কবি দীপিকা বিশ্বাসের কবিতা
*
আমাকে এভাবে ভাবো
কবি দীপিকা বিশ্বাস

বাড়ি ফিরে তুমি  কার সাথে কথা বল
চোখ তুলে কাকে দেখাও অসীম ইচ্ছের দহন
কাকে দিতে চাও অকারণ বৃষ্টিপাত
হাতভরা সুখের সন্ধান …
কে তোমাকে দরজা থেকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়
কে তোমাকে প্রতিদিন পুরনো হৃদয় খুলে
নতুন হৃদয় জুড়ে দেয়
কাকে তুমি ভালবাস আনত তৃষ্ণায়
সে কি কোনো বন্ধু ?
কোনো অস্থির হাওয়ার ঝড়?
অথবা, আমিশূন্য ঘরের বিবর ?

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
প্রশ্ন
কবি দীপিকা বিশ্বাস

জঙ্গলে যাবে? চলো যাই, একটু বসি একটু হাঁটি
শুকনো পাতায় শব্দ তুলে অনর্গল কথা বলি
তোমাকে প্রশ্ন করি
আমাকেও তুমি
আর কতদূর যাবে
কতদূর গেলে আর ফেরা হবে না
কতদূর গেলে শেষ প্রশ্ন থেকে নতুন জীবন
কতদূর গেলে তুমি বা আমি বা এই বায়বীয় অন্ধকার
ঘিরে ঘিরে স্বপ্ন আসে
কতদূরে গিয়ে আমাকে ফেরায় আমি!

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
দৃশ্যের প্রহরে
কবি দীপিকা বিশ্বাস

জেগে থাকো, কিন্তু কথা বোলো না
এই ঘোর অন্ধকারে আমি বাঁশির সুর শুনতে পাই
সে বাল্যকাল থেকে উদ্দাম নৃত্যের মতো বেজে ওঠে
কখনও বেদনা জাগে
কখনও ছায়ার মতো জেগে ওঠে নির্বাক মুহূর্তগুলি
ওরা জলের কাছে ঋণী
দৃশ্যের মুখরতা যে জেনেছিল বৃষ্টিতে
ওরা বাতাসের কাছে ঋণী
শীতস্পর্শ ফিরে ফিরে আসে অন্ধকারে
দৃশ্য থেকে দৃশ্যের প্রহরে আমি জাগি …

তুমি কোন কথা বোলো না, শুধু জেগে থাকো।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কোলাহল
কবি দীপিকা বিশ্বাস

তুমি পাশে নেই
বিষাদের অন্যতম রূপান্তরে
সোজা হয়ে হাঁটে নিশাচর রাত

তুমি কাছে নেই
শূন্যতার অন্যতম রূপান্তরে
নৈঃশব্দ বুকে বড় বাজে

তুমি পাশে নেই
অস্তিত্বের সংকটে
প্রাকৃতিক কোলাহল তীব্র হয়ে বাজে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
খেলা
কবি দীপিকা বিশ্বাস

বালিকার হাত ধরে খেলা করে মা
স্বভাবের বয়স কমে যায়
বালিকা অভিভাবকের মতো মাকে খেলা শেখায়
রুমালচোর, আমার রুমালে কত কী ছিল
জানো মামণি, ক্যাডবেরিসের গন্ধ …

আমার রুমালে সমস্ত যৌবনটাই ধরা ছিল রে!
কলেজের রাস্তায় একগাদা লুকোনো হাসি
থই থই জল ও ছেঁড়া কাগজের বিকেল
রুমালের সংকেতে বালকবন্ধুর যৌবন সমাচার
রুমালে রুমালে পর্বতপ্রমান বরফজল।

সে রুমাল চুরি হয়ে গেছে মামণি
এসো খেলি, অন্য খেলা খেলি।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আকাশ
কবি দীপিকা বিশ্বাস

খয়েরি মোরামে ঢেকে দিলাম আমার সবুজ নির্মাণ
পায়ের নীচে এবার শক্ত ভূমি,
যা কিছু শোভিত উদ্যান আমার ফ্লাওয়ার-ভাসে
অনায়াসে একবুক শুদ্ধ বাতাস আনে ।
আমি একহাতে আমার সজীব জীবন
অন্যহাতে অন্য সবকিছু ধরে থাকি
নাবালিকা শিশুর অনুভবে আর কাঁপে না
পত্রপুষ্প-শোভিত উদ্যান
শক্ত মোরামে শক্ত পায়ে সে হেঁতে যায় ও আসে
একেবারে আমার বুকের ভেতরে
সে বলে, ‘মা, খোলা জানলায় দাঁড়াও
আকাশ দেখতে পাবে।`

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সবুজ পাতা
কবি দীপিকা বিশ্বাস

সাথে নিয়ো সবুজ বর্ষাতি
যদি বৃষ্টি নামে
জলের উপর সবুজ পাতা
যেন দূর থেকে স্পষ্ট নামে ডেকে নিতে পারি।

যদি রোদ ওঠে
পাতায় পাতায় ক্লোরোফিল
সৃষ্টিকে দু’হাতে মুড়ে নিতে পারি।

যদি মৃদুলা বাতাস
মেপে মেপে ওড়ায় তোমাকে
বুকে হাত চেপে ঠিক পৌঁছে যাব রোদ্দুরে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বিশ্রাম
কবি দীপিকা বিশ্বাস

মা, আমাকে একটু মুক্তির কথা বলো,
পাখায় বৃষ্টির ছাঁট নিয়ে ভেজা লনে বসে
পাখিরা মানুষের কথা শোনে
জানলার কাছে বসে
মা-গো, আমাকে একটু শান্তির কথা বলো ।
আকাশে ঘুরে ঘুরে চিলেরা
একটু জায়গা পায় না ঘর বাঁধবার !
মা, তুমি আমাকে একটু বিশ্রামের কথা বলো
আমি একটু আরামে
জলপ্রপাতে মাথা রেখে শুই
মা, তুমি আমার মাথার কাছে থাকো ।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হাওয়ার শব্দ
কবি দীপিকা বিশ্বাস

তুমি আসবে তাই সবার আসা বারণ
টেপ-রেকর্ডারে শূন্য ক্যাসেট, নতুন সংযোজন
তুমি আসবে তাই প্রচণ্ড হাওয়ার মাতামাতি
নির্ঘুম রাত সব অনিয়মনীতি।

তুমি আসবে ঘড়ির শব্দ কমে যাবে
শুধু অন্তর্মুখী বাতাসের শব্দ হবে
তুমি বলবে, ক্যাসেট ঘুরে ঘুরে
অসম্পূর্ণ কথা না-বলা কথা কঠিন কথা থাকবে।

তুমি আসবে বলে প্রতুল বাতাসে দুলে উঠবে
অন্য কোথাও না-যাওয়ার ইচ্ছে
আর কারও সাথে কথা না-বলার ইচ্ছে
শুধু জেগে থাকার ইচ্ছে প্রবল হবে
শুধু, শোনার ইচ্ছে হবে …

না, না, টেলিফোনের শব্দ নয়, দুঃখপ্রকাশ নয়।

এই হাওয়ার শব্দ ঝড়ের পূর্বাভাস নয়
কিছুতেই যেন তোমার আসা বন্ধ না হয়।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
রাত
কবি দীপিকা বিশ্বাস

তুমি এলে, রাত ভরে গেল পূর্ণ অন্ধকারে
দিনের আলোর আর প্রয়োজন রইল না।
 
তুমি চলে গেলে
রাত বয়ে যায় চোখের জলে
দিনের আলোয় কিছুই আর চোখে পড়ে না।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর