মহাজন্ম - ৩ কবি বাবলু গিরি মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.২.২০২১।
এ কি জন্ম আমি জন্মেছি, মহাশূন্যে । এখানে সব ভাঙ্গে, সব ফিরে যায় এ পৃথিবীও ছিলো না, এ নদী বৃক্ষ তুমি আমি । হা হা অট্টহাসি শুনি,মায়াজন্ম মোর জ্বরা ও মৃত্যু আবর্তে আবর্তে, হা ঈশ্বর । তুমিও রক্তাক্ত,অনাথের মতো বেড়ে ওঠো,
লোভে ও পাপে, কিভাবে আরম্ভ কিভাবে শেষ সব শূন্য,তবু ভিতরে জ্বলছে রচনা ও কূট চুর্ণনে । আমিও গড়ে উঠি, ক্রোধে ও বিনয়ে, কামনায়, রোদনে । আহা ভোরের মতো জন্ম অমাবস্যার মতো সমাধি । ঐভাবে ঘষে যায় জীবন,যুগ আসে যুগ ভাঙে , বৃক্ষও জ্বরাগ্রস্ত হয়,হা ঈশ্বর তুমিও বিষপান কর, তপ্ত শরীরে ফিরে যাও। বিষ তীরের দংশনে মহারথী ফিরে যায় । পেরেকবিদ্ধ বিছানা বয়ে যাব মৃত্যু পথে বিষ্ময়ে দেখি মেঘেদের ঘাম ঝরা, গোধূলীতে ধেনু সব ফিরে আসে । দেখি শ্মশানে তৃষ্ণার্ত আত্মারা জ্বলে, ক্ষুদ্র বীজ,মাথা নত করে পুঁতে রই মৃত্তিকার গভীরে, মহা বৃক্ষ হব বলে । কবি হব বোধিবৃক্ষতলে, জন্মেছি ক্ষুধার্ত, হে সুজাতা পরমান্ন দিও, ভালোবেসে ।
ঈশ্বর ও ফেরিওয়ালা কবি বাবলু গিরি মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.২.২০২১।
ঈশ্বর এক ফেরিওয়ালা । এসেছেন অবতারে, সেই হোরেব পর্বতে দশাদেশ । হেরা পর্বতে জিব্রাইল,অশ্বস্থ বৃক্ষতলে ত্রিপিটক ঈশ্বর এইভাবে ফেরি করেন । যেভাবে কৃষক, অন্ন অবনীর বুকে বুনেন । গভীরে গোপনে, ঈশ্বরের নির্দেশে- দেবতাগন, কখনো ফেবিয়াস, নেপথাইস, কখনো পেরূনের বজ্র ঝলকানিতে - মঘবার মতো বিধান দিয়েছ । পৃথিবীর কোষ্ঠী লিখেছ - কুঁজিকাঠি নিয়ে নির্মাণ ও চূর্ণনের ইতিহাস ।
ফেরিওয়ালা, নির্মাণ ও যুদ্ধের ফেরিওয়ালা । মায়াজালে কি রচনা কর - শূন্য ও কোলাহল ! মানুষ গোলকধাঁধার মতো তোমার অবট খেলা দেখে । নতজানু হয়ে ষোড়শপাচারে শিলাখন্ডে - অর্চনা করে ।
জীবনের বয়সটাতো একটা সংখ্যা মাত্র । আগামীকাল একটা সংখ্যা বেড়ে যাবে গতকাল একটা সংখ্যা কম ছিলো । একদিন এই বয়স আর বাড়বে না,কমবে না শুণ্যতে ফিরে যাবে । একটা বৃত্তের মতো প্রথম বিন্দুতেই ফিরে আসা
পৃথিবীর সব সৃষ্টিই প্যারাবোলা, বৃত্ত বা জন্মদন্ডের মতো নির্মাণ কলা, সভ্যতার যোনি
সবকিছুই শূণ্য,খালি আমরা এক থেকে নয় সংখ্যা হয়ে, জোকারের মতো দাঁড়িয়ে থাকি । খুঁজতে থাকি এক একটা শূণ্য পরিপূর্ণতার খোঁজে ।
বছর পেরিয়ে, ঋতু পেরিয়ে,প্রেম যন্ত্রণা পেরিয়ে সংখ্যায় আয়ু বাড়ে, নাকি ক্রমশ কমে যায় ! বয়সতো একটা সংখ্যা - আগামীকাল একদিন বেড়ে যাবে- গতকাল একদিন কম ছিলো।
চক্রপাদ কবি বাবলু গিরি মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.২.২০২১।
আহা শব্দ ও মধু মিলে মিশে যুগলবন্দী । মূঢ়গন বলেছিলেন মধুই শাশ্বত, অন্ন। উত্তাপহীন বৃক্ষও জন্মায় না যেমন, আহা ঐ ব্রহ্মঘরে এইসব শরীর, ধান দূর্বা ও অশ্ব আর সেইসব মধূপর্ক ও ফল রচনা করি ।
মুঢ়গন বলেছিলেন বাঁচার সংগ্রামই নির্মাণ ও রচনা, আর সেখানেই কেউ বুঝেছিল শ্রম ও জড়বন্টন। চৈতন্যময় শব্দের জীবন, কর্মময় চৈতন্যে বাঁচে। আহা শব্দ খুলে যায়,মধু নৈবেদ্য হয় জঠরযজ্ঞে মোহিনী ও ভষ্মাসুর,কামনৃত্য, গরল ও অমৃতের যুদ্ধ, এইভাবে শরীর- অশরীরী হয়,সময় ভেঙেচুরে একাকার।
মূঢ়রা নতজানু হয়,প্রাণ ও অন্নের কাছে, আর জীবন বায়োস্কোপের মতো ছুটে চলে, সভ্যতা থেকে সভ্যতার চক্রপাদে। ক্রমশ আমি শব্দ হই,অন্ন ও প্রাণ - আমার ভিতরের ঈশ্বর খুঁজে পাই, অনন্তের গভীরে অনন্ত হয়ে।
মুখ ভর্তি মুখ কবি বাবলু গিরি মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.২.২০২১।
আজকাল বড় ঘুম পায়। ঐ অন্ধকার দিয়ে লোকটা হেঁটে যায়, বিষণ্ন বিরক্তের মুখ, এমন ছবির মতো মুখ রোজই দেখি। ঐ নির্জন জ্যোৎস্নামাখা পথে প্রতিটি মুখ কেমন বিষাদভরা বেদনাক্ত। আজকাল খালি ঘুম পায়, মনেহয় থমথমে সব রাস্তাঘাট। প্রতিটি মুখ বড় অচেনা লাগে,কেউ কাউকে চেনেনা, প্রতিটি মুখে মুখোশ আঁটা। আগামী প্রজন্মের মুখগুলি বড় অপরিচিত লাগে । এই মানুষের মুখোশে, কেউ জোর করে আমায় জন্ম দিয়েছে,ইচ্ছার বিরুদ্ধে।
হাজার হাজার মুখের ভিড়ে, আমার ঘুম পায়। ক্রমশই বুঝতে পারছি, পরিচিত মুখ সব ফিরে গেছে। আমি এখন ঘুমিয়ে পড়ছি, আগামী দিন থেকে অনন্তকাল জেগে থাকতে হবে। আমার মুখে অনন্ত মুখ, মুখ ভর্তি মুখ - জেগে থাকে প্রতিটি মুখের অন্তরে।