অজানিত ভুল...কোন একটা কবি অঞ্জন চট্টোপাধ্যায় মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.১.২০২১।
আজ হঠাৎই নেমে পড়েছিলাম অজানা স্টেশনে ভুল করে, যখন ঠাহর হল, গাড়ি গ্যাছে বহুদূর স্টেশনটাকে খানিক দ্যাখার পর কেন যে মনে হল এ যেন বহু চেনা, অনেক বার ওঠা নামা করেছি
কেন মনে হল? অথচ নামটা যে ছাই কিছুতেই মনে আসে না...ওয়েটিং রুম চেনা, প্ল্যাটফর্মও প্ল্যাটফর্মের মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে থাকা একাকী গাছটি আমারই মতন নি:সঙ্গতার প্রহর গুনছে একা,সেটাও বড্ড চেনা জানা...ভাবি অ-নে-ক-ক্ষ-ণ...তারপর...
...স্লথ স্খলিত পায়ে বেরিয়ে পড়ি...খুঁজতে...
স্টেশন চত্বরের বাইরের বৃদ্ধ অশথ আমার চেনা অবশ্য তার চতুর্পার্শের সার সার রিকশায় নতুনত্ব নেই তেমন, সব স্টেশনের বাইরে থাকে...কিন্তু... ঐ টিমটিম লম্ফওলা মুদির দোকান, ওটা কি করে?
এগিয়ে চলি আমি, ধন্ধ তবু কাটে না কিছুতেই এমন অচেনা স্থানের অনেক কিছু কেন অ্যাতো চেনা ? তবে কি অন্য কোন জন্মে এসেছিলাম এখানে...
তারপর.. একসময় আসে সেই বিশাল অট্টালিকা পলেস্তরা খসে পড়েছে, খিলান ভাঙা, শার্সি নেই , জানলা নেই, কোন উচ্ছৃঙ্খল অতীতের সাক্ষর হয়ে অন্ধকারে নিঝুম দাঁড়িয়ে আছে সময়কে হার মানিয়ে, যেন আমার সঙ্গে শেষ দ্যাখা করার অন্তিম আশায় এই অট্টালিকার জন্যই কি অমন বেভুলো নেমে পড়া...
...দরজার সামনে আসার পর এক গুচ্ছ গন্ধ ধেয়ে এলো আবাল শৈশব গন্ধ, কিশোরী গন্ধ..বুকে মুখ ঘষা,যৌবন গন্ধ লইট্যা মাছের গন্ধ...শুটকি, চষি-পুলির গন্ধ, পান্তা ভাত-লঙ্কা এর মাঝেই নাকে এলো পোড়া-বাস, মানুষ চামড়ার পোড়া কবে কখন যে এত শত গন্ধে চুবেছিলাম..মনে এলো না