কবি জগদানন্দের বৈষ্ণব পদাবলী
*
নীলগগন কাহে সমুখে নিহারসি
ভণিতা জগদানন্দ দাস
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ
রাধার প্রতি সখীদের উক্তি
॥ তথারাগ॥

নীলগগন কাহে সমুখে নিহারসি
.        হেরি কাহে পুলাকিত অঙ্গ।
নয়ন কমল-জল যতনে নিবারসি
.        রচয়সি অঙ্গবিভঙ্গ॥
সুন্দরি মোরা কিএ সব অগেআন।
এত অনুভাবে ভাব কিএ গোপসি
.        জানলু পেখলি কান॥
সো মৃদু হাস বিকাশ না হোঅত
.        নাসাহিঁ খরতর শাস।
নিরজনে বসি নিশি দিশি খিতি লেখসি
.        না করসি সরস সম্ভাষ॥
গোপত বেকত করি নাহি কহ নায়রি
.        বুঝলুঁ তুয়া অভিলাষ।
নিজ পরিজনগণ অনুচিত বঞ্চন
.        ভণয়ে জগদানন্দ দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নীলগগন কাহে সমুখে নিহারসি
.        হেরি কাহে পুলাকিত অঙ্গ।
নয়ন কমল-জল যতনে নিবারসি
.        রচয়সি অঙ্গবিভঙ্গ॥
সুন্দরি মোরা কিএ সব অগেআন।
এত অনুভাবে ভাব কিএ গোপসি
.        জানলু পেখলি কান॥
সো মৃদু হাস বিকাশ না হোঅত
.        নাসাহিঁ খরতর শাস।
নিরজনে বসি নিশি দিশি খিতি লেখসি
.        না করসি সরস সম্ভাষ॥
গোপত বেকত করি নাহি কহ নায়রি
.        বুঝলুঁ তুয়া অভিলাষ।
নিজ পরিজনগণ অনুচিত বঞ্চন
.        ভণয়ে জগদানন্দ দাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বেরি বেরি নীলকমলে মুখ রোপসি
ভণিতা জগদানন্দ দাস
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ
রাধার প্রতি সখীদের উক্তি
॥ তথারাগ॥

বেরি বেরি নীলকমলে মুখ রোপসি
.        সঘনে কাঁপাওসি গাত।
নীল পরিধানে মুখ রোপণ বেরি
.        কাহে ধুনাওসি মাথ॥
সুন্দরি ইঙ্গিতে সমুঝল কাজ।
হরিসঞে মানস কেলিকলারস
.        তুহুঁ কিএ রচয়সি আজ॥
নবীন সমাগমে অধর পিয়াইতে
.        চাহাসি গিরিধারীরাজে।
শিধুঝর অধর পান বেরি বারত
.        তোহে তুয়া ধৈরজলাজে॥
এসব শরম বেকত হেরি সহচরি
.        মেলি বচন করু তারি।
নাগরী হাসি হাসি জগদানন্দ
.        দাসে দেবই গারি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বেরি বেরি নীলকমলে মুখ রোপসি
.                সঘনে কাঁপাওসি গাত।
নীল পরিধানে মুখ রোপণ বেরি
.                কাহে ধুনাওসি মাথ॥
সুন্দরি ইঙ্গিতে সমুঝল কাজ।
হরিসঞে মানস কেলিকলারস
.                তুহুঁ কিএ রচয়সি আজ॥
নবীন সমাগমে অধর পিয়াইতে
.                চাহাসি গিরিধারীরাজে।
শিধুঝর অধর পান বেরি বারত
.                তোহে তুয়া ধৈরজলাজে॥
এসব শরম বেকত হেরি সহচরি
.                মেলি বচন করু তারি।
নাগরী হাসি হাসি জগদানন্দ
.                দাসে দেবই গারি॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দূরহি শুনলি মুরলি-কলরাব
ভণিতা জগদানন্দ দাস
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ
রাধার প্রতি সখীদের উক্তি
॥ তথারাগ॥

দূরহি শুনলি মুরলি-কলরাব।
তুহুঁ কাহেঁ ভাবিনি উনমতি ধাব॥
না হেরি ধেনু ধুসর ধুলিধারা।
গগনহি পৈঠল করু আঁধিয়ারা॥
এ ধনি বুঝল তুয়া মতি মন্দ।
করে ধরি ধাবসি শিথিল নীবিবন্ধ॥
গুরুজন নয়ন সহজ অনিবার।
করু গতাগতি পুরবাহির দ্বার॥
পুলকমুকুলে ভরু এ তুয়া দেহ।
তুরিতহি পলটি পৈঠ নিজ গেহ॥
সম্বরু বিগলিত নীলিম বাস।
ভণ পদযুগে জগদানন্দ দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দূরহি শুনলি মুরলি-কলরাব।
তুহুঁ কাহেঁ ভাবিনি উনমতি ধাব॥
না হেরি ধেনু ধুসর ধূলিধারা।
গগনহি পৈঠল করু আঁধিয়ারা॥
এ ধনি বুঝল তুয়া মতি মন্দ।
করে ধরি ধাবসি শিথিল নীবিবন্ধ॥
গুরুজন নয়ন সহজ অনিবার।
করু গতাগতি পুরবাহির দ্বার॥
পুলকমুকুলে ভরু এ তুয়া দেহ।
তুরিতহি পলটি পৈঠ নিজ গেহ॥
সম্বরু বিগলিত নীলিম বাস।
ভণ পদযুগে জগদানন্দ দাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মঞ্জু বিকচ কুসুমকুঞ্জ
মঞ্জু বিকচ কুসুমপুঞ্জ
মঞ্জু বিকচ কুসুম-গুঞ্জ
জয় জয় জয় বিজয়ী কুঞ্জে বৃষভানু সুকুমারী
ভণিতা জগদানন্দ
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত
সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২০৯-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

মঞ্জু বিকচ কুসুমকুঞ্জ মধুপ-শবদ গঞ্জ গুঞ্জ কুঞ্জর-গতি গঞ্জি গমন রঞ্জন কুলজ
নারী॥ ঘন-গঞ্জন চিকুর পুঞ্জ, মালতী ফুল মালরঞ্জ, অঞ্জন যুত কঞ্জ নয়নী মঞ্জন গতিহারী॥ কাঞ্চন রুচি রুচির
অঙ্গ, অঙ্গে অঙ্গে ভরু অনঙ্গ, কিঙ্কিণী করকঙ্কণ
মৃদু ঝঙ্কৃত মনোহারী॥ নাচত যুগ ভুরু ভূজঙ্গ কালিয়দমন দমন রঙ্গ,
সঙ্গিনী সব সঙ্গে প্রহরী রঙ্গিম নীল সাড়ী॥ দশন কুন্দ কুসুমনিন্দ
বদন জিতল শরদ ইন্দু, বিন্দু বিন্দু ছরম ঘরম প্রেমসিন্ধু প্যারী।
ললিতাধরে মিলিত ভাষ, দেহ দীপতি তিমির নাশ, নিরখিরূপ, রসিক ভূপ,
ভূলল গিরিধারী॥ অমরাবতী যুবতিবৃন্দ, হেরি হেরি পড়ল ধন্ধ
মন্দ মন্দ হসন নন্দ নন্দন সুখকারী॥ মণি মাণিক নখ বিরাজ, চরণে নূপুর
মধুর বাজ, জগদানন্দ স্থলজলরূহ চরণক বলিহারী॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, রূপানুরাগ, ৫০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেহাগ - জপতাল॥

জয় জয় জয় বিজয়ী কুঞ্জে
.                                 বৃষভানু সুকুমারী॥
মঞ্জু বিকচ কুসুম-পুঞ্জ        
মধুপ-শবদ গঞ্জি গুঞ্জ        
কুঞ্জর-গতি গঞ্জি গমন        
.                                মঞ্জুল কুল নারী।
ঘন-গঞ্জন চিকুরপুঞ্জ        
মালতী ফুল মালে রঞ্জ        
অঞ্জন যুত কঞ্জ নয়নী        
.                                খঞ্জন-গতি হারী॥
কাঞ্চন-রুচি রুচির অঙ্গ।
অঙ্গে অঙ্গে ভরু অনঙ্গ        
কিঙ্কিণী কর-কঙ্কণ মৃদু        
.                                ঝঙ্কৃত মনোহারী।
নাচত যুগ ভুরু-ভুজঙ্গ।
কালি-দমন-দমন রঙ্গ        
সঙ্গিনী সব রঙ্গে পহিরি        
.                                রঙ্গিম নীল শাড়ী॥
দশন কুন্দ কুসুম নিন্দ        
বদন জিতল শরদ ইন্দু        
বিন্দু বিন্দু ছরমে ঘরমে
.                                প্রেম সিন্ধু প্যারী।
ললিত অধরে মিলিত হাস
দেহ দীপতে তিমির নাশ
নিরখি রূপ রসিক ভূপ        
.                                ভূলল গিরিধারী॥
অমরাবতী যুবতীবৃন্দ        
হেরি হেরি পড়ল ধন্ধ        
মন্দ মন্দ হসনা নন্দ-        
.                                নন্দন-সুখকারী।
মণি মাণিক নখ বিরাজ
কনক নূপুর মধুর বাজ
জগদানন্দ স্থল জল-রুহ
.                                চরণক বলিহারী॥

ই পদটি ১৩৩১বঙ্গাব্দে (১৯২৪) প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদ-সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
২৭০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

মঞ্জু বিকচ কুসুম পুঞ্জ        
মধুপ শবদ গুঞ্জি গুঞ্জ        
কুঞ্জর-গতি গঞ্জি গমন        
.                মঞ্জুল কুল-নারী।
ঘন-গঞ্জন চিকুর পুঞ্জ        
মালতী-ফুল-মালে রঞ্জ        
অঞ্জন-যুত কঞ্জ-নয়নী        
.                খঞ্জন-গতি হারী॥
নাচত যুগ ভুরু-ভুজঙ্গ
কালি-দমন-দমন রঙ্গ        
সঙ্গিনী সব রঙ্গে পহিরে        
.                রঙ্গিম নীল শাড়ী॥
দশন কুন্দ-কুসুম নিন্দু        
বদন জিতল শারদ ইন্দু        
বিন্দু বিন্দু ছরম ঘরমে
.                প্রেমসিন্ধু প্যারী।
কাঞ্চন রুচি রুচির অঙ্গ
অঙ্গে অঙ্গে ভরু অনঙ্গ        
কিঙ্কিণী কর-কঙ্কণ মৃদু        
.                ঝঙ্কৃত মনোহারী।
ললিতাধরে মিলিত হাস
দেহ-দীপতি তিমির নাশ
নিরখি রূপ রসিক-ভূপ        
.                ভূলল গিরিধারী॥
অমরাবতী যুবতিবৃন্দ        
হেরি হেরি পড়ল ধন্ধ        
মন্দ মন্দ হসনা নন্দ-        
.                নন্দন-সুখকারী।
মণি মাণিক নখ বিরাজ
কনক-নূপুর মধুর বাজ
জগদানন্দ থল-জল-রুহ
.                চরণক বলিহারী॥

ই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও
কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহগড়া রাগ - তাল চঞ্চুপুট॥

মঞ্জুবিকচ কুসুম পুঞ্জ, মধুপ শবদ গঞ্জি গুঞ্জ,
কুঞ্জরগতি গঞ্জিগমন, মঞ্জুল কুল নারী।
ঘন গঞ্জন চিকুর পুঞ্জ, মালতীফুল মালে রঞ্জ,
অঞ্জনযুত কঞ্জ নয়নী, খঞ্জন গতি হারী॥
কাঞ্চন রুচি রুচির অঙ্গ, অঙ্গে অঙ্গে ভরু অনঙ্গ,
কিঙ্কিণী কর কঙ্কণমৃদু, ঝঙ্কৃত মনোহারী।
নাচত যুগ ভুরু ভুজঙ্গ, কালি দমন-দমন রঙ্গ,
সঙ্গিনী সব রঙ্গে পহিরে, রঙ্গিল নীলশাড়ী॥
দশনকুন্দ-কুসুম নিন্দ, বদন জিতল শরদ ইন্দু,
বিন্দু বিন্দু ছরমে ঘরমে, প্রেম সিন্ধু প্যারী।
ললিতাধরে মিলিত হাস, দেহ দীপতি তিমির নাশ,
নিরখি রূপ-রসিক ভূপ, ভূলল গিরিধারী॥
অমরাবতী যুবতি বৃন্দ, হেরি হেরি পড়ল ধন্দ,
মন্দ মন্দ হসনা নন্দ-নন্দন সুখকারী।
মণি মাণিক নখ বিরাজ, কনক নূপুর মধুর বাজ,
জগদানন্দ থলজলরুহ, চরণক বলিহারী॥

ই পদটি ১৩৩১বঙ্গাব্দে (১৯২৪) প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদ-সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
২৭০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মঞ্জু বিকচ কুসুম-পুঞ্জ        
মধুপ শবদ গুঞ্জি গুঞ্জ        
কুঞ্জর-গতি গঞ্জি গমন        
.                মঞ্জুল কুল-নারী।
ঘন-গঞ্জন চিকুর পুঞ্জ        
মালতী-ফুল-মাল রঞ্জ        
অঞ্জন-যুত কঞ্জ-নয়নী        
.                খঞ্জন-গতি-হারী॥
নাচত যুগ ভুরু-ভুজঙ্গ        
কালী-দমন-দমন রঙ্গ        
সঙ্গিনী সব রঙ্গে পহিরে        
.                রঙ্গিম নীল শাড়ী॥
দশন কুন্দ-কুসুম নিন্দু        
বদন জিতল শারদ ইন্দু        
বিন্দু বিন্দু ছরম ঘরমে
.                প্রেমসিন্ধু প্যারী।
কাঞ্চন রুচি রুচির অঙ্গ
অঙ্গে অঙ্গে ভরু অনঙ্গ        
কিঙ্কিণী কর-কঙ্কণ মৃদু        
.                ঝঙ্কৃত মনোহারী।
ললিতাধরে মিলিত হাস        
দেহ দীপতি তিমির নাশ        
নিরখি রূপ রসিক-ভূপ
.                ভূলল গিরিধারী॥
অমরাবতী যুবতিবৃন্দ        
হেরি হেরি পড়ল ধন্ধ        
মন্দ মন্দ হসনা নন্দ-        
.                নন্দন-সুখকারী।
মণি মাণিক নখ বিরাজ
কনক-নূপুর মধুর বাজ
জগদানন্দ থল-জল-রুহ
.                চরণক বলিহারি॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত “বৈষ্ণব পদাবলী” নামক বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন, ১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মঞ্জু বিকচ কুসুম-গুঞ্জ        
মধুপ-শবদ গঞ্জি গুঞ্জ        
কুঞ্জর-গতি গঞ্জি গমন        
.                মঞ্জুল কুলনারী।
ঘন-গঞ্জন চিকুর-পুঞ্জ        
মালতী-ফুল-মাল রঞ্জ        
অঞ্জন-যুত কঞ্জ-নয়নী        
.                খঞ্জন-গতি-হারী॥
কাঞ্চন-রুচি রুচির অঙ্গ
অঙ্গে অঙ্গে ভরু অনঙ্গ        
কিঙ্কিণী করকঙ্কণ মৃদু        
.                ঝঙ্কৃত মনোহারী।
নাচত যুগ ভুরু-ভুজঙ্গ
কালিয়দমন-দমন-রঙ্গ        
সঙ্গিনী সব রঙ্গে পহিরে        
.                রঙ্গিল নীল শাড়ী॥
দশন কুন্দ-কুসুম নিন্দু        
বদন জিতল শারদ ইন্দু        
বিন্দু বিন্দু ছরমে ঘরমে
.                প্রেমসিন্ধু প্যারী।
অমরাবতী-যুবতিবৃন্দ        
হেরি হেরি পড়ল ধন্ধ        
মন্দ মন্দ হসনানন্দ-        
.                নন্দন সুখকারী।
মণি-মাণিক নখে বিরাজ
কনক-নূপুর মধুর বাজ
জগদানন্দ থল-জলরুহ
.                চরণকি বলিহারী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৮৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার অভিসার
॥ তথারাগ॥

মঞ্জু বিকচ কুসুমপুঞ্জ
মধুপ শবদ গুঞ্জ গুঞ্জ
কুঞ্জরগতি গঞ্জি গমন মঞ্জুল কুলনারী।
ঘনগঞ্জন চিকুরপুঞ্জ
মালতীফুলমালে রঞ্জ
অঞ্জনযূত কঞ্জনয়ন খঞ্জনগতিহারী॥
কাঞ্চনরুচি রুচির অঙ্গ
অঙ্গে অঙ্গে ভরু অনঙ্গ
কিঙ্কিণী কর-কঙ্কণ মৃদু ঝঙ্কৃত মনুহারী।
নাচত যুগ ভ্রূ-ভূজঙ্গ
কালিদমন-দমন রঙ্গ
সঙ্গিনী সব রঙ্গে পহিরে রঙ্গিল নীল শাড়ী॥
দশন কুন্দ কুসুম নিন্দু
বদন জিতল শরদ ইন্দু
বিন্দু বিন্দু ছরমে ঘরমে প্রেমসিন্ধু প্যারী।
ললিতাধরে মিলিত হাস
দেহ-দীপতি তিমির-নাশ
নিরখি রূপ রসিকভূপ ভূলল গিরিধারী॥
অমরাবতী যুবতিবৃন্দ
হেরি হেরি পড়ল ধন্দ
মন্দ মন্দ হসনা নন্দ-নন্দন-সুখকারী।
মণিমাণিক নখবিরাজ
কনক-নূপুর মধুর বাজ
জগদানন্দ থল-জলরুহ-চরণক বলিহারি॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী
সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মঞ্জু বিকচ কুসুম-পুঞ্জ        
মধুপ-শব্দ গঞ্জি গুঞ্জ        
কুঞ্জর-গতি গঞ্জি গমন        
.                                মঞ্জুল কুল নারী।
ঘন-গঞ্জন চিকুর-পুঞ্জ        
মালতী ফুল-মাল রঞ্জ        
অঞ্জন-যুত কঞ্জ-নয়নী        
.                                খঞ্জন-গতি হারী॥
কাঞ্চন-রুচি রুচির অঙ্গ        
অঙ্গে অঙ্গে ভরু অনঙ্গ        
কিঙ্কিণী করকঙ্কণ মৃদু        
.                                ঝঙ্কৃত মনোহারী।
নাচত যুগ ভুরু-ভুজঙ্গ।
কালিয়দমন-দমন-রঙ্গ        
সঙ্গিনী সব রঙ্গে পহিরে        
.                                রঙ্গিল নীল শাড়ী॥
দশন কুন্দ-কুসুম নিন্দু        
বদন জিতল শরদ ইন্দু        
বিন্দু বিন্দু ছরমে ঘরমে
.                                প্রেমসিন্ধু প্যারী।
অমরাবতী-যুবতীবৃন্দ        
হেরি হেরি পড়ল ধন্ধ        
মন্দ মন্দ হসনানন্দ        
.                                নন্দন-সুখকারী।
মণি-মানিক নখে বিরাজ
কনক-নূপুর মধুর বাজ        
জগদানন্দ থল-জলরুহ
.                                চরণকি বলিহারি॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”,
১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীমতী রাধার অভিসারে রূপ বর্ণনা

জয় জয় জয় বিজয়ী কুঞ্জে বৃষভানু সুকুমারী।
( জয় হউক ভানুনন্দিনীর জয় হউক মোহন কুঞ্জবিহীরূর জয় হউক )

মুঞ্জ বিকচ কুসুম পুঞ্জ মধুপ শব্দ গুঞ্জ গুঞ্জ।
কুঞ্জর গতি গঞ্জি গমন গমন মঞ্জুল কুলনারী।
( হেলে দুলে চলেছে রে, সুবেশিনী নারীকুল বিকশিত কুসুম কুঞ্জে হেলে দুলে চলেছে রে )
মঞ্জুল কুলনারী।
ঘন গঞ্জন চিকুর পুঞ্জ মালতী ফুল মালে রঞ্জ
অঞ্জন যুত কঞ্জনয়ন খঞ্জন গতিহারী।
( হার মেনেছে, গতিহাক হার মেনেছে, খঞ্জনের গতি হাক মেনেছে )
খঞ্জন গতিহারী।
কাঞ্চন রুচি রুচির অঙ্গ অঙ্গে অঙ্গে ভরু অনঙ্গ
কিঙ্কিণী করকঙ্কণ মৃদু ঝঙ্কৃত মনোহারী।
( হেলে দুলে চলে যেতে কঙ্কন কিঙ্কিনী বাজে, অনঙ্গ ভালা সোনার অঙ্গ কিঙ্কিনী বাজে )
ঝঙ্কৃত মনোহারী।
নাচত যুগভুরু ভূজঙ্গ কালিয় দমন দমন রঙ্গ
সঙ্গিনী সব রঙ্গ পরিহি রঙ্গিন নীল সাড়ী।
( কালিয়ে দমন কে দমন করে, এমনি ধনির ভুরুর ভঙ্গি কালিয় দমনকে দমন করে )
রঙ্গিন নীল সাড়ী।
দশন কুন্দ কুসুম নিন্দু বদন জিতল শরদ ইন্দু
বিন্দু বিন্দু ছরমে ঘরমে প্রেম সিন্ধু প্যারী।
( বিন্দু বিন্দু ঘাম ঝরে, কুন্দদশনা ইন্দু মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম ঝরে )
প্রেম সিন্ধু প্যারী।
ললিত অধরে মিলিত হাস দেহ দীপতে তিমির-নাশ,
নিরখি রূপ রসিক ভুপ ভুলল গিরিধারী।
( গিরিধারী ভুলিল রে, ললিতাধরে হাসি দেখে গিরিধারী ভুলিল রে )
ভুলল গিরিধারী।
অমরাবতী যুবতিবৃন্দ হেরি পড়ল ধন্দ
মন্দ মন্দ হসনা নন্দ নন্দন সুখকারী।
( রূপ দেখে ভুলল রে, অমরাবতী যুবতিবৃন্দ রূপ দেখে ভুলল রে )
নন্দন সুখকারী।
মণি মাণিক নখ বিরাজে কনক নূপুর মধুর বাজে
জগদানন্দ স্থল জলরুহ চরণক বলিহারী।
( ঐ চরণের বালাই যাইরে, বৃষভানু নন্দিনীর ঐ চরণের বালাই যাইরে, স্থল পদ্মের ন্যায় এভয় চরণ ঐ
চরণের বালাই যাইবে )
চরণক বলিহারী।

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদরত্নাবলী”, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মঞ্জু বিকচ কুসুমপুঞ্জ                                
মধুপ-শবদ গঞ্জি গুঞ্জ                                
কুঞ্জর-গতি গঞ্জি গমন                মঞ্জুল কুলনারী॥
ঘন-গঞ্জন চিকুরপুঞ্জ                                
মালতী-ফুল-মাল রঞ্জ                                
অঞ্জন-যুত কঞ্জনয়নী                খঞ্জনগতিহারী॥
কাঞ্চন-রুচি রুচির অঙ্গ                                
অঙ্গে অঙ্গে ভরু অনঙ্গ                                
কিঙ্কিণী কর-কঙ্কণ মৃদু                ঝঙ্কৃত মনোহারী॥
নাচত যুগ ভ্রূ-ভূজঙ্গ                                
কালিয়দমন-দমন রঙ্গ                                
সঙ্গিনী সব রঙ্গে পহিরে                রঙ্গিল নীল শাড়ী॥
দশন কুন্দ-কুসুম নিন্দু                                
বদন জিতল শরদ ইন্দু                                
বিন্দু বিন্দু ছরমে ঘরমে                প্রেমসিন্ধু প্যারী॥
ললিতাধরে মিলিত হাস                                
দেহ-দীপতি তিমির-নাশ                                
নিরখিরূপ রসিকভূপ                ভূলল গিরিধারী॥
অমরাবতী-যুবতিবৃন্দ                                
হেরি হেরি পড়ল ধন্দ                                
মন্দ মন্দ হসনা নন্দ                নন্দন-সুখকারী॥
মণিমাণিক নখে বিরাজ                                
কনক-নূপুর মধুর বাজ                                
জগদানন্দ থল-জলরুহ                চরণক বলিহারি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মঞ্জু বিকচ কুসুমপুঞ্জ                        
মধুপ শবদ গুঞ্জ গুঞ্জ                        
কুঞ্জরগতি গঞ্জি গমন মঞ্জুল কুলনারী।        
ঘনগঞ্জন চিকুরপুঞ্জ                        
মালতীফুলমালে রঞ্জ                        
অঞ্জনযূত কঞ্জনয়ন খঞ্জনগতিহারী॥        
কাঞ্চনরুচি রুচির অঙ্গ                        
অঙ্গে অঙ্গে ভরু অনঙ্গ                        
কিঙ্কিণী কর কঙ্কণ মৃদু ঝঙ্কৃত মনুহারী।        
নাচত যুগ ভ্রূ ভূজঙ্গ                        
কালিদমন দমন রঙ্গ                        
সঙ্গিনী সব রঙ্গে পহিরে রঙ্গিল নীল শাড়ী॥
দশন কুন্দ কুসুম নিন্দু                        
বদন জিতল শরদ ইন্দু                        
বিন্দু বিন্দু ছরমে ঘরমে প্রেমসিন্ধু প্যারী।
ললিতাধরে মিলিত হাস                        
দেহ দীপতি তিমির নাশ                        
নিরখি রূপ রসিকভূপ ভূলল গিরিধারী॥        
অমরাবতী যুবতিবৃন্দ                        
হেরি হেরি পড়ল ধন্দ                        
মন্দ মন্দ হসনা নন্দ নন্দন সুখকারী।        
মণিমাণিক নখবিরাজ                        
কনক নূপুর মধুর বাজ                        
জগদানন্দ থল জলরুহ চরণক বলিহারি॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অবিরত ঝর ঝর বরিখত জলধর
অবিরত বাদর বরিখত দরদর
ভণিতা জগদানন্দ
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অবিরত ঝর ঝর বরিখত জলধর বহই তরলতর বাত।
বিষধরনিকর ভরল পথ পর অজর বজরনিপাত॥
হরি হরি কৈছে চলবি কুহু রাতি। ধুয়া॥
অজরক কন্টক সঙ্কট পন্থক মার গআরক রাতি॥
জো পদ সবদ গঞ্জে কোকনদ তুলি পরসে সিতকার।
উচ নীচ বিচকিচ অব সো পদ অব কাহে করবি সঞ্চার॥
ঘর পুর চৌকি নগর পুর বাহির গুরু দুরুজন দুরবার।
শুনইতে অন্তর হোয়ত জর জর জগদানন্দ নাচার॥

ই পদটি ১৩৩১বঙ্গাব্দে (১৯২৪) প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদ-সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
২৯৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

[অথ প্রকারান্তরং যথা]
[বর্ষা-তিমির]
॥ কল্যাণী রাগ॥

অবিরত বাদর                    বরিখত দর দর
বহই তরলতর বাত।
বিষধর-নিকর                 ভরল পথ অরু কত
অজর বজর বিনিপাত॥
হরি হরি কৈছে চলব কুহু-রাতি।
না বুঝত কন্টক                        সঙ্কট বাটহি
মার গোঙার বর রাতি॥
যো পদ শরদ                       কোকনদ দলহি
ধূলি পরশে সীতিকার।
উচ নীচ কিচ                     বীচ অব সো পদ
কৈছনে করব সঞ্চার॥
চলইতে চঙকি                    নগর পুর বাহির
গুরু দুরুজন দুরবার।
গতি অতি গোপত             বেকত ভয়ে ভাবিত
জগদানন্দ নাচার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার বর্ষাভিসার
॥ তথারাগ॥

অবিরত বাদর                     বরিখত দরদর
বহই তরলতর বাত।
বিষধর-নিকর                 ভরল পথ অরু কত
অজর বজর বিনিপাত॥
হরি হরি কৈছে চলব কুহু-রাতি।
না বুঝত কন্টক                      সঙ্কট বাটহিঁ
মার গোঙারবর সাথি॥
যো পদ শরদ-                      কোকনদ দলহিঁ
ধূলি-পরশে সীতকার।
উচ নীচ কিচ                     বীচ অব সো পদ
কৈছনে করব সঞ্চার॥
চলইতে চঙকি                      নগর পুরবাহির
গুরু দুরুজন দুরবার।
গতি অতি গোপত             বেকত ভয়ে ভাবিত
জগদানন্দ নাচার॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অবিরত বাদর বরিখত দরদর                     
বহই তরলতর বাত।
বিষধর নিকর ভরল পথ অরু কত                
অজর বজর বিনিপাত॥
হরি হরি কৈছে চলব কুহু রাতি।                   
না বুঝত কন্টক সঙ্কট বাটহিঁ                        
মার গোঙারবর সাথি॥
যো পদ শরদ কোকনদ দলহিঁ                       
ধূলি পরশে সীতকার।
উচ নীচ কিচ বীচ অব সো পদ                     
কৈছনে করব সঞ্চার॥
চলইতে চঙকি নগর পুরবাহির                     
গুরু দুরুজন দুরবার।
গতি অতি গোপত বেকত ভয়ে ভাবিত            
জগদানন্দ নাচার॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ক্রোড়ে মিলল ব্রজদুলালী
ক্রোড়ে মিলিল ব্রজদুলালী
ভণিতা জগদানন্দ দাস
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০
সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত
“শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানসী॥

ক্রোড়ে মিলল, ব্রজ দুলালী পড়ু মুরলী খসিয়া। নবীন কুঞ্জে কুসুমপুঞ্জে
হায় কোকিলা বসিয়া॥ ধনি মুখে সুধার কূপে মুখ আরোপই পিয়াসে। ললিত
নেত্র, হেরই হানয়ে নিত্য, চাঁদের তুলনা কিবা সে॥ দোঁহার হয়েছে শোভা, রবি যে
ঝলকে রাগেরে। ঝলকে বালা, বিজুরী মালা, জলদ-কালার শরীরে॥ কো কহু
অতি, রতি আরতি, দুহুক পিরীতি রসিয়া। জগদানন্দ দাসের মন, প্রেমে যায় ত
ভাসিয়া॥


ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিলন
॥ তথারাগ॥

ক্রোড়ে মিলল ব্রজদুলালী
.        পড়ু মুরলী খসিয়া।
কুসুমপুঞ্জ নবীন কুঞ্জে
.        গাওত কোকিলা রসিয়া॥
রাই ধনি মুখে সুধা কূপে কানু
.        মুখ আরোপই পিয়াসে।
ললিতনেত্র হেরই নিত্য
.        চাঁদের তুলনা কিবা সে॥
দুহুঁক মিলনে মরি মরি শোভা
.        রবি যে ঝলকে রঙ্গে রে।
ঝলকত বালা বিজুলীক মালা
.        জলদ-কালার অঙ্গে রে॥
কো কহু অতি রতি আরতি
.        দুহুঁক পিরীতি রসিয়া।
জগদানন্দ দাসক মন
.        প্রেমে যাওত ভাসিয়া॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ক্রোড়ে মিলিল ব্রজদুলালী
.        পড়ু মুরলী খসিয়া।
কুসুমপুঞ্জ নবীন কুঞ্জে
.        গাওত কোকিলা রসিয়া॥
রাই ধনি মুখে সুধা কূপে কানু
.        মুখ আরোপই পিয়াসে।
ললিতনেত্র হেরই নিত্য
.        চাঁদের তুলনা কিবা সে॥
দুহুঁক মিলনে মরি মরি শোভা
.        রবি যে ঝলকে রঙ্গে রে।
ঝলকত বালা বিজুলীক মালা
.        জলদ কালার অঙ্গে রে॥
কো কহু অতি রতি আরতি
.        দুহুঁক পিরীতি রসিয়া।
জগদানন্দ দাসক মন
.        প্রেমে যাওত ভাসিয়া॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যছু তনু অরুণকিরণ নাহি পরশন
ভণিতা জগদানন্দ
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিপ্রলব্ধা
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি সখীর উক্তি
॥ তথারাগ॥

যছু তনু অরুণকিরণ নাহি পরশন
.        আঙ্গিনা বাহিরে বহু ভাগি।
সো কুলবতি ধনি কুঞ্জে একাকিনী
.        অবহুঁ রহত নিশি জাগি॥
.        মাধব এ তুয়া কৈছন রীত।
পিরীতিক পন্থ কণ্টক দেই রোধলি
.        তোহে পুন এ নহে উচিত॥
সহজে সোহাগিনি সুখ বিনু দুখমুখ
.        জনম অবধি নাহি জান।
দীঘ নিশাসে বদনবিধু ঝামর
.        হেরইতে না রহে পরাণ॥
দারুণ খরতর বিষম কুসুমশর
.        ঘাতে ধরনি গড়ি যায়।
চলহ তুরিতে হরি সতৃণ দন্তে করি
.        জগদানন্দ ধরু পায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যছু তনু অরুণকিরণ নাহি পরশন
.        আঙ্গিনা বাহিরে বহু ভাগি।
সো কুলবতি ধনি কুঞ্জে একাকিনী
.        অবহুঁ রহত নিশি জাগি॥
মাধব এ তুয়া কৈছন রীত।
পিরীতিক পন্থ কণ্টক দেই রোধলি
.        তোহে পুন এ নহে উচিত॥
সহজে সোহাগিনি সুখ বিনু দুখমুখ
.        জনম অবধি নাহি জান।
দীঘ নিশাসে বদনবিধু ঝামর
.        হেরইতে না রহে পরাণ॥
দারুণ খরতর বিষম কুসুমশর
.        ঘাতে ধরনি গড়ি যায়।
চলহ তুরিতে হরি সতৃণ দন্তে করি
.        জগদানন্দ ধরু পায়॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ইতি উতি গুপত গতাগতি নিতি নিতি
ভণিতা জগদানন্দ
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

ইতি উতি গুপত                গতাগতি নিতি নিতি
ধনিমণি অব সব জান।
ধৈরজবতি অতি                চপল তোহারি রীতি
শ্রুত অশ্রুত করি মান॥
মাধব ইথে কিএ দোখব রাই।
রাতি রতি সাখি                     আঁখিযুগ ঢুলুঢুলু
প্রাতরে মীললি আই॥
চুম্বনে-সরস-                        অধর-অতি-নীরস
আর তাহে রাতি বিহান।
পামরি-ভুকত                      মুকুত-অবশেষ কি
কুলবতি পিবইতে মান॥
অপরশি পরশি                   পরশমণি পরশিতে
পুন যদি আওবি কান।
যমুনা অব                        অবগাহন সমুচিত
জগদানন্দ তোহে ভাণ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ইতি উতি গুপত গতাগতি নিতি নিতি               
ধনিমণি অব সব জান।
ধৈরজবতি অতি চপল তোহারি রীতি                
শ্রুত অশ্রুত করি মান॥
মাধব ইথে কিএ দোখব রাই।                         
রাতি রতি সাথি আঁখিযুগ ঢুলুঢুলু                     
প্রাতরে মীললি আই॥
চুম্বনে সরস অধর অতি নীরস                        
আর তাহে রাতি বিহান।
পামরি ভুকত মুকুত অবশেষ কি                    
কুলবতি পিবইতে মান॥
অপরশি পরসি পরশমণি পরশিতে                   
পুন যদি আওবি কান।
যমুনা অব অবগাহন সমুচিত                          
জগদানন্দ তোহে ভাণ॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তুহুঁ নতি সাখি রাখি যব আওলি
ভণিতা জগদানন্দ দাস
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কলহান্তরিতা
শ্রীকৃষ্ণের প্রাতি সখীর উক্তি
॥ তথারাগ॥

তুহুঁ নতি সাখি রাখি যব আওলি
.        চরণ উপরি অবতংস।
তবধরি সুন্দরি চিবুকে অঁগুলি ধরি
.        দশনে অধর করু দংশ॥
মাধব ঐছন পেখলি গোরি।
নাসা শিখরে নয়নযুগ বিলসই
.        অনত গতাগতি ছোড়ি॥
মৃগমদে তনু অনুরঞ্জন মঞ্জন
.        অঞ্জনে কঞ্জ-নয়ান।
কিএ মঘবনমণি-হার তেজল ধনি
.        নীল বসন পরিধান॥
কিছুই না রোচই কত দুখে শোচই
.        মোচই মুহুমুহু শ্বাস।
অপরশ সদয় হৃদয়মাহ সমুঝহ
.        ভণ জগদানন্দ দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তুহুঁ নতি সাখি রাখি যব আওলি
.        চরণ উপরি অবতংস।
তবধরি সুন্দরী চিবুকে অঁগুলি ধরি
.        দশনে অধর করু দংশ॥
মাধব ঐছন পেখলি গোরি।
নাসা শিখরে নয়নযুগ বিলসই
.        অনত গতাগতি ছোড়ি॥
মৃগমদে তনু অনুরঞ্জন মঞ্জন
.        অঞ্জনে কঞ্জ নয়ান।
কিএ মঘবনমণি হার তেজল ধনি
.        নীল বসন পরিধান॥
কিছুই না রোচই কর দুখে শোচই
.        মোচই মুহুমুহু শ্বাস।
অপরশ সদয় হৃদয়মাহ সমুঝহ
.        ভণ জগদানন্দ দাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাধে জয় জয় বলিয়ে সারী
রাধে জয় জয় বলিএ শারী
ভণিতা জগদানন্দ
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
সেবা আরতি ও কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাধে জয় জয় বলিয়ে সারী, নিধুবন ভরি গাজে।
নিধুবন ভরি গাজে সারী বৃন্দাবন ভরি গাজে॥
.        সারি বলে শুক, তোমারে কই,
.        রুপেতে কিশোরী হইল জয়ী,
কানু-মনোহরা, রাধিকা-মূরতি, পরাভব নটরাজে।
.        নীল ওড়নী ঘুমুটা টাননী,
.        কোটি শশী ডিনি বদনখানি,
চরণে নূপুর, অতি সুমধুর, রুনু ঝুনু ঝুনু বাজে॥
.        আবির গোলাল, পাশা জলকেলী,
.        সকল সমরে তব বনমালী,
জিনিবারে না পারে, আমার রাইরে, হারিল সখীর মাঝে॥
.        নিধুববে রাজা, যে দিনে কিশোরী.
.        কোটালিয়া কর্ম্ম করেছিল হরি,
দোহাই শ্রীরাধার, বলে বার বারস নিয়েজিত নিজ কাজে॥
.        তোমার যে নাগর গোঠে মাঠে ফিরে,
.        রাখালিয়া খ্যাতি এই ব্রজপুরে,
আমার কিশোরী, রাজার ঝিয়ারী, সখীগণে যাকে পূজে॥
.        মৃগ পক্ষ আদি, যত তরুলতা,
.        নিজ সমরূপ ধরাইল রাধা,
তোমার নাগর, হইয়া গউর, লুকাইল সখী মাঝে।
.        যে দিনেতে রাধা, করেছিল মান,
.        চরণে ধরিয়া সেধেছিল কাণ,
গলে পীতবাস, রাই পদ ধরে, সেধেছিল কোন লাজে॥
.        শুক বলে সারি না কর দ্বন্দ্ব,
,        দোঁহে সমতুল, কে বলে মন্দ,
হেরিয়া ধন্দ জগদানন্দ, রসবতী রসরাজে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শারী কর্তৃক রাধাগুণ কখন
॥ তথারাগ॥

রাধে জয় জয় বলিএ শারী
.        নিধুবন ভরি গাজে।
নীল ওঢ়নি মুকুট-টালনি
বদন সে রাকা শশধর জিনি
চরণ-নূপুর মধুর মধুর
.        রুনু ঝুনু ঝুনু বাজে॥
শারী বলে শুক তোমারে কই
রুপেতে কিশোরী হইল জয়ী
কানু-মনোহরা রাধিকা-মূরতি
.        পরাভব নটরাজে।
আবীর কুসম পাঁশা জলকেলি
সে সব সমরে তব বনমালী
জিনিবারে নারে রাইপদ ধরি
.        হারিয়াছে সখীমাঝে॥
মোদের কিশোরী রাজার কুমারী
.        সব সখীগণ পূজে।
তোমার নাগর রাখাল খেয়াতি
.        সদা থাকে গোঠ মাঝে॥
মৃগ পাখী আদি তরুলতা যত
করিল শ্রীমতী নিজ রূপমত
তোমার নাগর হইল গৌর
.        লুকাওল সখীমাঝে।
যেইদিন রাধা করিল মান
দাসখত লিখি দিয়াছে শ্যাম
তার সাথী আছে শুনহে শুক
.        নিশিশেষে পিক রাজে॥
শুক কহে শারি কি কর দ্বন্দ্ব
দোঁহে সম গুণে কে বলে মন্দ
জগদানন্দ পরমানন্দ
.        রসবতী রসরাজে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাধে জয় জয় বলিএ শারী
.                নিধুবন ভরি গাজে।
নীল ওঢ়নি মুকুট টালনি
বদন সে রাকা শশধর জিনি
চরণ নূপুর মধুর মধুর
.                রুনু ঝুনু ঝুনু বাজে॥
শারী বলে শুক তোমারে কই
রুপেতে কিশোরী হইল জয়ী
কানু মনোহরা রাধিকা মূরতি
.                পরাভব নটরাজে।
আবীর কুসম পাশা জলকেলি
সে সব সমরে তব বনমালী
জিনিবারে নারি রাইপদ ধরি
.                হারিয়াছে সখীমাঝে॥
মোদের কিশোরী রাজার কুমারী
.                সব সখীগণ পূজে।
তোমার নাগর রাখাল খেয়াতি
.                সদা থাকে গোঠ মাঝে॥
মৃগ পাখী আদি তরুলতা যত
করিল শ্রীমতী নিজ রূপমত
তোমার নাগর হইল গৌর
.                লুকাওল সখীমাঝে।
যেইদিন রাধা করিল মান
দাসখত লিখি দিয়াছে শ্যাম
তার সাথী আছে শুনহে শুক
.                নিশিশেষে পিক রাজে॥
শুক কহে শারি কি কর দ্বন্দ্ব
দোঁহে সম গুণে কে বলে মন্দ
জগদানন্দ পরমানন্দ
.                রসবতী রসরাজে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর