কবি বিমল মণ্ডল - জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের
পূর্বমেদিনীপুর জেলার খেজুরী থানার চৌদ্দচুলী গ্রামের
এক অতিশয় দরিদ্র পরিবারে। পিতা শরৎ চন্দ্র মণ্ডল
ও মাতা রেনুকাবালা দেবী। পিতি-মাতা নিরক্ষর
হলেও তাঁদের ছয় ছেলে মেয়েকে অল্প স্বল্প শিক্ষার
আলো দেখিয়েছিলেন। কবি ছোটো ছেলে বলে মায়ের সাথে সাথে ঘোরাঘুরি করতেন। মায়ের সাথে সবজি
বিক্রি, চিপস বিক্রি করতে হতো হাটে-বাজারে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। মা-ই ছিল তাঁর আদর্শ এবং দর্শন।
কবি বিমল মণ্ডলের শিক্ষাজীবন - পাতার উপরে . . .
কবি, ১৯৯২ সালে খেজুরীর হলুদবাড়ী হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করে, ১৯৯৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ
করেন খেজুরীর কলাগেছিয়া জগদীশ বিদ্যাপীঠ থেকে। ১৯৯৭ সালে তিনি মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর মহাবিদ্যালয়
থেকে বাংলা সান্মানিক নিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৯ সালে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর
পাশ করেন। কবি, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত কাঁথি প্রভাতকুমার কলেজ থেকে ২০০০ সালে
বি.এড পাশ করেন।
কবি বিমল মণ্ডলের কর্মজীবন - পাতার উপরে . . .
দারিদ্র্য তাঁদের নিত্য সঙ্গী। কখনো মেজোদাদার সাথে পোনা ব্যবসা, কখনো রিক্সা চালিয়ে, আবার কখনো
কখনো টিউশন করে নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই যুগিয়ে নেন। তিনি স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা
পাশ করেন পাঁচ বার। বারবার পাশ করে চাকরি না পেয়ে ভেঙে পড়লেও পড়াশোনার জেদ তিনি
ছাড়েননি। অবশেষে ২০০৬ সালের ১৭ই মার্চ পূর্বমেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত নন্দীগ্রাম থানার আশদতলা
বিনোদ বিদ্যাপীঠে (উচ্চ মাধ্যমিক) শিক্ষক পদে চাকুরীতে যোগদান করেন।
কবি বিমল মণ্ডলের কবিতা ও রচনাসম্ভার - পাতার উপরে . . .
কবি বিমল মণ্ডলের, কবিতা দিয়েই সাহিত্য জীবনের শুরু।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “অর্পণ” (২০০০), “শিরোনাম নেই” (২০১২), “ফিরে পাওয়া কবিতা”
(২০১০), “আকাশ তুমি জানো” (২০১৪), “বিশ্বাসের চুপকথা” (২০২০), “বৃষ্টি আজ মেঘের আড়ালে” (২০২০),
“সরবরের ভেতর চাঁদ” (২০২০), “নজরুলঃ কবি ও কাব্য” (প্রবন্ধ, ২০১৩) প্রভৃতি।
কবির সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “শব্দ যখন...” (২০২০)।
কবির সম্পাদিত পত্রিকা “অঙ্কুরীশা”।
বর্তমানে ছোটো বড়ো বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় নিয়মিত তাঁর গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে। সেই
পত্র-পত্রিকার মধ্যে রয়েছে “তথ্যকেন্দ্র”, “আপনজন”, “গনশক্তি”, “কলকাতার চিত্র”, “এই সময়”, “মালিনী”,
“কলকাতার যিশু”, “জ্বলদর্চি”, “ছোটর দাবি”, “গৃহশোভা”, “অথ ধরিত্রী” (কলকাতা), “কবি সম্মেলন”
(কলকাতা), “সৃজন” (ঘাটাল), “লিপিকা”, “স্রোত”, “পলাতকা”, “ভোরাই”, “মুকুর”, “রবিবার”, “রবিবাসরীয়”,
“মালিনী” প্রভৃতি।
কবির প্রিয় নেশা বই পড়া আর সামান্য চেষ্টা গরীবের পাশে থেকে সমাজসেবা করা। আঞ্চলিকভাষা সংগ্রহ
করাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। তাঁর গবেষণার বিষয় "পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মৎস্যজীবীদের কথ্যভাষা ও
সংস্কৃতি"।
কবি বিমল মণ্ডলের প্রাপ্ত সম্মাননা - পাতার উপরে . . .
কবির প্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মাননার মধ্যে রয়েছে “জীবনানন্দ পুরস্কার” (২০১৪) কাজী নজরুল ইসলাম
এর প্রবন্ধ এর জন্য, “সৃজনী সাহিত্য পুরস্কার” (২০১৬) “আকাশ তুমি জানো” কাব্যগ্রন্থ এর জন্য, “উন্মেষ
সাহিত্য পুরস্কার” (২০১৬) “শিরোনামে নেই” কাব্যগ্রন্থ এর জন্য প্রভৃতি।