কবি নওয়াব ফয়েজুন্নেসা চৌধুরাণীর কবিতা
*
রূপ
কবি নওয়াব ফয়জুন্নিসা
১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত কবি রূপজালাল গ্রন্থের কবিতা। পৌষ ১৩৬৯ ( জানুয়ারী
১৯৬৯ সালে) ঢাকার বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত, আহমদ শরীফ সম্পাদিত  
“মধ্যযুগের কাব্য-সংগ্রহ” সংকলনে, ২৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বলি তা শ্রবণ কর কিঞ্চিত স্বরূপ

শিরেতে শোভিছে বেণী যেন কাল ফণি।
দৃষ্টি মাত্র হৃদি মাঝে দংশায়ে অমনি॥
সুবর্ণাভরণ যুক্ত কেশ-বেশ হেরি।
প্রলয়ের মেঘ যেন চপলা বিস্তারি॥
চিকুরের চির হতে মাথায় বরণ।
দৃষ্টিতে যে জ্ঞান হয় বিদ্যুৎ লক্ষণ॥
সুবর্ণ নির্মিত যেন দুইটি শ্রবণ।
আশকের মনোলোভা সেইত বরণ॥
মুখ চন্দ্র-গ্রাস-আশে সুশ্রু রাহুবর।
আচ্ছাদিয়ে বসে আছে নয়ন উপর॥
নয়ন দর্শনে কুমুদিনী গেল জলে।
নাসা হেরি লাজ পেয়ে আছে তিল-ফুলে॥
দশন-দর্শনে হলো বিদীর্ণ দাড়িম্ব।
অধর হেরিয়া হয় বিদীর্ণ যে নিম্ব॥
অধর মেঘেতে ছাপা দশনের জ্যোতি।
হাসিতে চপলা যেন চমক নিতি॥
প্রিয়ার অমৃত স্বর শ্রবণ মোহন।
মৃত কর্ণে প্রবেশিলে সঞ্চারে জীবন॥
গ্রীবা হেরি লাজে বুঝি মরে হবে সরাজ।
ক্ষণে ডুবে ক্ষণে ভাসে জীবনের মাঝ॥
কুন্দের নির্মাণ যেন ভুজলতা দ্বয়।
করপদ্ম স্থলপদ্মে বিনির্মিত হয়॥
অঙ্গুলির চম্পক-কলিকা হৈতে শোভা।
নগচন্দ্রে পড়িয়াছে অর্ধচন্দ্র-আভা॥
কনক শ্রীফল যেন কুচ বক্ষো পর।
যেই হেরে সেই মরে খেয়ে পঞ্চশর॥
মধ্যদেশ ক্ষীণ অতি জিনি পশুরাজ।
কনক কটোরা যেন নাভি তার মাঝ॥
রাম রম্ভাতরু জিনি উরু শোভা পায়।
নিতম্ব দর্শনে রতিপতি মোহ যায়॥
কন্যান নয়ন হেরি মৃগ গেল বনে।
তারি চক্ষু-দর্প চূর্ণ হৈল ভেবে মনে॥
বানুর নয়ন-জল ঝরে মুক্তপ্রায়।
মৃগ নেত্রবারি ইথে কাপে না দেখায়॥
নাসা খগ চক্ষু জিনি হেরে খগ পাখী।
বনবাসী হলো সব হয়ে মন-দুখী॥
কর্ণ-বর্ণ হেরে লাজে শকুনি বাজন।
অপমানে লুকায় সে গহন কানন॥
অপূর্ব দশন-শোভা হেরি মুক্তারাশি।
শুক্তিতে প্রবেষ যেয়ে হলো জলবাসী॥
নূতন পল্লব রুচি যেন চক্ষু শোভা।
হাস্য হেরি হরে জ্ঞান মুনি-মন-লোভা॥
অধরে মিশির রেখা দন্তের সহিত।
জলধর আড়ে যেন চমকে তড়িৎ॥
ধনীর শুনয়ে ধ্বনি পিকবর লাজে।
ক্ষণে আসে ক্ষণে যায় কাননের মাঝে॥
গ্রীবা হেরি কলঙ্কের ভয়েতে শিখিনী।
বনবাসী হলো যেয়ে হয়ে বিবেকিনী॥
ভুজলতা সুগঠন মৃণাল নেহারি।
সর্বাঙ্গে কণ্টক খেদে জন্মিল তাহারি॥
গোলাপ-কুসুম কন্যা করে নিয়েছিল।
করপদ্ম হেরি খেদে কণ্টকে পশিল॥

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর