কবি নয়নানন্দের (ভরতপুর) বৈষ্ণব পদাবলী
*
গদাধর-মুখ হেরি কিবা উঠে মনে
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং  
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের  ১৩৩০ বঙ্গাব্দের  (১৯২৩ সাল),  ৩য়
খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১৮শপল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, ২১১৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

গদাধর-মুখ হেরি কিবা উঠে মনে।
সোঙরি সে সব সুখ নিকুঞ্জ বৃন্দাবনে॥
ঝুরয়ে সদাই মন সে গুণ শুনিয়া।
হারাইল দুখী যেন পরশ-মণিয়া॥
হরি হরি বলে পহু কান্দিতে কান্দিতে।
না জানি কাহার ভাব উপজিত চিতে॥
টলমল করয়ে সোণার বরণখানি।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া পড়ে লোটায় ধরণী॥
কহয়ে নয়নানন্দ গদাধর আগে।
এত পরমাদ হৈল কার অনুরাগে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

(ভাবাবেশ ও প্রলাপ)
॥ পঠমঞ্জরী॥

গদাধর মুখ হেরি কিবা উঠে মনে।
সোঙরি সে সব সুখ নিকুঞ্জ বৃন্দাবনে॥
ঝুরয়ে সদাই মন সে গুণ শুনিয়া।
হারাইল দুঃখী যেন পরশ-মণিয়া॥
হরি হরি বলে পহুঁ কাঁদিতে কাঁদিতে।
না জানি কাহার ভাব উপজিল চিতে॥
টলমল করয়ে সোনার বরণখানি।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া পড়ে লোটায় ধরণী॥
কহয়ে নয়নানন্দ গদাধর আগে।
এত পরমাদ হৈল কার অনুরাগে॥

ই পদটি নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, মানপ্রকরণ, ৪৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনশ্চ অকারণ মান।
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ সুবই - মধ্যম দশকুশী॥

গদাধর মুখ হেরি কিবা উঠে মনে।
সোঙরি সে সব সুখ নিকুঞ্জ বৃন্দাবনে॥
ঝুরয়ে সদাই মন সে গুণ শুনিয়া।
হারাইল দুখি যেন পরশমণিয়া॥
হরি হরি বলে পহুঁ কাঁদিতে কাঁদিতে।
না জানি কাহার ভাব উপজিল চিতে॥
টলমল করয়ে সোনার বরণ খানি।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া পড়ে লোটায় ধরণী॥
কহয়ে নয়নানন্দ গদাধর আগে।
এত পরমাদ হৈল কার অনুরাগে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৮৯-পৃষ্ঠায়, নয়নানন্দ (ভরতপুর)-এর পদ হিসেবে, এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ প্রভৃতি
॥ পঠমঞ্জরী॥

গদাধরমুখ হেরি কিবা উঠে মনে।
সোঙরি সে সব সুখ কুঞ্জে বৃন্দাবনে॥
ঝুরয়ে সদাই মন সে গুণ শুনিয়া।
হারাইল দুখী যেন পরশমণিয়া॥
হরি হরি বলে পহু কান্দিতে কান্দিতে।
না জানি কাহার ভাব উপজিত চিতে॥
টলমল করয়ে সোনার বরণখানি।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া পড়ে লোটায় ধরণী॥
কহয়ে নয়নানন্দ গদাধর আগে।
এত পরমাদ হৈল কার অনুরাগে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী” নয়নানন্দ (ভরতপুর), ১৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গদাধরমুখ হেরি কিবা উঠে মনে।
সোঙরি সে সব সুখ কুঞ্জে বৃন্দাবনে॥
ঝুরয়ে সদাই মন সে গুণ শুনিয়া।
হারাইল দুখী যেন পরশমণিয়া॥
হরি হরি বলে পহু কান্দিতে কান্দিতে।
না জানি কাহার ভাব উপজিত চিতে॥
টলমল করয়ে সোনার বরণখানি।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া পড়ে লোটায় ধরণী॥
কহয়ে নয়নানন্দ গদাধর আগে।
এত পরমাদ হৈল কার অনুরাগে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গৌরাঙ্গ লাবণ্য রূপে কি কহব এক মুখে
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা ২য় পল্লব,রূপাভিসার, ২৯০-
পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কেবল রূপানুরাগ।
॥ ধানশী॥

গৌরাঙ্গ-লাবণ্য রূপে            কি কহব এক মুখে
আর তাহে ফুলের কাঁচনি।
ও চান্দ মুখের হাসি        জিব না গো হেন বাসি
আর তাহে পিরিতি-চাহনি॥
সই লো বিহি গঢ়ল কত ছান্দে।
কেমন কেমন করে মন          সব লাগে উচাটন
পরাণ-পুতলি মোর কান্দে॥ ধ্রু॥
বিধিরে বলিব কি              করিলে কুলের ঝি
আর তাহে নহি সতন্তরি।
গেল কুল লাজ ভয়             পরাণ রহিবার নয়
মনের আনলে পুড়্যা মরি॥
কহিব কাহার আগে        কহিলে পিরিতি ভাঙ্গে
চিত মোর ধৈরজ না বান্ধে।
নয়নানন্দের বাণী              শুন শুন বিনোদিনি
ঠেকিলা গৌরাঙ্গ-প্রেম-ফান্দে॥

ই পদটি সামান্য পাঠান্তর সহ, শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা
১০মপল্লব ,রূপানুরাগ, ৭৮৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

গৌরাঙ্গ-লাবণ্য রূপে            কি কহিব এক মুখে
আর তাহে ফুলের কাঁচনি।
চাঁদ-মুখের হাসি               জীব না গো হেন বাসি
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি॥
বিহি সে গঢ়ল রূপ ছান্দে।
কেমন কেমন করে মন             সব লাগে উচাটন
পরাণ-পুতলি মোর কান্দে॥ ধ্রু॥
বিধিরে বলিব কি                  করিলে কুলের ঝি
আর তাহে নহি স্বতন্তরি।
গেল কুল লাজ ভয়                পরাণ রহিবার নয়
মনের অনলে পুড়ে মরি॥
কহিব কাহার আগে            কহিলে পিরিতি ভাঙ্গে
চিত মোর ধৈরজ না বান্ধে।
নয়নানন্দের বাণী                  শুন শুন বিনোদিনী
ঠেকিলা গৌরাঙ্গ-প্রেম-ফান্দে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১২৭৭-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

গৌরাঙ্গ-লাবণ্য রূপে          কি কহিব এক মুখে
আর তাহে ফুলের কাঁচনি।
ও চাঁদ-মুখের হাসি         জীব না গো হেন বাসি
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি॥
বিহি সে গঢ়ল রূপ ছান্দে।
কেমন কেমন করে মন          সব লাগে উচাটন
পরাণ-পুতলি মোর কান্দে॥ ধ্রু॥
বিধিরে বলিব কি               করিলে কুলের ঝি
আর তাহে নহি স্বতন্তরি।
গেল কুল লাজ ভয়         পরাণ বাহিরাবার নয়
প্রেম অনলে পুড়ে মরি॥
কহিব কাহার আগে         কহিলে পিরিতি ভাঙ্গে
চিত মোর ধৈরজ না বান্ধে।
নয়নানন্দের বাণী               শুন শুন বিনোদিনী
ঠেকিলা গৌরাঙ্গ-প্রেম-ফান্দে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - ধরাতাল॥

গৌরাঙ্গ-লাবণ্যরূপে            কি কহব এক মুখে
আর তাহে কুলের কাচনি।
চাঁদ মুখের হাসি            জীব না গো হেন বাসি
আর পীরিতি চাহনি॥
সই লো বিহি গড়ল কত ছাঁদে।
কেমন কেমন করে মন           সব লাগে উচাটন
পরাণ পুতলি মোর কাঁদে॥ ধ্রু॥
বিধিরে বলিব কি               করিলে কুলের ঝি
আর তাহে নহি স্বতন্তরি।
গেল কুললাজভয়                 পরাণ বাহির নয়
মনের আনলে পুড়ে মরি॥
কহিব কাহার আগে         কহিলে পীরিতি ভাঙ্গে
চিত মোর ধৈরজ না বাঁধে।
নয়নানন্দের বাণী                 শুন শুন ঠাকুরাণি
ঠেকিলা গৌরাঙ্গপ্রেমফাঁদে॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, রূপানুরাগ, ৪৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ ভীমপলশ্রী - ধড়া॥

গৌরাঙ্গ লাবণ্য রূপে            কি কহব এক মুখে
আর তাহে কুলের কাঁচনি।
ও চাঁদমুখের হাসি           জীব না গো হেন বাসি
আর তাহে পিরীতি চাহনি॥
বিহি সে গড়ল রূপ ছান্দে।
কেমন কেমন করে মন            সব লাগে উচাটন
পরাণ পুতলি মোর কান্দে॥ ধ্রু॥
বিধিরে বলিব কি                করিলে কুলের ঝি
আর তাহে নহি স্বতন্তরি।
গেল কুললাজভয়                 পরাণ রহিবার নয়
মনের আনলে পুড়ে মরি॥
কহিব কাহার আগে           কহিলে পিরীতি ভাঙ্গে
চিতে মোর ধৈরজ না বাঁধে।
নয়নানন্দের বাণী                  শুন শুন বিনোদিনী
ঠেকিলা গৌরাঙ্গ প্রেম ফাঁদে॥

এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা-ধানশী॥

গৌরাঙ্গ লাবণ্য রূপের,         কি কহব একমুখে,
আর তাহে ফুলের কাঁচনি।
ও চাঁন্দ মুখের হাসি,        জীব না গো হেন বাসি,
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি॥
(সই লো) বিহি গঢ়ল কত ছান্দে।
কেমন কেমন করে মন,            সব লাগে উচাটন
পরাণ পুতলী মোর কান্দে॥
বিধিরে বলিব কি,                করিল কুলের ঝি,
আর তাহে নহি স্বতন্তরী।
গেল কুল লাজ ভয়,             পরাণ রহিবার নয়
মনের অনলে পুড়ে মরি॥
কহিব কাহার আগে,        কহিলে পিরীতি ভাঙ্গে
চিত মোর ধৈরজ না বান্ধে।
নয়নানন্দের বাণী,               শুন শুন ঠাকুরাণী
ঠেকিলা গৌরাঙ্গ প্রেম ফাঁদে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮৬-পৃষ্ঠায়, নয়নানন্দ (ভরতপুর)-এর পদ হিসেবে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ ধানশী॥

গৌরাঙ্গ লাবণ্য রূপে          কি কহিব এক মুখে
আর তাহে ফুলের কাঁচনি।
চাঁদ মুখের হাসি            জীব না গো হেন বাসি
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি॥
বিহি সে গঢ়ল রূপ ছান্দে।
কেমন কেমন করে মন           সব লাগে উচাটন
পরাণ পুতলি মোর কান্দে॥ ধ্রু॥
বিধিরে বলিব কি                করিলে কুলের ঝি
আর তাহে নহি স্বতন্তরি।
গেল কুল লাজ ভয়             পরাণ রহিবার নয়
মনের অনলে পুড়ে মরি॥
কহিব কাহার আগে          কহিলে পিরীতি ভাঙ্গে
চিত মোর ধৈরজ না বান্ধে।
নয়নানন্দের বাণী                 শুন শুন বিনোদিনি
ঠেকিলা গৌরাঙ্গ প্রেম ফান্দে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” নয়নানন্দ
(ভরতপুর), ১৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাঙ্গ লাবণ্য রূপে কি কহিব এক                
মুখে আর তাহে ফুলের কাঁচনি।
চাঁদ মুখের হাসি জীব না গো হেন বাসি            
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি॥
বিহি সে গঢ়ল রূপ ছান্দে।                        
কেমন কেমন করে মন সব লাগে উচাটন         
পরাণ পুতলি মোর কান্দে॥
বিধিরে বলিব কি করিলে কুলের ঝি             
আর তাহে নহি স্বতন্তরি।
গেল কুল লাজ ভয় পরাণ রহিবার নয়            
মনের অনলে পুড়ে মরি॥
কহিব কাহার আগে কহিলে পিরীতি               
ভাঙ্গে চিত মোর ধৈরজ না বান্ধে।
নয়নানন্দের বাণী শুন শুন বিনোদিনি              
ঠেকিলা গৌরাঙ্গ প্রেম ফান্দে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দুহুঁ দুহুঁ পিরিতি আরতি নাহি টুটে
দুই পিরীতি আরতি নাহি টুটে
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৭২৫ সালে, নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা সংকলিত
ও বিরোচিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর”
গ্রন্থ, দ্বাদশ তরঙ্গ, ৯২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ কামোদঃ॥

দুহুঁ দুহুঁ পিরিতি আরতি নাহি টুটে। পরশে পরমসুখ
জানি কত উঠে॥ নাচয়ে গৌরাঙ্গ মোর গদাধর রসে। গদাধর
নাচে পুন গৌরাঙ্গ বিলাসে॥ পুরুষপ্রকৃতি কিবা জানকী
শ্রীরাম। রাধা কানু কেলি কিবা রতি দেবকাম॥ অনন্ত
অনঙ্গ জিনি অঙ্গের বলনি। উপমা মহিমা সীমা কি বলিতে
জানি॥ মুখে কি তুলনা চাঁদ নিতি জীয়ে মরে। কর পদ পদ্ম
কিসে হিমে সব ঝরে॥ প্রেম-সঙ্কীর্ত্তন-সুখ নদীয়ানগরে।
প্রেমের গৃহিণী সে পণ্ডিত গদাধরে॥ প্রেম-পরশমণি শচীর
নন্দন। উদ্ধারিলা জগজনে দিয়া প্রেমধন॥ কহে নয়নানন্দ
আনন্দ বিহার। শুনিতে হরয়ে মন ইথে কি বিচার॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা ১৭শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, ২০৬৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

দুহুঁ দুহুঁ পিরিতি আরতি নাহি টুটে।
পরশে পরম কত কত সুখ উঠে॥
নাচয়ে গৌরাঙ্গ মোর গদাধর-রসে।
গদাধর নাচে পুন গৌরাঙ্গ-বিলাসে॥
প্রকৃতি পুরুষ কিবা জানকী শ্রীরাম।
রাধা-কানু এই কিবা রতি দেব কাম॥
অনন্ত অনঙ্গ জিনি অঙ্গের বলনি।
উপমা মহিমা-সীমা কি বলিতে জানি॥
মুখে চাঁদ কি বর্ণিব নিতি জীয়ে মরে।
কর-পদে পদ্ম কিবা হিম-ভরে ঝরে॥
প্রেম-কীর্ত্তন-সুখ নদীয়া নগরে।
প্রেমের গৃহিণী সে পণ্ডিত গদাধরে॥
প্রেম-পরশ-মণি শচীর নন্দন ।
উদ্ধারিল জগ-জন দিয়া প্রেম-ধন॥
কহে নয়নানন্দ দোঁহার বিহার।
শুনিতে হরয়ে মন ইথে কি বিচার॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির
২১৭৮ ও ২৪৬০ পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি।
সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ পঠমঞ্জরী॥

দুহুঁ দুহুঁ পিরিতি আরতি নাহি টুটে।
পরশে পরম কত কত সুখ উঠে॥
নাচয়ে গৌরাঙ্গ মোর গদাধর-রসে।
গদাধর নাচে পুন গৌরাঙ্গ-বিলাসে॥
প্রকৃতি পুরুষ কিবা জানকী শ্রীরাম।
রাধা-কানু এই কিবা রতি দেব কাম॥
অনন্ত অনঙ্গ জিনি অঙ্গের বলনি।
উপমা মহিমা-সীমা কি বলিতে জানি॥
মুখে চাঁদ কি বর্ণিব নিতি জীয়ে মরে।
কর-পদে পদ্ম কিবা হিম-ভরে ঝরে॥
প্রেম-কীর্ত্তন-সুখ নদীয়া নগরে।
প্রেমের গৃহিণী সে পণ্ডিত গদাধরে॥
প্রেম-পরম-মণি শচীর নন্দন ।
উদ্ধারিল জগ-জন দিয়া প্রেম-ধন॥
কহে নয়নানন্দ দোঁহার বেহার।
শুনিতে হরয়ে মন ইথে কি বিচার॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পটমঞ্জরী॥

.        দুই পিরীতি আরতি নাহি টুটে। পরশে সর-
স তনু কত সুখ উঠে॥ নাচেন গৌরাঙ্গ মোর গদাধর আশে।
গদাধর নাচে পুন গৌরাঙ্গ বিলাসে॥ ধ্রু॥ পুরুষ প্রকৃতী
কিবা জানকী শ্রীরাম। রাধা কানু কেলি কিবা রতি দেবকাম॥
অনন্ত অনঙ্গ জিনি অঙ্গের বলনী। উপমা মহিমা সীমা কি
বলিতে জানি॥ মুখ চাঁদ কি কি বলিব নিতি জীয়ে মরে। কর
পদ কি কহিব হেম ভয়ে @রে॥ প্রেম ঙ্কীর্ত্তন সুখ নদীয়া
নগরে। প্রেমের গৃহিণী পণ্ডিত গদাধরে॥ প্রেম পরেশমণি
শচীর নন্দনে। উদ্ধারিল জগজনে দিয়া প্রেমধনে॥ কহেন
নয়নানন্দ স্বতন্ত্র বেহার। শুনিলে হরয়ে মন ইথে কি
বিচার॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

দুহুঁ দুহুঁ পিরিতি আরতি নাহি টুটে।
পরশে পরম কত কত সুখ উঠে॥
নাচয়ে গৌরাঙ্গ মোর গদাধর রসে।
গদাধর নাচে পুনঃ গৌরাঙ্গবিলাসে॥
প্রকৃতি পুরুষ কিবা জানকী শ্রীরাম।
রাধা কানু কেলি কিবা রতি দেব কাম॥
অনন্ত অনঙ্গ জিনি অঙ্গের বলনি।
উপমা মহিমা সীমা কি বলিতে জানি॥
মুখচাঁদ কি বর্ণিব নিতি জীয়ে মরে।
করপদে পদ্ম কিবা হিমে সব ঝরে॥
প্রেমকীর্ত্তনসুখ নদীয়ানগরে।
প্রেমের গৃহিণী সে পণ্ডিত গদাধরে॥
প্রেম-পরশ-মণি শচীর নন্দন।
উদ্ধারিল জগজন দিয়া প্রেমধন॥
কহে নয়নানন্দ চন্দ্র বিহার।
শুনিতে হরয়ে মন ইথে কি বিচার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৮৭-পৃষ্ঠায়, নয়নানন্দ (ভরতপুর)-এর পদ হিসেবে, এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা
॥ পঠমঞ্জরী॥

দুহুঁ দুহুঁ পিরিতি আরতি নাহি টুটে।
পরশে পরম কত কত সুখ উঠে॥
নাচয়ে গৌরাঙ্গ মোর গদাধররসে।
গদাধর নাচে পুন গৌরাঙ্গবিলাসে॥
প্রকৃতি পুরুষ কিবা জানকী শ্রীরাম।
রাধাকানু এই কিবা রতি দেব কাম॥
অনন্ত অনঙ্গ জিনি অঙ্গের বলনি।
উপমা মহিমাসীমা কি বলিতে জানি॥
মুখে চাঁদ কি বর্ণিব নিতি জীয়ে মরে।
কর-পদে পদ্ম কিবা হিমভরে ঝরে॥
প্রেমকীর্ত্তন সুখ নদীয়া নগরে।
প্রেমের গৃহিণী সে পণ্ডিত গদাধরে॥
প্রেমপরশমণি শচীর নন্দন।
উদ্ধারিল জগজন দিয়া প্রেমধন॥
কহে নয়নানন্দ দোঁহার বিহার।
শুনিতে হরয়ে মন ইথে কি বিচার॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী” নয়নানন্দ (ভরতপুর), ১৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুহুঁ দুহুঁ পিরীতি আরতি নাহি টুটে।
পরশে পরম কত কত সুখ উঠে॥
নাচয়ে গৌরাঙ্গ মোর গদাধররসে।
গদাধর নাচে পুন গৌরাঙ্গবিলাসে॥
প্রকৃতি পুরুষ কিবা জানকী শ্রীরাম।
রাধাকানু এই কিবা রতি দেব কাম॥
অনন্ত অনঙ্গ জিনি অঙ্গের বলনি।
উপমা মহিমাসীমা কি বলিতে জানি॥
মুখে চাঁদ কি বর্ণিব নিতি জীয়ে মরে।
কর পদে পদ্ম কিবা হিমভরে ঝরে॥
প্রেমকীর্ত্তন সুখ নদীয়া নগরে।
প্রেমের গৃহিণী সে পণ্ডিত গদাধরে॥
প্রেমপরশমণি শচীর নন্দন।
উদ্ধারিল জগজন দিয়া প্রেমধন॥
কহে নয়নানন্দ দোঁহার বিহার।
শুনিতে হরয়ে মন ইথে কি বিচার॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখ দেখ গোরা-নট রঙ্গ
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১৭শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি
লীলা, ২১০৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

দেখ দেখ গোরা-নট রঙ্গ।
কীর্ত্তন মঙ্গল                      মহারাস-মণ্ডল
উপজিল পূরব-প্রসঙ্গ॥ ধ্রু॥
নাচে পহু নিত্যানন্দ          ঠাকুর অদ্বৈতচন্দ্র
শ্রীনিবাস মুকুন্দ মুরারি।
রামানন্দ বক্রেশ্বর              আর যত সহচর
প্রেম সিন্ধু আনন্দ-লহরী॥
ঠাকুর পণ্ডিত গায়       গোবিন্দ আনন্দে বায়
নাচে গোরা গদাধর সঙ্গে।
দ্রিমিক দ্রিমিক ধৈয়া, তা থৈয়া তা থৈয়া থৈয়া
বাজত মোহন মৃদঙ্গে॥
যত যত অবতারে             সুখময় সুখ-সারে
এই মোর নবদ্বীপ-নাথে।
যার যেই নিজ ভাব          পরতেকে দেখ সব
নয়নানন্দের রহু চিতে॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল রাগ পরিমিত তালো তত্র গৌরচন্দ্র॥

দেখ দেখ গোরানটরঙ্গ। কীর্ত্তনমঙ্গল মহারাসমণ্ডল উপজল পূরূব প্রসঙ্গ॥
নাচে পহুঁ নিত্যানন্দ ঠাকুর অদ্বৈতচন্দ্র শ্রীনিবাস মুকুন্দ মুরারি।
রামানন্দ বক্রেশ্বর আর জত সহচর প্রেমসিন্ধু আনন্দলহরী॥
ঠাকুর পণ্ডিত গায় গোবিন্দ আনন্দ তায় নাচে গোরা গদাধর সঙ্গে।
দৃমিকি দৃমিকি ধৈয়া তাথৈয়া তাথৈয়া থৈয়া বাজওত মোহন মৃদঙ্গে॥
জত জত অবতারে সুখময় সুখসারে এই মোর নবদ্বীপনাথে।
জার যত নিজভাব পরতেক দেখি সব নয়নানন্দের রহু চিতে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২২১৫
পদসংখ্যায় কোনও পাঠান্তর ছাড়াই এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র
রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ মঙ্গল॥

দেখ দেখ গোরা-নট রঙ্গ।
কীর্ত্তন মঙ্গল                        মহারাস-মণ্ডল
উপজিল পূরব-প্রসঙ্গ॥ ধ্রু॥
নাচে পহু নিত্যানন্দ          ঠাকুর অদ্বৈতচন্দ্র
শ্রীনিবাস মুকুন্দ মুরারি।
রামানন্দ বক্রেশ্বর              আর যত সহচর
প্রেম সিন্ধু আনন্দ-লহরী॥
ঠাকুর পণ্ডিত গায়       গোবিন্দ আনন্দে বায়
নাচে গোরা গদাধর সঙ্গে।
দ্রিমিক দ্রিমিক ধৈয়া, তা থৈয়া তা থৈয়া থৈয়া
বাজত মোহন মৃদঙ্গে॥
যত যত অবতারে             সুখময় সুখ-সারে
এই মোর নবদ্বীপ-নাথে।
যার যেই নিজ ভাব            পরতেকে দেখ সব
নয়নানন্দের রহু চিতে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


॥ মঙ্গল॥

দেখ দেখ গোরা-নটরঙ্গ।
কীর্ত্তন মঙ্গল                        মহারাসমণ্ডল
উপজিল পূরুব প্রসঙ্গ॥ ধ্রু॥
নাচে পহুঁ নিত্যানন্দ          ঠাকুর অদ্বৈতচন্দ্র
শ্রীনিবাস মুকুন্দ মুরারি।
রামানন্দ বক্রেশ্বর              আর যত সহচর
প্রেম সিন্ধু আনন্দলহরী॥
ঠাকুর পণ্ডিত গায়       গোবিন্দ আনন্দে বায়
নাচে গোরা গদাধর সঙ্গে।
দ্রিমিকি দ্রিমিকি ধৈয়া   তাথৈয়া তাথৈয়া থৈয়া
বাজত মোহন মৃদঙ্গে॥
যত যত অবতারে             সুখময় সুখসারে
এই মোর নবদ্বীপনাথে।
যার যেই নিজ ভাব          পরতেকে দেখ সব
নয়নানন্দের রহু চিতে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮৮-পৃষ্ঠায়, নয়নানন্দ (ভরতপুর)-এর পদ হিসেবে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা
॥ মঙ্গল॥

দেখ দেখ গোরানট রঙ্গ।
কীর্ত্তন মঙ্গল                           মহারাস মণ্ডল
উপজিল পুরবপ্রসঙ্গ॥ ধ্রু॥
নাচে পহু নিত্যানন্দ               ঠাকুর অদ্বৈতচন্দ্র
শ্রীনিবাস মুকুন্দ মুরারি।
রামানন্দ বক্রেশ্বর                   আর যত সহচর
প্রেমসিন্ধু আনন্দলহরী॥
ঠাকুর পণ্ডিত গায়               গোবিন্দ আনন্দে বায়
নাচে গোরা গদাধর সঙ্গে।
দ্রিমিকি দ্রিমিকি ধৈয়া        তা থৈয়া তা থৈয়া থৈয়া
বাজত মোহন মৃদঙ্গে॥
যত যত অবতারে                  সুখময় সুখ-সারে
এই মোর নবদ্বীপনাথে।
যার যেই নিজ ভাব                পরতেকে দেখ সব
নয়নানন্দের রহু চিতে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” নয়নানন্দ
(ভরতপুর), ১৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দেখ দেখ গোরানট রঙ্গ।                        
কীর্ত্তন মঙ্গল মহারাস মণ্ডল                      
উপজিল পুরবপ্রসঙ্গ॥
নাচে পহু নিত্যানন্দ ঠাকুর অদ্বৈতচন্দ্র           
শ্রীনিবাস মুকুন্দ মুরারি।
রামানন্দ বক্রেশ্বর আর যত সহচর              
প্রেমসিন্ধু আনন্দলহরী॥
ঠাকুর পণ্ডিত গায় গোবিন্দ আনন্দে              
বায় নাচে গোরা গদাধর সঙ্গে।
দ্রিমিকি দ্রিমিকি ধৈয়া তা থৈয়া তা থৈয়া         
থৈয়া বাজত মোহন মৃদঙ্গে॥
যত যত অবতারে সুখময় সুখ সারে             
এই মোর নবদ্বীপনাথে।
যার যেই নিজ ভাব পরতেকে দেখ সব          
নয়নানন্দের রহু চিতে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নাচয়ে গৌরাঙ্গ গদাধর-মুখ চাঞা
বিলসই গোরা গদাধর মুখ চেঞা
মাতল কীর্ত্তনরসে গৌর গদাধর
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা ১৯শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ—নাগরী-উক্তি, ২১৭৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

নাচয়ে গৌরাঙ্গ গদাধর-মুখ চাঞা।
অন্তরে পরশ-রস উথলিল হিয়া॥
দুহুঁ মুখ নিরখিতে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁ ভেল রস-নিধি অমিয়া চকোর॥
বুকে বুকে মিলি দুহে কয়লহি কোর।
কাঁপি পুলক দুহুঁ ঝাঁপই লোর॥
তনু মন বাণী দুহুঁ একই পরাণ।
প্রতি অঙ্গে পিরিতি-অমিয়া নিরমাণ॥
পণ্ডিতে মণ্ডিত ভেল গোরা নট-রাজ।
দূর সঞে দেখে সব নাগরী-সমাজ॥
নদীয়া-নাগরীগণ বুঝিল মরমে।
যার পরসাদে পাই প্রেম-রতনে॥
গদাধর-প্রেম-বশ গৌর রসিয়া।
কহয়ে নয়নানন্দ এ রসে ভাসিয়া॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী রাগ পরিমিতাভালো॥

বিলসই গোরা গদাধর মুখ চেঞা। অন্তরে পরস সব উথলিল হিয়া॥
দুহু মুখ নিরখিতে দুহুঁ ভেল ভোর॥ দুহুঁ ভেল রসনিধি অমিয়া চকোর॥
বুকে বুকে মিলি দোহে কয়লহি কোর। কাপি পুলক দুহে ঝাপই লোর॥
তনু মন বাণী দোহে একুই পরান। প্রতি অঙ্গে পিরিতি অমিয়া নিরমান ॥
পণ্ডিতে মণ্ডিতে ভেল গোরা নটরাঞ্জ। দূর সঞে দেখি সব নাগরীসমাজ॥
নদীয়ানাগরীগণ বুঝিল মরমে। জার পরসাদ পাই প্রেম রতনে॥
গদাধর প্রেমরস গৌর রসিয়া। কহএ নয়নানন্দ এ রসে ভরিয়া ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২২৮৭
পদসংখ্যায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ বরাড়ী॥

নাচয়ে গৌরাঙ্গ গদাধর-মুখ চাঞা।
অন্তরে পরশ-রস উথলিল হিয়া॥
দুহুঁ মুখ নিরখিতে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁ ভেল রস-নিধি অমিয়া চকোর॥
বুকে বুকে মিলি দুহে কয়লহি কোর।
কাঁপি পুলক দুহুঁ ঝাঁপই লোর॥
তনু মন বাণী দুহুঁ একই পরাণ।
প্রতি অঙ্গে পিরিতি-অমিয়া নিরমাণ॥
পণ্ডিতে মণ্ডিত ভেল গোরা নট-রাজ।
দূর সঞে দেখে নাগরী-সমাজ॥
নদীয়া-নাগরীগণ বুঝিল মরমে।
যার পরসাদে পাই প্রেম-রতনে॥
গদাধর-প্রেম-বশ গৌর রসিয়া।
কহয়ে নয়নানন্দ এ রসে ভাসিয়া॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সম্ভোগ বের গৌরচন্দ॥

মাতল কীর্ত্তনরসে গৌর গদাধর। পরশ লাগিঞা হিয়া হইল অধর॥
দোহ মুখ নিরখিতে দুহু ভেল ভোর। দোঁহু ভেল রসনিধি অমিয়া চকোর॥
বুকে বুকে মিলি দোহে কয়লহি কোর। কাপি পুলক দোহে ঝাপই লোর॥
তনু মন বাণী দোহে একুই পরাণ। প্রতি অঙ্গে পিরীতি অমিয়া নিরমান॥
পণ্ডিতে মণ্ডিত ভেল গোরা নটরাজ। দূর সঞে দেখে সব নাগরীমাঝ॥
[ কি ] দিয়া নাগরীগণ বুঝিল মরমে। জার পরসাদ পাই প্রেম রতনে॥
গদাধর প্রেমরস গৌর রসিয়া। কহএ নয়নানন্দ এ রসে ভাসিয়া॥

[ কি ] - সম্ভবত পুথিতে অপাঠ্য অক্ষর ছিল, তাই এভাবে সম্পাদন করা হয়েছে। শব্দটি
“নদীয়া বা নদিয়া” হবে।

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

নাচয়ে গৌরাঙ্গ গদাধর মুখ চাঞা।
অন্তরে পরশ-রস উথলিল হিয়া॥
দুহুঁ মুখ নিরখিতে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁ ভেল রসনিধি অমিঞা চকোর॥
বুকে বুকে মিলি দুহুঁ কয়লহি কোর।
কাঁপি পুলক দুহুঁ ঝাঁপই লোর॥
তনু মন বাণী দুহুঁ একই পরাণ।
প্রতি অঙ্গে পিরিতি অমিয়া নিরমাণ॥
পণ্ডিতে মণ্ডিত ভেল গোরা নটরাজ।
দূর সঞে দেখে সব নাগরী সমাজ॥
নদীয়া নাগরীগণ বুঝিল মরমে।
যার পরসাদে পাই প্রেমরতনে॥
গদাধর প্রেমে বশ গৌর রসিয়া।
কহয়ে নয়নানন্দ এ রসে ভাসিয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৯০-পৃষ্ঠায়, নয়নানন্দ (ভরতপুর)-এর পদ হিসেবে, এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র - প্রকারান্তর
॥ বরাড়ী॥

নাচয়ে গৌরাঙ্গ গদাধরমুখ চাঞা।
অন্তরে পরশরস উথলিল হিয়া॥
দুহুঁ মুখ নিরখিতে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁ ভেল রসনিধি অমিয়া চকোর॥
বুকে বুকে মিলি দুহেঁ কয়লহি কোর।
কাঁপি পুলক দুহুঁ ঝাঁপই লোর॥
তনু মন বাণী দুহুঁ একই পরাণ।
প্রতি অঙ্গে পিরীতি অমিয়া নিরমাণ॥
পণ্ডিতে মণ্ডিত ভেল গোরা নটরাজ।
দূর সঞে দেখে সব নাগরীসমাজ॥
নদীয়া নাগরীগণ বুঝিল মরমে।
যার পরসাদে পাই প্রেমরতনে॥
গদাধর প্রেমবশ গৌর রসিয়া।
কহয়ে নয়নানন্দ এ রসে ভাসিয়া॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী” নয়নানন্দ (ভরতপুর), ১৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নাচয়ে গৌরাঙ্গ গদাধরমুখ চাঞা।
অন্তরে পরশরস উথলিল হিয়া॥
দুহুঁ মুখ নিরখিতে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁ ভেল রসনিধি অমিয়া চকোর॥
বুকে বুকে মিলি দুহেঁ কয়লহি কোর।
কাঁপি পুলক দুহুঁ ঝাঁপই লোর॥
তনু মন বাণী দুহুঁ একই পরাণ।
প্রতি অঙ্গে পিরীতি অমিয়া নিরমাণ॥
পণ্ডিতে মণ্ডিত ভেল গোরা নটরাজ।
দূর সঞে দেখে সব নাগরীসমাজ॥
নদীয়া নাগরীগণ বুঝিল মরমে।
যার পরসাদে পাই প্রেমরতনে॥
গদাধর প্রেমবশ গৌর রসিয়া।
কহয়ে নয়নানন্দ এ রসে ভাসিয়া॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নাচে শচীর নন্দন দুলালিয়া
নাচে শচীনন্দন দুলালিয়া
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১৭শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি
লীলা, ২০৭৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

নাচে শচীর নন্দন দুলালিয়া।
সকল রসের সিন্ধু         গদাধর-প্রাণবন্ধু
নিরবধি বিনোদ রঙ্গিয়া॥ ধ্রু॥
কস্তুরী-তিলক মাঝে মোহন চূড়াটী সাজে
অলকাবলিত বর শোভা।
কনক বদন-শশী               অমিয়া মধুর হাসি
নবীন নাগরী মন-লোভা॥
গোরা-গলে বনমালা অতি অপরূপ লীলা
কনক-অঙ্গুরী অঙ্গ ভুজে।
পিয়ল বসন জোরা     অখিল-মরম-চোরা
নয়নানন্দ পদাম্বুজে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২১৮২ পদসংখ্যায়
কোনও পাঠান্তর ছাড়াই এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ভাটিয়ারি॥

নাচে শচীর নন্দন দুলালিয়া।
সকল রসের সিন্ধু              গদাধর-প্রাণবন্ধু
নিরবধি বিনোদ রঙ্গিয়া॥ ধ্রু॥
কস্তুরী-তিলক মাঝে       মোহন চূড়াটী সাজে
অলকাবলিত বর শোভা।
কনক বদন-শশী           অমিয়া মধুর হাসি
নবীন নাগরী মন-লোভা॥
গোরা-গলে বনমালা      অতি অপরূপ লীলা
কনক-অঙ্গুরী অঙ্গ ভুজে।
পিয়ল বসন জোরা        অখিল-মরম-চোরা
নয়নানন্দ পদাম্বুজে ॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

নাচে শচীনন্দন দুলালিয়া।
সকল রসের সিন্ধু               গদাধর প্রাণবন্ধু
নিরবধি বিনোদ রঙ্গিয়া॥ ধ্রু॥
কস্তুরি তিলক মাঝে        মোহন চুড়াটী সাজে
অলকাবলিত বড় শোভা।
কনক বদনশশী            অমিঞা মধুর হাসি
নবীন নাগরী-মনোলোভা॥
গোরা গলে বনমালা        অতিঅপরূপ লীলা
কনক অঙ্গুরি অঙ্গ ভুজে।
পিঙ্গল বসন জোড়া          অখিল মরম-চোরা
মজে নয়নানন্দ পদাম্বুজে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮৮-পৃষ্ঠায়, নয়নানন্দ (ভরতপুর)-এর পদ হিসেবে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা
॥ ভাটিয়ারি॥

নাচে শচীর নন্দন দুলালিয়া।
সকল রসের সিন্ধু             গদাধর প্রাণবন্ধু
নিরবধি বিনোদ রঙ্গিয়া॥ ধ্রু॥
কস্তুরী তিলক মাঝে      মোহন চূড়াটী সাজে
অলকাবলিত বর শোভা।
কনক বদনশশী           অমিয়া মধুর হাসি
নবীন নাগরী মনোলোভা॥
গোরা গলে বনমালা      অতি অপরূপ লীলা
কনক অঙ্গুরী অঙ্গ ভুজে।
পিয়ল বসন জোড়া         অখিলমরমচোরা
নয়নানন্দ পদাম্বুজে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” নয়নানন্দ
(ভরতপুর), ১৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নাচে শচীর নন্দন দুলালিয়া।                     
সকল রসের সিন্ধু গদাধর প্রাণবন্ধু               
নিরবধি বিনোদ রঙ্গিয়া॥
কস্তুরী তিলক মাঝে মোহন চূড়াটী সাজে         
অলকাবলিত বর শোভা।
কনক বদনশশী অমিয়া মধুর হাসি               
নবীন নাগরী মনোলোভা॥
গোরা গলে বনমালা অতি অপরূপ               
লীলা কনক অঙ্গুরী অঙ্গ ভুজে।
পিয়ল বসন জোড়া অখিলমরমচোরা            
নয়নানন্দ পদাম্বজে @॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রেমের সাগর নয়ন কমল নাচন খঞ্জন তারা
প্রেমের সায়র বয়ান কমল, লোচন খঞ্জন তারা
গোরা রূপ দেখিলুঁ মোহন বেশে
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১৯শ পল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ—
নাগরী উক্তি, ২১৭০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

প্রেমের সাগর                 নয়ন-কমল
নাচন খঞ্জন তারা।
কিয়ে শুভক্ষণ                সর্ব্ব সুলক্ষণ
ভেটলুঁ প্রাণ-পিয়ায়া॥
গোরা-রূপ দেখিলুঁ মোহন বেশে।
যার অনুভব            সেই সে জানয়ে
না পায় আনে উদ্দেশে॥ ধ্রু॥
রূপের সদন                 ও চাঁদ-বদন
সরুয়া বসন রাঙ্গা।
রাঙ্গা কর-পদ            জিনি কোকনদ
রহে অঙ্গ তিরিভঙ্গা॥
ভাবের আবেশে         ভাবিনী লালসে
অন্তরে বাহিরে গোরা।
এ নয়নানন্দ               ভাবে অনুবন্ধ
সদত ভাবে বিভোরা॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২২৭৭ পদসংখ্যায়, এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ভাটিয়ারি॥

প্রেমের সাগর                 নয়ন-কমল
নাচন খঞ্জন তারা।
কিয়ে শুভক্ষণ                সর্ব্ব সুলক্ষণ
ভেটলুঁ প্রাণ-পিয়ায়া॥
গোরা-রূপ দেখিলুঁ মোহন বেশ।
যার অনুভব            সেই সে জানয়ে
না পায় আনে উদ্দেশ॥ ধ্রু॥
রূপের সদন                  ও চাঁদ-বদন
সরুয়া বসন রাঙ্গা।
রাঙ্গা কর-পদ              জিনি কোকনদ
রহে অঙ্গ তিরিভঙ্গা॥
ভাবের আবেশে           ভাবিনী লালসে
অন্তরে বাহিরে গোরা।
এ নয়নানন্দ                  ভাবে অনুবন্ধ
সদত ভাবে বিভোরা॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

প্রেমের সায়র, বয়ান কমল, লোচন খঞ্জন তারা।
কিয়ে শুভক্ষণ, সর্ব্ব সুলক্ষণ, ভেটলুঁ প্রাণ পিয়ারা॥
গোরারূপ দেখিলুঁ মোহন বেশে।
যার অনুভব, সেই সে জানয়ে, না পায় আন উদ্দেশে॥ ধ্রু॥
রূপের সদন, ও চাঁদ বদন, সরুয়া বসন রাঙ্গা।
রাঙ্গা করপদ, জিনি কোকনদ, রহে অঙ্গ তিরিভঙ্গা॥
ভাবের আবেশে, ভাবিনী লালসে, অন্তর বাহিরে গোরা।
এ নয়নানন্দ, ভাবে অনুবন্ধ, সতত ভাবে বিভোরা॥

ই পদটি নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড,
আক্ষেপানুরাগ, ৬৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনশ্চ
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ মায়ুর মিশ্রিত ধানশী - মধ্যম দশকুশী॥

গোরা রূপ দেখিলুঁ মোহন বেশে।
যার অনুভব              সেই সে জানয়ে
না পায় আনে উদ্দেশে॥ ধ্রু॥
প্রেমের সাগর                  বয়ান কমল
লোচন খঞ্জন পারা।
কিয়ে শুভক্ষণ                  সর্ব্ব সুলক্ষণ
ভেটিলুঁ প্রাণ-পিয়ারা॥
রূপের সদন                    ও চাঁদ বদন
সরুয়া বসন রাঙ্গা।
রাঙ্গা করপদ                 জিনি কোকনদ
রহে অঙ্গ তিরিভঙ্গা॥
ভাবের আবেশে             ভাবিনী লালসে
অন্তরে বাহিরে গোরা।
এ নয়নানন্দ                   ভাবে অনুবন্ধ
সদত ভাবে বিভোরা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮৯-পৃষ্ঠায়, নয়নানন্দ (ভরতপুর)-এর পদ হিসেবে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ প্রভৃতি
॥ ভাটিয়ারি॥

প্রেমের সাগর                  নয়নকমল
নাচন খঞ্জন তারা।
কিয়ে শুভক্ষণ                সর্ব্ব সুলক্ষণ
ভেটলুঁ প্রাণপিয়ারা॥
গোরারূপ দেখিলুঁ মোহন বেশে।
যার অনুভব            সেই সে জানয়ে
না পায় আনে উদ্দেশে॥ ধ্রু॥
রূপের সদন                  ও চাঁদবদন
সরুয়া বসন রাঙ্গা।
রাঙ্গা করপদ              জিনি কোকনদ
রহে অঙ্গ তিরিভাঙ্গা॥
ভাবের আবেশে           ভাবিনী লালসে
অন্তরে বাহিরে গোরা।
এ নয়নানন্দ                 ভাবে অনুবন্ধ
সদত ভাবে বিভোরা॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” নয়নানন্দ
(ভরতপুর), ১৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেমের সাগর নয়নকমল                
নাচন খঞ্জন তারা।
কিয়ে শুভক্ষণ সর্ব্ব সুলক্ষণ             
ভেটলুঁ প্রাণপিয়ারা॥
গোরারূপ দেখিলুঁ মোহন বেশে।          
যার অনুভব সেই সে জানয়ে             
না পায় আনে উদ্দেশে॥
রূপের সদন ও চাঁদবদন                  
সরুয়া বসন রাঙ্গা।
রাঙ্গা করপদ জিনি কোকনদ              
রহে অঙ্গ তিরিভাঙ্গা॥
ভাবের আবেশে ভাবিনী লালসে          
অন্তরে বাহিরে গোরা।
এ নয়নানন্দ ভাবে অনুবন্ধ                
সদত ভাবে বিভোরা॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মণ্ডলী রচিয়া সহচরে
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১৭শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি
লীলা, ২০৬৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

মণ্ডলী রচিয়া সহচরে।
তার মাঝে গোরা নটবরে॥ ধ্রু॥
নাচে বিশ্বম্ভর                  সঙ্গে গঙ্গাধর
নাচে নিত্যানন্দ রায়।
পূরব কৌতুক                ভুঞ্জে প্রেম-সুখ
স্বভাবে বুঝিবা পায়॥
ঘরে ঘরে শ্যাম-                সুন্দর-মূরতি
পিরীতি ভকতি দিয়া।
করে সংকীর্ত্তন                যাচে প্রেম-ধন
সব সহচর লৈয়া॥
পুরুষ নাচে                     প্রকৃতি-ভাবে
পুরুষ-ভাবে যুবতী।
যার যেই ভাব                 পাইয়া স্বভাব
নাচে কত শত জাতি॥
কহে নয়নানন্দ                  নদীয়া-আনন্দ
আনন্দে ভুবন ভোরা।
দুখিত-জীবন                    মাধব-নন্দন-
চরণে শরণ মোরা॥

টীকা -
১৭-১৮। “দুখিত” ইত্যাদি। দুঁখিত জীবন আমরা ( আমি পদকর্ত্তা নয়নানন্দ ও আমার প্রিয়বন্ধুগণ ) মাধব-
নন্দন অর্থাৎ গদাধর পণ্ডিতের চরণে আশ্রয় (লইলাম)।
---সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২১৭৭ ও ২২১৩
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-
পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ কেদার॥

মণ্ডলী রচিয়া সহচরে।
তার মাঝে গোরা নটবরে॥ ধ্রু॥
নাচে বিশ্বম্ভর                   সঙ্গে গঙ্গাধর
নাচে নিত্যানন্দ রায়।
পূরব কৌতুক                  ভুঞ্জে প্রেম-সুখ
সভারে বুঝিবা পায়॥
ঘরে ঘরে শ্যাম-                সুন্দর-মূরতি
পিরীতি ভকতি দিয়া।
করে সংকীর্ত্তন                 যাচে প্রেম-ধন
সভারে সদয় হৈয়া॥
পুরুষ নাচত                     প্রকৃতি-ভাবে
পুরুষ-ভাবে প্রকৃতি।
যার যেই ভাব                 পাইয়া স্বভাব
নাচে কত শত জাতি॥
কহে নয়নানন্দ                  নদীয়া-আনন্দ
আনন্দে ভুবন ভোরা।
দুঃখিত-জীবন                   মাধব-নন্দন-
চরণে শরণ মোরা॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তত্র গৌরচন্দ্র নটো রাগ একতালি॥

মণ্ডলী রচিয়া সহচরে। তার মাঝে গোরা নটবরে॥
নাচে বিশ্বম্ভর সঙ্গে গঙ্গাধর নাচে নিত্যানন্দরায়। @
পূরূব কৌতুকে ভুঞ্জে প্রেমসুখ সভারে বুঝিয়া পায়॥
পুরুষ নাচে প্রকৃতি ভাবে পুরুষভাব যুবতী।
জার জেই ভাব পাইয়া স্বভাব নাচে কত শত জাতি॥
কহে নয়নানন্দ নদীআ আনন্দ আনন্দে ভুবন ভোরা।
দুখিত জীবন মাধবনন্দন চরণে শরণ মোরা॥

@ - এর পরে এই কলি দুটি এখানে নেই . . .
ঘরে ঘরে শ্যাম-                সুন্দর-মূরতি
পিরীতি ভকতি দিয়া।
করে সংকীর্ত্তন                যাচে প্রেম-ধন
সব সহচর লৈয়া॥


ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

মণ্ডলী রচিয়া সহচরে। তার মাঝে গোরা নটবরে॥ ধ্রু॥
নাচে বিশ্বম্ভর, সঙ্গে গঙ্গাধর, নাচে নিত্যানন্দ রায়।
পূরুব কৌতুক, ভুঞ্জে প্রেমসুখ, স্বভাবে বুঝিবা পায়॥
ঘরে ঘরে শ্যাম, সুন্দর মূরতি, পিরীতি ভকতি দিয়া।
করে সংকীর্ত্তন যাচে প্রেমধন, সব সহচর লৈয়া॥
পুরুষ নাচে, প্রকৃতি ভাবে, পুরুষ ভাবে যুবতী।
যার যেই ভাব পাইয়া স্বভাব, নাচে কত শত জাতি॥
কহে নয়নানন্দ, নদীয়া আনন্দ, আনন্দে ভুবন ভোরা।
দুঃখিত জীবন, মাধবনন্দন, চরণে শরণ মোরা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮৭-পৃষ্ঠায়, নয়নানন্দ (ভরতপুর)-এর পদ হিসেবে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা
॥ কেদার॥

মণ্ডলী রচিয়া সহচরে।
তার মাঝে গোরা নটবরে॥ ধ্রু॥
নাচে বিশ্বম্ভর       
           সঙ্গে গঙ্গাধর
নাচে নিত্যানন্দ রায়।
পূরব কৌতুক                 ভুঞ্জে প্রেম-সুখ
স্বভাবে বুঝিয়া পায়॥
ঘরে ঘরে শ্যাম-                 সুন্দর মূরতি
পিরীতি ভকতি দিয়া।
করে সংকীর্ত্তন                  যাচে প্রেমধন
সব সহচর লৈয়া॥
পুরুষ নাচে                       প্রকৃতিভাবে
পুরুষভাবে যুবতী।
যার যেই ভাব                 পাইয়া স্বভাব
নাচে কত শত জাতি॥
কহে নয়নানন্দ                  নদীয়া আনন্দ
আনন্দে ভুবন ভোরা।
দুখিত-জীবন                       মাধবনন্দন
চরণে শরণ মোরা॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” নয়নানন্দ
(ভরতপুর), ১৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মণ্ডলী রচিয়া সহচরে।                    
তার মাঝে গোরা নটবরে॥                
নাচে বিশ্বম্ভর সঙ্গে গঙ্গাধর                
নাচে নিত্যানন্দ রায়।
পূরব কৌতুক ভুঞ্জে প্রেম সুখ              
স্বভাবে বুঝিয়া পায়॥
ঘরে ঘরে শ্যাম সুন্দর মূরতি              
পিরীতি ভকতি দিয়া।
করে সংকীর্ত্তন যাচে প্রেমধন              
সব সহচর লৈয়া॥
পুরুষ নাচে প্রকৃতিভাবে                    
পুরুষভাবে যুবতী।
যার যেই ভাব পাইয়া স্বভাব               
নাচে কত শত জাতি॥
কহে নয়নানন্দ নদীয়া আনন্দ                
আনন্দে ভুবন ভোরা।
দুখিত জীবন মাধবনন্দন                    
চরণে শরণ মোরা॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মধু-ঋতু-যামিনি সুরধুনি-তীর
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা ২৭শপল্লব ,বাসন্তী-রাস-লীলা, ১৪৯৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।        

॥ সুহই॥

মধু-ঋতু-যামিনি সুরধুনি-তীর।
উজোর সুধাকর মলয়-সমীর॥
সহচর সঙ্গে গৌর নট-রাজ।
বিহরয়ে নিরুপম কীর্ত্তন মাঝ॥
খোল করতাল-ধ্বনি নটন-হিলোল।
ভুজ তুলি ঘন ঘন হরি হরি বোল॥
নরহরি গদাধর বিহরই সঙ্গ।
নাচত গাওত কতহুঁ বিভঙ্গ॥
কোকিল মধুকর পঞ্চম ভাষ।
নয়নানন্দ-পহু করয়ে বিলাস॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বসন্ত রাগ তত্র গৌরচন্দ্র॥

মধুঋতু যামিনি সুরধুনী তীর। উজোর সুধাকর মলয় সমীর॥
সহচর সঙ্গে গোরা নটরাজ। বিহরএ নিরুপম কীর্তন মাঝ॥
খোল করতাল ধনি নটন হিল্লোল। ভুজ তুলি ঘন ঘন হরি হরি বোল॥
নরহরি গদাধর বিহরই সঙ্গ। নাচত গায়ত কতহু বিভঙ্গ॥
কোকিল মধুকর পঞ্চম ভাস। নয়নানন্দ পহুঁ করএ বিলাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২০৪৫-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সুহই॥

মধু-ঋতু-যামিনি সুরধুনি-তীর।
উজোর সুধাকর মলয়-সমীর॥
সহচর সঙ্গে গৌর নট-রাজ।
বিহরয়ে নিরুপম কীর্ত্তন মাঝ॥
খোল করতাল-ধ্বনি নটন-হিলোল।
ভুজ তুলি ঘন ঘন হরি হরি বোল॥
নরহরি গদাধর বিহরই সঙ্গ।
নাচত গাওত কতহুঁ বিভঙ্গ॥
কোকিল মধুকর পঞ্চম ভাষ।
নয়নানন্দ-পহু করয়ে বিলাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৮৭-পৃষ্ঠায়, নয়নানন্দ (ভরতপুর)-এর পদ হিসেবে, এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

বাসন্তী রাসলীলা
॥ সুহই॥

মধুঋতু যামিনি সুরধূনিতীর।
উজোর সুধাকর মলয়সমীর॥
সহচর সঙ্গে গৌর নটরাজ।
বিহরয়ে নিরুপম কীর্ত্তন মাঝ॥
খোলকরতালধ্বনি নটন হিলোল।
ভুজ তুলি ঘন ঘন হরি হরি বোল॥
নরহরি গদাধর বিহরই সঙ্গ।
নাচত গাওত কতহুঁ বিভঙ্গ॥
কোকিল মধুকর পঞ্চম ভাষ।
নয়নানন্দ-পহুঁ করয়ে বিলাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী” নয়নানন্দ (ভরতপুর), ১৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মধুঋতু যামিনি সুরধূনিতীর।
উজোর সুধাকর মলয়সমীর॥
সহচর সঙ্গে গৌর নটরাজ।
বিহরয়ে নিরুপম কীর্ত্তন মাঝ॥
খোলকরতালধ্বনি নটন হিলোল।
ভুজ তুলি ঘন ঘন হরি হরি বোল॥
নরহরি গদাধর বিহরই সঙ্গ।
নাচত গাওত কতহুঁ বিভঙ্গ॥
কোকিল মধুকর পঞ্চম ভাষ।
নয়নানন্দ পহুঁ করয়ে বিলাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মুখানি পূর্ণিমার শশী কিবা মন্ত্র জপে
মুখখানি পূর্ণিমার শশী কিবা মন্ত্র জপে
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা  ১৭শপল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা,  ২১০২-পদসংখ্যায়  এইরূপে  দেওয়া
রয়েছে।

॥ ধানশী॥

মুখানি পূর্ণিমার শশী কিবা মন্ত্র জপে।
বিম্ব-বিড়ম্বিতাধর সদাই কেনে কাঁপে॥
গোরা নাচে নটন-রঙ্গিয়া।
অখিল জীবের মন বান্ধে প্রেম দিয়া॥ ধ্রু॥
চান্দ কান্দয়ে মুখ-ছান্দ দেখিয়া।
তপন কান্দয়ে আঁখি-জলদ হেরিয়া॥
কাঁচা কাঞ্চন জিনি নবাঞ্চল গোরা।
বুক বাহি পড়ে প্রেম-রসের যে ধারা॥
কহয়ে নয়নানন্দ মনের উল্লাসে।
পুন কি দেখিব গোরা গদাধর পাশে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২২১১
পদসংখ্যায় কোনও পাঠান্তর ছাড়াই এই রূপে দেওয়া রয়েছে।  আমরা  পুথিটি  হাতে
পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

মুখানি পূর্ণিমার শশী কিবা মন্ত্র জপে।
বিম্ব-বিড়ম্বিতাধর সদাই কেনে কাঁপে॥
গোরা নাচে নটন-রঙ্গিয়া।
অখিল জীবের মন বান্ধে প্রেম দিয়া॥ ধ্রু॥
চান্দ কান্দয়ে মুখ-ছান্দ দেখিয়া।
তপন কান্দয়ে আঁখি-জলদ হেরিয়া॥
কাঁচা কাঞ্চন জিনি নবাঞ্চল গোরা।
বুক বাহি পড়ে প্রেম-রসের যে ধারা॥
কহয়ে নয়নানন্দ মনের উল্লাসে।
পুন কি দেখিব গোরা গদাধর পাশে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী॥

মুখখানি পূর্ণিমার শশী কিবা মন্ত্র জপে।
বিম্ববিড়ম্বিত অধর সদাই কেন কাঁপে॥
গোরা নাচে নটন রঙ্গিয়া।
অখিল জীবের মন বাঁধে প্রেম দিয়া॥ ধ্রু॥
চাঁদ কাঁদয়ে মুখছাঁদ দেখিয়া।
তপন কাঁদে আঁখি জলদ হেরিয়া॥
কাঁচা কাঞ্চন জিনি নব রসের গোরা।
বুক বাহি পড়ে প্রেম পরশের যে ধারা॥
কহয়ে নয়নানন্দ মনের উল্লাসে।
পুনঃ কি দেখিব গোরা গদাধর পাশে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৮৮-পৃষ্ঠায়, নয়নানন্দ (ভরতপুর)-এর পদ হিসেবে, এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা
॥ ধানশী॥

মুখানি পূর্ণিমার শশী কিবা মন্ত্র জপে।
বিম্ববিড়ম্বিতাধর সদাই কেনে কাঁপে॥
গোরা নাচে নটন রঙ্গিয়া।
অখিল জীবের মন বান্ধে প্রেম দিয়া॥ ধ্রু॥
চান্দ কান্দয়ে মুখছান্দ দেখিয়া।
তপন কান্দয়ে আঁখি-জলদ হেরিয়া॥
কাঁচা কাঞ্চন জিনি কিবা রূপ গোরা।
বুক বাহি পড়ে প্রেমরসের যে ধারা॥
কহয়ে নয়নানন্দ মনের উল্লাসে।
পুন কি দেখিব গোরা গদাধর পাশে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী” নয়নানন্দ (ভরতপুর), ১৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মুখানি পূর্ণিমার শশী কিবা মন্ত্র জপে।
বিম্ববিড়ম্বিতাধর সদাই কেনে কাঁপে॥
গোরা নাচে নটন রঙ্গিয়া।
অখিল জীবের মন বান্ধে প্রেম দিয়া॥
চান্দ কান্দয়ে মুখছান্দ দেখিয়া।
তপন কান্দয়ে আঁখি জলদ হেরিয়া॥
কাঁচা কাঞ্চন জিনি কিবা রূপ গোরা।
বুক বাহি পড়ে প্রেমরসের যে ধারা॥
কহয়ে নয়নানন্দ মনের উল্লাসে।
পুন কি দেখিব গোরা গদাধর পাশে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর