জন্মযাত্রা কবি বাবলু গিরি মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.২.২০২১।
লক্ষ লক্ষ বছরের জন্ম যাত্রায় আমি এখন মানুষ নামক প্রাণী। একদিন পৃথিবীর অন্ধকার ঘরে শুয়েছিলাম, এবং ক্রমশ দেখি কোথাও কিছু শুরু হয়নি কিংবা শেষ, অথচ আমি হারিয়ে যাচ্ছি, ক্রমশ গায়ে আঁশ গজিয়ে উঠছে, কানকো তৈরী হচ্ছে, পাখনা - আর আমি মুখ দিয়ে নিশ্বাস নিচ্ছি। চপলাঙ্গ নৃত্যময়ী মাছ। আমি কি এবারে মৎস জন্ম নেবো। অথবা বৃক্ষ, আমার গা ক্রমশ শক্ত হয়ে আসছে, পাগুলো শেকড় হয়ে যাচ্ছে, আর জন্ম নিচ্ছে সহস্র হাত, সূর্যের দিকে গৌরাঙ্গের মতো জয়ধ্বনি করছি, আমার সহস্র হাতে ফল ধরে রেখেছি, এস নাও তোমরা রসালো সুমিষ্ট ফল ভক্ষণ করো, গর্ভবতী হও।
ঈশ্বরের আড্ডাখানায় কবি বাবলু গিরি মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.২.২০২১।
যেতে হবে,তারা সব অপেক্ষা করে আছে । বাল্মীকি,চানক্য,আর্যভট্ট,কালিদাস, প্লেটো,হেগেল,কেন্ট,সবাই অপেক্ষা করে আছে । বঙ্কিম,মাইকেল,রবীন্দ্রনাথ,নজরুল,শরৎ, মানিক,সমরেশ বসু, সবাই থাকবে ! ওহো ! সেকসপীয়র,কীটস,কাফকা,পিকাসো ! বাপরে বাপ ! সবাই অপেক্ষা করে আছে ! হেমিংওয়ে, জীবনান্দ,শক্তি,অন্নদা শংকর, সবাই অপেক্ষায়,আমি হাঁটছি, নতুন বই এর গন্ধের ভিতর দিয়ে, শব্দের রাস্তায় হাঁটছি,পৃথিবীর সব ভাষার ভিড় ঠেলে, লক্ষ লক্ষ পুস্তকের ভিড় ঠেলে ঠেলে হাঁটছি । ওরা সব অপেক্ষায়,আর আমি হাঁটছি। আমি হাঁটছি কলেজস্ট্রিটের অক্ষর পথে। আমি হাঁটছি সাহিত্য নগরীর অলি গলিতে । ওই দেখ কে যেন হোমার কে নিয়ে যাচ্ছে, কে যেন চতূর্বেদ নিয়ে হাঁটছে । এই তো এসে গেছি,সেই পবিত্র মেলায় । যেখানে সবাই অপেক্ষা করে আছে । ওই তো আনন্দের সোকেস থেকে আমায় দেখে হাসছেন জীবনানন্দ - বলছেন,এসেছো শব্দ পথিক ? ঐ তো বিশ্বভারতী থেকে রবীঠাকুর গান গাইছেন - "জাগিয়া উঠেছে প্রাণ., দেজ থেকে গাইছেন নজরুল, -চল চল চল.., আমি হাঁটছি, -সবাই অপেক্ষা করে আছে, আহা পৃথিবীর সব লেখক শিল্পী কলেজ্স্ট্রিটের অক্ষর মেলায় মৌন বসে আছে, আমার অপেক্ষায়। বলছে- এসো শব্দ পথিক,আমাদের পাশে মৌন হও। আমি হাঁটছি,শুধু হাঁটছি -শব্দপথে হাঁটছি। তারপর আজ শনিবার - বসে গেলাম অক্ষর কোলাহলে, - ঈশ্বরের আড্ডাখানায়, কফিহাউসে!!!
পৃথিবীর পান্ডূলিপি কবি বাবলু গিরি মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.২.২০২১।
মোহময় সৌন্দর্যের আবেশে জড়িয়ে গেলাম, কেমন প্রেম ঘিরে ধরলো চারিদিকে, পাফিন পাখির মতো -। পৃথিবীর মাটিতে পোঁতা আছে আমারই - চুরাশি লক্ষ মৃতদেহ ও তাহাদের প্রেম । ছেনি হাতুড়ি দিয়ে জীবন গড়তে গড়তে নিজের ছায়াকে ভেবেছি অহংকারী। পৃথিবীর ধ্বংসযজ্ঞে প্রতিটি মানুষের মতো অপরাধি আমি।
এইভাবে আমার শরীরেই ব্রহ্মান্ড পরিক্রমা, এ এক মোহময় আশ্চর্য সৌন্দর্য, ভোরের কুয়াশার মতো জাপটে ধরলো । কেমন মৃত্যু মুখর নৈশঃব্দ্য পৃথিবী আড়ি করে আছে অভিমানে-। পৃথিবীর প্রতিটি অত্যাচারি আজ গৃহবন্দী । কোনো খুন, ধর্ষণ, অপরাধ নথিভুক্ত হয়নি । আকাশে পাখিরা গুঁড়ো গুঁড়ো সোনা মাখছে। অবনি আসছে, আসছে অবনি, ফিরছে নিজের ঘরে ।
চুরাশি লক্ষ মৃত্যু দেখে দেখে, এ জনমে - আমি কবিতার রোগগ্রস্ত হলাম । দেখলাম আদিমকাল থেকে পৃথিবীর প্রতিটি পদার্থে আশ্চর্য পান্ডুলিপি ছাপা আছে ।
পরমহংস বৃক্ষ কবি বাবলু গিরি মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.২.২০২১।
গ্রামের বাগান, কে যেন নাম রেখেছিলো - জীবন বাগান । দিদিমা রোজ গাছটাকে বকা দিত। সহস্র ডানা মেলে রোদ আটকে দিয়েছিলো গাছটা । একটা বাঁসের কঞ্চি নিয়ে, দিদিমা বলতো- মুখপোড়া,বাগানটাকে ঢেকে দিচ্ছিস ওলাউঠো বিশাল শিশুগাছ ! সন্ধেবেলায় গা ছমছম করত। দিদিমা বলতো ব্রহ্মদত্যি আর শাঁকচুন্নি আছে, আমরা গল্প শুনতাম, দেখবি এবার থেকে বাগানের উল্টোদিকে বাড়বে লক্ষী গাছ ! ওই সব টেনে নেয় ।
একদিন কলকাতা থেকে দাদা এলো, আমাদের পাকাবাড়ি হবে, গাছ কাটতে হবে দরজা জানালা,কড়ি কাঠ হবে । দিদিমার সেকি কান্না, গাছটার কাছে গিয়ে বলে, বেশ হয়েছে, কতকাল বলেছি বেশি বাড় বাড়ন্ত ভালো নয়, বাগানের খেয়ে খেয়ে হৃষ্টপুষ্ট !
সারাদিন গাছটাকে যন্ত্রণা দিয়ে জবাই করলো কাটা হলো ডানা,করাতের হিংস্র অট্টহাসি । সহস্র বাহু তুলে রোজ নৃত্য করত, পাতাগুলো -ঝিরি ঝিরি - ভৈরবী কখনো বাগেশ্রী গাইতো । এখন মাটিতে ঝিমিয়ে পড়ছে মৃত্যুর পথে । দিদিমা কাঁদছিল, মাটির উঠোনে মাথা ঠুকছিলো। ওদের সংসার ভেসে গেলো । কাদের সংসার ? দুটো পেঁচার,দশটা শালিখের,কাকের,অনেক পক্ষী,কাঠ বিড়ালী ... কতো পিঁপড়ে,কতো প্রজাপতি ঘুমাতো । ওরে ওদের সদ্যজাত বাচ্চাগুলোর কি হবে ? সর্বনাশ সর্বনাশ হয়ে গেলো রে ! আমি মরে গেলে কাঠদিয়ে পোড়াস না, চুল্লিতে পোড়াস,বা কবর দিস, ওরে গাছই জীবন ! এখন বুঝি দিদিমার গাছের সঙ্গে কথা, গাছের গায়ে হাত বোলানো,গাছকে শাসন করা । আজ দিদিমা নেই,হযতো বৃক্ষ হয়ে গেছে । হে পরমহংস বৃক্ষ - বুঝিলাম এ বাগানের নাম কেন "জীবন বাগান" ।
আলো জ্বললেই তোড়জোড় (লোডসেডিং নিয়ে কবিতা) কবি বাবলু গিরি রচনাকাল ১৯৭৪ নাগাদ। কবিতাটি, অজিত দেব-এর প্রকাশিত "এবং এবং কবিতা" নামক কাব্য-সংকলনের জন্য, তাঁরই অনুরোধে, তখনকার কলকাতার মানুষের অতি পরিচিত সাথী, “লোড-শেডিং” নিয়ে লেখা। কবির এই কবিতাটি সেই সময়কার কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য একটি আলো-আঁধারী দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা! মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.২.২০২১।
যখনিই আলো নিভে যায়- ঘরের মধ্যে অন্ধকার আসে নিঃশব্দে। অনুভব করি আমি একা। কোনো ঘর নেই- দরোজা নেই- আছে অনন্ত নীলিমা। পরমাণু থেকে অণু -ব্রহ্মান্ড যেভাবে তুমি লীলাবতী-সমস্ত অনুভবে - মনে হয় আমি নেই। আমি তাদের মধ্যে ঢুকে পড়ছি নীলিমার এক সংসার থেকে - আর এক সংসারে। সেখানে আমি অনেক, আমি একা।
যখনই আসে লোডশেডিং -নিঃশব্দে। পৃথিবীটা নিমেষে নিভে যায়। আমি অনুভব করি - এক পৃথিবী থেকে আর এক পৃথিবীতে - ছুটে চলেছি। আলো জ্বললেই দেখি সেই ছুটে চলার তোড়জোড়। আমরা সব পরমাণু থেকে -অণু- জগতে। জগৎ থেকে ব্রহ্মলোকে। নীলিমাতে, ছুটে চলেছি।
যখনই আলো নিভে যায়। অনুভব করি আমি একা - কোনো ঘর নেই- দরোজা নেই- আছে অনন্ত নীলিমা।
আজ বয়সের গভীরতায় কলতানের স্থবিরতা “আমরা সব সফটওয়্যার মাখা শরীর” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। কবি বাবলু গিরি মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.২.২০২১।
. ( ১ )
আজ বয়সের গভীরতায় কলতানের স্থবিরতা আমার বক্ষদেশ পৃথিবীর হৃদয় হয়ে উঠুক- প্রেমের কলতান বেজে উঠুক শান্তির ছন্দে । এই শরীর ব্রহ্মান্ডের প্রতিটি পদার্থে, সহস্র বাহুতে আল্পনা আাঁকা পত্রে,বিষ বায়ু গিলে, তোমাদের প্রাণবায়ু নৈবেদ্য দিয়েছি । এই আমি বৃক্ষ -ওষুধি,ফল ও শস্য হলাম ।
এখন আমায় জ্বালিও না আমি এক মনুষ্য শরীর নিয়ে হিংসা মেখে আছি । পরে আছি আমার প্রিয় জিন্সের প্যান্ট আর চোখে নীল কাঁচের গগলস্ । আমি এখন অগ্নিকেও চোখ রাঙাই, আমার মিশাইল ঘরের চাকরের মতো ।
কত পথ রচনা করেছ ? সব পথ ফিরে আসে সব পথ কোথায় যেন থেমে যায় । পিছন ফিরে দেখ যে সভ্যতা নির্মণ করেছিলে কখনো ছিলোনা, কিংবা - ঐভাবে সেজে যাবে কল্প সময়ে । আসলে এ সবই এক নিদারুণ ছলনা কিংবা অবট মায়া । আমরা এক একটা জৈবিক সফটওয়্যার মাখা শরীর। যেমন রমনীর আর নৃমণির শরীর,এপীঠ ওপীঠ যেমন মানুষের শরীরে যেসব সফটওয়্যার গেঁথে রেখেছ, তেমনি বৃক্ষের শরীরে ক্রোমোজমের সফটওয়্যার বৃক্ষ নামে । শুধু এই নাম রূপের লক্ষ লক্ষ হার্ডওয়ারের শরীরে, জৈবিক সফটওয়্যার,মাখিয়ে রেখেছ ।
এইসব সংকেত আর ক্রোমোজমের সফটওয়্যার খুজে নেবে মানুষের মস্তিষ্ক - আর সেদিনই এক ঈশ্বরের মহা কারখানা তৈরী করে ফেলবে তোমার সন্তান ।
আমি সেইসব ভাষা শব্দ অক্ষর ও সংকেত খুঁজে যাই, হৃদয়ের ভালোবাসা হয়ে।
এইভাবে সবকিছু ঘেঁটেঘুঁটে চলে যাবো “আমরা সব সফটওয়্যার মাখা শরীর” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। কবি বাবলু গিরি মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.২.২০২১।
. (২)
এইভাবে সবকিছু ঘেঁটেঘুঁটে চলে যাবো । সবকিছু চেখেমেখে চটকে ও ঘ্রাণে চলে যাবো ফেলে যাবো শরীরের শিকড় ও বাকল । জীবনের স্বাদ আহ্লাদ সব রেখে যাবো সযতনে এইসব সময় ফুরিয়ে যাবে কুয়াশার মতো । ঐশ্চর্য সৌন্দর্য প্রবাহমান উজ্জ্বলতা ঘাসের এমব্রয়ডারি করা পৃথিবীর কারুকাজ রক্তাক্ত মাটি, নগরীর কোলাহল,মিশাইল যুদ্ধ যাবতীয় আয়োজন - শিল্পকলা সাজায়ে সাজায়ে ফিরে যাবো নির্মাণের ঘরে । এইসব জৈবিক সফটওয়্যার ব্রহ্মান্ডমাখা খ-মন্ডলে, পৃথিবীতে, রোপণ করে যাবো ।
নির্জনতা ও অশ্লীল কোলাহল, আর অক্ষরময় বিন্যাসে যে চরিত্র জেগে ওঠে সময়ের সাথে, সময় ফুরায় না,লুকিয়ে পড়ে । শরীরের ঘাম ও রক্তের লবনাক্ত স্বাদ পৃথিবী রক্তাক্ত হবে জানি, কেননা সমুদ্রে ও লবনের স্বাদ,মাটিতেও - এইভাবে রৌদ্র বৃষ্টি ও ঊল্কাপাতের জীবনে শব্দের বাগানে ফুলের চেয়েও সুন্দর হয়ে ফুটে উঠি কবিতা হয়ে । ইতিহাস জানে জৈবিক সফটওয়্যার এর এক একটা চরিত্র একইভাবে কেঁদে গেছে । একইভাবে তিলে তিলে এগিয়ে গেছে ধ্বংসের দিকে । বিড়াল কিংবা কুকুর কিংবা প্রতিটি চরিত্র একেকটা নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের গুণে গুণী । শুধু তার বিরুদ্ধে তোমার যাত্রা অপরাধ হয়ে যাবে । এইভাবে জীবনকে ঘেঁটে চলি পর্যেষণে - আবেগে উৎসবে হিংসা ও যন্ত্রণায় সবকিছু ঘেঁটেঘুঁটে চলে যাবো, বিছিয়ে রেখে যাবো সফটওয়্যারের জড় ও জৈবিক পদার্থগুলি - মাটি জল উত্তাপ,হাড় মাংস রক্ত, হিংসা কামনা প্রেম ও বোধ । শুধু আমার কবিতা কোনো সফটওয়্যার ছাড়াই নির্মাণ করে যাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ।
এইসব সফটওয়ারের শরীরে “আমরা সব সফটওয়্যার মাখা শরীর” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। কবি বাবলু গিরি মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.২.২০২১।
. (৭)
এইসব সফটওয়ারের শরীরে জৈবিক কোডিং, আর তার থেকেই তোমার বংশানুক্রম পাল্টে যেতে পারে । আমি সেই সংকেত খুঁজে যাই, ধাপে ধাপে এলগরিদম কাজ করে চলে - পৃথিবীর সব বস্তু, এবং তারাই ক্রমশ জীবন তৈরী করে ! এই জীবনের সংকেত এক মহা ও মহত্তম জৈবিক কম্পিউটার থেকে প্রবাহিত । সেই মহামহিম, মহা প্রোগ্রামার-এই রক্ত রস বীর্য বীজ সবকিছুর সংকেত সাজাচ্ছেন । সেই মহামহিমের সাথে আমি ও তুমি যুক্ত হয়ে আছি । হে ঈশ্বর আমি বুঝেছি আমার প্রতিটি শব্দ তুমি পড়ে নিচ্ছ । প্রতিটি যুদ্ধ তুমি দেখে নিচ্ছ, প্রতিটি গোপন কাম, দেখে নিচ্ছ আমার ঘুম,স্বপ্ন,আমার লোভ
শরীর এক জটিল জৈবিক কম্পিউটার “আমরা সব সফটওয়্যার মাখা শরীর” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। কবি বাবলু গিরি মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.২.২০২১।
. (৬)
শরীর এক জটিল জৈবিক কম্পিউটার । এক মহা পরীক্ষাগার,বিক্রিয়া তত্ত্বের জটিল গনিতের ক্যালকুলেটর । মহা গতিশীল চৈতন্যের এক রক্ত রস ও মাংসের অক্ষ রসায়ন । এই শরীরেই ব্রহ্মান্ডের সমস্ত তারকাদের রশ্মির আনাগোনা । নক্ষত্র চন্দ্র সূর্যের জটিল জ্যোতিষ অঙ্ক । শরীরে উত্তাপে,নাড়ি ও হৃদস্পন্দনের জটিল অঙ্ক । সপ্তর্ষিমন্ডলের মতো পরিজন পরিবেষ্টিত আমরা, বংশপরিচয়ের দীর্ঘ গানিতিক ইতিহাস । কোন অংকে সূর্যকে খাবে বলে,গাছ সবুজ হয়ে ওঠে । পিতৃকুল মাতৃকুল, কার কতটা বংশগত হয়ে জন্ম নেবো, লক্ষ বছর ধরে রোগ,চলন বলন । ভালোবাসার ও গানিতিক সংকেত প্রোগ্রামিং করা আছে । এইসব অঙ্ক কষে এমন রূপবতী রমনী নির্মাণ করেছ, জৈবিক অ্যানিমেশনের সফটওয়্যার । মধ্যাকর্ষণের মতো কামের প্রেরণাময়ী রমণী ।
এও এক মহা গনিত, ধনাত্মক ও ঋণাত্বক কাম ও কামিনী, নক্ষত্র তারকা - যোনি লিঙ্গ, সত্যম শিবম সুন্দরম।
ব্রহ্মান্ডের সমস্ত রঙ আমায় মাখিয়ে দাও “আমরা সব সফটওয়্যার মাখা শরীর” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। কবি বাবলু গিরি মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.২.২০২১।
. (৩০)
ব্রহ্মান্ডের সমস্ত রঙ আমায় মাখিয়ে দাও, অবগাহন করাও পৃথিবীর রঙিন সৌন্দর্যে। চন্দ্রমার রঙে, রক্তের রঙে মাখাও মাখাও, প্রেমের রঙে ভাসাও,আবির কুমকুম মাখাও ডিজিটাল রঙের চালচিত্রে। যেমন করে একদিন তোমার মস্তিষ্ক চৈতন্যের সেন্সর দিয়ে সবকিছু কন্ট্রোল করে যাবে। ধীরে ধীরে ঈশ্বরের দেওয়া অটোমেশনের সফটওয়্যার তোমাকে ঈশ্বরকে স্পর্শ করার শক্তি দেবে। তোমার সেন্সর দিয়ে তুমি বুঝে নেবে প্রমিকের মনের কথা । বুঝে নেবে শক্রুদের অবস্থান। ঘরের বাইরে থেকেও তুমি ঘরের সবকিছু কন্ট্রোল করার ক্ষমতা অর্জন করে নেবে। ওইভাবে আমি "ওয়ান জি" থেকে "ফাইব জি" সহস্র জি কিংবা কোর টু থেকে আই টেন, হানড্রেট টেন, আরও দ্রুত- তারপর কোয়ান্টাম জগৎ পেরিয়ে,এক জ্যোর্তিময় আলো আর মহা অন্ধকার গহ্বরের পর আমরা সব একত্রে মিলিত হবো ঈশ্বরের জন্মময় শরীরে।