| কবি তরুণীরমণের বৈষ্ণব পদাবলী |
| অম্বর হেরি হরল ধনি সম্বিত অম্বর হেরি হল ধনি সম্বিত ভণিতা তরুণীরমণ কবি তরুণীরমণ এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”, ১২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ অথ পদং॥ অম্বর হেরি হরল ধনি সম্বিত কম্পিত খল খল অঙ্গ। বাহু পসারি ধাই ধরু কাকরু, কো জানে মদনতরঙ্গ॥ সুন্দরি হাসি বচন কহু থোর। নীল অঞ্চল লই, সঘনে আলিঙ্গই, নয়নে নিঝরে ঝরু লোর॥ ধ্রু কি শুনিনু কি পেখিনু কো জানে ঐছনে পুন কহে বাত। দরশনে পরশ সব সমুঝ মানস, কোই কহবি হাতে হাত॥ অধোমুখ হোই রহই দিন যামিনী, ভাবিনী ভাব গভীর। তরুণীরমণে ভণে, মরমহি জাগত, অদভুত শ্যাম শরীর॥ এই পদটি ১৯১৯ সালে (১৩২৬বঙ্গাব্দে) প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা”-র ৪র্থ সংখ্যায়, তারকেশ্বর ভট্টাচার্য্যর “তরুণীরমণের পদাবলী” প্রবন্ধের ২১০-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পূর্ব্ব-রাগ অম্বর হেরি হল ধনি সম্বিত ঘন ঘন কম্পিত অঙ্গ। বাহু পসারি ধাই ধরু কা করু কো বুঝে মরম তরঙ্গ॥ সুন্দরী হাসি বচন কহু থোর। নীল অঞ্চল লই সঘনে আলিঙ্গই নয়নে নিঝরে ঝরু লোর॥ ধ্রু। কি শুনিনু কি পেখনু কে জানে কৈছন ঐছন পুন কহে বাত। দরশনে পরশ সরস মঝু মানস কোই করব হাতে হাত॥ অধমুখ হোই রহই দিন-যামিনী ভাবিনী ভাব গভীর। তরুণীরমণ ভণ মরমহি জাগত অদভুত শ্যাম শরীর॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুনহে সুবল সখা আর কি পাইব দেখা সুন হে সুবল সখা আর কি হইবে দেখা শুন হে সুবল সখা আর কি হইবে দেখা ভণিতা তরুণীরমণ, তরণীরমণ কবি তরুণীরমণ এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”, ১৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তত্রৈব॥ শুনহে সুবল সখা, আর কি পাইব দেখা, পাশরিতে নারি সুধামুখী। একথা কহিব কায়, কেবা পরতিত যায়, মোর প্রাণ আমি তার সাখী॥ সখা, ভাবিতে ভাবিতে তনু শেষ। যদি কার্য্য নহে সিদ্ধি, না জানি কি করে বিধি, অনলে করিব পরবেশ। শুনিয়া সুবল কর, আর না করিহ ভয়, অবিলম্বে আনি দিব তোরে। পূরাব মনের আশ, তবে সে জানিবে দাস, বিলাস করিবে রসভরে॥ কর যোড় করি শ্যাম, সখায় করে পরণাম, ইহ লোকে তুমি মোর বন্ধু। তরুণীরমণে বলে, রাখ রাঙ্গা পদতলে, এবার তরাহ ভবসিন্ধু॥ এই পদটি ১৯১৯ সালে (১৩২৬বঙ্গাব্দে) প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা”-র ৪র্থ সংখ্যায়, তারকেশ্বর ভট্টাচার্য্যর “তরুণীরমণের পদাবলী” প্রবন্ধের ২১২-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কৃষ্ণস্য পূর্ব্বরাগঃ সুন হে সুবল সখা আর কি হইবে দেখা পাসরিতে নারি সুধামুখি। ই কথা কহিব কারে কে বা পরতিত জায় মোর প্রাণ আমি তার সাখি॥ সখী হে, ভাবিতে ভাবিতে তনু সেস॥ যদি কার্য্য হয় সিদ্ধি না জানি কি করে বিধি আনলে করিব পরবেশ॥ শুনিয়া সুবল কয় কিছু না করিহ ভয় অবিলম্বে আনি দিব তারে। পূরাব মনের আস তবে সে জানিবে দাস বিলাস করিবে রসভরে॥ কর জোর করি শ্যাম সখাএ করে পরনাম ইহ লোকে তুমি মোর বন্ধু। তরুণীরমণ বলে রাখ রাঙ্গা পদতলে এ বার তরাহ ভবসিন্ধু॥ এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদরসসার পুথির পদ। [ শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ ] ॥ গান্ধার॥ শুন হে সুবল সখা আর কি হইবে দেখা পাসরিতে নারি সুধামুখী। এ কথা কহিব কায় কেবা পরতীত যায় মোর প্রাণ আমি তার সাখী॥ সখা ভাবিতে ভাবিতে তনু শেষ। না জানি কি করে বিধি যদি নহে কার্য্য-সিধি আনলে করিব পরবেশ॥ ধ্রু॥ শুনিয়া সুবল কয় কিছু না করিহ ভয় অবিলম্বে আনি দিব তারে। পূরাব তোমার আশ তবে সে জানিবে দাস বিলাস করিবে রস-ভরে॥ কর-যোড় করি শ্যাম সখারে করে পরণাম ইহ লোকে তুমি মোর বন্ধু। তরণীরমণে বলে রাখ রাঙ্গা-পদ-তলে এবার তরাও ভব-সিন্ধু॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৩২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ ॥ গান্ধার॥ শুন হে সুবল সখা আর কি হইবে দেখা পাসরিতে নারি সুধামুখী। এ কথা কহিব কায় কেবা পরতীত যায় মোর প্রাণ আমি তার সাখী॥ সখা ভাবিতে ভাবিতে তনু শেষ। না জানি কি করে বিধি যদি কার্য্য নহে সিধি আনলে করিব পরবেশ॥ ধ্রু॥ শুনিয়া সুবল কয় কিছু না করিহ ভয় অবিলম্বে আনি দিব তারে। পূরিবে তোমার আশ তবে সে জানিবে দাস বিলাস করিবে রসভরে॥ কর-যোড় করি শ্যাম সখারে করে পরণাম ইহলোকে তুমি মোর বন্ধু। তরণীরমণে বলে রাখ রাঙ্গা পদতলে এবার তরাও ভবসিন্ধু॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২১৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শুন হে সুবল সখা আর কি হইবে দেখা পাসরিতে নারি সুধামুখী। এ কথা কহিব কায় কেবা পরতীত যায় মোর প্রাণ আমি তার সাখী॥ সখা ভাবিতে ভাবিতে তনু শেষ। না জানি কি করে বিধি যদি কার্য্য নহে সিধি আনলে করিব পরবেশ॥ শুনিয়া সুবল কয় কিছু না করিহ ভয় অবিলম্বে আনি দিব তারে। পূরিবে তোমার আশ তবে সে জানিবে দাস বিলাস করিবে রসভরে॥ কর যোড় করি শ্যাম সখারে করে পরণাম ইহলোকে তুমি মোর বন্ধু। তরণীরমণে বলে রাখ রাঙ্গা পদতলে এবার তরাও ভবসিন্ধু॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |