হাইট কবি সিদ্ধার্থ সিংহ কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৭.২০১৯।
লোকটার নাম শুনেছিলাম। সবাই বলতেন, লোকটার হাইট সাত ফুট তিন ইঞ্চি ইয়া ছাতি লম্বা লম্বা হাত। আমি বিশ্বাস করতাম না।
দূর থেকে যে দিন দেখলাম বুঝলাম, কেউ মিথ্যে বলেননি। সাত ফুট তিন কী? ঠিকঠাক মাপলে, দু'-চার ইঞ্চি বেশিই হবে।
এর ক'দিন পরেই লোকটার সঙ্গে আমার আলাপ হল, ভাল করে চিনলাম। একদিন ফিতে দিয়ে মাপতে গিয়ে দেখি তাঁর হাইট মাত্র পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি। পাঁচ ফুট চার! হিসেবে কোনও গণ্ডগোল হচ্ছে না তো! পরের দিন মাপতে গিয়ে দেখি তিন ফুট সাত, তার পরের দিন কোনও রকমে টেনে-টুনে দু'ফুট। দু'ফুট! এর পরের দিন মাপতে গেলে হয়তো আরও কমে যাবে... আমি ছিটকে চলে এলাম। মানুষকে আর কত ছোট হতে দেখব! কত!
বিজ্ঞপ্তি কবি সিদ্ধার্থ সিংহ কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৭.২০১৯।
আমার একজন প্রেমিকা চাই। না না, মন থেকে করতে হবে না প্রেমের ভান করলেই চলবে মাইনে তিরিশ হাজার। দেখতে-শুনতে ভাল হলে আরও একটু বাড়ানো যেতেই পারে।
আমার একজন প্রেমিকা চাই বিবাহিত হলেও ক্ষতি নেই তেপ্পান্নটা পুরুষসঙ্গী থাকলেও আপত্তি নেই তাদের সঙ্গে দিঘা, মায়াপুর, গড়চুমুক যেতেই পারেন যান, কিন্তু প্লিজ আমি যেন জানতে না পারি।
আমার একজন প্রেমিকা চাই মাইনে ছাড়াও প্রসাধনী… শাড়িটাড়ি, সালোয়ার কামিজ, প্লাজো, সুন্দর সুন্দর চটি সপ্তাহে একদিন স্পা, মাসাজ, ডাক্তারি চেক-আপ একদিন অন্তর আপেল, বেদানা, মুসাম্বি কাজু, কিসমিস, আচার, কেক সপ্তাহে দু'দিন রাজকীয় শপিং মল এ ছাড়াও যেতে যেতে কোথাও চোখ আটকে গেলে কিনে দেবো সেটাও…
আমার একজন প্রেমিকা চাই না না, মন থেকে করতে হবে না প্রেমের ভান করলেই চলবে মাইনে তিরিশ হাজার।
কেউ আছেন? কেউ আছেন? কেউ আছেন? প্লিজ, কল মি 9836851799
সম্পর্ক কবি সিদ্ধার্থ সিংহ কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৭.২০১৯।
আমি তোমার সঙ্গে আর খেলব না।
তুমি যদি এই ভাবে গাড়ি-রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাঁটো তুমি যদি একের পর এক উপরতলা দেখিয়ে হঠাৎ হঠাৎ বায়না ধরো তুমি যদি হেঁশেলের থেকে বেশি পছন্দ করো ড্রেসিং টেবিল
আমি তা হলে তোমার সঙ্গে আর কখনও, কোনও দিন খেলব না।
খেলতে খেলতে বালির স্তূপে বানানো ঘর আমি একদিন বালিতেই আড়াল করে ফেলব।
রূপান্তর কবি সিদ্ধার্থ সিংহ কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৭.২০১৯।
মানুষের একটা লেজ হোক দুটো শিং এক~একটা থাবা হোক সাত মন।
বাচ্চাটাকে কাপড়ে জড়িয়ে কারা যেন ফেলে গিয়েছিল রাস্তার ধারে যতক্ষণ না লোকজন এসে তাকে তুলে নিল একটা কাকও যাতে ঠোকরাতে না পারে আগলে রেখেছিল কয়েকটা সারমেয়।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একটা দল গভীর জঙ্গলে ঢুকে একেবারে তাজ্জব পরে সারা পৃথিবী জেনেছিল সেই গোরিলা~মা আর তার কাছে বেড়ে ওঠা মানব শিশুটির কথা!
তাড়া খেতে খেতে পাহাড়ের এক গুহায় এসে লুকিয়েছিলেন তাসখন্দের রাজা সিন্দাবাদ পিছনে তলোয়ার উঁচিয়ে হাজার হাজার সৈন্য এই বুঝি কোপ পড়ল! ঠিক তখনই গুহার মুখ ঢেকে যেতে লাগল এক জংলি মাকড়সার জালে।
সামান্য একটা মাকড়সা কেমন করে তাঁকে সে দিন বাঁচিয়ে দিয়েছিল সে কথা তিনি লিখে রেখে গেছেন তাঁর আত্মজীবনীতে।
জংলি মাকড়সাও বিপদ থেকে অদ্ভুত ভাবে রক্ষা করে একটা জীবন বনের গোরিলাও কত মমতা দিয়ে বড় করে তোলে একটা মানবশিশু রাস্তার কুকুরও কী সুন্দর আগলে রাখে একটা সদ্যজাতকে আর মানুষ?
মানুষের একটা লেজ হোক দুটো শিং থাবা হোক ইয়া বড় বড়।
চাহনি কবি সিদ্ধার্থ সিংহ কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৭.২০১৯।
আপনার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে বলতে হঠাৎই চুক চুক করে শব্দ করব কথার ফাঁকে বলব, উমমমমম্... আঃ সে রকম প্রশ্রয় পেলে বলতেও পারি--- একবার দেবেন? আর... আর... আর...
অপারগ কবি সিদ্ধার্থ সিংহ কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৭.২০১৯।
বন্যায় সব ভেসে গেছে ক’টা জামাপ্যান্ট ছাড়া কিছুই আনতে পারিনি… ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়ে কথাটা বলেছিল সে।
হঠাৎ করে ঘরে আগুন লেগে গেলে কিংবা আচমকা ভূমিকম্প হলে মানুষ কী নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে! কী নিয়ে!
ও রকম কোনও দিন যদি আমার জীবনে আসে তা হলে কী কী নেব? কী কী? তার একটা তালিকা তৈরি করে রেখেছিলাম আমি।
সেই তালিকার প্রথমেই ছিল আমার কবিতার খাতা, দ্বিতীয় স্থানে ছিল আমার পোষা বেড়ালছানা, আর তৃতীয় স্থানে ছেলেবেলায় পাওয়া আমার প্রথম প্রেমপত্র। চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তমে আর কী কী ছিল এখন আর মনে নেই।
যে দিন সত্যি সত্যিই ওই ভাবে আমাকে বেরিয়ে আসতে হল সে দিন কিচ্ছু নিতে পারলাম না না সেই প্রেমপত্র না সেই ছোট্ট বেড়ালছানা না সেই কবিতার খাতা কিচ্ছু না। কিচ্ছু না। কিচ্ছু না।