| কবি নয়নানন্দের (ভরতপুর) বৈষ্ণব পদাবলী |
| সজনী অপরূপ দেখ সিয়া। নাচয়ে সজনি অপরূপ দেখ সিয়া। নাচয়ে ভণিতা নয়নানন্দ কবি নয়নানন্দ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১৭শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, ২০৭১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি, “সজনী অপরূপ রূপ দেখসিয়া” পদটির পাঠান্তর হওয়া সত্তেও আমরা পদটিকে ভিন্ন পদ হিসেবে রাখছি। ॥ ধানশী॥ সজনী অপরূপ দেখ সিয়া। নাচয়ে গৌরাঙ্গচাঁদ হরিবোল বলিয়া॥ সুগন্ধি চন্দন-সার গন্ধ করবীর মাল গোরা-অঙ্গে দোলে হিলোলিয়া। পুরব পরোক্ষ-ভাব পরতেক দেখ লাভ সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥ ত্রিভঙ্গ হইয়া রহে মধুর মুরলী চাহে বান্ধে চূড়া চাচর চিকুরে। কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি ডাকে মালসাট মারে বুকে ক্ষণে বোলে মুঞি সে ঠাকুরে॥ জাহ্নবী যমুনা-ভ্রম তীর-তরু বৃন্দাবন নবদ্বীপ গোকুল মথুরা। কহে নয়নানন্দ সেই সখা সখীবৃন্দ কালা তনু এবে হৈল গোরা॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২১৮০ পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ ধানশী॥ সজনী অপরূপ দেখ সিয়া। নাচয়ে গৌরাঙ্গচাঁদ হরিবোল বলিয়া॥ সুগন্ধি চন্দন-সার গন্ধ করবীর মাল গোরা-অঙ্গে দোলে হিলোলিয়া। পুরব পরোক্ষ-ভাব পরতেক দেখ লাভ সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥ ত্রিভঙ্গ হইয়া রহে মধুর মুরলী চাহে বান্ধে চূড়া চাচর চিকুরে। কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি ডাকে মালসাট মারে বুকে ক্ষণে বোলে মুঞি সে ঠাকুরে॥ জাহ্নবী যমুনা-ভ্রম তীর-তরু বৃন্দাবন নবদ্বীপ গোকুল মথুরা। কহে নয়নানন্দ সেই সখা সখীবৃন্দ কালা তনু এবে হৈল গোরা॥ এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শোহিনী॥ সজনী অপরূপ রূপ দেখসিয়া। নাচে গোরা হরিবোল বলিয়া॥ ধ্রু॥ পুরবে পরোক্ষ ভাব পরতেক দেখ লাভ সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥ সুগন্ধি চন্দন সার গন্ধ করবিরমাল গোরা অঙ্গে পড়িছে লোলিয়া। ত্রিভঙ্গ হইয়া রহে মোহন মুরলী চাহে বাঁধে চূড়া চাঁচর চিকুরে। কৃষ্ণ বলি ডাকে মালসাট মারে বুকে ক্ষণে বলে সভার ঠাকুরে॥ জাহ্নবী যমুনা ভ্রম তীরে তরু বৃন্দাবন নবদ্বীপ গোকুল মথুরা। কহে নয়নানন্দ সেই সখা সখী বৃন্দ কিলাগির কাল হৈল গোরা॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ সজনী অপরূপ দেখসিয়া। নাচয়ে গৌরাঙ্গচাঁদ হরিবোল বলিয়া॥ সুগন্ধি চন্দনসার গন্ধ করবীর মাল গোরা অঙ্গে দোলে হিলোলিয়া। পুরুষ পরোক্ষ ভাব পরতেক দেখ লাভ সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥ ত্রিভঙ্গ হইয়া রহে মধুর মুরলী চাহে বাঁধে চূড়া চাঁচর চিকুরে। কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি ডাকে মালসাট মারে বুকে ক্ষণে বোলে মুই সেই ঠাকুরে॥ জাহ্নবী যমুনা ভ্রম তীরে তরু বৃন্দাবন নবদ্বীপে গোকুল মথুরা। কহে নয়নানন্দ সেই সখা সখীবৃন্দ কালা তনু এবে হৈল গোরা॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৮৮-পৃষ্ঠায়, নয়নানন্দ (ভরতপুর)-এর পদ হিসেবে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা ॥ ধানশী॥ সজনি অপরূপ দেখ সিয়া। নাচয়ে গৌরাঙ্গচাঁদ হরিবোল বলিয়া॥ সুগন্ধি চন্দনসার গন্ধ করবীর মাল গোরাঅঙ্গে দোলে হিলোলিয়া। পুরব পরোক্ষভাব পরতেক দেখ লাভ সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥ ত্রিভঙ্গ হইয়া রহে মধুর মুরলী চাহে বান্ধে চূড়া চাঁচর চিকুরে। কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি ডাকে মালসাট মারে বুকে ক্ষণে বোলে মুঞি সে ঠাকুরে॥ জাহ্নবী যমুনাভ্রম তীরতরু বৃন্দাবন নবদ্বীপ গোকুল মথুরা। কহে নয়নানন্দ সেই সখা সখীবৃন্দ কালা তনু এবে হৈল গোরা॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” নয়নানন্দ (ভরতপুর), ১৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সজনি অপরূপ দেখ সিয়া। নাচয়ে গৌরাঙ্গচাঁদ হরিবোল বলিয়া॥ সুগন্ধি চন্দনসার গন্ধ করবীর মাল গোরাঅঙ্গে দোলে হিলোলিয়া। পুরব পরোক্ষভাব পরতেক দেখ লাভ সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥ ত্রিভঙ্গ হইয়া রহে মধুর মুরলী চাহে বান্ধে চূড়া চাঁচর চিকুরে। কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি ডাকে মালসাট মারে বুকে ক্ষণে বোলে মুঞি সে ঠাকুরে॥ জাহ্নবী যমুনাভ্রম তীরতরু বৃন্দাবন নবদ্বীপ গোকুল মথুরা। কহে নয়নানন্দ সেই সখা সখীবৃন্দ কালা তনু এবে হৈল গোরা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সজনী অপরূপ রূপ দেখসিয়া। পূরবে সজনি অপরূপ রূপ দেখসিয়া। পূরবে ভণিতা নয়নানন্দ কবি নয়নানন্দ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১৮শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ প্রভৃতি, ২১২৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি, “সজনী অপরূপ দেখসিয়া” পদটির পাঠান্তর হওয়া সত্তেও আমরা পদটিকে ভিন্ন পদ হিসেবে রাখছি। ॥ ধানশী॥ সজনী অপরূপ রূপ দেখসিয়া। পূরবে পরোক্ষ-ভাব পরতেকে দেখ লাভ সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥ ধ্রু॥ সুগন্ধি চন্দন-সার গন্ধ করবীর মাল দোলমাল করে সদা জনু। কত ফুল-শর তায় মধুকর হইয়া ধায় ভাবে বিভোর গোরা তনু॥ ত্রিভঙ্গ হইয়া রয় মোহন মুরলী বায় উভ করি চাঁচর চিকুর। রাধা রাধা বলি ডাকে মালশাট মারে বুকে বলে মুঞি সভার ঠাকুর॥ জাহ্নবী যমুনা-ভ্রম তীরে তরু বৃন্দাবন নবদ্বীপ গোকুল মথুরা। কহয়ে নয়নানন্দ সেই সখা সখী-বৃন্দ বরণখানি কার ভাবে গোরা॥ পাঠান্তর - এই পদটি ১৭শ পল্লবের ২০৭১ সংখ্যক পদেরই রূপান্তর বলিয়া বোধ হয়। ---সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২২৩০ পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ ধানশী॥ সজনী অপরূপ রূপ দেখসিয়া। পূরবে পরোক্ষ-ভাব পরতেকে দেখ লাভ সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥ ধ্রু॥ সুগন্ধি চন্দন-সার গন্ধ করবীর মাল দোলমাল করে সদা জনু। কত ফুল-শর তায় মধুকর হইয়া ধায় ভাবে বিভোর গোরা তনু॥ ত্রিভঙ্গ হইয়া রয় মোহন মুরলী বায় উভ করি চাঁচর চিকুর। রাধা রাধা বলি ডাকে মালশাট মারে বুকে বলে মুঞি সভার ঠাকুর॥ জাহ্নবী যমুনা-ভ্রম তীরে তরু বৃন্দাবন নবদ্বীপ গোকুল মথুরা। কহয়ে নয়নানন্দ সেই সখা সখী-বৃন্দ বরণখানি কার ভাবে গোরা॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বালা ধানশী॥ সজনি অপরূপ রূপ দেখসিয়া। পূরুব পরোক্ষ ভাব পরতেকে দেখ লাভ সেই এই গোরা বিনোদিয়া॥ ধ্রু॥ সুগন্ধি চন্দন সার গন্ধ করবীর মাল দোলমাল করে সদা জনু। কত ফুলশর তায় মধুকর হৈয়া ধায় ভাবে বিভোর গোরাতনু॥ ত্রিভঙ্গ হইয়া রয় মোহন মুরলী বায় উভ করি চাঁচর চিকুর। রাধা রাধা বলি ডাকে মালসাট মারে বুকে বলে মুঞি সবার ঠাকুর॥ জাহ্নবী যমুনাভ্রম তীরে তরু বৃন্দাবন নবদ্বীপে গোকুল মথুরা। কহয়ে নয়নানন্দ সেই সখা সখীবৃন্দ বরণখানি কার ভাবে গোরা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দেখ সই অপরূপ গৌরাঙ্গচাঁদের মুখ ভণিতা নয়নানন্দ কবি নয়নানন্দ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মল্লার॥ দেখ সই অপরূপ গৌরাঙ্গচাঁদের মুখ নয়নে বহয়ে কত ধারা। কুন্দ করবীর মালে আছে থরে থরে গলে বিনোদিয়া মনিমনোহরা॥ গৌরাঙ্গের গুণ শুনি পাষাণ হয়ত পানি শুক কাঁদে পিঞ্জর ভিতরে। কুলের সে কুলবতী হরিনামে পীরিতি বিরলে বসিয়া গুণে ঝুরে॥ গৌরাঙ্গপীরিতি রসে জগত করিল বশে যবন চণ্ডাল তরি গেল। পামর নয়নানন্দ না ঘুচিল মনের সন্দ মরমে রহল বড় শেল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নাচেরে ভালি গৌরকিশোর রঙ্গিয়া ভণিতা নয়নানন্দ কবি নয়নানন্দ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ী॥ নাচেরে ভালি গৌরকিশোর রঙ্গিয়া। হেম কিরণিয়া গৌরসুন্দর তনু প্রেম ভরে ভেল ডগমগিয়া॥ ধ্রু॥ বৃন্দাবন গোবর্দ্ধন যমুনা পুলিন বন সোঙরি সোঙরি পড়ে ঢুলিয়া। মুরলী মুরলী বলি ঘন ঘন ফুকারই রহল মুরলী মুখ হেরিয়া॥ রাধার ভাবে গোরা রাধার বরণ ভেল রাধা রাধা বয়নক ভাষ। ইঙ্গিতে বুঝিয়া প্রিয় গদাধর বামে রহে কহে নয়নানন্দ দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |