কবি জগদানন্দের বৈষ্ণব পদাবলী
*
কেনে গেলাম যমুনার জলে
কেন গেলাম জল ভরিবারে
কেন গেলাম যমুনার জলে
সজনি গো কেন গেলাম যমুনার জলে
কেনে গেলাঙ যমুনার জলে
সই কেনে গেলাম যমুনার জলে
ভণিতা জগদানন্দ দাস
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, রূপানুরাগ, ৫১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ করুণ কেদার - ডাঁশপাহিড়া॥

কেনে গেলাম যমুনার জলে।
নন্দের দুলাল চাঁদ                        পাতিয়া রূপের ফাঁদ
ব্যাধছলে কদম্বের @@@@@
দিয়া হাস্য-সুধা চার                        অঙ্গছটা আঁটা তার
আঁখি-পাখী তাহাতে পড়িল।
মন-মৃগী সেই কালে                        পড়িল রূপের জালে
শূন্য দেহ পিঞ্জর রহিল॥
লজ্জাশীল হেমাগার                       গুরু গৌরব সিংহদ্বার
ধরম কপট ছিল তায়।
বংশী-রব বজ্রাঘাতে                      পড়ি গেল অকস্মাতে
সমভূমি করিল আমায়॥
গর্ব্বশালে মত্ত হাতী                       বান্ধা ছিল দিবা রাতি
ক্ষিপ্ত কৈল কটাক্ষ-অঙ্কুশে।
দম্ভের শিকল কাটি                         চারিদিকে যায় ছুটি
না পাইলাম তাহার উদ্দেশে॥
কালিয়া কুটিল বাণে                         কুল শীল ধরি টানে
অতয়ে উঠিল ব্রজবাস।
প্রাণ মাত্র আছে বাকী                        তাহা বুঝি যায় সখী
ভণে জগদানন্দ দাস॥

@@@@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ১৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি “শুন গো মরম সই” পদটির প্রথম চারটি পংক্তির
পরে অংশ। তবুও আমরা দুটিকে আলাদা পদ হিসেবে রাখছি।

॥ কামোদ॥

কেন গেলাম যমুনার জলে।
নন্দের দুলাল চাঁদ                        পাতিয়া রূপের ফাঁদ
ব্যাধ ছলে কদম্বের তলে॥ ধ্রু॥
দিয়ে হাস্য সুধা-চার                      অঙ্গ ছটা আঠা তার
আঁখি পাখী তাহাতে পড়িল।
মন মৃগী সেই কালে                        পড়িল রূপের জালে
শূন্য দেহ পিঞ্জর রহিল॥
লজ্জা ছিল হেমাগার                      গুরু গৌরব সিংহদ্বার
ধরম কপট ছিল তায়।
বংশীরব বজ্রাঘাতে                        পড়ি গেল অকস্মাতে
সমভূমি করিল আমায়॥
ধৈর্য্য শালে মত্ত হাতী                     বান্ধা ছিল দিবা রাতি
ক্ষিপ্ত কৈল কটাক্ষ অঙ্কুশে।
দম্ভের শিকল কাটি                           পালাইয়া গেল ছুটী
না পাইলাম তাহার উদ্দেশে॥
কালিয়া কুটিল বাণে                        কুল শীল ধরি টানে
অতয়ে উঠিল ব্রজবাস।
প্রাণ মাত্র আছে বাকি                   তাহাও বুঝি যায় সখি
ভণয়ে জগদানন্দ দাস॥

ই পদটি ১৩৩১বঙ্গাব্দে (১৯২৪) প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদ-সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
৭০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

কেন গেলাঙ যমুনার জলে।
নন্দের দুলাল চান্দ                পাতিয়া রূপের ফান্দ
ব্যাধ ছলে কদম্বের তলে॥
দিয়া হাস্য-সুধা-চার                অঙ্গ-ছটা-আঠা তার
আঁখি-পাখী তাহাতে পড়িল।
মন-মৃগী সেই কালে                পড়িল রূপের জালে
শূন্য দেহ-পিঞ্জর রহিল॥
লজ্জা-ছিল-হৈমাগার              গুরু-গৌরব-সিংহদ্বার
ধরম-কপট ছিল তায়।
বংশীধ্বনি-বজ্রাঘাতে               পড়ি গেল আচম্বিতে
সম ভূম করিল আমায়॥
গর্ব্ব-শালে মত্ত হাতী              বান্ধা ছিল দিবা রাতি
ক্ষিপ্ত হৈল কটাক্ষ-অঙ্কুশে।
দম্ভের শিকল কাটি                  চতুর্দ্দিগে যায় ছুটি
পলাইয়া দেল কোন্ দেশে॥
কালিয়া-ত্রিভঙ্গ বাণে                  কুল শীল সব হানে
আমার উঠিল ব্রজের বাস।
অবশেষে প্রাণ বাকী                তাও বুঝি যায় সখি
ভাবয়ে জগদানন্দ দাস॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৯৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি গাঁড়াদহের পুথি থেকে প্রাপ্ত।

আক্ষেপ-অনুরাগ
॥ ধানশী॥

কেন গেলাম জল ভরিবারে।
নন্দের দুলাল চাঁদ                       পাতিয়া রূপের ফাঁদ
ব্যাধ ছিল কদম্বের তলে॥ ধ্রু॥
দিয়া হাস্য-সুধা চার                      অঙ্গ-ছটা আটা তার
আঁখি-পাঁখি তাহাতে পড়িল।
মন-মৃগী সেই কালে                        পড়িল রূপের জালে
শূন্য দেহ-পিঞ্জর রহিল॥
চিত্ত শালে ধৈর্য্য-হাতী                   বান্ধা ছিল দিবা-রাতি
ক্ষিপ্ত হৈল কটাক্ষ-অঙ্কুশে।
দম্ভের শিকলি কাটি                      চারি দিকে গেলা @@
পলাইয়া গেল কোন দেশে॥
ছিল লজ্জা-হেমাগার                      গুরু-গৌধব সিংহদ্বার
ধরম কপাট ছিল তায়।
বংশীধ্বনি বজ্র-পাতে                     পড়ি গেল অকস্মাতে
সম-ভূমি করিল আমায়॥
কালিয়া ত্রিভঙ্গ-বাণে                       কুল-ভয় কোন স্থানে
ডুবিল উঠিল ব্রজের বাস।
অবশেষে প্রাণ বাকি                      তাও পাছে যায় নাকি
ভাবয়ে জগদানন্দ দাস॥

@@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী রাগিণী - তাল গঞ্জল॥

কেন গেলাম যমুনার জলে। নন্দের দুলাল চাঁদ, পাতিয়া
রূপের ফাঁদ, ব্যাধ ছলে কদম্বের তলে॥ দিয়া হাস্য সুধাচার,
অঙ্গ ছটা আঠা তার, আঁখি পাখি তাহাতে পড়িল। মনোমৃগী
হেন কালে, পড়িল রূপের জালে, শূন্য দেহ-পিঞ্জর রহিল॥ লজ্জা
ছিল হেমাগার, গুরু গৌরব সিংহদ্বার, ধরম কপাট ছিল তায়।
বংশীরব বজ্রাঘাতে, পড়ি গেল অকস্মাৎ, সমভূমি করিল আমায়॥
ধৈর্য্যশালে মত্ত হাতী, বান্ধা ছিল দিবারাতি, ক্ষিপ্ত কৈল
কটাক্ষ অঙ্কুশে। দম্ভের শিকলি কাটি, পলাইয়া দেল ছুটি, না
পাইলাম তাহার উদ্দেশে॥ কালিয়া কুটিল বাণে, কুলশীল ধরি
টানে, অতএ উঠিল ব্রজবাস। প্রাণমাত্র আছে বাকি, তাহাও
বুঝি যায় সখী, ভণয়ে জগদানন্দ দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৮৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার আক্ষেপানযরাগ
॥ তথারাগ॥

সজনি গো কেন গেলাম যমুনার জলে।
নন্দের দুলাল চাঁদ                        পাতিয়া রূপের ফাঁদ
ব্যাধ ছিল কদম্বের তলে॥
দিয়ে হাস্য সুধা-চার                       অঙ্গছটা আঠা তার
আঁখি-পাখি তাহাতে পড়িল।
মনমৃগী সেই কালে                        পড়িল রূপের জালে
শূন্য দেহ-পিঞ্জর রহিল॥
চিত্তশালে ধৈর্য্য হাতী                    বান্ধা ছিল দিবা রাতি
ক্ষিপ্ত হৈল কটাক্ষ-অঙ্কুশে।
দম্ভের শিকল কাটি                        চারদিকে গেল ছুটি
পলাইয়া গেল কোন দিশে॥
লজ্জাশীল হেমাগার                      গুরুগৌরব সিংহদ্বার
ধরম কবাট ছিল তায়।
বংশীধ্বনি বজ্রাঘাতে                     পড়ি গেল অকস্মাতে
সমভূমি করিল আমায়॥
কালিয় ত্রিভঙ্গ বাণে                       কুল মান কোন খানে
ডুবিল উঠিল ব্রজের বাস।
অবশেষে প্রাণ বাকী                    তাও পাছে যায় নাকি
ভণয়ে জগদানন্দ দাস॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী
সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সই, কেনে গেলাম যমুনার জলে।
নন্দের নন্দন চাঁদ                        পাতিয়া রূপের ফাঁদ
ব্যাধ ছিল কদম্বের তলে॥
দিয়ে হাস্য-সুধা চার                      অঙ্গছটা আঠা তার
আঁখি-পাখী তাহাতে পড়িল।
মন-মৃগী সেইকালে                        পড়িল রূপের জালে
বাঁশি-ফাঁসি গলায় লাগিল॥
ধৈর্য্য-শীল হেমাগার                       গুরু-গৌরব সিংহদ্বার
ধরম-কপাট ছিল তায়।
বংশীরব-বজ্রাঘাতে                       পড়ি গেল অকস্মাতে
সমভূমি করিল আমায়॥
(আমার) চিত্তশালে মত্ত হাতী                        বাঁধা ছিল দিবারাতি          
ক্ষিপ্ত কৈল কটাক্ষ-অঙ্কুশে।
দম্ভের শিকল কাটি                        চারদিকে যায় ছুটি
না পাইলাম তাহার উদ্দেশে॥
কালিয়া কুটিল বাণে                       কুল-শীল কোন খানে
ডুবিল, উঠিল ব্রজের বাস।
প্রাণমাত্র আছে বাকী                      তাও বুঝি যায় সখি
ভণয়ে জগদানন্দ দাস॥

ই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুরন্ত প্রেম।

কেন গেলাম জল ভরিবারে।
নন্দের দুলাল-চাঁদ                        পাতিয়া রূপের ফাঁদ,
ব্যাধ ছিল কদম্বের তলে॥ ধ্রু॥
দিয়া হাস্যসুধা-চার                        অঙ্গ-ছটা আটা তার
আঁখি-পাখি তাহাতে পড়িল।
মন-মৃগী সেই কালে                        পড়িল রূপের জালে
শূন্য দেহ-পিঞ্জর রহিল॥
চিত্ত-শালে ধৈর্য-হাতী                      বান্ধা ছিল দিবারাতি
ক্ষিপ্ত হৈল কটাক্ষ-অঙ্কুশে।
দম্ভের শিকলি কাটি                        চারিদিকে গেলা ছুটি
পলাইয়া গেল কোন দেশে॥
লজ্জা শীল হেমাগার                        গুরুগৌরব সিংহদ্বার
ধরম-কপাট ছিল তায়।
বংশীধ্বনি বজ্রপাতে                        পড়ি গেল অকস্মাতে
সমভূমি করিল আমায়॥
কালিয়া-ত্রিভঙ্গ বাণে                        কুলভয় কোন স্থানে
ডুবিল উঠিল ব্রজবাস।
অবশেষে প্রাণ বাকি                        তাও পাছে যায় নাকি
ভাবয়ে জগদানন্দদাস॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”,
১৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ

কেন গেলাম যমুনার জলে।
নন্দের দুলাল চাঁদ                        পাতিয়া রূপের ফাঁদ
ব্যাধ ছলে কদম্বের তলে॥
দিয়া হাস্য সুধা-চার                      অঙ্গ ছটা আঠা তার
আঁখি পাখী তাহাতে পড়িল।
মন মৃগী হেনকালে                        পড়িল রূপের জালে
শূন্য দেহ পিঞ্জর রহিল॥
লজ্জা ছিল হেমাগার                    গুরু গৌরব সিংহদ্বার
ধরম কপট ছিল তায়।
বংশীরব বজ্রাঘাতে                      পড়ি গেল অকস্মাতে
সমভূমি করিল আমায়॥
ধৈর্য্যশালে মত্ত হাতী                    বান্ধা ছিল দিবা রাতি
ক্ষিপ্ত কৈল কটাক্ষ অঙ্কুশে।
দম্ভের শিকলি কাটি                        পালাইয়া গেল ছুটি
না পাইলাম তাহার উদ্দেশে॥
কালিয়া কুটিল বাণে                       কুল শীল ধরি টানে
অতয়ে উঠিল ব্রজবাস।
প্রাণ মাত্র আছে বাকি                  তাহাও বুঝি যায় সখী
ভণয়ে জগদানন্দ দাস॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”, ৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সই, কেনে গেলাম যমুনার জলে।
নন্দের নন্দন চাঁদ                        পাতিয়া রূপের ফাঁদ
ব্যাধ ছলে কদম্বের তলে॥
দিয়ে হাস্য-সুধা চার                      অঙ্গছটা আঠা তার
আঁখি-পাখি তাহাতে পড়িল।
মন-মৃগী সেই কালে                       পড়িল রূপের জালে
বাঁশি-ফাঁসি গলায় লাগিল॥
ধৈর্য-শীল-হেমাগার                       গুরু-গৌরব-সিংহদ্বার
ধরম-কপাট ছিল তায়।
বংশীরব-বজ্রাঘাতে                      পড়ি গেল অকস্মাতে
সমভূমি করিল আমায়॥
(আমার) চিত্তশালে মত্ত হাতী                        বাঁধা ছিল দিবারাতি            
ক্ষিপ্ত কৈল কটাক্ষ-অঙ্কুশে।
দম্ভের শিকল কাটি                        চারদিকে যায় ছুটি
না পাইলাম তাহার উদ্দেশে॥
কালিয়া কুটিল বাণে                      কুলশীল কোনখানে
ডুবিল, উঠিল ব্রজের বাস।
প্রাণমাত্র আছে বাকি                     তাও বুঝি যায় সখী
ভণয়ে জগদানন্দ দাস॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সই কেনে গেলাম যমুনার জলে।
নন্দের নন্দন চাঁদ                        পাতিয়া রূপের ফাঁদ
ব্যাধ ছলে কদম্বের তলে॥
দিয়ে হাস্য সুধা-চার                     অঙ্গ-ছটা আঠা তার
আঁখি-পাখী তাহাতে পড়িল।
মনমৃগী সেই কালে                        পড়িল রূপের জালে
বাঁশী-ফাঁসি গলায় লাগিল॥
ধৈর্যশীল হেমাগার                        গুরু গৌরব-সিংহদ্বার
ধরম-কপাট ছিল তায়।
বংশীরব-বজ্রাঘাতে                        পড়ি গেল অকস্মাতে
সমভূমি করিল আমায়॥
চিত্তশালে মত্ত হাতী                        বাঁধা ছিল দিবারাতি
ক্ষিপ্ত কৈল কটাক্ষ-অঙ্কুশে।
দন্তের শিকল কাটি                          চারদিকে যায় ছুটি
না পাইলাম তাহার উদ্দেশে॥
কালিয়া কুটিল বাণে                        কুলশীল কোন্ খানে
ডুবিল উঠিল ব্রজের বাস।
প্রাণমাত্র আছে বাকি                        তাও বুঝি যায় সখি
ভণয়ে জগদানন্দ দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সজনি গো কেন গেলাম যমুনার জলে।                
নন্দের দুলাল চাঁদ পাতিয়া রূপের ফাঁদ               
ব্যাধ ছিল কদম্বের তলে॥
দিয়ে হাস্য সুধা চার অঙ্গছটা আঠা তার              
আঁখি পাখি তাহাতে পড়িল।
মনমৃগী সেই কালে পড়িল রূপের                        
জালে শূন্য দেহ পিঞ্জর রহিল॥
চিত্তশালে ধৈর্য্য হাতী বান্ধা ছিল দিবা                    
রাতি ক্ষিপ্ত হৈল কটাক্ষ অঙ্কুশে।
দম্ভের শিকল কাটি চারদিকে গেল ছুটি                 
পলাইয়া গেল কোন দিশে॥
লজ্জাশীল হেমাগার গুরুগৌরব সিংহদ্বার                
ধরম কবাট ছিল তায়।
বংশীধ্বনি বজ্রাঘাতে পড়ি গেল অকস্মাতে              
সমভূমি করিল আমায়॥
কালিয় ত্রিভঙ্গ বাণে কুল মান কোন খানে                
ডুবিল উঠিল ব্রজের বাস।
অবশেষে প্রাণ বাকী তাও পাছে যায়                     
নাকি ভণয়ে জগদানন্দ দাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুন গো মরম সই
ভণিতা জগদানন্দ দাস
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত
সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৩৮-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির প্রথম চার পংক্তির পর থেকে “কেন গেলাম যমুনার জলে” বা
“সই কেন গেলাম যমুনার জলে” পদটি, সম্পূর্ণ রূপে দেখতে পাই। তবুও আমরা এই দুটি আলাদা পদ
হিসেবে রাখছি।

॥ গান্ধার॥

শুন গো মরম সই, মরম কথা তোরে কই, সাঁঝের বেলা গিয়াছিলাম জলে।
নন্দের নন্কন কানু, করে ল’য়ে মোহন বেণু, দাঁড়াইয়া ছুল কদমতলে॥ না
চাহিলাম তরু মূলে, ভরমে নামিলাম জলে, ভরি জল কলসী হেলায়ে। রলসীতে
বারি পূর্, কূলে উঠে সহচরী, কদমতলা দেখিলাম হেরিয়ে॥ কেন গেলেম
যমুনার জলে। নন্দের নন্দন চাঁদ, পাতিয়াছে মোহন ফাঁদ, ব্যাধরূপে কদম্বের
তলে॥ দিয়া হাস্য সুধাচার, অঙ্গ আতা আঁটা তার, আঁখি পাখী তাহাতে
পড়িল। মনমৃগী হেন কালে, পড়িল রূপের জালে, বাঁশী ফাঁসি গলায় লাগিল॥
লজ্জা ছিল হৈমাগারে, গুরু গৌরব সিংহদ্বারে, ধরম কপাট ছিল তায়। বংশীরব বজ্রাঘাতে, পড়ি গেল
আচম্বিতে, সমভূম করিল আমায়॥ গর্ব্বশালে মত্ত হাতী,
বান্ধা ছিল দিবা রাতি, ক্ষিপ্ত হইল কটাক্ষ অঙ্কুশে। দম্ভের শিকল কাটি,
চারি দিকে যায় ছুটি, পলাইয়া গেল কোন দেশে॥ কালিয়া ত্রিভঙ্গ বাণে,
কোন বাণ কোন খানে, ডুবিল উঠিল ব্রজের বাস। অবশেষে প্রাণ বাকি,
তাও পাছে যায় দেখি, ভাবয়ে জগদানন্দ দাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দরশন লাগি নয়ন ঘন কান্দই
ভণিতা জগদানন্দ
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
॥ তখারাগ॥

দরশন লাগি নয়ন ঘন কান্দই
পরশন লাগি তনু ঝুর।
রসনা পিবইতে চাহে অধররস
কি করব সো অতি দূর
সজনি তোহে গুন কি কহব আর।
নাসা রসন শ্রবণযুগ লোচন
তনুমন সবহুঁ গোঙার॥
শুনইতে চাহে শ্রবণ বচনামৃত
সোই দুলহ কাঁহা পাব।
সৌরভে উনমত আশা করি কত
নাসা অবিরত ধাব॥
এক বেরি রূপ পরশ রস সৌরভ
শবদ সবহুঁ মেলি চাহ।
জগদানন্দ ভণ তছু অনুগত মন
কৈছে হোত নিরবাহ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দরশন লাগি নয়ন ঘন কান্দই
.                পরশন লাগি তনু ঝুর।
রসনা পিবইতে চাহে অধররস
.                কি করব সো অতি দূর
সজনি তোহে গুন কি কহব আর।
নাসা রসন শ্রবণযুগ লোচন
.                তনুমন সবহুঁ গোঙার॥
শুনইতে চাহে শ্রবণ বচনামৃত
.                সোই দুলহ কাঁহা পাব।
সৌরভে উনমত আশা করি কত
.                নাসা অবিরত ধাব॥
এক বেরি রূপ পরশ রস সৌরভ
.                শবদ সবহুঁ মেলি চাহ।
জগদানন্দ ভণ তছু অনুগত মন
.                কৈছে হোত নিরবাহ॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যামিনী দিনপতি গগনে উদয় করু
ভণিতা জগদানন্দ দাস
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৮৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের লিপি প্রেরণ
॥ তথারাগ॥

যামিনী দিনপতি                        গগনে উদয় করু
কুমুদ কমল খিতি মাঝ।
অপরশে দুহুঁক                        পরশ-রস-কৌতুক
নিতি নিতি জগতে বিরাজ॥
বর-রামা হে বুঝবি তুহুঁ সুচতুর।
আপন পরাণ                        যাক করে সঁপিয়ে
সো পুন কভু নহে দূর॥
জীবন অবধি হাম                       আপনা বেচলুঁ
তন মন এক করি তোয়।
কিয়ে বিধি নিষ্ঠুর                       করম বিপাকে
পরবাসে রাখল মোয়॥
কাঞ্চন বদন-                      কমল লাগি লোচন-
মধুকর মরত পিয়াসে।
লিখনক আদি-                   আখর মেলি সমুঝবি
কহে জগদানন্দদাসে॥

ই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রবোধ-পত্র।

যামিনীদিনপতি                        গগনে উদয় করু
কুমুদ কমল ক্ষিতি মাঝ।
অপরশে দুহুঁক                        পরশ-রসকৌতুক
নিতি নিতি জগতে বিরাজ॥
বর রামা হে বুঝবি তুহুঁ সুচতুর।
আপন পরাণ                        যাক করে সোঁপিয়ে
সো পুন কভু নহে দূর॥ ধ্রু॥
জীবন অবধি হাম                        আপনা বেচলুঁ
তন মন এক করি তো এ।
কিয়ে তুয়া বলবত                        প্রেম-পদাতিক
তিল-আধানা দেহ মোএ॥
কাঞ্চন বদন-                        কমল লাগি লোচন-
মধুকর মরত পিয়াসে।
লিখনক আদি                     আখর মেলি সমুঝবি
কহে জগদানন্দ-দাসে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যামিনী দিনপতি গগনে উদয় করু                
কুমুদ কমল খিতি মাঝ।
অপরশে দুহুঁক পরশ রস কৌতুক                
নিতি নিতি জগতে বিরাজ॥
বর রামা হে বুঝবি তুহুঁ সুচতুর।                
আপন পরাণ যাক করে সঁপিয়ে                 
সো পুন কভু নহে দূর॥
জীবন অবধি হাম আপনা বেচলুঁ                 
তন মন এক করি তোয়।
কিয়ে বিধি নিষ্ঠুর করম বিপাকে                  
পরবাসে রাখল মোয়॥
কাঞ্চন বদন কমল লাগি লোচন                   
মধুকর মরত পিয়াসে।
লিখনক আদি আখর মেলি সমুঝবি                
কহে জগদানন্দদাসে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঘোষ নন্দিনী ঘোর ঘাতক
ভণিতা জগদানন্দ
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৮৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
বাহ্যাচিত্র পদ
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি

ঘোষ নন্দিনী                        ঘোর ঘাতক
মদন নিরদয় শূর।
ঘীঁচি ধনুগুণ                       ঘষিল খরশর
ঘাতে মানস পূর॥
ঘর ঘর স্বরে                     ঘুমি ভূমি পড়ি
ঘষই মুখশশী রাই।
ঘটল তুয়া ঘটে                    ঘোর যশ ঘন-
শ্যাম নিরখহ যাই॥
ঘেরি সহচরী                        ঘষিল চন্দন
ঘুসৃণ ঘন ঘনসার।
ঘোলি ঘনরসে                    ঘটন করি ঘটে
ঢারু কত অনিবার॥
ঘড়িকে অপঘন                      ঘামে ঘনঘন
শ্বাস ঘুরত না মন্দ।
ঘোষপুরে যশ-                        ঘণ্টিকা তব
শুনল জগদানন্দ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ঘোষ নন্দিনী ঘোর ঘাতক                        
মদন নিরদয় শূর।
ঘীঁচি ধনুগুণ ঘষিল খরশর                        
ঘাতে মানস পূর॥
ঘর ঘর স্বরে ঘুমি ভূমি পড়ি                      
ঘষই মুখশশী রাই।
ঘটল তুয়া ঘটে ঘোর যশ ঘন                     
শ্যাম নিরখহ যাই॥
ঘেরি সহচরী ঘষিল চন্দন                          
ঘুসৃণ ঘন ঘনসার।
ঘোলি ঘনরসে ঘটন করি ঘটে                     
ঢারু কত অনিবার॥
ঘরিকে অপঘন ঘামে ঘনঘন                       
শ্বাস ঘুরত না মন্দ।
ঘোষপুরে যশ ঘণ্টিকা তব                        
শুনল জগদানন্দ॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কংস-কুঞ্জর-কেশরী কর
ভণিতা জগত-আনন্দ
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৮৮১-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ভাষাশব্দার্ণব-প্রথম কল্লোল

কংস-কুঞ্জর-                        কেশরী কর-
কুম্ভ করজে বিদার।
করভকর ভুজ-                   কোরে কুলবতি
করব কেলি বিহার॥
কেলি কলহক                      কহব কাহিনি
কুলজ কামিনি কন্ত।
কি রস কুবুধিনি                  কুরূপ কুবুজিনি
কোরে কহরি একন্ত॥
কষিল কাঞ্চন                        কাঁতি কামিনি
কুচহিঁ কাঁচুলি কেলি।
কাল কালিয়                       কৃষ্ণ-ভুজে কভু
কহ কি কবলিত ভেলি॥
কুসুম-কাননে                       কুহলে কোকিল
কুকুহু কুহু-কুহু বোল।
কেলিকৌতুক                        কুমুদ-বান্ধব
করত কুমুদিনি কোর॥
কিরণে কু কল-                      ঙ্কাঙ্ক কবলিত
কয়ল কালিম রাতি।
কুটিল কুবচন                       করাতে কাটত
কামিনী-কুল-ছাতি॥
কি জানি কতখনে                  কব কি হোঅব
কেবল কৃশতনু কারি।
কনক কেয়ূর                           করক কঙ্কণ
কটিক কিঙ্কিণি ডারি॥
কুলক কামিনি                        কুপথ-গামিনি
কয়লি কেশব তোয়।
কঠিন কুটিলাক                  কাদেই কি কহব
করুণ করি কত রোয়॥
কাঁচ কাঞ্চন-                        কাঁতি কেবল
কাজর কালিম ভাঁতি।
কাঠকি কঠিন                       কুজন-কুবচন
কুকুলে জারল ছাতি॥
কি ভেল কেতকি                কুসুম করকস
কুটিরে কামবিলাস।
কমল কোমল                      কঞ্জ কিশলয়
কোকনদক বিকাশ॥
কেশ কুঞ্চিত                       কুটিল কুন্তল
কবরি কচ গড়ি যায়।
কেশরি-কটি                           কম্বু-কন্দর
কনক-কেতকি কায়॥
কয়ল কাননে                      কলপ-লতিকা
কাম-কেলিকুটির।
কাহ্নু কোরহি                        কেলি কৌতুক
করত কৌতুক-কীর॥
কাম-কৌশলে                       করু কলাবতী
কুপিত কঞ্জনয়ান।
কি ভয় করইতে                 কাহ্নু করে কুরু
কপূরে কপূরিত পান॥
কয়লি কেলি                        কদম্ব কাননে
কি কথা করল রসাল।
কুচকলসে কর                   কালি কি কহলি
কুলিশ-হৃদয় গোপাল॥
কটিক কাছনি                    কাঁতি কিল কল-
ধৌত কামক ধাম।
কালিকাল-কালিয়                     কম্পকাতর
কয়ল কিএ তুয়া নাম॥
করুণ করুণা                        করহ কাতরে
কুশল কৈছনে মোয়।
কমল-আসন                     কপালে কি লিখল
কি জানি কব কিএ হোয়॥
কয়লুঁ কুজনমে                     কলুষ-কিলবিষ
কতএ কলমষ ভার।
কমঠ পীঠ                        কঠোর কলেবর
কঠিন হৃদয় হামার॥
কয়লি কাতিকে                    কেলি-কৌতুক
করণে করহিঁ না কেলি।
কুদিন নাগল                           কাল কাটলুঁ
কুপথে কুজনম গেলি॥
করহ কবিকুল                        কণ্ঠে কবিতা
করিতে মন যদি ধায়।
কৃষ্ণ কৌশল                        কাব্য করইতে
জগত-আনন্দ গায়॥

ইতি শ্রীমন্নরহরিচরণাশ্রিতেন কেনচিদ্বিরচিতে ভাষা-
শব্দার্ণবে কাদিদিগ্‌দর্শনো নাম প্রথমঃ কল্লোলঃ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কংস কুঞ্জর কেশরী কর                        
কুম্ভ করজে বিদার।
করভকর ভূজ কোরে কুলবতি                
করব কেলি বিহার॥
কেলি কলহক কহব কাহিনি                
কুলজ কামিনি কন্ত।
কি রস কুবুধিনি কুরূপ কুবুজিনি                
কোরে কহরি একন্ত॥
কষিল কাঞ্চন কাঁতি কামিনি                
কুচহিঁ কাঁচুলি কেলি।
কাল কালিয় কৃষ্ণ ভুজে কভু                
কহ কি কবলিত ভেলি॥
কুসুম কাননে কুহলে কোকিল                
কুকুহু কুহু কুহু বোল।
কেলিকৌতুক কুমুদ বান্ধব                
করত কুমুদিনি কোর॥
কিরণে কু কলঙ্কাঙ্ক কবলিত                
কয়ল কালিম রাতি।
কুটিল কুবচন করাতে কাটত                
কামিনী কুল ছাতি॥
কি জানি কতখনে কব কি হোঅব        
কেবল কৃশতনু কারি।
কনক কেয়ূর করক কঙ্কণ                
কটিক কিঙ্কিণি ডারি॥
কুলক কামিনি কুপথ গামিনি                
কয়লি কেশব তোয়।
কঠিন কুটিলাক কাদেই কি কহব                
করুণ করি কত রোয়॥
কাঁচ কাঞ্চন কাঁতি কেবল                
কাজর কালিম ভাঁতি।
কাঠকি কঠিন কুজন কুবচন                
কুকুলে জারল ছাতি॥
কি ভেল কেতকি কুসুম করকস                
কুটিরে কামবিলাস।
কমল কোমল কঞ্জ কিশলয়                
কোকনদক বিকাশ॥
কেশ কুঞ্চিত কুটিল কুন্তল                
কবরি কচ গড়ি যায়।
কেশরি কটি কম্বু কন্দর                        
কনক কেতকি কায়॥
কয়ল কাননে কলপ লতিকা                
কাম কেলিকুটির।
কাহ্নু কোরহি কেলি কৌতুকে                
করত কৌতুক কীর॥
কাম কৌশলে করু কলাবতী                
কুপিত কঞ্জনয়ান।
কি ভয় করইতে কাহ্নু করে কুরু                
কপূরে কপূরিত পান॥
কয়লি কেলি কদম্ব কাননে                
কি কথা করল রসাল।
কুচকলসে কর কালি কি কহলি                
কুলিশ হৃদয় গোপাল॥
কটিক কাছনি কাঁতি কিল কল                
ধৌত কামক ধাম।
কালিকাল কালিয় কম্পকাতর                
কয়ল কিএ তুয়া নাম॥
করুণা করুণা কহত কাতরে                
কুশল কৈছনে মোয়।
কমল আসন কপালে কি লিখল                
কি জানি কব কিএ হোয়॥
কয়লু কুজনমে কলুষ কিলবিষ                
কতএ কলমষ ভার।
কমঠ পীঠ কঠোর কলেবর                
কঠিন হৃদয় হামার॥
কয়লি কাতিকে কেলি কৌতুক                
করণে করহিঁ না কেলি।
কুদিন নাগল কাল কাটলুঁ                        
কুপথে কুজনম গেলি॥
করহ কবিকুল কণ্ঠে কবিতা                
করিতে মন যদি ধায়।
কৃষ্ণ কৌশল কাব্য করইতে                
জগত আনন্দ গায়॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিহরই দ্বিজকুলবালকসঙ্গ
ভণিতা জগদানন্দ
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৮৫৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

বিহরই দ্বিজকুলবালকসঙ্গ।
সমীরণ-সেবিত                        সুরধুনি তীরে
থীর বিজুরিসম অঙ্গ॥
নিরখত গঙ্গ                            তরঙ্গিনি-তুঙ্গ
তরঙ্গে বিহঙ্গম-রঙ্গ।
সারস জনু বেণু                      বাওই মৃদুমৃদু
হংস চুম্বনে চঙ্গ॥
সকল সুহৃদজন                   অনুপম বেশ বনি
বয় সম কতশত ঢঙ্গ।
করতল তাল                          দেয়ই চৌদিশে
গাবই রাগ সারঙ্গ॥
প্রেমভরে দোলত                    হরি হরি বোলত
নাচত নটহরভঙ্গ।
জগদানন্দ তহিঁ                      নটনে ঘটন করু
মৃদুল মধুর মৃদঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিহরই দ্বিজকুলবালকসঙ্গ।                
সমীরণ সেবিত সুরধুনি তীরে              
থীর বিজুরিসম অঙ্গ॥
নিরখত গঙ্গ তরঙ্গিনি তুঙ্গ                
তরঙ্গে বিহঙ্গম রঙ্গ।
সারস জনু বেণু বাওই মৃদুমৃদু             
হংস চুম্বনে চঙ্গ॥
সকল সুহৃদজন অনুপম বেশ বনি        
বয় সম কতশত ঢঙ্গ।
করতল তাল দেয়ই চৌদিশে                
গাবই রাগ সারঙ্গ॥
প্রেমভরে দোলত হরি হরি বোলত        
নাচত নটহরভঙ্গ।
জগদানন্দ তহিঁ নটনে ঘটন করু          
মৃদুল মধুর মৃদঙ্গ॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
করুণা বরুণ নয়ন অরুণারুণ
করুণা-বরুণ নয়ন তরুণারুণ
ভণিতা জগদানন্দ
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথা-রাগ॥

করুণা বরুণ,                        নয়ন অরুণারুণ,
তনু জনু তরুণ তমাল।
মারুত মিলিত,                    চলিত অলকাবলী,
কবলিত সুললিত ভাল॥
জয় জয় নটবর নাগর কাণ।
যুবতীক হৃদয়,                     পয়োনিধি উছলই,
হেরইতে চান্দ বদন॥
চৌদিশে চঙকি,                     চঙকি করু চুম্বন,
চঞ্চরিচয় বনমাল।
পীত বসন ছলে,                     কেলি করত খীণ,
কটিতটে বিজুরী রসাল॥
যাহে হেরি হরিণী,                   নয়ানী হরুচেতন,
হুঁকরি তেজই নিশাস।
জগদানন্দ মূঢ়,                        মূরুখ তছু গুণ,
বরণিতে করতহিঁ আশ॥

ই পদটি ১৩৩১বঙ্গাব্দে (১৯২৪) প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদ-সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
১৯৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

করুণা বরুণ                        নয়ন অরুণারুণ
তনু জনু তরুণ তমাল।
মারুত মিলিত                    চলিত অলকাবলী
কবলিত সুললিত ভাল॥
জয় জয় নটবর নাগর কান।
যুবতীক হৃদয়                     পয়োনিধি উছলই
হেরইতে চান্দ বদন॥
চৌদিশে চঙকি                    চঙকি করু চুম্বন
চঞ্চরিচয় বনমাল।
পীত বসন ছলে                    কেলি করত ঘণ
কটিতটে বিজুরী রসাল॥
যাহে হেরি হরিণী-                নয়ানী হরু চেতন
হুঁকরি তেজই নিশাস।
জগদানন্দ মূঢ়                        মুরুখ তছু গুণ
বরণিতে করতহিঁ আশ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৬৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের রূপ
॥ তথারাগ॥

করুণা-বরুণ                        নয়ন তরুণারুণ
তনু জনু তরুণ তমাল।
মারুত মিলিত                   চলিত অলকাবলী
কবলিত সুললিত ভাল॥
জয় জয় নটবর নাগর কান।
যুবতিক হৃদয়                    পয়োনিধি উথলই
হেরইতে চান্দ-বয়ান॥
চৌদিশে চঙকি                    চঙকি করু চুম্বন
চঞ্চরি-চয় বনমাল।
পীতবসনছলে                      কেলি করত খীন
কটিতটে বিজুরি রসাল॥
যাহে হেরি হরিণী                  নয়নী হরু চেতন
হুঁকরি তেজই নিশাস।
জগদানন্দ মূঢ়                          মূরুখ তছুগুণ
বরণিতে করতহিঁ আশ॥

ই পদটি নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী”
২য় খণ্ড, রূপানুরাগ, ৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার - মধ্যম॥

করুণা-বরুণ                        নয়ন অরুণারুণ,
তনু জনু তরুণ তমাল।
মারুত মিলিত                   চলিত অলকাবলি,
কবলিত সুবলিত ভাল॥
জয় জয় নটবর নাগর কান।
যুবতিক হৃদয়                     পয়োনিধি উথলই
হেরইতে চাঁদ বয়ান॥ ধ্রু॥
চৌদিশে চৌঙকি                চৌঙকি করু চুম্বন
চঞ্চরিচয় বনমাল।
পীত বসনদলে                    কেলি করত খীন
কটি তটে বিজুরি রসাল॥
যাহে হেরি হরিণী                নয়নী হরু চেতন
হুঁকরি তেজই নিশাস।
জগদানন্দ মূঢ়                        মূরুখ তছু গুণ,
বরণিতে করতহি আশ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

করুণা বরুণ নয়ন তরুণারুণ                
তনু জনু তরুণ তমাল।
মারুত মিলিত চলিত অলকাবলী            
কবলিত সুললিত ভাল॥
জয় জয় নটবর নাগর কান।                
যুবতিক হৃদয় পয়োনিধি উথলই            
হেরইতে চান্দ বয়ান॥
চৌদিশে চঙকি চঙকি করু চুম্বন            
চঞ্চরি চয় বনমাল।
পীতবসনছলে কেলি করত খীন              
কটিতটে বিজুরি রসাল॥
যাহে হেরি হরিণী নয়নী হরু চেতন        
হুঁকরি তেজই নিশাস।
জগদানন্দ মূঢ় মূরুখ তছুগুণ                
বরণিতে করতহিঁ আশ॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
উদিতারুণ হসিত নলিন
উদিতারুণ হসিত মিলন
ভণিতা জগদানন্দ
(ভণিতার পংক্তিতে রয়েছে - জগদানন্দ নবিন দাস)
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

উদিতারুণ,                হসিত নলিন,
মুদিত কুমুদ চান্দ মলিন।
হত সায়ক,                দুখ দায়ক,
রতি দায়ক ভাগে॥
শুতল খল,                জলরুহ দল,
তড়িত জড়িত জলধর তুল।
মুখ ঝামর,                ধনি শ্যামর,
নিশি প্রাতর ভাগে॥
বিগত বসন,                ভূষণ সাজ,
অচেতনে রহু নিলজ রাজ।
গিরি ধারিম,                বহু গারিম,
বহু কারিম দাগে।
বদন জিতল,                শারদ ইন্দু,
ছরম ঘরম বিন্দু বিন্দু।
নিশি জাগরি,                রস সাগরি,
বর নাগরী আগে॥
ফুকরত শুক,                সারিক বহু,
কোকিল কুল কুহরই মুহু।
দেখ ভাবিনি,                গজ গামিনী,
নহি কামিনী জাগে॥
কহ সহচরি,                   শ্রবণ ওর,
পরি হরি ধনি হরিক কোর।
কি এ দোষব,               তব তোষব,
যব রোষা রাগে॥
কি হেরসি হাসি,               শয়ন রঙ্গ,
রব নিরমল কুল কলঙ্ক।
যশ ধামিনী,                রুচি দামিনী,
কুল-কামিনী লাগে॥
সাজি কবরি,                  ভূষণ বাস,
জগদানন্দ নবিন দাস।
করু চেতন,                  শুনি কেতন,
চলু বেতন মাগে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

উদিতারুণ হসিত নলিন              মুদিত কুমুদ চাঁদ মলিন
হত সায়ক দুঃখ দায়ক, রতি নায়ক ভাগে।
শুতল খল জলরুহ দল             তড়িত জড়িত জলধর তুল
মুখ ঝামর ধনী শ্যামর, নিশি প্রাতর ভাগে॥
বিগত বসন ভূষণ সাজ           অচেতনে রহু নিলাজ রাজ।
গিরি ধারিম বহু গারিম, রহু কারিম দাগে।
বদন জিতল শারদ ইন্দু                 ছরম ঘরম বিন্দু বিন্দু
নিশি জাগরি রস সাগরি, বর নাগরী আশে @॥
ফুকরত শুক শারিক বহু             কোকিল কুল কুহরই মুহু
দেখ ভাবিনী গজ গামিনী, নহি কামিনী জাগে।
কহ সহচরি শ্রবণ ওর                পরিহরি ধনী হরিক কোর
কিয়ে দোষব তব তোষব, যব রোষব রাগে॥
কি হেরসি হাসি শয়ন রঙ্গ               বর নিরমল কুল কলঙ্ক
যশ ধামিনী রুচি দামিনী, কুল কামিনী লাগে।
সাজি কবরি ভূষণ বাস                   জগদানন্দ নবীন দাস
করু চেতন শুনি কেতন, চলু, বেতন মাগে॥

@ “আশে”-র বদলে কি “আগে” হবে?

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”,
১১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উদিতারুণ হসিত মিলন,            মুদিত কুমুদ চান্দ মলিন,
হত সায়ক, দুখ দায়ক, রতি নায়ক ভাগে।
শুতল থর জলরুহ দল,            তড়িত জড়িত জলধর তুল,
মুখ ঝামর, ধনি শ্যামর, নিশি প্রাতর ভাগে॥
বিগত বসন ভূষণ সাজ,            অচেতনে রহু নিলাজ রাজ
গিরিধারিম, বহু গারিম, রহু কারিম দাগে।
বদন জিতল শারদ ইন্দু,                ছরম ঘরম বিন্দু বিন্দু,
নিশি জাগরি, রসসাগরি বরনাগরী আগে॥
ফুকরত শুক শারিক বহু,            কোকিল কুল কুহরই মুহু,
দেখ ভামিনী, গজ গামিনী, নহি কামিনী জাগে।
কহ সহচরী শ্রবণ ওর,             পরিহরি ধনী হরিক কোর,
কিয়ে দোষব, তব তোষব, যব রোষব রাগে॥
কি হেরসি হাসি শয়ন রঙ্গ,            বর নিরমল কুল-কলঙ্ক,
যশধামিনী রুচি দামিনীকুল কামিনী লাগে।
সাজে কবরী ভূষণ বাস,                জগদানন্দ নবীন দাস,
করু চেতন, শুনি কেতন, চলু বেতন মাগে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৭৫-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসালস
কুঞ্জভঙ্গ
॥ তথারাগ॥

উদিতারুণ                হসিত নলিন
মুদিত কুমুদ                 চাঁদ মলিন
হতশায়ক                    দুখদায়ক
রতিনায়ক ভাগে।
শূতল থল-                জলরুহ দল
তড়িত-জড়িত             জলধর-তুল
মুখ ঝামর                ধনি শ্যামর
নিশি প্রাতর ভাগে॥
বিগত বসন                ভূষণ সাজ
অচেতন রহু               নিলজ রাজ
গিরিধারিম                বহু-গারিম
রহু কারিম দাগে।
বদন জিতল                শরদ ইন্দু
ছরম ঘরম                বিন্দু বিন্দু
নিশি জাগরি                রসসাগরি
বরনাগরি আগে॥
ফুকরত শুক-                শারিক বহু
কোকিল-কুল                কুহরই মুহু
গত যামিনী                দেখ ভামিনী
নহি কামিনী জাগে।
কহ সহচরি                   শ্রবণ ওর
পরিহর ধনি                হরিক কোর
কি এ দোষব                তব তোষব
যব রোষব রাগে॥
কি হেরসি হসি            শয়ন রঙ্গ
বর নিরমল                  কুলকলঙ্ক
যশধামিনি                 রুচিদামিনি
কুলকামিনি লাগে।
সাজি কবরি               ভূষণ বাস
জগদানন্দ                নবিন দাস
কুরু চেতন                সুনিকেতন
চলু বেতন মাগে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত  পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উদিতারুণ হসিত নলিন                        
মুদিত কুমুদ চাঁদ মলিন                        
হতশায়ক দুখদায়ক                            
রতিনায়ক ভাগে।
শূতল থল জলরুহ দল                        
তড়িত জড়িত জলধর তুল                    
মুখ ঝামর ধনি শ্যামর                        
নিশি প্রাতর ভাগে॥
বিগত বসন ভূষণ সাজ                        
অচেতন রহু নিলজ রাজ                      
গিরিধারিম বহু-গারিম                        
রহু কারিম দাগে।
বদন জিতল শরদ ইন্দু                        
ছরম ঘরম বিন্দু বিন্দু                        
নিশি জাগরি রসসাগরি                        
বরনাগরি আগে॥
ফুকরত শুক শারিক বহু                        
কোকিল কুল কুহরই মুহু                        
গত যামিনী দেখ ভামিনী                       
নহি কামিনী জাগে।
কহ সহচরি শ্রবণ ওর                        
পরিহর ধনি হরিক কোর                     
কি এ দোষব তব তোষব                     
যব রোষব রাগে॥
কি হেরসি হসি শয়ন রঙ্গ                     
বর নিরমল কুলকলঙ্ক                        
যশধামিনি রুচিদামিনি                        
কুলকামিনি লাগে।
সাজি কবরি ভূষণ বাস                        
জগদানন্দ নবিন দাস                           
কুরু চেতন সুনিকেতন                        
চলু বেতন মাগে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিনোদিনী বোল বিনোদ সোনল
ভণিতা জগদানন্দ
কবি জগদানন্দ
এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিনোদিনী বোল বিনোদ সোনল জাগল অতি সে তুরিত।
অরুণ নয়ানে হেরিএ অরুণে প্রকাশনে ভেল চমকিত ॥
বিগত যামিনী অন্তরে যামিনী কামিনী গমন বিরোধ।
পথ অতি দূরজন তাহে ফেরে দুরজন গুরুজন সদা ভাবে ক্রোধ॥
শ্যাম জাহা অনুমানি রাই তাহা মনে গুনি কহে ধনি মোর নিবেদনে।
প্রকাশিত দিনমণি অহে মোর দিনমণি কুমুদিনী কি হুবে বিধানে॥
কেমনে জাইব ঘরে রহিতে না দিবে ঘরে আমারে দেখিলে ননদিনী।
কহে জগদানন্দ অহে জগদানন্দ যদি দ্বন্দ্ব না পড়এ জানি॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর