কবি নয়নানন্দের (ভরতপুর) বৈষ্ণব পদাবলী
*
সই চল দেখি গিয়া
সোই, চল দেখি গিয়া
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা ১৯শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ---নাগরী-উক্তি, ২১৭৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥        

সই চল দেখি গিয়া।
কেমন বন্ধানে নাচে গোরা বিনোদিয়া॥ ধ্রু॥
পীত পিরিতিময় রূপের সাজনি।
পীত বসন রাঙ্গা ডোরের দোলনি॥
সর্ব্বাঙ্গে চন্দন গলে নব বন-মালে।
কত ফুলশর ধায় অলিকুল-জালে॥
ভাবের আবেশে পুলকের নাহি ওর।
অনুরাগে অরুণ নয়ানে বহে লোর॥
সাত পাঁচ করে প্রাণ ধরিতে নারি হিয়া।
হেন মনে করে সাধ পরশি ধাইয়া॥
নদীয়ার কুল-বধূর গেল কুল-লাজে।
নিশ্বাস ছাড়িতে নাহি সভার সমাজে॥
কহয়ে নয়নানন্দ আছয়ে উপায়।
সুরধুনী-তীরে যাই দেখিবে গোরারায়॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২২৮৫
পদসংখ্যায়, কোনও পাঠান্তর ছাড়াই এই রূপে দেওয়া রয়েছে।  আমরা পুথিটি হাতে
পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥        

সই চল দেখি গিয়া।
কেমন বন্ধানে নাচে গোরা বিনোদিয়া॥ ধ্রু॥
পীত পিরিতিময় রূপের সাজনি।
পীত বসন রাঙ্গা ডোরের দোলনি॥
সর্ব্বাঙ্গে চন্দন গলে নব বন-মালে।
কত ফুলশর ধায় অলিকুল-জালে॥
ভাবের আবেশে পুলকের নাহি ওর।
অনুরাগে অরুণ নয়ানে বহে লোর॥
সাত পাঁচ করে প্রাণ ধরিতে নারি হিয়া।
হেন মনে করে সাধ পরশি ধাইয়া॥
নদীয়ার কুল-বধূর গেল কুল-লাজে।
নিশ্বাস ছাড়িতে নাহি সভার সমাজে॥
কহয়ে নয়নানন্দ আছয়ে উপায়।
সুরধুনী-তীরে যাই দেখিবে গোরারায়॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥        

সোই, চল দেখি গিয়া।
কেমন বন্ধানে নাচে গোরা বিনোদিয়া॥
পীত পীরিতিময় রূপের সাজনি।
পীত বসন রাঙ্গা ডোরের দোলনি॥
সর্ব্বাঙ্গে চন্দন গলে নব বনমালে।
কত ফুলশর ধায় অলিকুলজালে॥
ভাবের আবেশে পুলকের নাহি ওর।
অনুরাগে অরুণ নয়ানে বহে লোর॥
সাত পাঁচ করে প্রাণ ধরিতে নারি হিয়া।
হেন মনে করে সাধ পরশি ধাইয়া॥
নদীয়ার কুলবধূর গেল কুল-লাজে।
নিশ্বাস ছাড়িতে নাহি সবার সমাজে॥
কহয়ে নয়নানন্দ আছয়ে উপায়।
সুরধুনীতীরে যাই দেখিবে গোরায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৮৯-পৃষ্ঠায়, নয়নানন্দ (ভরতপুর)-এর পদ হিসেবে, এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ প্রভৃতি
॥ তথা রাগ॥        

সই চল দেখি গিয়া।
কেমন বন্ধানে নাচে গোরা বিনোদিয়া॥ ধ্রু॥
পীত পিরীতিময় রূপের সাজনি।
পীত বসন রাঙ্গা ডোরের দোলনি॥
সর্ব্বাঙ্গে চন্দন গলে নব বনমালে।
কত ফুলশর ধায় অলিকুলজালে॥
ভাবের আবেশে পুলকের নাহি ওর।
অনুরাগে অরুণ নয়ানে বহে লোর॥
সাত পাঁচ করে প্রাণ ধরিতে নারি হিয়া।
হেন মনে করে সাধ পরশি ধাইয়া॥
নদীয়ার কুলবধূর গেল কুললাজে।
নিশ্বাস ছাড়িতে নাহি সভার সমাজে॥
কহয়ে নয়নানন্দ আছয়ে উপায়।
সুরধুনীতীরে যাই দেখিব গোরারায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী” নয়নানন্দ (ভরতপুর), ১৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সই চল দেখি গিয়া।
কেমন বন্ধানে নাচে গোরা বিনোদিয়া॥
পীত পিরীতিময় রূপের সাজনি।
পীত বসন রাঙ্গা ডোরের দোলনি॥
সর্ব্বাঙ্গে চন্দন গলে নব বনমালে।
কত ফুলশর ধায় অলিকুলজালে॥
ভাবের আবেশে পুলকের নাহি ওর।
অনুরাগে অরুণ নয়ানে বহে লোর॥
সাত পাঁচ করে প্রাণ ধরিতে নারি হিয়া।
হেন মনে করে সাধ পরশি ধাইয়া॥
নদীয়ার কুলবধূর গেল কুললাজে।
নিশ্বাস ছাড়িতে নাহি সভার সমাজে॥
কহয়ে নয়নানন্দ আছয়ে উপায়।
সুরধুনীতীরে যাই দেখিব গোরারায়॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সকল ভকত ঠাঞি হইয়া বিদায়
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা ২১শপল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৩৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ সুহই॥

সকল ভকত ঠাঞি হইয়া বিদায়।
নীলাচল দেখিতে চলিল গৌর রায়॥
মায়ের চরণ বন্দি অনুমতি লৈয়া।
অদ্বৈত আচার্য্য ঠাঞি বিদায় হইয়া॥
চলিলা গৌরাঙ্গ পহু বলি হরিবোল।
আচার্য্য-মন্দিরে উঠে ক্রন্দনের রোল॥
গৌরাঙ্গ গৌরাঙ্গ বলি কান্দয়ে সভায়।
কান্দয়ে নয়নানন্দ ধূলায় লোটায়॥

পাঠান্তর -
গৌরাঙ্গ ইত্যাদি ভণিতার কলিটি কেবল প-র-সা (পদরসসার) পুথিতে আছে।

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৩৪১
পদসংখ্যায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সুহই॥

সকল ভকত ঠাঞি হইয়া বিদায়।
নীলাচল দেখিতে চলিল গৌর রায়॥
মায়ের চরণ বন্দি অনুমতি লৈয়া।
অদ্বৈত আচার্য্য ঠাঞি বিদায় হইয়া॥
চলিলা গৌরাঙ্গ পহু বলি হরিবোল।
আচার্য্য-মন্দিরে উঠে ক্রন্দনের রোল॥
গৌরাঙ্গ গৌরাঙ্গ বলি কান্দয়ে সভায়।
কান্দয়ে নয়নানন্দ ধূলায় লোটায়॥

ই পদটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত সংকলন
শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মিশ্র বেহাগ - গড়্ খেমটা॥

সকল ভকত ঠাঞি হইয়া বিদায়।
নীলাচল দেখিতে চলিল গৌর রায়॥
মায়ের চরণ বন্দি অনুমতি লৈয়া।
অদ্বৈত আচার্য্য ঠাঞি বিদায় হইয়া॥
চলিলা গৌরাঙ্গ পহুঁ বলি হরিবোল।
আচার্য্য মন্দিরে উঠে ক্রন্দনের রোল॥
গৌরাঙ্গ গৌরাঙ্গ বলি কাঁদয়ে সভায়।
কাঁদয়ে নয়নানন্দ ধূলায় লোটায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৯১-পৃষ্ঠায়, নয়নানন্দ (ভরতপুর)-এর পদ হিসেবে, এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি
॥ সুহই॥

সকল ভকত ঠাঞি হইয়া বিদায়।
নীলাচল দেখিতে চলিল গৌর রায়॥
মায়ের চরণ বন্দি অনুমতি লৈয়া।
অদ্বৈত আচার্য্য ঠাঞি বিদায় হইয়া॥
চলিলা গৌরাঙ্গ পহুঁ বলি হরিবোল।
আচার্য্য-মন্দিরে উঠে ক্রন্দনের রোল॥
গৌরাঙ্গ গৌরাঙ্গ বলি কান্দয়ে সভায়।
কান্দয়ে নয়নানন্দে ধুলায় লোটায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী” নয়নানন্দ (ভরতপুর), ১৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সকল ভকত ঠাঞি হইয়া বিদায়।
নীলাচল দেখিতে চলিল গৌর রায়॥
মায়ের চরণ বন্দি অনুমতি লৈয়া।
অদ্বৈত আচার্য্য ঠাঞি বিদায় হইয়া॥
চলিলা গৌরাঙ্গ পহুঁ বলি হরিবোল।
আচার্য্য মন্দিরে উঠে ক্রন্দনের রোল॥
গৌরাঙ্গ গৌরাঙ্গ বলি কান্দয়ে সভায়।
কান্দয়ে নয়নানন্দে ধুলায় লোটায়॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সজনী অপরূপ দেখ সিয়া। নাচয়ে
সজনি অপরূপ দেখ সিয়া। নাচয়ে
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১৭শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি
লীলা, ২০৭১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি, “সজনী অপরূপ রূপ দেখসিয়া” পদটির
পাঠান্তর হওয়া সত্তেও আমরা পদটিকে ভিন্ন পদ হিসেবে রাখছি।

॥ ধানশী॥

সজনী অপরূপ দেখ সিয়া।
নাচয়ে গৌরাঙ্গচাঁদ হরিবোল বলিয়া॥
সুগন্ধি চন্দন-সার              গন্ধ করবীর মাল
গোরা-অঙ্গে দোলে হিলোলিয়া।
পুরব পরোক্ষ-ভাব            পরতেক দেখ লাভ
সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া রহে               মধুর মুরলী চাহে
বান্ধে চূড়া চাচর চিকুরে।
কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি ডাকে         মালসাট মারে বুকে
ক্ষণে বোলে মুঞি সে ঠাকুরে॥
জাহ্নবী যমুনা-ভ্রম              তীর-তরু বৃন্দাবন
নবদ্বীপ গোকুল মথুরা।
কহে নয়নানন্দ                  সেই সখা সখীবৃন্দ
কালা তনু এবে হৈল গোরা॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২১৮০ পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

সজনী অপরূপ দেখ সিয়া।
নাচয়ে গৌরাঙ্গচাঁদ হরিবোল বলিয়া॥
সুগন্ধি চন্দন-সার              গন্ধ করবীর মাল
গোরা-অঙ্গে দোলে হিলোলিয়া।
পুরব পরোক্ষ-ভাব            পরতেক দেখ লাভ
সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া রহে               মধুর মুরলী চাহে
বান্ধে চূড়া চাচর চিকুরে।
কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি ডাকে        মালসাট মারে বুকে
ক্ষণে বোলে মুঞি সে ঠাকুরে॥
জাহ্নবী যমুনা-ভ্রম              তীর-তরু বৃন্দাবন
নবদ্বীপ গোকুল মথুরা।
কহে নয়নানন্দ                 সেই সখা সখীবৃন্দ
কালা তনু এবে হৈল গোরা॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শোহিনী॥

সজনী অপরূপ রূপ দেখসিয়া। নাচে গোরা
হরিবোল বলিয়া॥ ধ্রু॥ পুরবে পরোক্ষ ভাব পরতেক
দেখ লাভ সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥ সুগন্ধি চন্দন সার
গন্ধ করবিরমাল গোরা অঙ্গে পড়িছে লোলিয়া। ত্রিভঙ্গ
হইয়া রহে মোহন মুরলী চাহে বাঁধে চূড়া চাঁচর চিকুরে।
কৃষ্ণ বলি ডাকে মালসাট মারে বুকে ক্ষণে বলে সভার
ঠাকুরে॥ জাহ্নবী যমুনা ভ্রম তীরে তরু বৃন্দাবন নবদ্বীপ
গোকুল মথুরা। কহে নয়নানন্দ সেই সখা সখী বৃন্দ কিলাগির
কাল হৈল গোরা॥


ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

সজনী অপরূপ দেখসিয়া।
নাচয়ে গৌরাঙ্গচাঁদ হরিবোল বলিয়া॥
সুগন্ধি চন্দনসার                গন্ধ করবীর মাল
গোরা অঙ্গে দোলে হিলোলিয়া।
পুরুষ পরোক্ষ ভাব            পরতেক দেখ লাভ
সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া রহে               মধুর মুরলী চাহে
বাঁধে চূড়া চাঁচর চিকুরে।
কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি ডাকে         মালসাট মারে বুকে
ক্ষণে বোলে মুই সেই ঠাকুরে॥
জাহ্নবী যমুনা ভ্রম             তীরে তরু বৃন্দাবন
নবদ্বীপে গোকুল মথুরা।
কহে নয়নানন্দ                  সেই সখা সখীবৃন্দ
কালা তনু এবে হৈল গোরা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮৮-পৃষ্ঠায়, নয়নানন্দ (ভরতপুর)-এর পদ হিসেবে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা
॥ ধানশী॥

সজনি অপরূপ দেখ সিয়া।
নাচয়ে গৌরাঙ্গচাঁদ হরিবোল বলিয়া॥
সুগন্ধি চন্দনসার                গন্ধ করবীর মাল
গোরাঅঙ্গে দোলে হিলোলিয়া।
পুরব পরোক্ষভাব            পরতেক দেখ লাভ
সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া রহে               মধুর মুরলী চাহে
বান্ধে চূড়া চাঁচর চিকুরে।
কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি ডাকে         মালসাট মারে বুকে
ক্ষণে বোলে মুঞি সে ঠাকুরে॥
জাহ্নবী যমুনাভ্রম                তীরতরু বৃন্দাবন
নবদ্বীপ গোকুল মথুরা।
কহে নয়নানন্দ                  সেই সখা সখীবৃন্দ
কালা তনু এবে হৈল গোরা॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” নয়নানন্দ
(ভরতপুর), ১৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সজনি অপরূপ দেখ সিয়া।                        
নাচয়ে গৌরাঙ্গচাঁদ হরিবোল বলিয়া॥               
সুগন্ধি চন্দনসার গন্ধ করবীর মাল                  
গোরাঅঙ্গে দোলে হিলোলিয়া।
পুরব পরোক্ষভাব পরতেক দেখ লাভ               
সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া রহে মধুর মুরলী চাহে                
বান্ধে চূড়া চাঁচর চিকুরে।
কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি ডাকে মালসাট মারে                
বুকে ক্ষণে বোলে মুঞি সে ঠাকুরে॥
জাহ্নবী যমুনাভ্রম তীরতরু বৃন্দাবন                
নবদ্বীপ গোকুল মথুরা।
কহে নয়নানন্দ সেই সখা সখীবৃন্দ                  
কালা তনু এবে হৈল গোরা॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সজনী অপরূপ রূপ দেখসিয়া। পূরবে
সজনি অপরূপ রূপ দেখসিয়া। পূরবে
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১৮শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ
প্রভৃতি, ২১২৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি, “সজনী অপরূপ দেখসিয়া”
পদটির পাঠান্তর হওয়া সত্তেও আমরা পদটিকে ভিন্ন পদ হিসেবে রাখছি।

॥ ধানশী॥

সজনী অপরূপ রূপ দেখসিয়া।
পূরবে পরোক্ষ-ভাব     পরতেকে দেখ লাভ
সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥ ধ্রু॥
সুগন্ধি চন্দন-সার           গন্ধ করবীর মাল
দোলমাল করে সদা জনু।
কত ফুল-শর তায়        মধুকর হইয়া ধায়
ভাবে বিভোর গোরা তনু॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া রয়        মোহন মুরলী বায়
উভ করি চাঁচর চিকুর।
রাধা রাধা বলি ডাকে মালশাট মারে বুকে
বলে মুঞি সভার ঠাকুর॥
জাহ্নবী যমুনা-ভ্রম        তীরে তরু বৃন্দাবন
নবদ্বীপ গোকুল মথুরা।
কহয়ে নয়নানন্দ        সেই সখা সখী-বৃন্দ
বরণখানি কার ভাবে গোরা॥

পাঠান্তর -
এই পদটি ১৭শ পল্লবের ২০৭১ সংখ্যক পদেরই রূপান্তর বলিয়া বোধ হয়।
---সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২২৩০ পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

সজনী অপরূপ রূপ দেখসিয়া।
পূরবে পরোক্ষ-ভাব     পরতেকে দেখ লাভ
সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥ ধ্রু॥
সুগন্ধি চন্দন-সার           গন্ধ করবীর মাল
দোলমাল করে সদা জনু।
কত ফুল-শর তায়        মধুকর হইয়া ধায়
ভাবে বিভোর গোরা তনু॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া রয়         মোহন মুরলী বায়
উভ করি চাঁচর চিকুর।
রাধা রাধা বলি ডাকে মালশাট মারে বুকে
বলে মুঞি সভার ঠাকুর॥
জাহ্নবী যমুনা-ভ্রম        তীরে তরু বৃন্দাবন
নবদ্বীপ গোকুল মথুরা।
কহয়ে নয়নানন্দ        সেই সখা সখী-বৃন্দ
বরণখানি কার ভাবে গোরা॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা ধানশী॥

সজনি অপরূপ রূপ দেখসিয়া।
পূরুব পরোক্ষ ভাব       পরতেকে দেখ লাভ
সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥ ধ্রু॥
সুগন্ধি চন্দন সার           গন্ধ করবীর মাল
দোলমাল করে সদা জনু।
কত ফুলশর তায়           মধুকর হৈয়া ধায়
ভাবে বিভোর গোরাতনু॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া রয়           মোহন মুরলী বায়
উভ করি চাঁচর চিকুর।
রাধা রাধা বলি ডাকে     মালসাট মারে বুকে
বলে মুঞি সবার ঠাকুর॥
জাহ্নবী যমুনাভ্রম          তীরে তরু বৃন্দাবন
নবদ্বীপে গোকুল মথুরা।
কহয়ে নয়নানন্দ              সেই সখা সখীবৃন্দ
বরণখানি কার ভাবে গোরা॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোরা মোর গুণের সাগর
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

গোরা মোর গুণের সাগর।
প্রেমের তরঙ্গ তায় উঠে নিরন্তর॥
গোরা মোর অকলঙ্ক শশী।
হরিনামসুধা তাহে ক্ষরে দিবানিশি॥
গোরা মোর হিমাদ্রিশেখর।
তাহা হৈতে প্রেম-গঙ্গা বহে নিরন্তর॥
গোরা মোর প্রেম-কল্পতরু।
যাঁর পদচ্ছায়ে জীব সুখে বাস করু॥
গোরা মোর নবজলধর।
বরষি শীতল যাহে করে নারীনর॥
গোরা মোর আনন্দের খনি।
নয়নানন্দের প্রাণ যাহার নিছনি॥

ই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গৌরাঙ্গ-বন্দনা॥

গোরা মোর গুণের সাগর।
প্রেমের তরঙ্গ তায় উঠে নিরন্তর॥
গোরা মোর অকলঙ্ক শশী।
হরিনাম সুধা তাহে ক্ষরে দিবানিশি॥
গোরা মোর হিমাদ্রি-শিখর।
তাহা হৈতে প্রেম-গঙ্গা বহে নিরন্তর॥
গোরা মোর প্রেম-কল্পতরু।
যার পদছায়ে জীব সুখে বাস করু॥
গোরা মোর নব জলধর।
বরষি শীতল যাহে করে নারীনর॥
গোরা মোর আনন্দের খনি।
নয়নানন্দের প্রাণ যাহার নিছনি

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখ সই অপরূপ গৌরাঙ্গচাঁদের মুখ
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার॥

দেখ সই অপরূপ                  গৌরাঙ্গচাঁদের মুখ
নয়নে বহয়ে কত ধারা।
কুন্দ করবীর মালে             আছে থরে থরে গলে
বিনোদিয়া মনিমনোহরা॥
গৌরাঙ্গের গুণ শুনি                পাষাণ হয়ত পানি
শুক কাঁদে পিঞ্জর ভিতরে।
কুলের সে কুলবতী                  হরিনামে পীরিতি
বিরলে বসিয়া গুণে ঝুরে॥
গৌরাঙ্গপীরিতি রসে                জগত করিল বশে
যবন চণ্ডাল তরি গেল।
পামর নয়নানন্দ                  না ঘুচিল মনের সন্দ
মরমে রহল বড় শেল॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নাচেরে ভালি গৌরকিশোর রঙ্গিয়া
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

নাচেরে ভালি গৌরকিশোর রঙ্গিয়া।
হেম কিরণিয়া                    গৌরসুন্দর তনু
প্রেম ভরে ভেল ডগমগিয়া॥ ধ্রু॥
বৃন্দাবন গোবর্দ্ধন                যমুনা পুলিন বন
সোঙরি সোঙরি পড়ে ঢুলিয়া।
মুরলী মুরলী বলি                ঘন ঘন ফুকারই
রহল মুরলী মুখ হেরিয়া॥
রাধার ভাবে গোরা             রাধার বরণ ভেল
রাধা রাধা বয়নক ভাষ।
ইঙ্গিতে বুঝিয়া প্রিয়           গদাধর বামে রহে
কহে নয়নানন্দ দাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিপিনবিলাসে গোরা গদাধর সঙ্গে
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো যথা॥
উভয়. . . ১ [তদু]চিত মহাপ্রভু॥

বিপিনবিলাসে গোরা গদাধর সঙ্গে। সুরধুনীতীরে দোহে বিহরই রঙ্গে॥
খেনে উচ্চনাদে করে নামসংকীর্ত্তন। ভাবাবেশে তহি পরি হয় অচেতন॥
বলে কোথা গেল প্রাণ গদাধর। তার মুখ না হেরিআ ব্যথিত অন্তর॥
গদাধর বলে কোথা গোরা বিনোদিএ। কাহা গেও পহু মোর আমারে ছাড়িএ॥
কান্দও দোহার গুণ দোহে স্মঙরিএ। নয়নানন্দ তাহে মরেএ ঝুরিএ॥

পাদটীকা -
১ ছিন্ন পত্রাংশের পাঠ যোজনা করা সম্ভব হল না।---সম্পাদকমণ্ডলী, পদমেরুগ্রন্থ

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বন্দে শ্রীগুরুদেব কি চরণং
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগুরু-বন্দনা
॥ কৌ-বিভাস - জপতাল॥

বন্দে শ্রীগুরুদেব কি চরণং
জ্ঞানাঞ্জন দিয়ে অন্ধ কি নয়নং॥
অন্ধ পট খোলি ধন্দ সব হরনং।
দুর্ল্লভ নাম শুনাওত শ্রবনং॥
অন্ধকে নয়ন দিয়ে হৃদে প্রেম-করণং।
গুরু সে পরম বন্ধু ভবসিন্ধুতারনং॥
মহিমা অশেষ না যাওত বরণং।
কহত নয়নানন্দ পতিতোদ্ধারণং॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দয়ার সাগর মোর পণ্ডিত গোসাঁই
ভণিতা নয়নানন্দ
কবি নয়নানন্দ
এই পদটি ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, শ্রীগদাধর পণ্ডিতের জন্মোত্সব, ৩৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ - মধ্যম একতালা॥

দয়ার সাগর মোর পণ্ডিত গোসাঁই।
তোমার চরণ বিনে মোর পতি নাই॥
গৌরাঙ্গের সঙ্গে রঙ্গে অবতার করি।
নিজ নাম প্রকাশিত জগত বিস্তারি॥
কলি যুগের জীব যত মলিন দেখিয়া।
নিজ রাধা নাম দিল জগত ভরিয়া॥
যেই রাধা গদাধর গৌরাঙ্গের কোলে।
সেই কৃষ্ণচৈতন্য সর্ব্বশাস্ত্রে বোলে॥
রাধা রাধা বলি গৌরাঙ্গ পণ্ডিতেরে ডাকে।
সেই এই বৃন্দাবনে সখি লাখে লাখে॥
পণ্ডিত গোসাঁইর প্রেমে ভাসিল সংসার।
দীন হীন অকিঞ্চন না রহিল আর॥
ঈষত হাসিয়া গৌরাঙ্গ কহে পণ্ডিতেরে।
বৃন্দাবনে তিন ঠাকুর সমর্পিলোঁ তোরে॥
তিন সেবক দিয়া পণ্ডিত তিন ঠাকুর সেবে।
পণ্ডিত গোসাঞির কৃপা মোর কবে হবে॥
পণ্ডিত গোসাঞি আমার জগতের প্রাণ।
নয়নানন্দের মনে নাহি জানে আন॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর