কবি জগদানন্দের বৈষ্ণব পদাবলী
*
বিহরই নটবর গৌর শরীর
ভণিতা জগত
কবি জগত / জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৮৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কৈশোরলীলা
॥ সারঙ্গ॥

বিহরই নটবর গৌর শরীর।
ছরম ঘরম জল                  পিবি চলু মৃদু মৃদু
শীতল মলয়সমীর॥
মুরজ মৃদঙ্গ                        তুঙ্গ রবে পুলকিত
হুঁকারি গরজে গভীর।
নটনঘটন-ছলে                       বিপিন নি-ধাবই
সুললিত সুরধুনিতীর॥
সমবয় বালক                        অভিমতপালক
অতএ সে সতত অথীর।
'প্রিয়-পারিজনবশে                   ও পদ-পদুম রস
সচল অচল কভু ফীর॥
নাচি নাচাবই                            গাই গাওয়াবই
কতশত অন্ধ বধির।
করতলে তাল তুলি                    ব্যাল কলিকাল
নিবারি জগতে করু থির॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিহরই নটবর গৌর শরীর।                        
ছরম ঘরম জল পিবি চলু মৃদু মৃদু                
শীতল মলয়সমীর॥
মুরজ মৃদঙ্গ তুঙ্গ রবে পুলকিত                     
হুঁকারি গরজে গভীর।
নটনঘটন ছলে বিপিন নি ধাবই                     
সুললিত সুরধুনিতীর॥
সমবয় বালক অভিমতপালক                       
অতএ সে সতত অথীর।
'প্রিয় পারিজনবশে ও পদ পদুম রস                
সচল অচল কভু ফীর॥
নাচি নাচাবই গাই গাওয়াবই                        
কতশত অন্ধ বধির।
করতলে তাল তুলি ব্যাল কলিকাল                  
নিবারি জগতে করু থির॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কিএ নব দিনমণি কিএ সৌদামিনী
ভণিতা জগত
কবি জগত / জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কিএ নব দিনমণি                কিএ সৌদামিনী
কিএ পুন কনয়া উজোর।
তনু অনুতাপদ                    নয়নক আপদ
আর করপরশে কঠোর॥
জয় জয় রসময় গৌর সুধীর।
তন-মন-লোচন                     সব দুখমোচন
রোচন সুভগ শরীর॥
লাবণি অবনি-                    বিমোহন শোহন
ভূষণ-দূষণ কাঁতি।
ঝলমল দশন                       দশনগণ-সুবসন
রসন-রসায়ন ভাঁতি॥
যাকর দরশে                    পরশ-রস উপজই
পরম পরশ রহ দূর।
অতএ জগত ভণ                 অসম অধিকগুণ
ঘন আনন্দময়পুর॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কিএ নব দিনমণি কিএ সৌদামিনী                
কিএ পুন কনয়া উজোর।
তনু অনুতাপদ নয়নক আপদ                     
আর করপরশে কঠোর॥
জয় জয় রসময় গৌর সুধীর।                      
তন মন লোচন সব দুখমোচন                      
রোচন সুভগ শরীর॥
লাবণি অবনি বিমোহন শোহন                     
ভূষণ দূষণ কাঁতি।
ঝলমল দশন দশনগণ সুবসন                       
রসন রসায়ন ভাঁতি॥
যাকর দরশে পরশ রস উপজই                     
পরম পরশ রহ দূর।
অতএ জগত ভণ অসম অধিকগুণ                 
ঘন আনন্দময়পুর॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হের না সখি হোর কি দেখি
ভণিতা আনন্দ দাস
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিলন
॥ তথারাগ॥

হের না সখি                হোর কি দেখি
কিএ অদভুত                কভু না পেখি
অম্বর খসি                     গিরল আসি
কিএ মহীতল যাঁতিয়া।
ধরণীতলে                      জলদ খেলে
উপরে তড়িত               জড়িত ভালে
ঘনের কাছে                   ময়ূর নাচে
অরুণ তাকর সাথিয়া॥
কে বুঝে রঙ্গ                  না হয় ভঙ্গ
শশি সরোরুহ                  একই সঙ্গ
চকোর অলি                 করত কেলি
অমিয়া মধুতে মাতিয়া।
পবন অতি                  অথির মতি
হইয়া বহিছে                   প্রখর গতি
প্রলয়-কালে                   জলধি-জলে
যুগ বিনাশন ভাতিয়া॥
খণ্ডিল দুখ                    নহে বিমুখ
আকাশে পাতালে             সমান সুখ
কিবা সে শোভা            সূরজ আভা
বিহরে 'তিমির চাপিয়া।
রধিকাশ্যাম                  করে বিরাম
কোন সখী করে               সেবন-কাম
রমণীমাণি                   লাজে অমনি
নতমুখী আঁখি ছাপিয়া॥
বয়ানে হাস                   সখিনী পাশ
কহিতে প্রেয়সী                রস বিলাস
কিশোরী করেতে           বঁধুর তুরিতে
রাখে বদন ঝাঁপিয়া।
আনন্দ দাস                   কহত ভাষ
বরজ যুবতি                   করত হাস
কি বিষম কথা           কহিতে বারতা
মহী টলমল কাঁপিয়া॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হের না সখি হোর কি দেখি                
কিএ অদভুত কভু না পেখি                
অম্বর খসি গিরল আসি                     
কিএ মহীতল যাঁতিয়া।
ধরণীতলে জলদ খেলে                        
উপরে তড়িত জড়িত ভালে                 
ঘনের কাছে ময়ূর নাচে                      
অরুণ তাকর সাথিয়া॥
কে বুঝে রঙ্গ না হয় ভঙ্গ                     
শশি সরোরুহ একই সঙ্গ                     
চকোর অলি করত কেলি                    
অমিয়া মধুতে মাতিয়া।
পবন অতি অথির মতি                        
হইয়া বহিছে প্রখর গতি                        
প্রলয় কালে জলধি জলে                        
যুগ বিনাশন ভাতিয়া॥
খণ্ডিল দুখ নহে বিমুখ                        
আকাশে পাতালে সমান সুখ                
কিবা সে শোভা সূরজ আভা                
বিহরে 'তিমির চাপিয়া।
রধিকাশ্যাম করে বিরাম                        
কোন সখী করে         সেবন কাম                
রমণীমাণি লাজে অমনি                        
নতমুখী আঁখি ছাপিয়া॥
বয়ানে হাস সখিনী পাশ                        
কহিতে প্রেয়সী রস বিলাস                
কিশোরী করেতে বঁধূর তুরিতে                
রাখে বদন ঝাঁপিয়া।
আনন্দ দাস কহত ভাষ                        
বরজ যুবতি করত হাস                        
কি বিষম কথা কহিতে বারতা                
মহী টলমল কাঁপিয়া॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখ দেখ গোরাচাঁদ নদীয়া নগরে
ভণিতা জগদানন্দ
চৈতন্য সমকালীন কবি জগদানন্দ পণ্ডিত (মৃণালকান্তি ঘোষের মতে)
এই পদটি সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত ১৩২২বঙ্গাব্দে (১৯১৫ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত বৈষ্ণবদাস
সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৯শ পল্লব, শ্রীগৌরচন্দ্র প্রকারান্তর,
২১৮৩-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

দেখ দেখ গোরাচাঁদ নদীয়া নগরে।
গদাধর সঙ্গে রঙ্গে সদাই বিহরে॥
বামে গদাধর দক্ষিণে নরহরি।
সুরধুনী-তীরে দুহুঁ নাচে ফিরি ফিরি॥
কিবা সে বিনোদ বেশ বিনোদ চাতুরি।
বিনোদ রূপের ছটা বিনোদ মাধুরী॥
দেখিতে দেখিতে হিয়ায় সাধ লাগে হেন।
নয়ান-অঞ্জন করি সদা রাখি যেন॥
কহয়ে জগদানন্দ গোরা প্রেম-কথা।
সোঙরিতে হৃদয় উথিল @ যায় তথা॥

@ কথাটা কি "উথলি" হবে? ---মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২২৯১-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

দেখ দেখ গোরাচাঁদ নদীয়া নগরে।
গদাধর সঙ্গে রঙ্গে সদাই বিহরে॥
বামে গদাধর দক্ষিণে নরহরি।
সুরধুনী-তীরে দুহুঁ নাচে ফিরি ফিরি॥
কিবা সে বিনোদ বেশ বিনোদ চাতুরি।
বিনোদ রূপের ছটা বিনোদ মাধুরী॥
দেখিতে দেখিতে হিয়ায় সাধ লাগে হেন।
নয়ান-অঞ্জন করি সদা রাখি যেন॥
কহয়ে জগদানন্দ গোরা পহুঁ-কথা।
সোঙরিতে হৃদয় উথিল যায় তথা॥  

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৪র্থ তরঙ্গ,
২য় উচ্ছ্বাস, নৃত্য ও কীর্ত্তন, ১৬৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দেখ দেখ গোরাচাঁদ নদীয়ানগরে।
গদাধর সঙ্গে রঙ্গে সদাই বিহরে॥
বামে গদাধর দক্ষিণে নরহরি।
সুরধুনীতীরে দুহুঁ নাচে ফিরি ফিরি॥
কিবা সে বিনোদ বেশ বিনোদ চাতুরি।
বিনোদ রূপের ছটা বিনোদ মাধুরী॥
দেখিতে দেখিতে হিয়ায় সাধ লাগে হেন।
নয়ান-অঞ্জন করি সদা রাখি যেন॥
কহয়ে জগদানন্দ গোরাপ্রেমকথা।
সোঙরিতে হৃদয় উথলি যায় তথা॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দেখ দেখ গোরাচাঁদ নদীয়া নগরে।
গদাধর সঙ্গে রঙ্গে সদাই বিহরে॥
বামে গদাধর দক্ষিণে নরহরি।
সুরধুনীতীরে দুহুঁ নাচে ফিরি ফিরি॥
কিবা সে বিনোদ বেশ বিনোদ চাতুরি।
বিনোদ রূপের ছটা বিনোদ মাধুরী॥
দেখিতে দেখিতে হিয়ায় সাধ লাগে হেন।
নয়ান অঞ্জন করি সদা রাখিবেন॥
কহয়ে জগদানন্দ গোরা প্রেম কথা।
সোঙরিতে হৃদয় উথলি যায় তথা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

দেখ দেখ গোরাচাঁদ নদীয়া নগরে।
গদাধর সঙ্গে রঙ্গে সদাই বিহরে॥
বামে গদাধর দক্ষিণে নরহরি।
সুরধুনী তীরে তীরে নাচে ফিরি ফিরি॥
কিবা সে বিনোদ বেশ বিনোদ চাতুরি।
বিনোদ রূপের ছটা বিনোদ মাধুরী॥
দেখিতে দেখিতে হিয়ার সাধ লাগে হেন।
নয়ান-অঞ্জন করি সদা রাখি যেন॥
কহয়ে জগদানন্দ গোরাপ্রেম কথা।
সোঙরিতে হৃদয় উথলি যায় তথা॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দেখ দেখ গোরাচাঁদ নদীয়া নগরে।
গদাধর সঙ্গে রঙ্গে সদাই বিহরে॥
বামে গদাধর দক্ষিণে নরহরি।
সুরধুনী তীরে তীরে নাচে ফিরি ফিরি॥
কিবা সে বিনোদ বেশ বিনোদ চাতুরী।
বিনোদ রূপে ছটা বিনোদ মাধুরী॥
দেখিতে দেখিতে হিয়ার সাধ লাগে হেন।
নয়ান অঞ্জন করি সদা রাখি যেন॥
কহয়ে জগদানন্দ গোরাপ্রেম কথা।
সোঙরিতে হৃদয় উথলি যায় তথা॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আরতি করে নন্দরাণী বালক মুখ হেরি
আরতি করু নন্দরাণী বালক মুখ হেরি
ভণিতা জগদানন্দ
কবি জগদানন্দ ঠাকুর (মঙ্গলডিহি)
এই পদটি ১৩২৩ বঙ্গাব্দে (১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) মহারাজকুমার মহিমারঞ্জন চক্রবর্তী দ্বারা
সম্পাদিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত, “বীরভূম-বিবরণ”, ১ম খণ্ড, মঙ্গলডিহি-
কাহিনী, ১৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আরতি করে নন্দরাণী বালকমুখ হেরি,
গাওত নবনাগরী সব রাখাল সকল ঘেরি।
রম্ভাফল ঘৃত প্রদীপ পুষ্প রচিত আলি,
সুন্দরীগণে হুলোতি দেই শিশুগণ করতালী॥
রাখি শিঙ্গা বেণু যশোদা মা-ই কোরে নিল দুই ভাই-ই
মাখন দেহি, দেহি ক্ষীর খাওয়ে রাম কানাই-ই।
সকল শিশুর মুখ তুলি যশোমতি-চুমো খাওয়ে,
মঙ্গল পুছে নন্দঘোষ জগদানন্দ গাওয়ে॥

ই পদটি নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী”
৩য় খণ্ড, উত্তর গোষ্ঠ, ৪২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গৌরী - একতালা॥

আরতি করু নন্দরাণী বালক মুখ হেরি।
গায়ত নব নাগরিগণ রাখাল সব ঘেরি॥
রম্ভা ফল ঘৃত প্রদীপ পুষ্প রচিত থালি।
সুন্দরীগণ উলত দেই সখিগণ করতালি॥
রাখি শিঙ্গা বেণু যশোদা মাই কোলে নিল দোনো ভাই।
মাখন দহি দেই খির ননি খাই রাম কাহ্নাই॥
সকল শিশুর চাঁদ মুখ তুলি তুলি যশোমতি চুম্ব খাই।
নাচক ব্রজবাল সকল রামকৃষ্ণ মুখ চাই॥
আনন্দে উথলে পোহিণী মাই,
মঙ্গল পুছে নন্দঘোষ জগদানন্দ গাই॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত,সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আরতি
॥ তাল লোফা॥

.   আরতি করে নন্দরাণী বালক মুখ হেরি। গায়ত নব নাগরী-
গণ রাখাল সব ঘেরি॥ রম্ভা ফল ঘৃত প্রদীপ পুষ্প রচিত থারি।
সুন্দরীগণ  উলত  দেই  শিশুগণ  করতারি॥  রাখি  শিঙ্গা বেণু
যশোদা মাই কোলে নিল দোন ভাই। সকল শিশুর চাঁদ মুখ তুলি
যশোমতি চুম্ব খাই॥  আনন্দে  উথলে  রোহিণী  মাই  রামকৃষ্ণ
চাই। মঙ্গল পুছত নন্দঘোষ জগদানন্দ গাওই॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত “কীর্ত্তন
পদাবলী”, ২৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এখানে উল্লেখ রয়েছে যে এই কবি
জগদানন্দ ঠাকুর (মঙ্গলডিহি)।

উত্তরগোষ্ঠখণ্ড
॥ গৌরী - জপতাল॥

আরতি করে নন্দরাণী
.                বালক-মুখ হেরি।
গায়ত নব নায়রিগণ
.                রাখাল সব ঘেরি॥
রম্ভাফল ঘৃত প্রদীপ
.                পুষ্প-রচিত থালি।
সুন্দরীগণ উলতি দেই
.                শিশুগণ করতালি॥
রাখি শিঙ্গাবেণু যশোদা মাই
.                কোরে নিল দোন ভাই
মাখন দহি দেহি ক্ষীর
.                খাওয়ে রাম কানাই॥
সকল শিশুর চাঁদ-মুখ তুলি
.                যশোমতী চুমো খাওয়ে
মঙ্গল পুছে নন্দ ঘোষ
.                জগদানন্দ গাওয়ে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৮২-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

( মঙ্গলডিহির জগদানন্দ )
শ্রীরামকৃষ্ণের আরতি
॥ তথারাগ॥

আরতি করে নন্দরাণী বালক মুখ হেরি।
গাওত নব নাগরী সব রাখাল সকল ঘেরি॥
রম্ভাফল ঘৃত প্রদীপ পুষ্প রচিত থালি।
সুন্দরীগণ উলতি দেই শিশুগণ করতালি॥
রাখি শিঙ্গাবেণু যশোদা মাই কোরে নিল দুনো ভাই।
মাখন দহি দেহি ক্ষীর খাওয়ে রাম কানাই॥
সকল শিশুর মুখ তুলি তুলি যশোমতি চুমো খাওয়ে।
মঙ্গল পুছে নন্দঘোষ জগদানন্দ গাওয়ে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আরতি করে নন্দরাণী বালক মুখ হেরি।
গাওত নব নাগরী সব রাখাল সকল ঘেরি॥
রম্ভাফল ঘৃত প্রদীপ পুষ্প রচিত থালি।
সুন্দরীগণ উলতি দেই শিশুগণ করতালি॥
রাখি শিঙ্গাবেণু যশোদা মাই কোরে নিল দুনো ভাই।
মাখন দহি দেহি ক্ষীর খাওয়ে রাম কানাই॥
সকল শিশুর মুখ তুলি তুলি যশোমতি চুমো খাওয়ে।
মঙ্গল পুছে নন্দঘোষ জগদানন্দ গাওয়ে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গৌর কলেবর মৌলি মনহর
গৌর কলেবর মৌলি মনোহর
ভণিতা জগত-আনন্দ / জগদানন্দ
কবি জগদানন্দ
এই পদটি সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত ১৩২২বঙ্গাব্দে (১৯১৫ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত বৈষ্ণবদাস সংকলিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৪শ পল্লব, রূপোল্লাস, ১০৩৩-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

গৌর কলেবর                        মৌলি মনহর
চিকুর ঐছে নেহারি।
( জনু ) হেম-মহিধর-                  শিখরে চামর
দেই উর পর ডারি॥
পীন উর উপ-                        নীত কৃত উপ-
বীত-শীতিম রঙ্গ।
( জনু ) কনয়-ভূধর                    বেঢ়ি বিলসই
সুর-তরঙ্গিনি গঙ্গ॥
আধ অন্বর                               আধ সম্বর
আধ অঙ্গ সুগৌর।
( জনু ) জলদ সঞে অতি             বাল রবি-ছবি
নিকসে অধিক উজোর॥
জগত-আনন্দ                           পহুক পদ-নখ
লখই ঐছন ছন্দ।
( জনু ) মীন-কেতন                      করু নিমঞ্ছন
চরণে দেই দশ চন্দ॥

টীকা -
এই পদের প্রত্যেক অযুগ্ম চরণে যথাক্রমে নিম্নলিখিত মাত্রা আছে ; যথা,---
৩ + ৪        ৩ + ৪ (অযুগ্ম চরণ)
৩ + ৪ + ৩ (যুগ্ম চরণ)

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৪৫৯-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

গৌর কলেবর                        মৌলি মনহর
চিকুর ঐছে নেহারি।
( জনু ) হেম-মহিধর-                  শিখরে চামর
দেলি মনমণ ঢারি॥
পীন উর উপ-                        নীত কৃত উপ-
বীত-শিতিম রঙ্গ।
( জনু ) কনয়-ভূধর                   বেঢ়ি বিলসই
সুর-তরঙ্গিনি গঙ্গ॥
আধ অন্বরে                             আধ সম্বরু
আধ অঙ্গ সুগৌর।
( তনু ) জলদ সঞে অতি             বাল রবি-ছবি
নিকসে অধিক উজোর॥
জগত-আনন্দ                          পহুক পদ-নখ
হেরি ঐছন ছন্দ।
( জনু ) মীন-কেতন                     করু নিমঞ্ছন
চরণে দেই দশ চন্দ॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৩য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছ্বাস, রূপ, ১০২-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

গৌরকলেবর মৌলি মনোহর চিকুর ঐছে নেহারি।
জনু, হেমমহীধর-শিখরে চামর দেই উরপর ডারি॥
পীন উর উপনীত কৃত উপবীত, সীতিম রঙ্গ।
জনু, কনয়া ভূধর, বেঢ়ি বিলসই, সুরতরঙ্গিণী গঙ্গ॥
আধ অম্বর আধ সম্বর আধ অঙ্গ সুগোর।
জনু, জলদ সঞে, অতি বালরবি-চ্ছবি, নিকসে অধিক উজোর॥
জগত আনন্দ পহুঁখ পদনখ, লখই ঐছন ছন্দ।
জনু, মীনকেতন, কর নির্মঞ্ছন, চরণে দেই দশ চন্দ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

গৌর-কলেবর,                      মৌলি মনোহর,
চিকুর ঐছে নেহারি।
জনু হেম-মহীধর-,                    শিখরে চামর,
দেই উর পর ডারি॥
পীন উরু উপ-                        নীত কৃত উপ-
বীত শিতিম রঙ্গ।
( জনু ) কনয় ভূধর,                   বেড়ি বিলসই,
সুর-তরঙ্গিণী গঙ্গ॥
আধ অন্বর,                              আধ সম্বর,
আধ অঙ্গ সুগৌর।
( জনু ) জলদ সঞে অতি.            বাল রবি-ছবি,
নিকসে অধিক উজোর॥
জগদানন্দ,                             পহুক পদ-নখ,
লখই ঐছন ছন্দ।
জনুমীন-কেতন,                      করু নিরমঞ্ছন,
চরণে দেই দশ চন্দ্র॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ
॥ তথারাগ॥

গৌর কলেবর                        মৌলি মনোহর
চিকুর ঐছে নেহারি।
( জনু ) হেমমহীধর                      শিখর চামর
দেই উর পর ডারি॥
পীন উর উপ-                          নীত কৃত উপ-
বীত-সীতিম রঙ্গ।
( জনু ) কনয়া ভূধর                    বেঢ়ি বিলসই
সুর-তরঙ্গিণী গঙ্গ॥
আধ অম্বর                                আধ সম্বর
আধ অঙ্গ সুগোর।
( জনু ) জলদ সঞে অতি-             বাল রবিছবি
নিকসে অধিক উজোর॥
জগত আনন্দ                           পহুঁক পদনখ
লখই ঐছন ছন্দ।
( জনু ) মীনকেতন                      করু নির্মঞ্ছন
চরণে দেই দশচন্দ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌর কলেবর মৌলি মনোহর                   
চিকুর ঐছে নেহারি।
হেমমহীধর শিখর চামর                        
দেই উর পর ডারি॥
পীন উর উপনীত কৃত উপবীত                   
সীতিম রঙ্গ।
কনয়া ভূধর বেঢ়ি বিলসই                        
সুর তরঙ্গিণী গঙ্গ॥
আধ অম্বর আধ সম্বর                            
আধ অঙ্গ সুগোর।
জলদ সঞে অতিবাল রবিছবি                   
নিকসে অধিক উজোর॥
জগত আনন্দ পহুঁক পদনখ                       
লখই ঐছন ছন্দ।
মীনকেতন করু নির্মঞ্ছন                           
চরণে দেই দশচন্দ॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পাপে পূরল পুথিবী পরিসর
ভণিতা জগদানন্দ / জগত-আনন্দ
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১ম তরঙ্গ, ২য় উচ্ছ্বাস, মঙ্গলাচণ, ১৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

পাপে পূরল পুথিবী পরিসর পেখি পরম দয়াল।
প্রেমময় পরিপূর্ণ পয়োনিধি প্রকট প্রণতপাল॥
পহুঁ পতিতপাবন নাম।
পশুপ্ত প্রেয়সী পীরিতি পররস প্রণয় পীযূষ ধাম॥ ধ্রু॥
প্রণতপালক পদবী পালই পূরব পরিকর মেলি।
প্রচুর পাতকিপাপ পরিহরি পাদ পরিণত কেলি।
পূজই পশুপতি পদ্ম-আসন পাদ পঙ্কজ-দ্বন্দ্ব।
পর পঞ্চ পথে পড়ি পেখি না পেখল জগদানন্দ অন্ধ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

পাপে পূরল                        পৃথিবী পরিসর
পেখি পরম দয়াল।
প্রেম-পয় পরি-                      পূর্ণ পয়োনিধি
প্রকট পরণত-পাল॥
পহুঁ পতিতপাবন নাম।
পশুপা-প্রেয়সী                      পিরীতি পরবস
প্রণয়-পীযূষ-ধাম॥
প্রণত-পালক                          পদবী পালই
পূরব পরিকর মেলি।
প্রচুর পাতকী                       পাপ পরিহরি
পাদ পরণত কেলি॥
পূজই পশুপতি                         পদ্ম-আসন
পাদ-পঙ্কজ-দ্বন্দ্ব।
পরপঞ্চ পথে পড়ি                  পেখ না পেখল
জগত-আনন্দ অন্ধ॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”,
২৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পাপে পূরল                        পৃথিবী পরিসর
পেখি পরমদয়াল।
প্রেম-পর পরি-                      পূর্ণ পয়োনিধি
প্রকট পরণত-পাল॥
পহুঁ পতিতপাবন নাম।
পশুপা প্রেয়সী                     পিরীতি পররশ
প্রণয়-পীযূষ-ধাম॥
প্রণত-পালক                        পদবী পালই
পূরব পরিকর মেলি।
প্রচুর পাতকী                        পাপ পরিহরি
পাদ পরণত কেলি॥
পূজই পশুপতি                        পদ্ম-আসন
পাদ-পঙ্কজ-দ্বন্দ্ব।
পরপঞ্চ পথে পড়ি                পেখ না পেখল
জগত-আনন্দ অন্ধ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পাপে পূরল পৃথিবী পরিসর                
পেখি পরম দয়াল।
প্রেম পয় পরিপূর্ণ পয়োনিধি                
প্রকট পরণত পাল॥
পহুঁ পতিতপাবন নাম।                     
পশুপা প্রেয়সী পিরীতি পরবশ             
প্রণয় পীযূষ ধাম॥
প্রণত পালক পদবী পালই                  
পূরব পরিকর মেলি।
প্রচুর পাতকী পাপ পরিহরি                
পাদ পরণত কেলি॥
পূজই পশুপতি পদ্ম আসন                  
পাদ পঙ্কজ দ্বন্দ্ব।
পরপঞ্চ পথে পড়ি পেখ না পেখল          
জগত আনন্দ অন্ধ॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজু পেখলুঁ জলজ লোচনী
ভণিতা জগত-আনন্দ
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ
কৃষ্ণের উক্তি
॥ তথারাগ॥

আজু পেখলুঁ                        জলজ লোচনী
চমকি চৌদিশে চায়।
শ্রোণী-লম্বিত                      বেণী-ফণি পিঠ
বেঢ়ি কটি লটকায়॥
সিংহ জিনি খীনি                  মাঝে কিঙ্কিনী
রণিত নূপুর পায়।
গমন যৌবন                          গরবে মন্থর
গজহুঁ গতি চলি যায়॥
বিহসি অঞ্চল                       রোপি গোপই
আধ কুচ দরশায়।
থোরি বয় সখে                    গোরী মঝু মন
চোরি রাখল ছাপায়॥
শ্রবণ বচনহিঁ                        বদন অধরহিঁ
দশন নয়ন ভুলায়।
নাসা সৌরভে                        আশ মাতল
পরশরস তনু চায়॥
কুটিল দিঠিশর                      মরমে পৈঠল
করব কোন উপায়।
যুবতি-রতন কি                      যতনে মীলব
জগত-আনন্দে গায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। 

আজু পেখলুঁ জলজ লোচনী                        
চমকি চৌদিশে চায়।
শ্রোণী লম্বিত বেণী ফণি পিঠ                       
বেঢ়ি কটি লটকায়॥
সিংহ জিনি খীনি মাঝে কিঙ্কিনী                   
রণিত নূপুর পায়।
গমন যৌবন গরবে মন্থর                           
গজহুঁ গতি চলি যায়॥
বিহসি অঞ্চল রোপি গোপই                        
আধ কুচ দরশায়।
থোরি বয় সখে গোরী মঝু মন                     
চোরি রাখল ছাপায়॥
শ্রবণ বচনহিঁ বদন অধরহিঁ                        
দশন নয়ন ভুলায়।
নাসা সৌরভে আশ মাতল                        
পরশরস তনু চায়॥
কুটিল দিঠিশর মরমে পৈঠল                       
করব কোন উপায়।
যুবতি রতন কি যতনে মীলব                      
জগত আনন্দে গায়॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজু এক অপরূপ রূপক
ভণিতা জগত-আনন্দ
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ
॥ তথারাগ॥

আজু এক অপ-                        রূপ রূপক
ভূপ দরশন ভেল।
( জনু ) মেলি জলধর                ধরণী উপর
সৌদামিনী করু কেল॥
কো অছু পুন                        বদন নিরমিল
নয়ন চেতন-চোর।
( জনু ) বিকচ কাঞ্চন              কমলে বিলসই
চপল খঞ্জন জোর॥
চারু ভুরু অরু                      মাঝে দিন্দুর
রেখ ঐছে বনান।
( জনু ) রসিকজন-মন            বধিতে কাম-করু
কামান বাণ-সন্ধান॥
কি কব উচকুচ                        জোর চুচুক
জগত-আনন্দ ভাষ।
( জনু ) বঞ্চিত বিধুকর               হেম-কমলিনী
শিখরে মধুপ নিবাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজু এক অপরূপ রূপক                        
ভূপ দরশন ভেল।
মেলি জলধর ধরণী উপর                        
সৌদামিনী করু কেল॥
কো অছু পুন বদন নিরমিল                     
নয়ন চেতন চোর।
বিকচ কাঞ্চন কমলে বিলসই                    
চপল খঞ্জন জোর॥
চারু ভুরু অরু মাঝে দিন্দুর                     
রেখ ঐছে বনান।
রসিকজন মন বধিতে কাম করু                  
কামান বাণ সন্ধান॥
কি কব উচকুচ জোর চুচুক                      
জগত-আনন্দ ভাষ।
বঞ্চিত বিধুকর হেম কমলিনী                     
শিখরে মধুপ নিবাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কিতব কেশব কুশল কি কহব
ভণিতা জগত-আনন্দ
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
বাহ্যাচিত্র পদ
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি

কিতব কেশব                    কুশল কি কহব
কনকমঞ্জরী রাই।
কি জনি কতিখনে                কব কি হোঅব
কহিতে আওলুঁ ধাই॥
কুসুমকার্মুক                        কোপে কাতর
কেলিকুঞ্জে লোটায়।
কুলক কামিনী                     কি কহুঁ কান্দই
কুজন কুবচন-দায়॥
কান্তকাহিনী                        কহিতে কান্দই
কনকমঞ্জরী সোয়।
কুলজকামিনী                        কুপথ-গামিনী
কঅলি কী ফল তোয়॥
কঞ্জ নয়নীক                           কণ্ঠে কেবল
কেলি করত পরাণ।
কোরে করইতে                    কাঁপে কলেবর
জগত-আনন্দ ভাণ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কিতব কেশব কুশল কি কহব                    
কনকমঞ্জরী রাই।
কি জনি কতিখনে কব কি হোঅব                
কহিতে আওলুঁ ধাই॥
কুসুমকার্মুক কোপে কাতর                        
কেলিকুঞ্জে লোটায়।
কুলক কামিনী কি কহুঁ কান্দই                      
কুজন কুবচন দায়॥
কান্তকাহিনী কহিতে কান্দই                        
কনকমঞ্জরী সোয়।
কুলজকামিনী কুপথ গামিনী                        
কঅলি কী ফল তোয়॥
কঞ্জ নয়নীক কণ্ঠে কেবল                          
কেলি করত পরাণ।
কোরে করইতে কাঁপে কলেবর                    
জগত আনন্দ ভাণ॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর