| কবি তরুণীরমণের সহজিয়া পদাবলী |
| তিনটি আখরে না জানি কি আছে ভণিতা তরণিরমণ কবি তরুণীরমণ এই পদটি ১৯১৯ সালে (১৩২৬বঙ্গাব্দে) প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা”-র ৪র্থ সংখ্যায়, তারকেশ্বর ভট্টাচার্য্যর “তরুণীরমণের পদাবলী” প্রবন্ধের ২১৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনটি আঁখরে না জানি কি আছে তিনেরে করিল বশ। তিন ভয়ে তনু সঘনে কম্পিত তিনে করে অপজস॥ সখি হে দুয়ের বাহির সে। কতি বা আছিল কিরূপে আইল কি দিয়া গঢ়িল কে॥ প্রথম আখরে প্রেম উদ্গম মাঝিলা আখরে রস। সেসের আখরে জগত তিপিত অতেব সভাই বস॥ কাহারে কহিতে নাহি লহে চিতে ই কথা বুঝিবে কে। তরণিরমণ কিঞ্চিত জানয়ে ভাবিয়া মরিছে সে॥ এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, মণীন্দ্রমোহন বসু সম্পাদিত “সহজিয়া সাহিত্য”, ৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনটি আখরে না জানি কি আছে তিনে যে করিল বশ। তিন ভয়ে তনু সঘনে কম্পিত তিনে করে অপযশ॥ সখি হে, দুয়ের বাহিরে সে। কেতি বা আছিল কিরূপে আইল কি দিয়া গড়িল কে॥ পহিলা আখরে প্রেম উদ্ভব মাধিলা আখরে রস। শেষের আখরে জগত তৃপিত অতএব সবাই বশ॥ কাহারে কহিব কেবা পতিয়াব কহিলে বুঝিবে কে। তরুণীরমণ কিঞ্চিৎ জানিয়া ভাবিয়া মরিছে সে॥ মন্তব্য - এখানে তিনটি আখরে “পীরিতি”কে লক্ষ্য করা হইয়াছে। . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| গরলের বীজ প্রথমে রুপিনু ভণিতা তরণিরমণ কবি তরুণীরমণ এই পদটি ১৯১৯ সালে (১৩২৬বঙ্গাব্দে) প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা”-র ৪র্থ সংখ্যায়, তারকেশ্বর ভট্টাচার্য্যর “তরুণীরমণের পদাবলী” প্রবন্ধের ২১৪-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গরলের বীজ প্রথমে রুপিনু অমিঞা ফলিল তায়। আনলের মাঝে জলের জনম কেবা পরতীত জায়॥ অমিঞা খাইতে গরল হইল গরল হইল সুধা। গরল অমিঞা একোহি জানএ তাহার মহিমা জুদা॥ ছয়টি আঁখর সকলের মূল অমিঞা গরল জাথে। তিনটি আঁখর শেষে উপজয়ে পরাণ বহ্যাছে তাথে॥ তিনেরে সাধিতে অসাধন তিন আপনি মিলয়ে আসি। মাঝের আঁখর বিনাশ করিয়া তাহাতে থাকএ বসি॥ সময়াসময় বিচার না করে সাধয়ে আপন কাজ। তরণিরমণ করে নিবেদন সেই সে পড়য়ে বাজ॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বেদ বেদান্তর বিচার করিয়া ভণিতা তরুণিরমণ কবি তরুণীরমণ এই পদটি ১৯১৯ সালে (১৩২৬বঙ্গাব্দে) প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা”-র ৪র্থ সংখ্যায়, তারকেশ্বর ভট্টাচার্য্যর “তরুণীরমণের পদাবলী” প্রবন্ধের ২১৫-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বেদ বেদান্তর বিচার করিয়া জাহারে কহএ হিন। তাহার মাঝারে ভজনের মূল আছএ আঁখর তিন॥ সাধিতে সাধিতে নিদ্রিত হইব জখন আঁখর সাত। গরল গিলিয়া অমিয়া জানিব তবে সে পাইব নাথ॥ ঘরেক দারুণ অতি নিদারুণ সদাই থাকিব সঙ্গ। ছয়টি আখরে মরণ জিবন বসিয়া দেখিব রঙ্গ॥ তাহার মাঝারে চারিটি আখর তাহে উপজিল দুই। জগত ভাবিতে নিগম পাইএ তাহার মাঝারে থুই॥ রসিক সুজন পিএ অনুক্ষণ আনে করে উপহাস। দেখিতে শুনিতে সময় পাইব সভাই হইব দাস॥ গোপত ধনেরে বেকত করিতে হৃদয় লাগএ কাঁপ। ও রস-সায়রে তরুণিরমণ বুঝিয়া দিলেক ঝাঁপ॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রসের সায়রে পিরিতি মগর ভণিতা তরুণিরমণ কবি তরুণীরমণ এই পদটি ১৯১৯ সালে (১৩২৬বঙ্গাব্দে) প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা”-র ৪র্থ সংখ্যায়, তারকেশ্বর ভট্টাচার্য্যর “তরুণীরমণের পদাবলী” প্রবন্ধের ২১৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদে রূপগোস্বামীর নাম রয়েছে। রসের সায়রে পিরিতি মগর প্রেম তলয়ারধারি। আন আন মত নানা মিন যত সভার নিধনকারি॥ ভাবিতে গুনিতে মনু। পিরিতি বিহনো পাইব কেমনে পিরিতি অধীন কানু॥ বেগ মহোদধি মথন করিল যতনে গোসাঞী রূপ। পিরিতি রতন তাহে উপজিল সকল মতের ভূপ॥ সে মত আচরিতে পারে ব্রজপুরি সখির অনুগা হৈয়া। রাধিকা মাধব তবে সে পাইবে দেখ মনে বিচারিয়া॥ শ্রীতিমত নিতে মন নিজজিতে না থাকে রাগের গন্ধ। কাঁচ আরাধিলে রতন পাইব শুনিতে লাগয়ে ধন্দ॥ শাক রূপিলে চন্দন হইব এ কথা কহিল জে। সুখনিধি কবি দুখের সাগরে ধরি ফেলাইল সে॥ পিরিতি মাধুরি রসের চাতুরি রসিক হইলে জানে। তরুণিরমণ করে নিবেদন ইহা কি বুঝিয়ে আনে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| তিনের মরম জে বা নাহি জানে ভণিতা তরণিরমণ কবি তরুণীরমণ এই পদটি ১৯১৯ সালে (১৩২৬বঙ্গাব্দে) প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা”-র ৪র্থ সংখ্যায়, তারকেশ্বর ভট্টাচার্য্যর “তরুণীরমণের পদাবলী” প্রবন্ধের ২১৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনের মরম জে বা নাহি জানে @নে কিবা তার কাজ। পুসিয়া পালিয়া জে তিন রাখএ তাহাতে পড়ুক বাজ॥ আগের পাছের ছয়টি আখর তাহার অধীন কানু। তাহাতে পসিয়া রস পসারিয়া সফল করহ তনু॥ চারিটি আখর সুখের সাগর তাহা না করিহ আন। তিনেরে লইয়া কি সুখ সাধিবে ভাবি দেখ পরিণাম॥ তাহে দণ্ডধর এগার আখর তাহার কারণ কি। তাহার সহিত জে কিছু মিলএ সভারে করিহ ভিন্ন॥ চতুর হইলে চাতুরি জানএ রসের হিল্লোলে ভাসে। আমের মুকুল কোকিল ভুঞ্জএ কাক নিম্বফল চোসে॥ হিতের লাগিঞা জে কিছু কহিএ অহিত করিঞা মানে। পরিণামে সব নাহি অনুভব তরুণিরমণ ভানে॥ @ - অপাঠ্য অক্ষর। . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পিরিতি বলিয়া এ তিন আখর ভণিতা তরণিরমণ কবি তরুণীরমণ এই পদটি ১৯১৯ সালে (১৩২৬বঙ্গাব্দে) প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা”-র ৪র্থ সংখ্যায়, তারকেশ্বর ভট্টাচার্য্যর “তরুণীরমণের পদাবলী” প্রবন্ধের ২২০-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পিরিতি বলিয়া এ তিন আখর বিদিত ভুবন মাঝে। জাহারে পসিল সেই সে মজিল কি তার কলঙ্ক লাজে॥ বেদ বিধিপর সব অগোচর ইথে কি বুঝিব আনে। রসে গরগর রসের অন্তর সেই সে মরম জানে॥ দোহার অধর সুধারস পানে তাহা উপজিল পি। নয়ানে নয়ানে বান বরিখনে তাহে উপজিল রি॥ হিয়া বিয়া পর পরস করিতে তাহে উপজিল তি। এ তিন আথর মুনি-মনোহর ইহার তুলনা কি॥ তাহে সুখ দুখ সদা উনমুখ সকলি সুখের পাড়া। তরুণিরমণ করে নিবেদন মরিলে না জায় ছাড়া॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |