কবি সতীশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা
*
যুবা ও বৃদ্ধ
কবি সতীশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
দেবীপ্রসন্ন রায়চৌধুরী সম্পাদিত “নব্যভারত” পত্রিকার আষাঢ় ১৩২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত।

“যুবা গর্ব্বে কহে বৃদ্ধে ধরাপানে চাহি,
মানবই বিধাতা বিশ্বে আর কেহ নাহি।
যাহা কিছু হেরি মোরা দুই চক্ষু দিয়া,
মানব সকলি শাসে বীর্য্য প্রকাশিয়া।”
হসিত আননে বৃদ্ধ শূন্যে চাগি কহে
ও রাজ্য কে শাসে? যুবা নতশির রহে।

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
উঠ্ রে উঠ্ রে উঠ্ রে তোরা
কবি সতীশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
কবিতাটি আমরা পেয়েছি, কবি দিলীপ কুমার বসু সম্পাদিত “গান” নামক “একটি স্বদেশী-গানের সঙ্কলনের”
৩য় সংস্করণ থেকে। ১ম সংস্করণটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৩১৩ বঙ্গাব্দে (১৯০৬), ব্রজকিশোর রায় চৌধুরী
দ্বারা ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত মৈমনসিংহের সুহৃদ-সমিতির পক্ষ থেকে। ১৯০৯ সালে যে সব স্বদেশী  
কার্যকলাপে সমপৃক্ত সমিতির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়, এই সমিতি তাঁদের অন্যতম ছিলেন। বইটি  
প্রকাশিত হয়েছিল বঙ্গভঙ্গের সরকারি ঘোষণার পরে। যদিও আমরা জানি যে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দেলন,  
ঘোষণার তারিখের অনেক আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই বইটির সম্পাদক কবি  
দিলীপ কুমার বসুর এবং প্রকাশক কুবোপাখি প্রকাশন (+৯১৯৪৩২১৩৩৯৯১) এর কাছে তাঁদের এই সাধু  
প্রচেষ্টার জন্য। মিলনসাগরে কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . . ।

উঠ্ রে উঠ্ রে উঠ্ রে তোরা
.                হিন্দু-মুসলমান সকলে, ভাই!
বাজিছে বিষাণ উড়িছে নিশান,
.                আয়রে সকলে ছুটিয়া যাই।
হিন্দু মুসলমান, ব্রাহ্ম খৃষ্টিয়ান,
.                কে আছ কোথায় বঙ্গের সন্তান!
আট কোটি প্রাণ, হ’রে আগুয়ান,
.                জননী তোদের ডাকিছে ভাই!
দেখ্ রে দেখ্ রে যায় রসাতল,
.                জাতীয় উন্নতি বাঙ্গালীর বল,
রাজদ্বারে আর নাহি প্রতিকার,
.                আপনার পায়ে দাঁড়ারে ভাই।
নগরে নগরে জাল্ [ মু ] রে আগুন,
.                হৃদয়ে হৃদয়ে প্রতিজ্ঞা দারুণ,
বিদেশী বাণিজ্যে কর পদাঘাত---
.                মায়ের দুর্দশা ঘুচারে ভাই।
আপনি বিধাতা সেনাপতি আজ,
.                অই ডাকিছেন সাজ্ রে সাজ,
স্বদেশী সংগ্রামে চাহে আত্মদান---
.                বন্দেমাতরম গাও রে ভাই!

ই গানটিই ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য্য সঙ্কলিত ও সম্পাদিত, দেশাত্মবোধক সঙ্গীত ও
কবিতার সঙ্কলন (১৭৪১-১৯৪৭) “মাতৃবন্দনা”-র ১১২-পৃষ্ঠায় “আহ্বান সঙ্গীত” নামে এই রুপে দেওয়া রয়েছে।

.        
আহ্বান সঙ্গীত

.        ওঠ্ রে ওঠ্ রে ওঠ্ রে তোরা
.                        হিন্দু-মুসলমান সকলে ভাই।
.        হিন্দু-মুসলমান-ব্রাহ্ম-খৃষ্টিয়ান,
.                        আয় রে আরে বঙ্গের সন্তান,
.        ঐ শেন মার কাতর আহ্বান,
.                        জননী তোদের ডাকিছে ভাই!
.        ঐ যে দুর্জ্জন করিছে গর্জ্জন, বঙ্গমাতারে করিবে ছেদন,
.        করি খণ্ড খণ্ড বঙ্গের অঙ্গ, জাতির জীবন নাশিবে তাই।
(আজ)         উড়িছে আকাশে রক্তনিশান, ঘন ঘন ঐ বাজিছে বিষাণ,
.        স্বদেশের রণে, কে রবে পিছনে চল্ চল্ সবে ছুটিয়া যাই।
.        নগরে নগরে জ্বাল রে আগুন, হৃদয়ে হৃদয়ে প্রতিজ্ঞা দারুণ,
.        রুখিব আমরা যুঝিব আমরা, (এই) দুঃশাসনের ধ্বংস চাই।
.        বিলাতী বস্ত্রে লাগাও আগুন,
.                        দেও জলে ফেলে বিলাতের নুন,
.        ব্রিটিশ-বাণিজ্যে কর পদাঘাত বণিকের ঘরে জমুক ছাই।
(ওরে)         হবে না হবে না বলিদান বিনা,
.                        ঝরিবে শোণিত জাগিবে চেতনা,
(হবে)         জাগ্রত বাঙ্গালী জাগ্রত ভারত কে রোধে?
.                        কারও সাধ্য নাই।
.        বল বন্দে মাতরম্ , বল বন্দে মাতরম্ ,
.                        বল দুঃশাসনের ধ্বংস চাই।

.                        *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর