কবি বসন্ত হালদারের কবিতা
*
খোকন সোনা
কবি বসন্ত হালদার

গাছ দেখো ফুল দেখো
পাখি কত উড়ছে
ছোট্ট বড় নানা রকম
সবুজে মাঝ খানে।
মৃদু সুরে গান গায়
চারি দিক গুঞ্জন
উড়ে যায় পাখি গুলি
কত রঙ মেখেছে।
দূর হতে দেখো শুধু
ফুল গুলো হাসছে
আধো আধো দোলা দিয়ে
তোমাকে সেই ডাকছে।
ঝুলে থাকা পাতা গুলো
সাড়া দেয় বাতাসে
আদর দিয়ে জড়িয়ে নেব
কাছে পেলে তোমাকে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মায়ের ছোঁয়া
কবি বসন্ত হালদার

হাতটা কাঁপচ্ছে এদিক থেকে ওদিক
পাশে মায়ের জায়গা
সবে এক বছর বাচ্চা খুঁজচ্ছে
মাকে ঘুমের ঘোরে
একটু ছোয়া, উত্তাপ মায়ের বুকের
গাঢ়তা বাড়বে চোখে
মায়ের আদর কমবে কিছুটা কান্না
থামবে হয়তো বায়না।
হাতটা বাড়াচ্ছে এদিক থেকে ওদিক
পাশে মায়ের জায়গা
মিটি মিটি চোখ অনেকক্ষণ তাকাচ্ছে
এপাশ থেকে ওপাশ
কান্নায় চোখে জল তৃপ্তি হারিয়েছে
ঘুমের গভীর সুখ
পেতে চায় শীতল ছায়ায় ঘেরা
মায়ের হাতে স্পর্শ।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
প্রেরণা
কবি বসন্ত হালদার

পথ চেয়ে আছি গো বসে
প্রেরণা, তোমার প্রেরণা
হে দেবী হে সাথী
অঙ্গীকার সর্বত্র‌ই অঙ্গীকার।
মোহজালে লিপ্ত প্রতিকুল
দিগন্ত বিস্তার এর প্রসার
ক্ষণেকে উত্তাল এই অরণ‍্য
অন্ধকার আবছা অন্ধকার।
হীনতায় অদম‍্য সহযোগ
অভিমতে বহু অবক্ষয়
তিমির আরও তিমিরে
সবুজে এসেছিল বিপর্যয়।
উঠেছিল আলোর কয়েক বিন্দু
ফোঁটা, ফোঁটা ঘন অরণ‍্যে
নিঃস্তব্ধে হাত বাড়িয়েছিল বিধাতা
অসাড় শরীরে করেছিল প্রাণদান।
পদে পদে এসেছিল প্রলয়ের ঝপট
রেখেছিল দাগ চেতনার গভীরে
দীর্ঘ পথে দিয়েছিল সঞ্জীবনী
কাঁপানো হৃদয়ে রেখেছিল মাথায় হাত।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মননে
কবি বসন্ত হালদার

উঠেছিল কালো ধোঁয়ার কুন্ডলি
.        গন্ধ, আকাশে বারুদের গন্ধ
একাকী রক্ষ পথে রক্ষ বেশে
.        উঠেছিল প্রবল আতঙ্কের কলধ্বনি।
রোষ, জনের রোষ ক্ষিপ্ত মনভাবে
.        করেছিল আখাত অগ্রগতির পথে
চোরাপথে জেগেছিল বাহুবল
.        জীর্নপথে শূন্যমন বড়‌ই অসহায়।
ঘিরে ধরা চক্রব‍্যীহ চক্রান্তে
.        আঁতকে উঠা শিহরণ জেগেছিল মননে
দিয়েছিল হাত বাড়ায়ে রক্ষার্থে
.        প্রবল জিদে সম্পর্কের গরিমা তুচ্ছ করে।
প্রতিহত, যুক্তির তাবড় কৌশলে
.        নত শির যত বিকৃত মনষ‍্যত্বের
লালা ঝড়া তীক্ষ্ম তাদের চোখ
.        হানিয়েছিল তীব্র তারা খোভ।
প্রতিপলকে করেছিল আক্রমণ
.        ভুলে গিয়েছিল আপন আত্মমার টান
নিষ্ঠুরতার রেখেছে পূর্ণ নিদর্শন
.        মানবিকতার হয়েছিল চরম নিপীড়ন।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হ‍্যাংলা বুড়ি
কবি বসন্ত হালদার

হাঁচ্ছি ফেলে শান্তি পেলো
হ‍্যাংলা বুড়ি এগো
খুন্তি নিয়ে আসবে তেড়ে
হঠাৎ রেগে গিয়ে
হাতের কাছে পরন মত
নজর পেলে তবে
ইচ্ছে যত গায়ের জোরে
খুন্তি করে মারে
আজকে তাই হ‍্যাংলা বুড়ির
দাপট গেছে কমে
বয়সে তার বারো আনা
রাগের চোটে গেছে
আত্মীয় সব পাড়া পড়সি
আপন কাছের জন
ইচ্ছা থাকলে যায়ন কাছে
খিঁজতে উঠান তার।
গায়ের শক্তি নেহাত কম
হ‍্যাংলা বুড়ির আজ
দম ফাটানো শুকনো কাশি
বিকট শব্দ হয়
ওষুধ পত্র কিনে দিলেও
নেয়না কিছু আর
উলটে তাদের গালি গালাজ
সভাব হচ্ছে তার
সময় বুঝে আত্মীয় সব
খবর নিতে আসে
কেমন আছো পদ্মা মাসি
কাছে এসে বসে
হঠাৎ কখন রেগে গিয়ে
মুখ বেঁকিয়ে উঠে
কেমন করে পদ্মা বতী
হ‍্যাংলা বুড়ি হচ্ছে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
শৈশবে
কবি বসন্ত হালদার

দুরন্ত সেই চঞ্চল‌ও পায়ে পায়ে
নিমেষে ভেঙে দেয় মনের বাসনা
সহস্র ইচ্ছে গুলো ধুলায় মিশায়
যতবার যায় তাঁর কাছে আপন হতে।
আঙুলের ফাঁকে নরম তুলতুলে হাত
অন্তরে তৃপ্তি পায় , দু'জনে হাঁটি পথ
ছোট্ট শিশু ন‌ই যে সেই অদম‍্য ইচ্ছা বুকে
বলে আমি আগে তুমি এস পিছে পিছে।
ইস্কুলের পথে রোজ সকালে সূর্য উঠে
পড়ার বিষয় বললে লেখাপড়া বেকার কাজ
পড়াতে গিয়ে হতদম‍্য পড়বে না সেই ব‌ই দেখে
শুনবে শুধু একমনে খেয়ালে যদি আরাম থাকে।
খাবার সময় নিত‍্যদিনে নিত‍্যসঙ্গী অনীহা
সযত্নে খাবার দিলে তবু লাগে আর্তনাদ
টিভির রিমোর্ড মুষ্ঠিবদ্ধ সম্মুখে যে রাজত্ব
ইচ্ছে মত দেখবে শুধু কার্টুন খেলার দৌরাত্ব।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বৃষ্টির ফোঁটা
কবি বসন্ত হালদার

একটার পর একটা ফোঁটা ক্রমাগত অবিরত
খড়ের ছাওয়ানো চালা থেকে বৃষ্টি পড়ে।
শুভ্র উজ্জ্বল আনন্দ অবিরল চিত্তে জাগে
টুপ, টুপ সুন্দর নিদর্শন পুলকিত ধারা।
জাগে বিস্ময়, ক্ষণেকের আগে ভয়াবহ ডঙ্কা
গুরু গুরু শব্দ আকাশ টা কালো মেঘে ছাওয়া।
উঠেছিল ঝড় এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে
ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা, নষ্ট করবার চেষ্টা।
বৃষ্টির সোঁ সোঁ শব্দ যখন পথিক দিশেহারা
যখন পাখিরা উদভ্রান্ত আশ্রয়ের খোঁজে।
বৃষ্টির ঝপটা, বৃষ্টির দাপট, শূন্য হয় রাস্তা
বিদ‍্যুতের ঝলকানি ক্রমাগত রেখা মেঘেদের গর্জন।
বৃষ্টির ধারা ধুয়ে দেয় নরম মাটির বুক
ধুয়ে দেয় পাকা সোনালী রঙের ধানগাছ।
হতাশা উদ্বিগ্ন মাথায় হাত চাষী ভাই
তিলে তিলে জমে ছিল বিন্দু বিন্দু শরীর ঘাম।
তবুও বৃষ্টির ফোঁটা টুপ , টুপ খড়ের ছাওয়ানো চাল
শীতল বাতাস মনোরম প্রকৃতির হাল।
স্বচ্ছ, উজ্জ্বল কচি গাছের পাতা
ক্রমাগত অবিরত গড়িয়ে পড়ে বৃষ্টির ফোঁটা।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কবিতা তোমার কাছে
কবি বসন্ত হালদার

কবিতা তোমার কাছে কিছু বলার আছে
নীল খাম লেখা ভর্তি চিঠি পাঠালাম,
পড়ে নি‌ও আমাদের ও আমাদের কিছু কথা,,,,,
সমাজ পরিবর্তনশীল এটাই ধারা নতুন দিশায়
আত্ম সম্পর্ক গুলি চির ধরে শব্দ ছাড়াই
পরিবর্তন, রাত জাগা পাখি গুলো তবুও ডাকে
চুলচেরা বিশ্লেষণ লাভ কি? দু মুঠো অন্নের জন্য
শ'এ শ'এ নাম লেখায় বেকার ভাতার এক্সচেঞ্জে
হামাগুড়ি দৌড়াদড়ি ঘোরাঘুরি পকেট ফাঁকা
আর ন‌য় ক্ষ‍্যাপা নিজের ব‍্যবসাটা এবার দ‍্যাখ্
দ‍্যাখ পাবলিক কি চাই ? দ‍্যাখ পাবলিক কি পায় ?
কিসের তরে ঝান্ডা হাতে সাম‍্যের গান গায়।
কবিতা, জীবন বড়ো কাঁদায় সময়ের খাঁজে খাঁজে
কখনো ক্লান্ত শরীর , পথের উদভ্রান্ত ঘুর্ণিপাকে
কখনো এলোকেশী প্রেয়সীর নরম কোলে
তবু আমরা জানি আমাদের অনেক কাছের
স্বপ্ন গুলো ধরার জন্য এলোমেলো দৌড়ি
আর একটু , সম্মুখে ঐ ভয়ের পরাজয়
দুই হস্তে বিলিয়ে দেবো মুক্ত গুলো সব।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অভিযান
কবি বসন্ত হালদার

ভয় লাগে লিখতে ঐ
.        রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে
কান দুটো ফুটো বুদ্ধি
.        বার হয়ে আসে,
হাতটি আমার শরীরে অঙ্গ
.        মেদ জমেছে গায়ে
সজাগ শরীর গড়বে বলে
.        নিত্য অভিযান চলে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
শ‍্যামবর্ণা
কবি বসন্ত হালদার
রচনা ৩১-৩-২০২০

উদাসীনা শ‍্যামবর্ণা দেখিতে কমল
ছিপছিপে দেহখানি চলনে মন্থর।
উজ্জ্বল রেশমী শাড়ি শোভিত কানের
দুই চক্ষু কারুকার্য মনন শীতল।
এলিয়ে জড়িয়ে আছে শুকানো কুন্তল
মৃদু হাসি টোল পড়ে গালের উপর।
সোনার গয়না অঙ্গে সাজানো কোমর
নূপুরের ধ্বনি উঠে তরঙ্গ উত্তাল।
নিপুনা বাক‍্যের শক্তি হৃদয় জুড়ায়
পরম তৃপ্তি অর্জন আপন স্বভাব।
প্রবল বাধার পথে জাগায় বিস্ময়
কর্ম গুনে প্রজ্বলিত এড়িয়ে বৈভব।
শিশুমনা আচরণ দৃষ্টান্ত উদয়
সর্বদাই বিদ‍্যমান নিজস্ব প্রভাব।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর