ঐত আমার বর এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য “দাদা”-র ১ম অঙ্ক ৫ম দৃশ্যে রাধার গীত।
ঐত আমার বর! বনমালী বংশী ধারী শ্যাম নটবর। সে যে আমার. আঁচল ধরা, সদা অভিমানে ভরা, আমি যে তার নয়ন তারা, আর সব আমার পর॥ একটু যদি যাই আড়ালে, বুক ভাসে তার নয়ন জলে, এমনি প্রেমের পাগল, নিয়ে আমি করি ঘর॥
সে যে আমার প্রাণের হাসি কবি বিধুভূষণ বসু এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য “দাদা”-র ১ম অঙ্ক ৫ম দৃশ্যে রাধার গীত।
সে যে আমার প্রাণের হাসি। তারই হাওয়ায় হিয়ার কুপ্গে ফোটে পুম্পরাশি। একলা পথে আঁধার রেতে তারই সনে দেখা, তারই সনে এক সাথে এক গাছ তলাতে থাকা । সেই দিনেতে তারই লনে প্রাণ বেধেছে ফামী ॥ আধার ঘরে এক দুর্দিনে অল্লো নাক বাতি ভরাবাদল মেঘের কৌদল কেউ ছিল না সাথী। কোথা হতে ভাঙ্গা দীপটা সে জেলে দিল আসি ॥ সে যে আমার প্রাণের হাসি ।
এ যে আনন্দ ধাম ধরা কবি বিধুভূষণ বসু এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য “দাদা”-র ২য় অঙ্ক ২য় দৃশ্যে খ্যাপার গীত।
এ যে আনন্দ ধাম ধরা। আনন্দময় দাঁড়িয়ে দ্বারে নিয়ে সুখের ভরা॥ আনন্দ-সিন্ধু মাঝে, আনন্দ কমল সাজে, সদানন্দ তার বিরাজে আনন্দে বিভোরা। সেই আনন্দের বিম্বে ফোটে কোটি বসুন্ধরা। সেই আনন্দের ফুলকি নিয়ে এমন রবি শশী গ্রহতারা॥ ঐ ষে দেখ্ছ বিরাট আকাশ, আনন্দের বিরাট বিকাশ, আনন্দের বইতেছে শ্বাস বিরাট বিমান জোড়া। বইছে পৰন জ্বলছে তপন, আনন্দে মাতোয়ারা। আনন্দের বিরাট বীণা ওঙ্কার ঝঙ্কার॥
আপন মাকে ফেলে দূরে যাব বা কোন পরের কোলে কবি বিধুভূষণ বসু এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য “দাদা”-র ২য় অঙ্ক ২য় দৃশ্যে খ্যাপার গীত।
আপন মাকে ফেলে দূরে, যাব বা কোন পরের কোলে? মায়ের বুকের স্নেহ সুধা পরের কাছে কোথা মিলে? মায়ের আদর কেউ জানে না, ছেলের দরদ কেউ বোঝে না, মায়ের মাটী আমার সোনা, পরের সোনায় মন না ভুলে। মায়ের বাতাস মলয় মাখা, মায়ের আকাশ মণি ঢাকা, মধুর সুধা ঝর্ ছে আমার পল্লী রাণীর ফলে জলে॥
ছেলে পাশ করেছে বি-এ কবি বিধুভূষণ বসু এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য “দাদা”-র ২য় অঙ্ক ৪র্থ দৃশ্যে খ্যাপার গীত।
ছেলে পাশ করেছে বি-এ। কলেজ খরচ দিয়েছে বাবা বাস্তু বাঁধা দিয়ে॥ গ্রাজুয়েট টাইটেল ধরা, এটিকেট রিফর্ম করা, এ যে ছেলে ছেলের সেরা বিদ্যার বোঝা নিয়ে। পজিশনে ভারি বুঝি ব্যাস বশিষ্ঠ চেয়ে, বুঝি স্বর্গ হ'তে দেবতা কেউ, এসেছেন সাপ ভ্রষ্ট হয়ে॥ টাকা দিয়ে গুরুর কাছে, আপনার বুঝ বুঝে নেছে, আপন ছাড়া আর কে আছে, সংসার আপনা নিয়ে, আপনার বড় একজন আছে শ্বশুর মশার মেয়ে, আর যত সব ভূতের বোঝা কাজকি ঝঞ্ঝাট দিয়ে॥ জমা ছাড়া খরচ ভারি, চাকর বামন আসবার বাড়ী। গিন্নীর সদা মনটী ভারি কতই আবদার নিয়ে। বাবার শ্রাদ্ধ নয়কো বড় গিন্নীর মানের চেয়ে, বাবার চেয়ে বউটী বহুৎ বড় লোকের মেয়ে॥
খলেরা অতিশয় ক্রুর তাহা বল কে না জানে কবি বিধুভূষণ বসু এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য “দাদা”-র ২য় অঙ্ক ৪র্থ দৃশ্যে খ্যাপার গীত।
খলেরা অতিশয় ক্রুর তাহা বল কে না জানে। এত যে সুখের সংসার, ছারখার তাদের কারণে॥ সাপেতে কামড়ায় যারে, সেই মাত্র মরে প্রাণে, থলেতে কামড়ায় একেরে অন্যে মরে অকারণে। সাপের আছে ঔষধ মন্ত্র, খলের নাই যে কোন তন্ত্র, কৃষ্ণ ইন্দ্রের কাঁপিছে অন্ত্র, জুতা বিনা উপায় দেখি নে।
আমার মরা হলোনা কবি বিধুভূষণ বসু এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য “দাদা”-র ৩য় অঙ্ক ২য় দৃশ্যে খ্যাপার গীত।
আমার মরা হলোনা। মরলে পরে এমনি করে, মা বলা হবে না॥ জিহ্বারে তুই অন্তরঙ্গ, মা বলা দিও না ভঙ্গ। মায়ের নামে কর না রঙ্গ, কুরঙ্গে মজো না॥ তবে আমি মরতে পারি, এই কর যদি সঙ্করী। রেখে রাঙ্গা চরণোপরি, বল্তে দাও সুধু মা! মা॥