নৌকো সাজও এবার কবি অঞ্জন চট্টোপাধ্যায় রচনা ৮.১.২০২১। মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.১.২০২১।
অদ্ভুত নিঃসাড় চারপাশে , এত ক্ষয় কেমন যেন ঘিনঘিনে একক যাপন চেনা মুখ-সব কঠিন মমি মনে হয় তারারা জ্বলা-নেভা ভুলেছে অকারণ তবে কি ঘোর অমাবস্যা এখন পৃথিবীতে চাঁদ মরে গেছে , ফুল ফুটবে না কখনও মেঠো ইঁদুর ঘাই মারে বরফ শরীরেতে এত শবাধার আগে দেখেছ কেউ , কখনও নোয়া , এবারে নৌকো সাজাও তবে পাখি চাই , ফুল বীজ সমস্ত প্রজাতি ভাল যত কিছু সঙ্গে নিতে হবে নীরবে .....অবশ্য কিছু মানব-মানবীও হবে সাথী ফেলে যেতে হবে ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া বিবিধা ...আর ক্লীবতা পাশবতা একমুখীন শ্বাপদ রব মুঠোয় ভরে নিতে হবে এক সাগর স্পর্ধা আর....অন্ততঃ ফেলে যেও ধর্মগ্রন্থ স-ব....
যদি কবি অঞ্জন চট্টোপাধ্যায় মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.১.২০২১।
আজ যদি অ্যামন হত... তুমি আর আমি শুধু হারিয়ে যেতাম ইচ্ছেনগর সব পেয়েছির আসর জমাতাম মৌতাতে সে আসরে নিত্য ভয়ের কোন ঠাঁই নেই অবশ্য ....সত্যি যদি অমনটি আজ হত
ভাল লাগে না...নিত্য সংজ্ঞা নতুন নতুন উপমা ভাল লাগে না সেসবের জন্য নিত্য দহন অহরহ মনে হয় পূর্ব জন্মেরও আগের কোন জন্মে সেই প্রথমবার যখন ধর্ষিত হয়েছিলাম আমি ...
মানুষী হয়ে আসাটা তবে কি পাপ..বলো না গো অথচ প্রতি জন্মেই তো অকাতর বিলিয়েছি নিজেকে ওরা তবু বলল আমি নাকি নরকের দ্বার রক্ষী আমার ঠোঁটে বিভাজিকায় স্তনে জঙ্ঘার কানাচে উগ্র আহ্বান থাকে নাকি সতর্ক অসতর্ক সর্ব সময়ে
সেসব আহ্বানের নাম দিয়েছে রাত করে বাড়ি ফেরা স্বল্প বেশভূষা ইচ্ছে মতন কাজ করা কিম্বা মদ্যপান ...এসমস্ত নাকি আমায় মানায় না আমার স্থান চার দেওয়ালে বোরখার আস্তরে
...তাই চলো না আজ...বেরিয়ে পড়ি ইচ্ছেনগর খুশি মত বেঁচে নি' আজ..সূর্য্যটাকে সাপটে ধরি আমার শাড়িটার আঁচলে...একটা দিন অন্ততঃ... তারপর অপেক্ষা বহু জন্মের..হয়ত সেদিন খুঁজবে প্রত্নতাত্ত্বিক অন্য প্রজাতির কোন...মানবতার ফসিল
প্রেম পর্যায় কবি অঞ্জন চট্টোপাধ্যায় মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.১.২০২১।
এসো , এবার না হয় প্রেম পর্যায়ে আবার ফিরি অনেক তো হল , বাণের নামে ষাঁড়াষাঁড়ি আর বুলবুল নাম্নী ঝঞ্ঝা ঝড় অ্যাতোদিনে বুঝেছি নির্ঘাৎ আপন আর পর
এসো না , আবার নয় হাতে হাত ধরি , প্রিয়ে আরও একবার চেষ্টায় নামি সততা সঙ্গে নিয়ে আবার চাঁদ ফুল জোছনায় ফিরে যাওয়া যায় সেই আদম যুগের মিঠে ভালোবাসায়
চেষ্টা করি এসো , বাণিজ্য বেঁচে থাকা বেচে দিয়ে হেরে যাওয়া নামচার বেসাতি নিয়ে রাতের তারা গুনি ছাতে , শতরঞ্চির পরে হাতে হাত ছুঁয়ে খানিক অবসরে
এসো প্রিয়ে , আবার প্রতীক্ষার প্রহর গুনি , আরও একবার সমস্ত পৃথিবীর দেনা পাওনা ভুলবার অবসর খুঁজে নিই , একটু ঠোঁট ছোঁওয়ার অছিলায় জেগে থাকি সমস্ত রাত , আবার
এসো না , বেড়া সব খণ্ড খণ্ড করি , ফুটবল আসর জমাই নো-ম্যানস ল্যান্ডে , ধর্মের ট্রফিতে ঘর সাজাই অনেক তো হল আজন্মের ভেদাভেদ আর... এবার একটু ভালোবাসার , ভালো রাখার নিত্য যাপনে ছুঁয়ে থাকি যতো অস্পৃশ্যতার....
বিদর্ভের পথে দেখেছি ওকে জীবনানন্দের খাতায় দেখেছি মেঘলা মাঠে রবি ঠাকুরের সেই কালো মেয়ে কি করে ভুলি সে বিষ্টি ভেজা মিষ্টি মেঘবালিকায় ..কেন তবু বিভেদ ব্যথা এ যুগে সে যুগে.. প্রতি যুগের
মুখ ফিরিয়েছে , যতবার ভালবেসে কাছে চেয়েছি আবার কখন যে বাহুপাশে নিয়েছে অক্লেশে রকমসকম দেখে অবাক বিস্ময়ে হতবাক হয়েছি ...অথচ নিয়ত পীড়ন কত কতবার নিমেষে নিশেষে
কেন যে আজও সমগোত্রের মর্যাদা দিতে পারিনি কেন যে পত্রিকার ধর্ষন খবর তারিয়ে তারিয়ে গিলে সুশীল সমাজে এসে অন্য কথা বলেছি... বুঝিনি তবে কি আজীবন লালিত পুরুষ সংজ্ঞা অন্তমিলে
আজ নয় , অপেক্ষা যুগান্তরের অন্য কোন প্রজাতির যারা খুঁজে বার করবে এই আমার মানবতার ফসিল...
মহামিছিল কবি অঞ্জন চট্টোপাধ্যায় মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.১.২০২১।
আবার মিছিলে হাঁটবো , শত শত মাইল রক্ত ঝরবে পায়ে আবার কালকের মতো জল-কামানের মুখোমুখি হবো শীত সকালে ব্যারিকেড করবো চূর্ন একের পর এক
এবারও কিন্তু তোমার জলপাই সিপাই আমারই মেহনতের ফসলে পালিত , জানি তারা থাকবেই আমার পথ আগলে এবারও তাদের সঙ্গী কাঁদানে গ্যাস , জল
তাদেরকে সঙ্গে নেবো এবার না হয় তারাও তো জানে কোন সন্ধিক্ষণ এ প্রহর রাজধানীর বিষ বায়ুতে তাদেরও তো প্রশ্বাস ...না হলে রক্তাক্ত হবো তাদের লাঠির ঘায়ে
তবু রাজধানী পৌঁছে যাবেই আমাদের মিছিল মানব ব্যারিকেড চূর্ন করবে লোহা লাঠি কামান বধির কানে তো পৌঁছে দিতে হবে মানুষের কথা তারপর নয় শান্তিতে শুয়ে পড়ব কঠিন রাজপথে
মানুষের মহামিছিল তারপরও চলবে অন্তবিহীন যতক্ষণ না তোমাদের বধির কান শুনতে শেখে অনাহার অত্যাচার অবিচারের সে সব কথা " আমরা করবো জয় নিশ্চয়....একদিন..."
এ সময়ের ডিজিটাল কথা কবি অঞ্জন চট্টোপাধ্যায় মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.১.২০২১।
হৃদয়ের পরশ এবার থেকে গুগল্ দিয়ে দেবে ঠিকানা সোঁদা সোঁদা মাটির সুবাস উইকিপিডিয়ার কাছে নেবো হার্ডওয়্যার কানে কানে দিয়ে যাবে মনের সুপ্ত যতো বাসনা ...ঝলমলে স্বপ্ন সব ভেঙেচুরে তবু একটি বার ভেবো
একটি বাটন্ ক্লিক... আর সমস্ত বাজার দরজায় এসে কলিংবেল বাজিয়ে বলে,"ক্যায়া হুকম্ মেরে আকা ?" মেঠো বাজার ছেনে ঘাম যত ফরাসি পারফ্যুমে ভাসে ...তবুও কি যেন নেই , কেন এমন সমুদ্দুর ব্যাপী ফাঁকা
এস হে নতুন, এস এস কবি অঞ্জন চট্টোপাধ্যায় মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.১.২০২১।
বছর এলো, চলেও গেল . কিছু সুর কিছু বেসুর রেখে গেল কিছু গোপন ব্যথা মনেতে রেখে . অনেক ভালবাসা গেলাম এঁকে নতুন মুখ অনেক ভিড় করে আসে . পুরোনো তবুও মণিকোঠায় ভাসে এই তো জীবনের আসল ওঠাপড়া . নতুন আর পুরনোর বোঝাপড়া ছোটবেলা যায় কৈশোরের অবুঝে . যৌবন কখন তাকে ঠিক নেয় খুঁজে তারপর এক ছাড়িয়ে আরেকে উত্তরণ . তবুও কখন যেন ফেলে আসার স্মরণ কেন যে মন-প্রাণ ভরিয়ে দিয়ে যায় . নস্টাল্ খেলা করে হিয়ায় হিয়ায় সেখানেই নতুন পুরোনোর সখ্যতা . পায়ে পায়ে পেয়ে যায় পূর্ণতা এস আহ্বান জানাই আজ নতুনত্বকে . ভালবেসে নিজের করে নি' তাকে...