তুমি যদি হ'তে ব্যর্থ মরুভূ ঊষর কবি বিপ্লবী বীরেন্দ্রচন্দ্র সেন কবি এই কবিতাটি লিখেছিলেন আলিপুর বোমা মামলার সময় বন্দীদশায় আলিপুর জেলের একটি কুঠরীর মেঝেতে খোদাই করে। বিচারে তিনি আন্দামানের সেলুলার জেলে নির্বাসিত হয়েছিলেন এবং সেখানে ৪ বছর কারারুদ্ধ ছিলেন। আমরা কবিতাটি পেয়েছি কবির সেই মামলারই স্বতীর্থ বিপ্লবী হেমচন্দ্র কানুনগোর, ১৯২৮ সালে প্রকাশিত “বাংলায় বিপ্লব প্রচেষ্টা” গ্রন্থের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদের ৮৬-পৃষ্ঠা থেকে। তিনি এই কবিতাটি নিয়ে লিখেছেন . . . “যখন আলিপুর জেলে “কুঠ্ রীবন্ধ” ছিলাম, তখন একদিন একটা কুঠ্ রী থেকে বদলি হ'য়ে আর একটাতে ঢুকে দেখি, মেজেতে তার চারটি লাইন খোদাই ক’রে লেখা রয়েছে। দৈত্যকুলে প্রহ্লাদের মত সেই নাকটেপার দলে এ গান কে লিখ্ তে গেল, তাই ভেবে তখন আকুল হ’য়েছিলাম। পরে কিন্তু সে রত্নকে চিন্ তে পেরেছিলাম। সে শ্রীমান বীরেন্দ্রচন্দ্র সেন, আমাদের সুশীলের দাদা। সে লেখাটি কবিতা ব’লেই এখন মনে হচ্ছে। খুঁজে পেতে যতটুকু তার পেলাম, তা এই :---
* * * তুমি যদি হ'তে ব্যর্থ মরুভূ ঊষর, অথবা বিকট রুক্ষ কঠিন কঙ্কর, হ'তে যদি আলোহীন তুহিনের দেশ, নাহি যেথা শ্যাম-শোভা গীত-গন্ধ লেশ, হতে যদি বর্ব্বরের বিহারের ভূমি, তবু এই জীবনের তীর্থ হ'তে তুমি। আফ্রিকার মরুভূমি সুইস্ পাষাণ হতে যদি, তবে মাতঃ তোমার সন্তান, হইত না এইরূপ ক্ষীণ কলেবর, হইত না এইরূপ নারী সুকুমার * * * এইমত ভক্তিভরে প্রদোষ প্রভাতে তোমার চরণ-ধুলি লইতাম মাথে। তোমার অতীত মোরে করেনি পাগল, ভাবী আশা করিছে না আহারে চঞ্চল, জন্মক্ষণে শিশু চিনে যেমন মাতায়, আমিও তেমনি মাগো, চিনেছি তোমায়, আছি জানি ভাগ্য মোর তব সনে গাখা জন্মজন্মান্তর হ'তে, অয়ি চির মাতা।