আমরা মিলনসাগরে অমিয় বাগচীর গান ও কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।
উত্স -
- অরিজিৎ মৈত্র, গণশক্তি, জন্মশতবর্ষে গীতিকার অমিয় বাগচী, ৩১শে মে, শনিবার, ২০১৪।
- শিশিকুমার দাশ, সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী, ২০০৩।
- সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান ১ম খণ্ড, ২০১০।
- বিশ্বনাথ বিশ্বাসের চিঠি, আনন্দবাজার পত্রিকা, ৪ জুলাই, ২০১৭।
কবি অমিয় বাগচীর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ৩.৭.২০২০ ^^ উপরে ফেরত
...
কবি অমিয় বাগচী - জন্মগ্রহণ করেন বিষ্ণুপুরে
তাঁর মামার বাড়িতে। কবি, পিতা বিনয়কৃষ্ণ বাগচী
এবং মাতা প্রতিভা দেবীর জ্যেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের
পৈতৃক বাড়ী উত্তর কলকাতার ৪৭ নম্বর কেশবচন্দ্র
সেন স্ট্রিটে। কবির স্ত্রী মলিনা দেবী, কন্যা মধুশ্রী ও
পুত্র অমিত। কবির মামাতো বোন ছিলেন আকাশবাণীতে প্রখ্যাত সংবাদ পাঠিকা নীলিমা সান্যাল।
কবির পিতামহ ডাঃ কালীকৃষ্ণ বাগচী ও রবীন্দ্রনাথ - পাতার উপরে . . .
কবি অমিয় বাগচীর পিতামহ বিশিষ্ট চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ কালীকৃষ্ণ বাগচীর কাছে চোখ দেখাতে
আসতেন গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই বিশেষ ঘটনাটির উল্লেখ রয়েছে প্রবোধকুমার সান্যালের
“বনস্পতির বৈঠক” গ্রন্থে।
কবি অমিয় বাগচীর শিক্ষা ও কর্ম জীবন - পাতার উপরে . . .
কবির শিক্ষাজীবন শুরু হয় কলকাতার রামদুলাল স্ট্রিটের কেশব আকাদেমিতে। পরে বিদ্যাসাগর কলেজ
থেকে তিনি স্নাতক হন। কর্মজীবনে কবি গীতিকার, সাহিত্যিক হবার পাশাপাশি তাঁর ছিল সাঁওতাল
পরগণার বিভিন্ন অংশে স্টোনচিপসের ব্যবসা।
অমিয় বাগচী ও রবীন্দ্রনাথ - পাতার উপরে . . .
কমিউনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী এবং আজীবন রবীন্দ্রানুরাগী অমিয়বাগচী রবীন্দ্রনাথকে তাঁর জীবন দেবতার
আসনে বসিয়েছিলেন। ৩১শে মে ২০১৪ তারিখের গণশক্তি পত্রিকায়, অরিজিৎ মৈত্র, তাঁর “জন্মশতবর্ষে
গীতিকার অমিয় বাগচী” প্রবন্ধে জীবনদেবতা রবীন্দ্রনাথের প্রতি অমিয় বাগচীর গভীর শ্রদ্ধাভরা ভাবনাকে
এভাবে প্রকাশ করেছেন . . .
“ . . . কমিউনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী এবং আজীবন রবীন্দ্রানুরাগী অমিয় বাগচীর মনে হয়েছিল. ছবির জগৎ,
জনপ্রিয়তা ও নামের মোহ ক্ষতি করতে পারে তাঁর নিভৃত সাহিত্যচর্চা এবং পড়াশোনায়, তাই এই স্বেচ্ছা
নির্বাসন। . . .
. . .কবি গীতিকার অমিয় বাগচীর জীবন ছিলো তিনটি ভাগে বিভক্ত। একদিকে সাঁওতাল পরগণার বিভিন্ন
অংশে তাঁর স্টোনচিপসের ব্যবসা, অন্যদিকে তাঁর সাহিত্যের জগৎ আবার অন্যদিকে তাঁর জীবন দেবতা
রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে আবর্তিত অমিয় বাগচীর জীবন। সৌভাগ্য হয়েছিলো দু'বার রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে
সাক্ষাতের ও কথোপকথনের। প্রথমবার শান্তিনিকেতনে তাঁর জীবনের আদর্শ কবিকে নিয়ে চারলাইনের
কাব্য রচনা করেছিলেন তা শুনিয়েওছিলেন প্রাণের গুরুদেবকে। রবীন্দ্রনাথের উত্তর ছিলো, "মধ্য গগণে যে
রবি, তাকে বলে মার্তণ্ড। তুমি তাকে মাত্র চার লাইনে বেঁধেছ। দ্বিতীয় সাক্ষাৎ কলকাতার জোড়াসাঁকোর
বাড়িতে। সঙ্গে ছিলেন সুধীর খাস্তগীর ও তাঁর স্ত্রী, রবীন্দ্রনাথ যাঁকে সীমান্তনী নামে ডাকতেন। রবীন্দ্রনাথের
সঙ্গে পত্রালাপও চলতো মাঝেমধ্যে। রবীন্দ্রনাটক “রক্তকরবী" যাত্রাকে নামকরণ নিয়ে প্রশ্ন করে অমিয়
বাগচী রবীন্দ্রনাথকে চিঠি লিখলে কবি উত্তর দেন “আমার নাটকে সফল পাত্রপাত্রীদের আলাপের মধ্যে
আমার ভাষাই এসে পড়ে নালিশ হয় তো সত্য-তাতে চরিত্রের বিশেষত্বের যে ক্ষতি হয় ভাবে দিক থেকে হয়
তো তার পূরণ হয়ে থাকবে।” রবীন্দ্র তিরোধানের পরের বছর থেকেই ৪৭ নম্বর কেশবচন্দ্র স্ট্রিটে শুরু
করেন রবীন্দ্র জন্মোৎসব। পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ রঘুনাথ গোস্বামীর অঙ্কিত কবির প্রতিকৃতি নিয়ে এই
অনুষ্ঠানের যাত্রা শুরু।”
গীতিকার অমিয় বাগচীর গান - পাতার উপরে . . .
তাঁর লেখা “কথা কোয়োনোকো শুধু শোন” গানটিই হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে তাঁর সঙ্গীত জীবনের শুরুতে
জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিলো। অমিয় বাগচীর গানে সুরারোপ করছেন সুধীরলাল চক্রবর্তী, হেমন্ত
মুখোপাধ্যায় প্রমুখরা। তাঁর গান গেয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শচীন গুপ্ত, তালাত
মাহমুদ, দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, সমরেশ রায়ের মতো প্রখ্যাত শিল্পীরা। তাঁর জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে
“আমার বিরহ আকাশে”, “তোমার দুয়ার খানি খোলা”, “মাধবীর স্বপনে এসেছে ফাগুন”, “এসো কুঞ্জে গো মধু
জোছনায়”, “জীবন নদীর দুই তীরে”, “কথা ছিলো তোমার মালা করবে আমায় দান”, “কেন চম্পক জাগিল না”,
“সে কোন ভাদরে ভরা ঘট ছলছলি” প্রভৃতি। ছায়াছবির জন্যও গান লিখেছিলেন অমিয় বাগচী। “পূর্বরাগ” ও
“দুঃখে যাদের জীবন গড়া” ছবি দুটিতে তাঁর রচিত গানে সুরারোপ করেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং আবদুল
আহাদ।
“কথা কোয়ো নাকো শুধু শোনো” গানটির নেপথ্য কাহিনী - পাতার উপরে . . .
৪ঠা জুলাই, ২০১৭ তারিখের আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক সমীপেষু তে, বিশ্বনাথ বিশ্বাসের একটি চিঠি
প্রকাশিত হয় যেখানে তিনি এই গানটির নেপথ্য কাহিনী ব্যক্ত করেছিলেন এভাবে। আমরা সেই চিঠির অংশ
বিশেষ এখানে তুলে দিলাম . . .
“হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে প্রথম জনপ্রিয়তা এনে দেয় ১৯৪৩ সালে ‘কথা কয়ো নাকো শুধু শোনো’ গানটি। কবি-
গীতিকার অমিয় বাগচীর লেখা এই গানে সুরারোপ করেছিলেন স্বয়ং হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। এটাই তাঁর
নিজের সুরে গাওয়া প্রথম গান। অমিয় বাগচী ছিলেন তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু। এর নেপথ্যে একটি কাহিনি আছে।
হেমন্ত এবং তাঁর বন্ধুরা এক সঙ্গে ট্রেনে করে ঘুরতে গিয়েছিলেন। ট্রেনের মধ্যে প্রায় সবাই এক সঙ্গে জোরে
কথা বলছিলেন। ফলে কেউই কারও কথা ঠিকঠাক শুনতে পারছিলেন না। তখন সবাইকে শান্ত করার জন্য
হেমন্ত মুখোপাধ্যায় দীপ্তকণ্ঠে বলে উঠলেন— ‘কথা কয়ো নাকো শুধু শোনো’। ব্যস, ওষুধের মতো কাজ হল।
পরিবেশ শান্ত হল। এটা অমিয় বাগচীর খুব মনে ধরেছিল। তখন তিনি কবি হওয়ার পথে। কথাটা লিখে
রাখলেন। পরে এই কথা ধরে আস্ত একটা গান লিখে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে দেখালেন। এই গানটি হেমন্ত
মুখোপাধ্যায়ের স্বর্ণকণ্ঠে ইতিহাস সৃষ্টি করে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের ছাত্ররা ‘কথা কয়ো নাকো...’ গান
দিয়ে প্রিয়তমাদের জন্য প্রেমার্ঘ্য সাজিয়ে রাখত।”
কবি অমিয় বাগচীর রচনাসম্ভার ও কবিতা - পাতার উপরে . . .
বন্ধু হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কবি প্রকাশ করেছিলেন সঙ্গীতের বই “কলহংস”। শুধু গীত রচনাই নয়,
অমিয় বাগচী আকাশবাণীর জন্য একাধিক নাটকও লিখেছিলেন। তাঁর রচনা সম্ভারে রয়েছে “পতিতা”,
“বাসনা বাসর”, “মন মুকুর” প্রভৃতি গ্রন্থ। এছাড়া রয়েছে গান ও কবিতা।
“সচিত্র শিশির” পত্রিকার তিনি নিয়মিত লেখক ছিলেন। আমরা এই পত্রিকাতে ১৯৫০ সালে প্রকাশিত তাঁর
একটি কবিতা এখানে সংগ্রহ করে তুলতে পেরে ধন্য হয়েছি। আমরা তাঁর কোনো গানের কথা, কোনো
গানের সংকলনে পাই নি। তাই তাঁর ১২টি গান শুনে শুনে লিখে এখানে তুলতে হয়েছে। তাই ভুলভ্রান্তি
দেখলে আমাদের জানাবেন আমরা শুধরে দেবো।