কবি তরুণীরমণের বৈষ্ণব পদাবলী
*
মাধব বিপিনে পরান যব কেল
ভণিতা তরুণীরমণ                
কবি তরুণীরমণ        
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ ভূতবিরহপদং ॥

মাধব বিপিনে পরান যব কেল।
হাসি হাসি নয়ন মোঝু পর দেল॥
পুন যব পেখিনু বিরস বয়ান।
পালটি না হেরল সজল নয়ান॥
সো অব জাগি রহল হৃদি মাঝ।
কো বিধি নিরমিল কুলবতী-লাজ॥
ঘরে মোর গুরু দুরজন কাল ।
কুটিল কুবাদিনী ননদিনী কাল॥
এ ঘর বাহির মোর আঙ্গিণা বিদেশ।
তরুণীরমণ ভণে ভাবি তনু শেষ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
বেলি অবসানে বসিল ধনি
ভণিতা তরুণীরমণ                
কবি তরুণীরমণ        
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ -- ॥

বেলি অবসানে বসিল ধনি।
কেন বা আকুল করিছে প্রাণী॥
যেন কেহ কারু করিল চুরি।
মারিতে আইসে পরাণে মরি॥
ধন জন গৃহ না লয় মনে।
না জানি কি লাগি এমন কেনে॥
হেনই সময়ে বাজিল চেড়ি।
ফুকাইঞা কহে সকল বাড়ি॥
প্রভাতে উঠিয়া গোকুলবাসী।
দধি দুদ্ধ ঘৃত ভরিয়া রাশি॥
কৃষ্ণ বলরাম লইঞা সঙ্গ।
মথুরা যাইবে না হয় ভঙ্গ॥
শুনিয়া বজর পড়িল শিরে।
বসন তিতিল আঁখির নীরে॥
চলিতে পিছলে পড়িয়া গেল।
যেন হৃদি মাঝে পশিল শেল॥
বাহিয়া যাইতে ডুবিল তরী।
ঐছন মানল বরজ নারী॥
কি হবে কি হবে কান্দয়ে ধনি।
মুরুছি পড়িল রমণী মণি॥
চেতন পাইয়া উঠিল রাই।
কহিছে কি রূপে পাব মাধাই॥
মুখ বুক বহি পড়িছে লোর।
তরুণীরমণে ভাবিয়া ভোর॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
হের দেখ সকল গোকুল সম্পদ
ভণিতা তরুণীরমণ
কবি তরুণীরমণ
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ বর্ত্তমান বিরহপদং ॥

হের দেখ সকল, গোকুল সম্পদ, অক্রূর ক্রূর লৈঞা যায়।
যা কর লাগি, ধরম খোয়ায়নু, সো অব ফিরিয়া না চায়॥
মাধব সেহি অতি দারুণ ভেল।
হেরইতে রীত, চরিত চিত চমকই, জনম অভাগিনী কেল॥
কি করব তাত, মাত নিজ বান্ধব, সকলি সমর্পিনু তোয়।
নিরদয় হৃদয়, দয়া নাহি তিল আধ, কাহে ছোড়সি তোহেঁ মোয়॥
মধুপুরে যাই, পাই সুখ সায়র, ভুলি রহবি নিজ দেশ।
তরুণীরমণে ভণ, সঙরিতে তুয়াগুণ, ভাবিতে তনু করু শেষ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
মাধব করে ধরি বহুত বুঝায়লি
ভণিতা তরুণীরমণ
কবি তরুণীরমণ
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ ভূত বিরহপদং ॥

মাধব করে ধরি, বহুত বুঝায়লি, হেরি মোর বিরস বয়ান ।
মধুপুরে যাই, তুরিতে হাম আয়ব, তোহু ধনি জানবি আন॥
সখি হে, হাম তাহে শ্রবণ না দেল।
যা কর বচনে, জগত ভেই পরতিত, সো অব ঝুটই ভেল॥
পাপ পরাণ, আন নাহি জানত, কাণু কাণু করু সার।
দিন গণ গণি গণি, ক্ষীণ ভেল কলেবর, জীবন মরণ ব্যবহার॥
নিকরুণ নিঠুর, সো বর নাগর, সো অব বজর সম ভেল।
তরণীরমণে ভণ, কিয়ে পিয়া দারুণ, স্বপনে না দরশন দেল॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
শ্যামরু শোকে সিন্ধু নিরমায়লি  
ভণিতা তরুণীরমণ
কবি তরুণীরমণ
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ পদং ॥        

শ্যামরু শোকে, সিন্ধু নিরমায়লি, তথি পর আনল ডারি।
গুণশরে জারল, যো কিছু রহি গেল, হৃদয়ে কম্পিত বর নারী॥
সখি হে, অব নাহি মিলব কাণ।
গোপতি নন্দন, সো কাহে মারব, আপে তেজব পরাণ॥
গিরিতনয়াধব, কতহিঁ নাম লব, জপি জপি জীবন শেষ ।
নিজ ধন লাগি, জাগি দিন যামিনী, দশমী দশা পরবেশ॥
অমরাবতী পতি, -ঘরণী গুণাদয়ঃ, যদি মোঝে হোয়ত মায়।
তরুণীরমণে ভণে, ভাবি মরবি কাহে, না দিল নিঠুর মাধাই॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
নাগর গমনে হৃদয় অতি কাতর
ভণিতা তরুণীরমণ
কবি তরুণীরমণ
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ দশমদশা পদং ॥

নাগর গমনে, হৃদয় অতি কাতর, রজনী উজাগরে গেল।
উদবেগ দারুণ, মলিন কলেবর, দিনে দিনে ক্ষীণ তনু ভেল॥
হরি হরি, সঘনে প্রলাপই রাই।
বিরহে বিয়াধি, বিবিধ রূপে উপজল, পুনরুনমাদ বাড়াই॥
হেরইতে শ্যাম, মুরতি রস বল্লভ, মোহে মোহিল বরনারী।
পুন নাহি পেখি, আঁখি মিলি ধারই, ক্ষিতিতলে পড়ল নিঢারি॥
দশমী দশা পর, অতিশয় কাতর, মরণ শরণ করু সার।
তরুণীরমণ হেরি, কান্দত বেরি বেরি, বয়ানে সেচয়ে জলধার॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
ধনি ভেল মুরছিত হরল গিয়ান
শূনি সখীগণে ধাওয়া-ধাই যাই
শুনিয়া সখীগণে ধাওয়াধাই যাই
ভণিতা তরুণীরমণ                
কবি তরুণীরমণ        
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ধনি ভেল মুরছিত হরল গিয়ান।
দশন দশন লাগি মুদল নয়ান॥
সখীগণ মেলি করত কোন কাম।
রাইকো শ্রবণে কহই শ্যাম নাম॥
কোই কোই চন্দন লেপই অঙ্গে।
কোই কোই রোদই বিরহ তরঙ্গে।
কোই কোই রাই লই বৈঠল কোর।
পাপ পীরিতি লাগি ঐছন তোর॥
ভালে ভালে আরে তহুঁ নিঠুর মাধাই।
জীবইতে সংশয় ভৈগেল রাই॥
সো দিন পাসরলি পদ নাহি ছোড়।
দীনহীন সম রহুঁ করি কর যোড়॥
সবহিঁ যুকতি করি বুঝল শেষ।
শ্যামরু আগে কই কহবি সন্দেশ॥
তরুণীরমণ ভণ না করু বিলম্ব।
নাগর লাগি জীবন অবলম্ব॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বাঁকুড়ার পুথির পদ।
এখানে ভিন্ন প্রথম দুটি কলি দেখা যায়।

[ মাথুর-বিরহ ]
॥ বরাড়ী॥

শূনি সখীগণে ধাওয়া-ধাই যাই।
দেখে অচেতনে আছয়ে রাই॥
ধনি ভেল মুরছিত হরল গেয়ান।
দশনে দশনে লাগি মুদল নয়ান॥
কেহু কেহু চন্দন লেপই অঙ্গে।
কেহু কেহু রোয়ত বিরহ-তরঙ্গে।
কেহু কেহু তুলা ধরি পরখত শাস।
কেহু নলিনী-দলে করত বতাস॥
কেহু কেহু রাই লই বৈঠায়ত কোর।
এ পাপ-পিরিতি লাগি ঐছন তোর॥
ভালে ভালে গেল সোই নিঠুর মধাই।
জিবইতে সংশয় অব ভেল রাই॥
সো দিন বিছুরল পদ নাহি ছোড়ি।
দীন-হীন সম রহু কর যোড়ি॥
তরুণিরমণ ভণ না কর বিলম্ব।
নাগরক লাগি জিবন অবলম্ব॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৩৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর বিরহ
॥ বরাড়ী॥

শুনিয়া সখীগণে ধাওয়াধাই যাই।
দেখে অচেতনে আছয়ে রাই॥
ধনি ভেল মুরছিত হরল গেয়ান।
দশনে দশনে লাগি মুদল নয়ান॥
কেহু কেহু চন্দন লেপই অঙ্গে।
কেহু কেহু রোয়ত বিরহ-তরঙ্গে।
কেহু কেহু তুলা ধরি পরখত শাস।
কেহু নলিনীদলে করত বাতাস॥
কেহু কেহু রাই লই বৈঠায়ত কোর।
এ পাপপিরিতি লাগি ঐছন তোর॥
ভালে ভালে গেল সোই নিঠুর মাধাই।
জিবইতে সংশয় অব ভেল রাই॥
সো দিন বিছুরল পদ নাহি ছোড়ি।
দীনহীন সম রহু কর যোড়ি॥
তরুণীরমণ ভণ না কর বিলম্ব।
নাগরক লাগি জীবন অবলম্ব॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২১৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শুনিয়া সখীগণে ধাওয়াধাই যাই।
দেখে অচেতনে আছয়ে রাই॥
ধনি ভেল মুরছিত হরল গেয়ান।
দশনে দশনে লাগি মুদল নয়ান॥
কেহু কেহু চন্দন লেপই অঙ্গে।
কেহু কেহু রোয়ত বিরহ তরঙ্গে।
কেহু কেহু তুলা ধরি পরখত শাস।
কেহু নলিনীদলে করত বাতাস॥
কেহু কেহু রাই লই বৈঠায়ত কোর।
এ পাপপিরিতি লাগি ঐছন তোর॥
ভালে ভালে গেল সোই নিঠুর মাধাই।
জিবইতে সংশয় অব ভেল রাই॥
সো দিন বিছুরল পদ নাহি ছোড়ি।
দীনহীন সম রহু কর যোড়ি॥
তরণীরমণ ভণ না কর বিলম্ব।
নাগরক লাগি জীবন অবলম্ব॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
চলইতে চরণ নাহি চলু সুন্দরী
ভণিতা তরুণীরমণ                
কবি তরুণীরমণ        
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ দূতীগমনং ॥

চলইতে চরণ, নাহি চলু সুন্দরী, হেরইতে না পারই পন্থ।
রাই রাই করি, ঘন ঘন রোদই, বিষময় ভাবি একান্ত॥
সহচরী মিললি শ্যামরু পাশ।
কি কহব বদনে, বাণী নাহি নিকসই, হা হা সঘন হুতাশ॥
হেরইতে শ্যাম, রসিক বর নাগর, পুছইতে দূতী মুরুছিত।
পুনরপি উঠি, করি পুটাঞ্জলি, নিবেদই রাই চরিত॥
শুন শুন  মাধব, ব্রজজন বান্ধব, রসবতী রাই নিদান।
সকল সখী মিলি, মরমে বিয়াকুলি, মোহে পাঠায়লি শ্যাম॥
কাঞ্চন বরণ, কাজর সম হোয়ল, চান্দ বদন আন্ধিয়ারা।
দশনকি বাত, বিকট ভেই লাগল, অনিমিখি নয়নকি তারা॥
ঘন ঘন কাঁপি, ঝাঁপি ধনি বৈঠই, সঘন হি ঊর্দ্ধগতি শ্বাস।
কিয়ে জানি দরশ, পরশ নাহি হোয়ত, অচিরে চলহ তহুঁ পাশ॥
শুনইতে কাণ, প্রাণ নাহি কলেবরে, ঝর ঝর লোচনে লোর।
তরুণীরমণে ভণ, না করু বিলঙ্কন, জীবন অবধি রহু তোর॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
সহচরী বচন মরমে যব ভেদল
ভণিতা তরুণীরমণ                
কবি তরুণীরমণ        
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ শ্রীকৃষ্ণস্য গমনং॥

সহচরী বচন, মরমে যব ভেদল, তৈখনে মুরুছল কাণ।
যব হাম যাই, রাই মুখ হেরব, তব হাম পায়ব পরাণ॥
চঞ্চল চিত, চপল মতি অতিশয়, আসি মিলল যাহা রাই।
সকল সখীগণ, করতহি রোদন, ক্ষিতিতলে পড়ত লোটাই॥
রাই কো বরণ, নয়নে যব হেরব, মাধব ফুলি ফুলি কান্দি।
করইতে কোরে, লোরে তনু ভাসল, হিয়া পর ধরলহি ছান্দি॥
সকোমল বদনে, সঘনে করু চুম্বন, সুন্দরী সচেতন ভেল।
বিশই আঁখি, নিমিখ সব পরিহরি, কাণুকো দরশন কেল॥
সব দুঃখ বিমোচব, মনোরথ পূরব, সুন্দরী বদন ঝাপাই।
নাগর গোরি, দোহুঁক সুখ উজর, তরুণীরমণ গুণ গাই॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
চিরদিনে দরশনে আকুল তনু মনে
ভণিতা তরুণীরমণ                
কবি তরুণীরমণ        
এই পদটি ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী
সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী
প্রণীত, পদাবলী সংকলন“সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”,১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ পূর্ব্বোক্তস্বাধীনভর্ত্তৃকাগতঃ সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগঃ।  
॥ তত্র পদং॥

চিরদিনে দরশনে, আকুল তনু মনে, দূরে গেও মরমকি দুঃখ।
বাহুযুগল গুণে, কন্ঠে কন্ঠে মেলি, নিরখই রাইকো মুখ॥
সুন্দরি দূরে করু সব অভিমান।
এহো জনম তবি, রাখহ দাস করি, সেবন করিব অবিশ্রাম॥
ঝর ঝর নয়ন, কহই বর নাগরী, তিল আধ দয়া নাহি তোয়।
তোহুঁ পুরুখ বর, পুন যদি যায়বি, কোয়ে নিষেধবি তোয়॥
এই শুনি নাগর, কোরে আগোরল, নয়নে বহয়ে বহু নীর।
সকল অঙ্গ পর, কর অবলম্বই, দরশই সকল শরীর॥
আউলাঞি কেশ, বেশ করু মাধব, তথি পর নানা ফুল দাম।
সিন্দূর বিন্দু, ইন্দু ভালে বিরচই, নবজলধর অনুপাম॥
সুশীতল নীবে, ধীরে মুখ মাজই, পুন পুন চুম্বন তায়।
পীন পয়োধরে, মৃগমদ লেপই, হেরইতে মূবছই তায়॥
সহচরী পাশে, বাস লই মাধব, যতনে পরায়লি অঙ্গে।
মণিময় মঞ্জীর, চরণে পরায়লি, তরুণীরমণ দেখ রঙ্গে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর