কবি বাবলু গিরি - জন্মগ্রহণ করেন কলকাতায়।
তাঁদের পৈতৃক নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের অধুনা পূর্ব
মেদিনীপুর জেলার চন্দনপুর গ্রামে। পিতা হিমাংশু
শেখর গিরি, মাতা শৈলবালা দেবী। অল্প বয়সে পিতা
গৌড়িয় বৈষ্ণব সন্ন্যাসী হয়ে যান।
কবি বাবলু গিরির শিক্ষা জীবন - পাতার উপরে . . .
তিনি স্কুলজীবন শেষ করেন কলকাতার মির্জাপুর স্ট্রীটে অবস্থিত মিত্র ইনস্টিটিউট মেইন থেকে। এরপর
বিজ্ঞানে স্নাতক হন কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজ (সান্ধ্য) থেকে। কলকাতায় কলেজে পড়তে পড়তেই তিনি
লেখালেখি শুরু করেন ৭০ এর দশক থেকে। কলেজ জীবন থেকেই বহু পত্র পত্রিকায় লিখে আসছেন।
কবি বাবলু গিরির কর্ম জীবন - পাতার উপরে . . .
পিতার সন্ন্যাস নিয়ে চলে যাওয়ার পরে তাঁর উপরেই সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে। জীবনে বহু চড়াই
উৎরাই এর মধ্য দিয়ে চরৈবেতির মতো অনুসন্ধানের কঠিন বোধি যুদ্ধে নিজেকে জারিত করেছেন। কলেজ
জীবন থেকেই তাঁকে কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়। অর্থ রোজগারের জন্য, বিভিন্ন ব্যবসায়ের সাথে
তিনি যুক্ত হন এবং বর্তমানে তিনি মুম্বাই শহরে “যাত্রাওয়ার্ল্ড ট্যুরিসম্” নামের একটি সুপ্রচিষ্ঠিত ভ্রমণ
সংস্থার কর্ণধার। তাঁর প্রতিষ্ঠানের পোর্টালে যেতে এখানে ক্লিক করুন www.yatraworldtourism.com ।
কবি বাবলু গিরির কবিতা ও রচনা সম্ভার - পাতার উপরে . . .
কলেজে পাঠরত অবস্থাতেই তিনি, কাজী নজরুল ইসলাম-এঁর প্রতিষ্ঠিত "ছায়ানট" পত্রিকার সম্পাদনা
করেছেন। “সিনে ক্ল্যাপস্টিক” নামে এক বিনোদন পত্রিকার সহ সম্পাদনাও করেছেন। পরে অর্থ
রোজগারের জন্য, বিভিন্ন ব্যবসায়ের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য, দীর্ঘদিন লেখালেখির থেকে নিজেকে প্রচারের
আড়ালে রেখেছেন। প্রায় তিরিশ বছর পরে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ " পর্যাষণ" এবং পরে "ব্রহ্মান্ড শব্দ সরসী"
বোরোয় দেজ পাবলিকেশন থেকে। এ ছাড়া তাঁর সম্পাদনায় সাহিত্য ও কাব্যগ্রন্থ "শব্দের পৃথিবী" ও
"সাহিত্যের পৃথিবী" পরম্পরা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া একটা চটি প্রবন্ধের বই "ভারতবর্ষ
থেকে সমগ্র বিশ্বে সভ্যতা ছড়িয়েছিলো" প্রকাশিত হয়েছে।
তাঁর প্রকাশিতব্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “ঈশ্বরের মহাফেজখানা", “ক্ষুধা মৃত্যু ও প্রেম” এবং “আমরা সব
সফটওয়্যার মাখা শরীর”।
বাবলু গিরি একটু ভিন্ন স্বাদের কবি জীবন বোধের গভীর অনুসন্ধান তার প্রধান বিষয়বস্তু । এখন মুম্বাইতে
ব্যবসার সাথে সাথে সাহিত্যের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন।
কবি বাবলু গিরির প্রাপ্ত সম্মাননা - পাতার উপরে . . .
কবি বাবলু গিরির প্রাপ্ত পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে "জয়দেব পদ্মাবতী" পুরস্কার। এছাড়া তিনি বহু সাংস্কৃতিক
সংস্থা থেকে সম্মানিত হয়েছেন।
কবি বাবলু গিরির স্মৃতিচারণা - পাতার উপরে . . .
কবি তাঁর স্মৃতিচারণায় লিখেছেন যে তাঁর কলেজ জীবনে বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকদের সঙ্গে তাঁর কেমন
পরিচয় ও যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব ছিল। তাঁদে অনেকেই আজ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারিতে বিরাজ করছেন
। কবি বাবলু গিরি জীবিকার চাপে পড়ে কলকাতা ছেড়ে দীর্ঘকাল প্রবাসে, মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন। তাঁকে
তখন চলে যেতে না হলে, সম্ভবত তাঁকেও আমরা আজ সেই সারিতেই দেখতে পেতাম। তিনি লিখেছেন . . .
“তখন আমি হয়তো কলেজে পড়ি, সেই সময় আমি একটা বিনোদন পত্রিকার সহ সম্পাদক "সিনে
ক্ল্যাপস্টিক" নামের। “আনন্দলোক” ইত্যাদি নেই শধু “উল্টোরথ” ছিলো। সেই সময় আমি সিনেমার শিল্পী
দিপঙ্কর দে-এঁর ইন্টারভিউ করেছি, আরো অনেকের ইন্টারভিউ করেছি, সাথে সাথে গল্প ও কবিতা লিখে
চলেছি।
ঋষিণ দার ( সাহিত্যিক ঋষিণ মিত্র ) বাড়িতে কবিতা পাঠ, শক্তি’দার সঙ্গে (কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়),
খালাসিতলায় বাংলা মদ ঘুগনি দিয়ে, ইত্যাদি জমিয়ে চলছে।
ঐ সময় অজিত দেব রোজই কফি হাউসে আসতেন। আমিও তখন কফি হাউসের এক বিশেষ আড্ডাবাজ।
আমাদের টেবিলটাও ছিলো চাঁদের হাটের মতো, উৎপল'দা (উৎপল কুমার বসু), পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলাল, স্বপন
বন্দ্যোপাধ্যায়, রাঘব বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবাঞ্জন চক্রবর্তী, মৃদুল দাশগুপ্ত, সোমক দাস, শ্যামল কান্তি দাশ,
সুশীল পাঁজা, বাবু (সরসিজ), সন্দিপন'দা, (সন্দিপন চট্টোপাধ্যায়), কখনো কখনো শক্তি'দা ও আসতেন আরও
অনেকে অনেকে আসতেন সবার নাম দিলে অনেক বৃহৎ লিস্ট হয়ে যাবে। যাদের মধ্যে অনেকে বিখ্যাত
তখনো হয়ে ওঠেনি আবার অনেকে মধ্য গগনে জ্বলজ্বলে।
সেই সময় অজিত দেব "এবং এবং কবিতা" বলে একটা কবিতার বই বার করতে উদ্যোগ হলো। আমাকে
হঠাৎ একদিন বলল, "গিরি তুমি একটা লোডশেডিংয়ের উপরে কবিতা লিখতে পারবে?” আমি বললাম
চেষ্টা করে দেখবো। পরের দিনই কবিতাটা তুলে দিয়েছিলাম অজিত'দার হাতে। আমার কবিতা
ছাপিয়েছিলেন অজিত বাবু। পরে খুব দুঃখ পেয়েছিলাম, যখন শুনলাম অজিত'দার ক্যান্সার, খুব দুঃখ
পেয়েছিলাম।
তারপর আমি কর্ম সংস্থানের জন্য জীবন প্রদক্ষিণ করছিলাম, তাই প্রায় তিরিশ বছর, লেখালেখি অন্তরালে
চালিয়ে গেছি প্রকাশ্যে আসিনি। তারপর ২০১৬ সালে আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ পায়। এখন পর্যন্ত
আমার পাঁচটি বই বেরিয়েছে। নতুনভাবে যখন লেখালেখির জগতে ঢুকতে শুরু করলাম, তখন দেখি শ্যামল
কান্তি দাশ, সোমক দাস, পার্থপ্রতীম কাঞ্জিলাল, ইত্যাদি ইত্যদি'রা মধ্যগগনে জ্বলজ্বল করছে।
আজ এই সব স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে এই লকডাউনের দিনে। প্রায় চল্লিশ বছর আগেকার পত্রিকা দেখে কেন
জানিনা চোখ দিয়ে জল চলে এলো।”