কবি সিদ্ধার্থ সিহের কবিতা
*
কৃষ্ণ
কবি সিদ্ধার্থ সিংহ
কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৭.২০১৯।

জানালায় চোখ পড়তেই দেখি খাটে শুয়ে আছেন কৃষ্ণ
এত নীল!
ছেলে তখন ক্লাস টু-য়ে
গরমের ছুটির আগের দিন ছিল ‘যেমন খুশি সাজো’
ও কৃষ্ণ সেজেছিল
জরির কাজ করা ঝলমলে পোশাক, হাতে বাঁশি
মোবাইলে তোলা সেই ছবি দেখে ওর দিদুন বলেছিলেন—
‘এই তো আমার গোপাল’
সেই ছবি এখনও দেয়ালে ঝুলছে।

জানালায় চোখ পড়তেই দেখি খাটে শুয়ে আছেন কৃষ্ণ
তবে কি সাধু-সন্তদের পথ দেখিয়ে দেখিয়ে
এই গোয়ালে নিয়ে আসছে কোনও উজ্জ্বল তারা!
ওরা আসার আগেই আমি একটু ভাল করে দেখে নিই…
ঘরে ঢুকতেই দেখি
কৃষ্ণের মুখ বেয়ে নেমে কখন থমকে গেছে সমুদ্রের ফেনা।

.         ****************       
.                                                                                   
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হাঁটুন
কবি সিদ্ধার্থ সিংহ
কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৭.২০১৯।

প্রত্যেক দিন অন্তত কিছুক্ষণ খালি পায়ে হাঁটুন।

ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে মাটি যতই পিছল হোক
কাঁকর আর ইটের ছুঁচলো টুকরো যতই মাথা তুলে থাকুক
খানাখন্দে যতই ভরা থাকুক চরাচর
প্রত্যেক দিন অন্তত কিছুক্ষণ খালি পায়ে হাঁটুন।

না হাঁটলে
অভিমানে, পায়ের তলা থেকে একদিন মাটি সরে যেতে পারে।

.         ****************       
.                                                                                   
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভাগ্যিস
কবি সিদ্ধার্থ সিংহ
কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৭.২০১৯।

বউ ছেলে নাতি-নাতনি নিয়ে দারুণ আছি
সব থেকে উঁচু বাড়িতে
নিরাপদে।

ভাগ্যিস সে দিন ঠিক সময়ে
মিছিল থেকে কেটে পড়েছিলাম, নইলে...
এখন শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক দিই
সে দিন মিছিলে যারা গুলি খেয়েছিল
মুখ থুবড়ে পড়েছিল রাস্তায়
তাদের মুখ মনেও পড়ে না,
তবু বানিয়ে বানিয়ে বলি---
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা কী কী করেছিলাম।

বউ ছেলে নাতি-নাতনি নিয়ে দারুণ আছি
শহরের সব থেকে উঁচু তলায়
নিরাপদে।
আমার গাড়ির সামনে এখন
হুটার বাজিয়ে ছুটে যায়
এস্কর্ট ভ্যান।

পত্নী-উপপত্নী আর
সফল পুত্র-কন্যাদের নিয়ে
শহরের দুই প্রান্তে দারুণ আছি
সব থেকে উঁচুতে
নিরাপদে।

ভাগ্যিস ওই বয়সেই রাজনীতিটা শিখে ফেলেছিলাম!

.         ****************       
.                                                                                   
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমার ছেলে যেন
কবি সিদ্ধার্থ সিংহ
কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৭.২০১৯।

আমার ছেলে যেন কোনও দিন ফার্স্ট না হয়
হলে থার্ড হোক
খুব বেশি হলে সেকেন্ড।

পড়াশোনায় আমি মোটেও ভাল ছিলাম না
টায়ে-টুয়ে টেনে-হিঁচড়ে কোনও মতে ক্লাসে উঠতাম।
বন্ধুরা আমার দিকে তির্যক দৃষ্টিতে তাকাত
কাছে গেলে নিজেদের মধ্যে গল্পে মশগুল হত ওরা।
আমি ক্লাসের লাস্ট বেঞ্চে বসতাম
ফার্স্ট বয় বসত প্রথম বেঞ্চে।
টিফিনের সময় সবাই হইহই করে বেরিয়ে যেত
খাঁ খাঁ ক্লাসে তখন আমি একা
আর ধীরে ধীরে বইয়ের ব্যাগ গোছাত
প্রথম বেঞ্চের সেই ফার্স্ট বয়।
ওকে দেখে আমার মনে হত
আমার চেয়েও ও কত একা, কত নিঃসঙ্দ।

আমার ছেলে যেন কোনও দিন ফার্স্ট না হয়
হলে থার্ড হোক
খুব বেশি হলে সেকেন্ড।

.         ****************       
.                                                                                   
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কী করে বলি
কবি সিদ্ধার্থ সিংহ
কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৭.২০১৯।

হাইকম্যান্ডকে কী করে বলি!

ও রকম দু'-চারটে খুন সবাই করতে পারে
কিন্তু এক কোপে কারও মাথা নামিয়ে
সেই মুণ্ডু নিয়ে কখনও কি ফুটবল খেলেছেন প্রকাশ্য রাস্তায়?
তবে?

ও রকম দশ-বিশটা ধর্ষণ সবাই করতে পারে
কিন্তু আপনার নাম শুনলেই
মুহূর্তে ফাঁকা হয়ে যাবে মেয়েদের স্কুল, পাপড়ি গুটিয়ে নেবে ফুল
সে রকম বিভীষিকা কি ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন চারিদিকে?
তবে?

আপনাকে আসতে দেখলে
আশপাশের বাজার, চৌরাস্তার মোড়
কিংবা অফিসপাড়া
খরগোশ হয়ে যেতেই পারে
কিন্তু ওদের ভিতরের বাঘটাও যে মাথা নুইয়ে কোণে গিয়ে লুকোবে
সে রকম কুচকুচে কালো মেঘে কি ঢেকে দিতে পেরেছেন গোটা আকাশ?
তবে?

হাইকম্যান্ডকে আমি কী করে বলি
এ বার অন্তত ভোটে দাঁড়ানোর জন্য আপনাকে একটা টিকিট দিক!

.         ****************       
.                                                                                   
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর