপনি কহে আপন মনে এস এস ওহে পরাণ বঁধুয়া . নিয়রে বৈস কানরে। শুনিয়া কহত ললিতা সখী, ধনি ধনি অনুরাগিনি, শশিশেখর হেরিয়া বিভোর . সফল জনম মানরি। . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |