কবি তরুণীরমণের বৈষ্ণব পদাবলী
*
মাধব করু অবধান
ভণিতা তরুণীরমণ        
কবি তরুণীরমণ        
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ পূর্ব্বোক্তা উত্কন্ঠিতা।  
॥ তত্র পদং॥

মাধব করু অবধান।
সুন্দরী তেজই পরাণ॥
দারুণ হৃদয় কি তাপ।
দারুণ ধনিকো বিলাপ॥
অভিসরু না করু বিলম্ব।
জীবন গমন অবলম্ব॥
ঘন ঘন মদন হুতাশ।
সখীগণে করু আশোয়াস॥
হেরি রহু তোকরু পন্থ।
মনমথ হৃদয় দুরন্ত॥
তরুণীরমণ পরণাম।
অব চলু নাগর শ্যাম॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
সহচরী হেরি হরষ হরি অন্তর
ভণিতা তরুণীরমণ        
কবি তরুণীরমণ        
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ----॥

সহচরী হেরি, হরষ হরি অন্তর, বাহিরে কপট বিরোষ।
রাইকো দুঃখে, দ্বিগুণ তনু জর জর, কৈছে বুঝব গুণ দোষ॥
বহু আশোয়াসলি কাণ।
সময় জানি হাম, তুরিতহি মীলব, অবসরে করব পয়ান॥
মিষ্টক লাড়ু কদলী চিনি শাকর, যতনহি সখীগণে দেল।
তাম্বূল কর্পূর, কষায়ণ চূরণ, সঙ্গে লবঙ্গহি মেল॥
মৃগমদ চন্দন, অঙ্গে বিলেপন, শির পর মালতীমাল।
সখীগণ পাই, যাই নিজ মন্দিরে, তরুণীরমণ কহু ভাল॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
বহুত যতন করি সাধিনু কাণ
ভণিতা তরুণীরমণ        
কবি তরুণীরমণ        
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”, ১৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তত্র পদং॥

বহুত যতন করি সাধিনু কাণ।
কত পরকারে নিরাসলু মান॥
তোকরু দুঃখ কহনু বেরি বেরি।
শুনতহি সজল নয়নে রহু হেরি॥
মরমহি ভেদল ভৈল আবেশ।
ভরমে না কান্দল বুঝল শেষ॥
বহু আশোয়াসলি কি কহবি হাম।
তুরিতহি মীলব নব ঘনশ্যাম॥
শুনি ধনি হৃদয় আনন্দ ভরি পুর।
তরুণীরমণ ভণ বচন মধুর॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
দরপণ হেরি হরষ ভেই নাগর
ভণিতা তরুণীরমণ        
কবি তরুণীরমণ        
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ নির্হেতুমানঃ।  তত্র পদং ॥

দরপণ হেরি হরষ ভেই নাগর,  নাগরী মানিনী ভেল।
স্বরূপ সুধাময়, যব অবলোকই, তবহি বিপতি পড়ি গেল॥
সুন্দরী অকারণে মান অথির।
বুঝই না পারি, পরশি রস পণ্ডিত, গদ গদ বচন সুধীর॥
উত্পল জানি, আনি তহি ধারল, বিদগধ ললিতা বিশাখী।
শ্যামরু আড়ে, নিয়ড়ে তিল হেরইতে, মুকুলিত সরসিজ আঁখি।
সুন্দরী হাসি, ভাষি মৃদু মধুরিম, নাগরে করু উপহাস ।
তরুণীরমণে ভণ, দ্বিগুণ বাঢ়য়ে পুন, নাগর মান বিলাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
কুসুমিত তল্পবিকল্পিতরামা
ভণিতা তরুণীরমণ                
কবি তরুণীরমণ        
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ পূর্ব্বোক্ত সঙ্কীর্ণ মিলনে বাসকসজ্জা।  
॥ তত্র পদং ॥

কুসুমিত তল্পবিকল্পিতরামা।
পতিরতিবাঞ্চিত জগদনুপামা॥
সুবাসিত বারি ঝারি ভরি রাখি।
চন্দন ঘরিষণ ললিতা বিশাখী॥
মণিময় সম্পুট নিকট বিথারি।
তাম্বূল পুন রচত বরনারী॥
লেহ্য ভোজ্য রস বিবিধ মিঠাই।
রতন থালি ভরি রাখলি রাই॥
নাগর গমনে শ্রবণে তনু ভোর।
যো রস সায়রে কো করু ওর॥
তরুণীরমণ ভণ ও রস সার।
পূরত মনোরথ বেকত বিথার ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
মদন আবেশে অবশ অঙ্গ
ভণিতা তরুণীরমণ                
কবি তরুণীরমণ        
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অন্যত্র চ ॥

মদন আবেশে অবশ অঙ্গ।
নাগর নাগরী একই সঙ্গ॥
সমুখে দেখিঞা চুম্বই কাণ।
বিরহে না রহে রাধার প্রাণ॥
কাণু কোরে করি দেখয়ে ধন্ধ।
কবহিঁ মিলব শ্যামরু চন্দ॥
কহিতে কহিতে মুরুছে রাই।
বিপদে পড়ল দেখি মাধাই॥
সঘন নিশ্বাস কান্দন রোল।
চাপিয়া নাগর করই কোল॥
এ কি অপরূপ রসের গতি।
তরুণীরমণে বুঝিবে কতি॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
রাই কোরে করি ফুকারে কাণ
ভণিতা তরুণীরমণ                
কবি তরুণীরমণ        
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ --- ॥

রাই কোরে করি ফুকারে কাণ।
কোরে রহি ধনি করু সাবধান॥
শ্যামরু বদন বদন স্থির।
তবহুঁ নয়নে বহই নীর॥
পীন পয়োধর হৃদয় মাঝ ।
কন্টক জানি মানি বহু লাজ॥
সঘনে আলিঙ্গই বাহু পসারি।
কমলিনী জানি দুবহিঁ ডারি॥
নাসা পূরল ধনি তনুগন্ধ।
মলয়জ সৌরভ করু অনুবন্ধ॥
নয়নহি পেখলু কাঞ্চন গৌর।
হেমলতা বলি নাহি করু কোর॥
ঘন তনু তাপই কহই মাধাই।
কবে মোঝে মিলব রসবতী রাই॥
তরুণীরমণে ভণে কিয়ে ইহো রঙ্গ।
মধুপুরে রহি পদুমিনী সঙ্গ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
এ হরি মাধব করু অবধান
ভণিতা তরুণীরমণ, তরণীরমণ                
কবি তরুণীরমণ        
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ পূর্ব্বোক্ত খণ্ডিতা।   
তত্র পদং ॥

এ হরি মাধব করু অবধান।
জিতল বিয়াধি ঔষধ কিবা কাম॥
আন্ধিয়ারা হোই উজর করে যোই।
দিবসক চান্দ পুছত নাহি কোই॥
দরপণ লেই কি করব আন্ধে।
শফরী পলায়ব কি করব বান্ধে॥
শারী শুকায়ব কি করব নীরে।
হাম অবোধ তুয়া কি করব ধীরে॥
কা করব বন্ধুগণ বিধি ভেয় বাম।
নিশি পরভাতে আয়লি শ্যাম॥
তরুণীরমণে ভণ ঐছন রঙ্গ।
রজনী গোঙাওলি কাকরু সঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৩৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ খণ্ডিতা॥

এ হরি মাধব কর অবধান।
নিদানে বেয়াধি ঔষধে কিবা কাম॥
আঁধিয়ারি রাতি উজোর করে যোই।
দিবসক চাঁদ পুছত নাহি কোই॥
দরপণ লেই কি করব আন্ধে।
শফরী পলায়ব কি করব বান্ধে॥
সায়র শুকায়ল কি করব নীরে।
হাম অধীরা তুয়া কি করব ধীরে॥
কা করব বন্ধুগণ বিধি ভেল বাম।
নিশি পরভাতে আওলি ঘনশ্যাম॥
তরুণীরমণে ভণ ঐছন রঙ্গ।
রজনী গোঙায়লি কাকর সঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২১২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

এ হরি মাধব কর অবধান।
নিদানে বেয়াধি ঔষধে কিবা কাম॥
আঁধিয়ারি রাতি উজোর করে যোই।
দিবসক চাঁদ পুছত নাহি কোই॥
দরপণ লেই কি করব আন্ধে।
শফরী পলায়ব কি করব বান্ধে॥
সায়র শুকায়ল কি করব নীরে।
হাম অধীরা তূয়া কি করব ধীরে॥
কা করব বন্ধুগণ বিধি ভেল বাম।
নিশি পরভাতে আওলি ঘনশ্যাম॥
তরণীরমণে ভণ ঐছন রঙ্গ।
রজনী গোঙায়লি কাকর সঙ্গ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
কেনে বা পোহাইল নিশি
ভণিতা তরুণীরমণ                
কবি তরুণীরমণ        
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ -- ॥

কেনে বা পোহাইল নিশি, দিশি কেনে বা আইল।
ভাবিয়া মরিব কত বিপরীত হৈল॥
এ সখী কি করিব কহ না।
প্রবোধ না মানে চিতে করে দেহ দহনা॥
ঘরে গুরু গরবিত বলে কুবচন।
না করে আঁখির আড় নিজ পতিজন॥
বিহানে যাইবে বন্ধু আসিবে যামিনী।
কত বা চাহিব পথ কুলের কামিনী॥
তরুণীরমণে কহে এই মোর মনে।
করহ যুকতি বন্ধু নাহি যায় বনে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
হের দেখ বরজরাজকুল নন্দন
ভণিতা তরুণীরমণ                
কবি তরুণীরমণ        
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অন্যত্র চ॥

হের দেখ বরজরাজকুল নন্দন, বিপিনে ধেনু লৈ যায়।
অধরাঙ্গুলীদল, বদন পদ্মফুল, বঙ্ক নয়ন করি চায়॥
সখি হে, সুবল সখাদিক সঙ্গ।
শৃঙ্গবেত্রধর, মুরলী মনোর, তথি পর মালতী মাল।
মধুলোভে লোভিত, মধুব্রত কত শত, গাওয়ে গুঞ্জ রসাল॥
হৈ হৈ রব দেই, সবহুঁ ব্রজবালক, চন্দ চন্দ চলি যায়।
হেরইতে মুরুছে, বরজ কুলরঙ্গিণী, তরুণীরমণ পাছে ধায়॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর