| কবি তরুণীরমণের সহজিয়া পদাবলী |
| ইবে কহি মানুষসাধনতন্বকথা ভণিতা তরুণীরমণ কবি তরুণীরমণ এই পদটি ১৯২৮ সালে (১৩৩৫বঙ্গাব্দে) প্রকাশিত, নরেন্দ্রনাথ লাহা সম্পাদিত “সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা”-র ৪র্থ সংখ্যায়, বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ-এর “তরুণীরমণের পদাবলী ও সহজ উপাসনা-তত্ত্ব” প্রবন্ধের ১৭৫- পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ইবে কহি মানুষসাধনতন্বকথা। তাহার আস্বাদে জায় হৃদয়ের বেথা॥ আপনার স্বভাব সপিবে তার স্থানে। ভাহার স্বভাব নিবে করিএ যতনে॥ শৃঙ্গার ছাড়িএ তার সুতি রবে বামে। তাহাকে আপনা মানি রবে শুদ্ধমনে॥ তাহারে নাএক রসরাজ মনে করি। তাহারে আপন জ্ঞানে হইবে সুন্দরী॥ তাহার সর্ব্বাঙ্গ ধ্যান করি ভাবে রবে। মন্ত্রবিদ্যা আদি করি আপনা ভুলিবে॥ আপনে উঠিএ তিহু করিবে শৃঙ্গার। সেই দিনে শুদ্ধ হবে মানুষশৃঙ্গার॥ শৃঙ্গার সাক্ষাৎ রসরাজ রাধাকৃষ্ণ। বর্তমান সদত থাকিবে হোএ তুষ্ট॥ মধুর মাধুর্য্য রাধা হৃদয়ে রহিবে। মহাঅপ্রাকৃত রস বরিষণ হবে॥ নাএকস্বভাব রস তাবৎ থাকয়। মধুর মাধুর্য্য রস তাবৎ না হয়॥ অপ্রাকৃত প্রকৃতি স্বভাবসিদ্ধ হৈলে। কৃষ্ণ বশী হয় সদা শুনহ সকলে। সাক্ষাৎ শৃঙ্গার কৃষ্ণ রস অফুরান॥ সে জন হইবে বশ শুনহ বিধান॥ কেমনে হইবে শুন কহিএ বিধান। নিজ নারী সহ কর সাধন ধিআন॥ আগেতে পক্কতা হআ নিজনারী সহ। সিদ্ধ হআ কর পরকীয়া প্রেম লেহ॥ পুন কহি শুন ভাই সাধন পত্তন। অপক্ষেতে পরকীয়া নরকে গমন॥ শৃঙ্গার সাধন তাহার করণ শুনহ করিএ মন। স্বকীয়ার সহ বাড়াইএ নেহ কর রসআবর্ওন॥ স্বকীয়ার রাগে ষড় ঋতু আগে সুস্থির করিএ মন। যন্ত্রে যন্ত্র পুরি গুরুকে স্মঙরি কর নামের জপন॥ হৃদএ রাখিবে হৃদএ থাকিয়ে স্থিরতা করিএ মতি। গুমরি গুমরি পক্কতা হইবে 'অপক্ক এ দেহরতি॥ ষড় ঋতু পুন করিবে সাধন গুরুমন্ত্র জপনেতে। আপনা ভুলিবে গুরুদেহ নিবে জীবরতি জাবে তাথে॥ শুন মহাভাগ পুন ষড় রাগ জপন জে মূলমন্ত্র। গুরু কৃষ্ণ হবে সে দেহ পাইবে স্থকিত চালন যন্ত্র॥ পুন ষড় ঋতু সাধন করিবে কামগায়ত্রী কামবীজে। তিনে এক করি একতে রহিবে সে দেহ ধরিএ নিজে॥ প্রতি জপনেতে উভয় যন্ত্রেতে মন্থন সাধিবে ভাই। সপ্ত এক করি সে বস্তু মাধুরী পক্কতা হইবে তাই॥ স্বভাব ছাড়িএ স্বভাবাদি লৈএ পুন ষড় ঋতু রবে। মধুর আনন্দ গোপনে বর্ষণ দুহু অঙ্গ না লড়িবে॥ পিআ নিত্য রস মধুরবিলাস উজ্জ্বল দুহারি অঙ্গ। তরুণীরমণ কহএ সঘন অপার রসের রঙ্গ॥*॥ স্বকীয়াতে জীবদেহ সাধন করিআ। পক্কতা হইএ সাধন কর পরকীয়া॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাধার লক্ষণ ধরএ জে জন ভণিতা তরুণীরমণ কবি তরুণীরমণ এই পদটি ১৯২৮ সালে (১৩৩৫বঙ্গাব্দে) প্রকাশিত, নরেন্দ্রনাথ লাহা সম্পাদিত “সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা”-র ৪র্থ সংখ্যায়, বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ-এর “তরুণীরমণের পদাবলী ও সহজ উপাসনা-তত্ত্ব” প্রবন্ধের ১৭৭- পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পদং॥ রাধার লক্ষণ ধরএ জে জন এমন নায়িকা দেখি। তনু মন প্রাণ করি সমর্পণ সে রূপ হৃদয়ে রাখি॥ বয়স কৈশোর চাঁচর চিকুর সুদীর্ঘ হইব অতি। বন্ধিম চাহুনী হাস্য সুবদনী বচন মধুর জিতি॥ কমল চরণ স্থলপদ্ম জেন সুকোমল সারাসার। জবার কলিকা জিনি অঙ্গুলিকা অতি সুশোভন আর॥ প্রেমপুলকিত সে দেহ সদত পীরিতি জানএ সার। নআন বাহিয়া পুলক হইআ পড়ে প্রেমজলধার॥ সুমৃদু বচন কহে সর্ব্বক্ষণ 'অতি সুরোদন মিলে। সদানন্দময় সদা বিহরয় কৃষ্ণপ্রেমের হিল্লোলে॥ কিশোরীর ভাব আর অনুরাগ সেই সুবদনী ধরে। নাহি জানে আন প্রিয় অঙ্গ ধ্যান সদা বিরহ অন্তরে॥ এই ত নায়িকা তত্ত্বের অধিকা সপ্তগুণাশ্রিত সেই। তরুণীরমণ @@@ @@@ @@@@@@@@॥ @ - অপাঠ্য অক্ষর। . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |