তারে ধরব কি সাধনে কবি ফকির পাঞ্জ শা এই পদটি ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব- ভাবাপন্ন মুসলমান কবি” গ্রন্থের ৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
তারে ধরব কি সাধনে। ব্রহ্মা আদি পায় না যারে যুগ যুগান্তর ব’সে ধ্যানে। বেদ পুরাণে পাবে নারে নিরূপ নৈরাকারে, নিরাকারে জ্যোতির্ময় আছে ব’সে নিত্যস্থানে। অনাদির আদি মানুষ আছে সে গোপনে, সেই মানুষ সাধ্য করে রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবনে। চিন্তামণি-ভূমিবৃক্ষ-কল্প একে বলে গোপীকৃপা যার হ’য়েছে, সেই পেয়েছে রত্নধনে। সখা-রূপে যে দেখেছে গুরুর ধিয়ানে, পাঞ্জ বলে, সেই রসিক দাসী হবে শ্রীচরণে।
এই গানটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যর “বাংলার বাউল ও বাউল গান, ফকির পাঞ্জ শাহ, ৭৫১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
তারে ধরব কি সাধনে। ব্রহ্মা আদি পায় না যারে যুগ যুগান্তর ব’সে ধ্যানে। বেদ পুরাণে পাবে নারে নিরূপ নৈরাকারে, নিরাকারে জ্যোতির্ময় আছে ব’সে নিত্যস্থানে। অনাদির আদি মানুষ আছে সে গোপনে, সেই মানুষ সাধ্য করে রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবনে। চিন্তামণি-ভূমিবৃক্ষ-কল্প একে বলে--- গোপী-কৃপা যার হ’য়েছে, সে-ই পেয়েছে রত্নধনে। সখী-রূপে যে দেখেছে গুরুর ধিয়ানে, পাঞ্জ বলে, সেই রসিক দাসী হবে শ্রীচরণে॥
গুরু, কোন্ রূপে কর দয়া ভূবনে কবি ফকির পাঞ্জ শা এই গানটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যর “বাংলার বাউল ও বাউল গান, ফকির পাঞ্জ শাহ, ৭৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
গুরু, কোন্ রূপে কর দয়া ভূবনে। অনন্ত অপার লীলা তোমার, . মহিমা কে জানে॥ তৃমি রাধা, তুমি কৃষ্ণ, মন্ত্রদাতা তুমি ইষ্ট, মন্ত্র জানতে সঁপে দিলে . সাধু-বৈষ্ণব-চরণে॥ নবদ্বীপে গোরাচাঁদ, শ্রীক্ষেত্রে হও জগন্নাথ, সাধুবাক্য যাহাই হ'লো--- . দয়া হবে না স্বরূপ বিনে॥ বৃন্দাবন আর গয়া-কাশী, সীতাকুণ্ড বারাণসী, . মক্কা-মদিনে, তীর্থে যদি গউর পেত, . ভজন সাধন করে জীব কেনে॥ সাধু গুরুর চরণপদ্ম, সব তীর্থ আছে বর্ত, পাঞ্জ বলে, অবোধ মন তোর . মতি সরল হবে কোন্ দিনে॥
যে জানে ব্রজগোপীর মহাভাব কবি ফকির পাঞ্জ শা এই গানটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যর “বাংলার বাউল ও বাউল গান, ফকির পাঞ্জ শাহ, ৭৬০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
যে জানে ব্রজগোপীর মহাভাব, ও সে জেন্তে ম’রে কৃষ্ণপ্রেমের করিছে আলাপ॥ অনুরাগের জোরে বিধির কলম নাহি সে মানে, বেদ-বেদান্ত দূরে রেখে করে প্রেমালাপ॥ গোপীর সনে গোপা হ’য়ে, রিপু ইন্দ্রিয় আপন ক’রে, স্বরূপনিষ্ঠা ক’রে ডোবে প্রেমেরই তরঙ্গে ; কাম-কুম্ভীরে ধ’রে পঞ্চবাণে তারে সংহারে, রস-রতি দিবারাতি করে তৌল-মাপ। বার তিথির বারুণীতে যোগেশ্বরীর মহাযোগে রসের ভিয়ানে, পাত্র অন্তরে লয়ে ; কৃতংপাক সেই রসিক করে ; ও সে গুরু-আত্মা শিষ্য-আত্মা করেছে মিলাপ॥ অটল হ’য়ে কৃষ্ণ সেবা, মানে না সে দেবীদেবা প্রেমে মত্ত হ’য়ে থাকে নিহেতু নিহারে, সাঁই হীরুচাঁদের কয়, সে প্রেম কি যারে তারে হয়, পাঞ্জ রে তোর মুখের কথা, গেল না স্বভাব॥
ভজন-সাধন করবি, রে মন, কোন্ রাগে কবি ফকির পাঞ্জ শা বাউল গান এই গানটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যর “বাংলার বাউল ও বাউল গান”, ফকির পাঞ্জ শাহ, ৭৫৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
ভজন-সাধন করবি, রে মন, কোন্ রাগে। . আগে মেয়ের অনুগত হও গে॥ জগৎ-জোড়া মেয়ের বেড়া রে, . কেবল একপতি সাঁইজী জাগে॥ মেয়ে সামান্য ধন নয়, জগৎ করছে আলোময়, কোটি চন্দ্র জিনি’ কিরণ . বুঝি আছে মেয়ের পায়। মেয়ে ছাড়া ভজন করা রে . তা হবে না কোনো যোগে॥ ষদি রূপার টাকা পায়, জীবে কপালে ছোঁওয়ায়, কত রজত-কাঞ্চন সোনা-রূপা পতি . দিচ্ছে মেয়ের পায়। মেয়ে এমন ধন নাহি চিনে রে জীব . পড়বে পাপের ভোগে॥ মেয়ে মেরো নারে ভাই, . মারলে গুরুমারা হয়, মেয়ের আহ্লাদিনী নাম . রেখেছেন চৈতন্য গোঁসাই। ও যার দরশনে দুঃখ হরে রে . ও তার চরণে শরণ নিগে॥ বলে হীরু চাঁদ আমার, মেয়ে মনোহর, যার আকর্ষণে জগৎপতি করল রাধার দাস-স্বীকার। তুই ধরি যদি গুরুর চরণ রে, . পাঞ্জ মেয়ের চরণ ধর আগে॥