কবি বিধুভূষণ বসুর গান ও কবিতা
*
পল্লিমাটী সোনা খাঁটী বুকটী তাহার কাশী ঠাঁই
কবি বিধুভূষণ বসু
এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য
“দাদা”-র ৩য় অঙ্ক ৩য় দৃশ্যে হরিদাস ও রাখাল বালকের গীত।

পল্লিমাটী সোনা খাঁটী, বুকটী তাহার কাশী ঠাঁই।
কালো ছায়ায় বাকা গাংটী ঐত আমার গঙ্গামাই।
পায়েস পিষ্টক ক্ষীর নবনী, কালিয়া কোর্ম্মা যতই খাই।
সকল মধু জোগায় আমার পল্লী মাটীর লক্ষ্মী গাই।
হারে রাজা সাহেব বাবু মিষ্টার, (তোমাদের) কল কলমের বাদসাই।
পল্লী যদি লাঙ্গল গুটায় তবে সকল হবে ছাই॥

ই গানটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত নাটক “দুই বিঘা জমি”-র ১ম অঙ্গ ৪র্থ
দৃশ্যে রঞ্জনের গাওয়া গীত এইরূপে দেওয়া রয়েছে। (kobita3)

এইত মাটী সোনা খাঁটী বুকটী তাহার কাশী ঠাঁই,
কালো ছায়ায় বাঁকা গাংটী ঐ ত আমাব গঙ্গা মাই।
পায়স পিষ্টক ক্ষীর নবনী মণ্ডা মিঠাই কতই খাই,
সকল মধু যোগায় আমাব পল্লী মাটীব লক্ষ্মী গাই।
হারে রাজা উজির বাবু মিষ্টার, তোমাদের কল কলমের বাদশাই,
পল্লী যদি লাঙ্গল গুটায় তবে সকল হবে ছাই।
( হারে ) পল্লীব বুকের ঘাসের রসে এ সব রাজাগিরির রোসনাই।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
এইত নারীর কাজের সময়
কবি বিধুভূষণ বসু
এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য
“দাদা”-র ৩য় অঙ্ক ৪র্থ দৃশ্যে খ্যাপার গীত।

.        এইত নারীর কাজের সময়।
.        সরম টুটে মরমের দায়॥
বুকে নিয়ে মাতৃশক্তি, স্নেহ প্রীতি দয়া ভক্তি,
ধরম তেজে দাঁড়াও সতী, অসুর শক্তি লুটবে ধুলায়॥
সেইত দারুণ দানব দাপে, উঠেছিল ভূবন কেঁপে,
পুরুষ তখন আপনা সঁপে লুটেছিল প্রকৃতির পায়॥
পড়লে সন্তান বাঘের মুখে, মা কি পালায় আঁচল ঢেকে,
একবার মায়ের মত পড়্ না রুখে, খ্যাপা গাবে মায়ের জয়॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
যা দিলে তা নিলাম আমি শিরে ধরি তোমারই দান
কবি বিধুভূষণ বসু
এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য
“দাদা”-র ৩য় অঙ্ক ৫ম দৃশ্যে পরেশের গীত।

পরেশ।         (প্রসাদ লইয়া গান)
যা দিলে তা নিলাম আমি শিরে ধরি তোমারই দান।
তোমার জীবন তোমার মরণ তোমার দেওয়া মান অপমান॥
আগের দেওয়া সেই যে যারা, মায়াডুরি বেঁধে তারা,
আমায় করে পিছন-ফেরা সে যে বড় কঠিন টান॥
ভাঙুক খেলা ফুরাক আশা, ভেসে যাক সব ভালবাসা
ছায়া-রচা আকাশ বাসা উড়িয়ে দিল কালের তুফাণ॥
( অন্যদিক নেপথ্যে খ্যাপা। )
.        গীত
খ্যাপা ৷ নিরাশাতে ডুবাও না, ভাসিয়ে তোল জীবন-তরী,
.        কাটবে তুক্ষাণ উঠবে ভেদে এ নয় এমন তৃফাণ ভারী!
.        (আসামী লইয় দারোগা কনেষ্টবলের প্রস্থান ।)
রাধা । (গীত) যে রচেছে বিশ্বখানা, তারে কি ভেবেছ কাণা।
.        সবার পিছে দিচ্ছে থানা হাসছে আপন রঙ্গ হেরি।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বল দেছে যে বাঘের দাঁতে
কবি বিধুভূষণ বসু
এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য
“দাদা”-র ৩য় অঙ্ক ৫ম দৃশ্যে খ্যাপার গীত।

বল দেছে যে বাঘের দাঁতে,
তীর দেছে সে মান্ ষের হাতে।
আলোক ফোটে রাত প্রভাতে,
এই ত রঙ্গের বাহাদুরী॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ভবের গাঙ্গে উঠল তুফান
কবি বিধুভূষণ বসু
এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য
“দাদা”-র ৪র্থ অঙ্ক ২য় দৃশ্যে রাধা ও সেবকগণের গীত।

.        ভবের গাঙ্গে উঠল তুফান
.        দেখরে চেয়ে ভবের নেয়ে।
কোমর এটে ধর বটে, যেতে হবে তুফান বেয়ে॥
.                        ( মেঘের ঘটা বড় ভীষণরে )
তরঙ্গের রঙ্গ যে ভারি, বেধেছে বড় কড়া আড়ি---
কড়া উজান চড়া তুফান দিতে হবে পাড়ি।
চির দিন ত চলেবে নাক সুখবায়ে বাদাম দিয়ে।
.                        ( বাতাস ফিরবে ফিরবে রে ভাই। )
.        কাল ছিলে সুখের গানে ভোলা
.        আজ একটু খেল দুখের খেলা।
আলোক আঁধার কান্না হাসি এইত জীবলীলা।
জয় পরাজয়, যখন যা হয়, নিতে হবে শির পাতিয়ে॥
.                        ( ভবের খেলার ধারা এই )

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মায়ের আদর বড় মিঠে মায়ের মতন কেবা আছে
কবি বিধুভূষণ বসু
এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য
“দাদা”-র ৪র্থ অঙ্ক ৩য় দৃশ্যে খ্যাপার গীত।

মায়ের আদর বড় মিঠে মায়ের মতন কেবা আছে,
( তাই ) মায়ের আঁচল ধরে ধরে, সদাই ফিরি পিছে পিছে॥
দুষ্ট ছেলে হলে তারে বাবা পাড়ে গালি,
ভাইয়ের সাথে মন না মিশলে, ভাই ছেড়ে যায় ফেলি।
সবায় যদি করবে হেলা, দাঁড়াব মায়ের কাছে॥
দোষ পেলে মা করে রোষ যদি হয় কাছ-ছাড়া
মা মা বলে কাঁদলে ছেলে, তখনই দেয় সাড়া।
ছেলের কান্না দেখলে মায়ের বুকে বড় বাজে॥
খেলতে খেলতে মাখলে ধূলা মুছায় মা অঞ্চলে।
নরকেও পড়লে ছেলে মা তুলে নেন কোলে।
মায়ের বুকটী আঁকড়ে ধরলে কাল ধেঁসে না কাছে।
পাগল বড় মায়ের কাঙ্গাল, যায়ের আঁচল ধরা,
মায়ের নামে স্বাদ পেয়েছে, শীতল পীযূষ-ধারা।
মা-বলা মা-পাগলা ছেলে মা বলে আনন্দে নাচে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আঁধারে ত ভয় করি না আঁধার আমি বাসি ভাল
কবি বিধুভূষণ বসু
এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য
“দাদা”-র ৪র্থ অঙ্ক ৩য় দৃশ্যে খ্যাপার গীত।

আঁধারে ত ভয় করি না, আঁধার আমি বাসি ভাল,
আঁধার দেখলে মনে পড়ে শ্যামা মা মোর অমনি কালো।
আঁধারে ঘোর দেখলে পরে, মনে পড়ে শ্যামা মারে,
ছায়া পথে দেখতে পাই যে. মায়ের রাঙ্গা পায়ের আলো॥
রাঙ্গা আঁখি কালো মুখে সুখ ঢেলে দেয় আমার বুকে,
আলোক আঁধার কান্না হাসি সমান আমার শাদা কালো।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কোথা হরি কোথা হরি কোথা তুমি আমার হরি
কবি বিধুভূষণ বসু
এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য
“দাদা”-র ৫ম অঙ্ক ১ম দৃশ্যে হরিদাসের গীত।

কোথা হরি, কোথা হরি, কোথা তুমি আমার হরি।
এই দেখ না ভিক্ষার ঝুলি, বেড়াই দ্বারে দ্বারে ঘুরি॥
এত বড় রাজা তুমি কত টাকা কড়ি।
আমি তোমার আপনারই জন, কেন এ ভিকারী!
ক্ষুধার জ্বালায় জ্বলছে যে বুক, এইবার বুঝি মরি॥
*        *        *        *        *        *
এমনি এমনি এমনি করে আমি যদি মরি,
আমার বাবা আমার যে মা, থাকবে অনাহারী।
তাদের তুমি আমার মতন খেতে দিও হরি॥
*        *        *        *        *        *         
সবাই ত দিয়েছে ভিক্ষা আমার ঝুলি ভরি,
তুমি ত দিলে না আমায় একটী মুঠও হরি।
তবু তোমায় বাসবো ভাল বাঁকা বংশী-ধারী॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মা মা বুলিয়ে হামার পরাণ কাঁদালি
কবি বিধুভূষণ বসু
এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য
“দাদা”-র ৫ম অঙ্ক ৫ম দৃশ্যে বেদেনীর গীত।

মা মা বুলিয়ে হামার পরাণ কাঁদালি।
পরাণ কঁদালি, হামার পরাণ কঁদালি॥
হারে বাছা সোনিয়া, বোলত মা মা।
.        মাটি ছোড়কে খাট্টি করকে।
হামি কোলে লিব তুলি,---হামি কোলে লিব তুলি॥
আউর কিয়া জ্বালা, টুট গিয়া সব মলা।
সুখ দেনেক দুষ্ খু আগ, হামত দিয়া জ্বালি॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মায়ের রূপে জগৎ আলো
কবি বিধুভূষণ বসু
এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-নাট্য
“দাদা”-র ৫ম অঙ্ক ৬ষ্ঠ দৃশ্যে খ্যাপার গীত।

মায়ের রূপে জগৎ আলো,
.        উছলে উঠছে ভূবন ছেয়ে।
কত রবি কত শশী লুটায় আমার মায়ের পায়ে॥
নবদুর্ব্বাদলে দেখরে মায়ের রূপের ছায়া।
নীলাকাশে দেখরে আমার মায়ের বিরাট কায়া।
চমকি চপলা খেলে মায়ের অঙ্গের বিশ্ব নিয়ে॥
জলদে বরিষে বারি শীতল পীযূষ ধারা,
ঐ ত আমার শীতলা মার চকণামৃত ধারা।
বিশ্বের পিয়াস শান্তি হয় যে সে অমৃত পিয়ে।
কাল মেঘে রুদ্রবজ্র ঝঞ্ঝা গরজি ওঠে।
ঐ ত আমার রুদ্রাণী মার রুদ্র লীলা ফোটে।
তাতে আমান ভয় কিরে ভাই, ছেলে মারে কোথা মায়ে।
পাগল জানে মা যে আমার কঠোরে কোমলা,
ইন্দ্র চন্দ্র বুদ্ধি হারা বুঝতে মায়ের লীলা।
বোঝাবুঝি কাজ কি আমার মা ডাকি আনন্দ পেয়ে॥

ই গানটি ১৯২৮ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত উপন্যাস “বিষের বাতাস”-এর ১০ম
পরিচ্ছেদে ভোলানাথের গীত।

মায়ের রূপে জগৎ আলো উছলে উঠ্ ছে ভুবন ছেয়ে,
কত রবি, কত শশী লুটায় আমার মায়ের পায়ে।
নবদুরব্বাদলে দেখ্ রে মায়ের রূপের ছায়া
নীলাকাশে দেখ্ রে আমার মায়ের বিরাট কায়া।
চমকি চপলা খেলে মায়ের অঙ্গের বিশ্ব নিয়ে॥
*        *        *        *        *        *
জলদে বরিষে বারি শীতল পীযূষধারা---
ঐত আমার শীতলা মার চরণামৃত ধারা,
বিশ্বের পিয়াস শান্তি হয় রে সে অমৃত পিয়ে।
*        *        *        *        *        *
কালো মেঘে রুদ্র বজ্র ঝঞ্ঝা গরজি ওঠে
ঐত আমার রুদ্রাণী মার রুদ্রলীলা ফোটে,
ছেলের তাঁতে ভয়কিরে ভাই ছেলেমারে কোথা মারে॥
*        *        *        *        *        *
পাগল জানে মা যে আমার কঠোরে কোমলা।
ইন্দ্রচন্দ্র বুদ্ধিহারা বুঝতে মায়ের লীলা।
বোঝাবুঝি কাজ কি আমার মা ডাকি আনন্দ পেয়ে।

ই গানটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত নাটক “দুই বিঘা জমি”-র ২য় অঙ্ক ৪র্থ
দৃশ্যে রঞ্জনের গীত।

মায়ের রূপে জগৎ আলো উছ্ লে উঠছে ভুবন ছেয়ে,
কত রবি কত শশী লুকায় আমার মায়ের পায়ে।
নব দুর্ব্বাদলে দেখ্ রে মায়ের রূপের ছায়া,
নীলাকাশে দেখ্ রে আমার মায়ের বিরাট কায়া!
চমকে চপলা খেলে মায়েব অঙ্গের বিম্বু নিয়ে।
( আবার ) কালো মেঘে রুদ্র বজ্র, ঝঞ্ঝা গরজি ওঠে,
ওইত আমার রুদ্রাণী মা'র রুদ্র লীলা ফোটে।
কঠোর কোমলা মা যে, মা ডাকি আনন্দ পেয়ে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর