| কবি পূর্ণানন্দের বৈষ্ণব পদাবলী |
| কাতর হইয়া পুছে রসময় শ্যাম কাতর হইয়া কহে নটবর শ্যাম ভণিতা দাস পূর্ণানন্দ কবি পূর্ণানন্দ এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কাতর হইয়া পুছে রসময় শ্যাম। আপনার নাম কহ, মোরে পরিচয় দেহ, কোন্ জাতি কোথা তোঁমাব ধাম॥ ধ্রু॥ আমি থাকি এই বনে, চরাইতে ধেনুগণে, কভু নাহি দেখি হেন রীতে। দাদা বলায়ের সঙ্গে থাকি, কভু তোমায় নাহি দেখি, এ বড় সন্দেহ লাগে চিতে॥ এত শুনি কহে গোরী, শুনহ নন্দের হরি, শুন মোরা দেই পরিচয়। প্রেমনাম ধরি আমি, বাস মোর এ মেদিনী, মাতা মোর তোমার পূজ্য হয়॥ তব পূজ্য মাতা যে, তাহার গৌরব সে, সে জন আমার হয় তাতে। আমার যে বন্ধুজনে, তার নাম সভে জানে, দাস পূর্ণানন্দের সাক্ষাতে॥ এই পদটি রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত প্রবাসী পত্রিকার জৈষ্ঠ ১৩২৯ ( মে ১৯২২ ) সংখ্যায় প্রকাশিত সংগ্রাহক কালীপ্রসন্ন বিদ্যাভূষণের “এক অপরিজ্ঞাত বৈষ্ণব কবি” প্রবন্ধ থেকে পাওয়া। কাতর হইয়া পুছে রসময় শ্যাম, তোমার নাম কহ, মোরে পরিচর দেহ--- কোন জাতি, কোথা নিজ ধাম॥ আমি থাকি এই বনে, চরাই সব ধেনুগণে, কভু তোমায় না পাই দেখিতে। বলাই দাদার সঙ্গে থাকি, তোমায় কখন নাহি দেখি, সন্দেহ লাগয়ে মোর চিতে॥ এত শুনি কহে গৌরী, শুন হে নন্দের হরি, তোমাকে দিব পরিচয়। প্রেম নাম আমি ধরি, বাসপুর মধুপুরী, মাতা মোর তব পূজ্য হয়॥ তোমার প্রিয় মাতা যে, আমারও পূজ্য সে, সে জন আমার হয় তাতে। আমার বন্ধু যেই জনে, তাহারে সকলে জানে, দাস পূর্ণানন্দ ভাবে চিতে॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২১৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশ্রী - ছোট দশকুশী॥ কাতর হইয়া কহে নটবর শ্যাম, আপনার নাম কহ, মোরে পরিচয় দেহ, কোন জাতি কোথায় নিজ ধাম॥ আমরা থাকি এহি বনে, নিতুই চরাই ধেনুগণে, কভু নাহি দেখি হেন রীতে। বলাই দাদার সঙ্গে থাকি, কভু না তোমারে দেখি, সন্দেহ লাগয়ে মোর চিতে॥ এত শুনি কহে গৌরী, শুনহ হে সুন্দর হরি, আপনার দেহ পরিচয়। প্রেম নাম ধরি আমি, বাস মোর মেদিনী, মাতা মোর তব পুজ্য হয়॥ তব প্রিয় মাতা যে, তাহার গৌরব সে, যেই জন হয় মোর তাতে। আমরা যে বন্ধু জনে, তাহারে সভাই জানে, দাস পূর্ণানন্দের সাক্ষাতে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৩০-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্র্রীকৃষ্ণের পরিচয় জিজ্ঞাসা কাতর হইয়ে পুছে রসময় শ্যাম। আপনার নাম কহ মোরে পরিচয় দেহ কোন জাতি কহ নিজ ধাম॥ আমি থাকি এই বনে চরাইতে ধেনুগণে কভু নাহি দেখি হেন রীতে। দাদা বলার সঙ্গে থাকি তোমায় কভু নাহি দেখি এ বড় সন্দেহ মোর চিতে॥ এত শুনি কহে গোরী শুনহে ব্রজের হরি শুন তবে দিই পারিচয়। প্রেমময় নাম ধরি বসতি মথুরা পুরী মাতা মোর তব পূজ্যা হয়॥ তোমার জননী যে আমার গৌরব সে জানাই তাহারে প্রণিপাতে। আমার যে বন্ধুগণে তাদের নাম সবে জানে কহি পূর্ণানন্দের সাক্ষাতে॥ এই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কাতর হইয়া কহে নটবর শ্যাম। আপনার নাম কহ, মোরে পরিচয় দেহ, কোন্ জাতি কোথায় নিজ ধাম॥ আমরা থাকি এহি বনে, নিতু চরাই ধেনুগণে, কভু নাহি দেখি হেন রীতে। বলাই দাদার সঙ্গে থাকি, কভু না তোমারে দেখি, সন্দেহ লাগয়ে মোর চিতে॥ এত শুনি কহে গৌরী, শুনহ হে সুন্দর হেরি, আপনার দেহ পরিচয়। প্রেম নাম ধরি আমি বাস মোর মেদিনী, মাতা মোর তব পুজ্য হয়॥ তব প্রিয় মাতা যে তাহার গৌরব সে, যেই জন হয় মোর তাতে। আমরা যে বন্ধুজনে, তাহারে সভাই জানে, দাস পূর্ণানন্দের সাক্ষাতে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৯৫৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কাতর হইয়ে পুছে রসময় শ্যাম। আপনার নাম কহ মোরে পরিচয় দেহ কোন জাতি কহ নিজ ধাম॥ আমি থাকি এই বনে চরাইতে ধেনুগণে কভু নাহি দেখি হেন রীতে। দাদা বলার সঙ্গে থাকি তোমায় কভু নাহি দেখি এ বড় সন্দেহ মোর চিতে॥ এত শুনি কহে গোরী শুনহে ব্রজের হরি শুন তবে দিই পারিচয়। প্রেমময় নাম ধরি বসতি মথুরা পুরী মাতা মোর তব পূজ্যা হয়॥ তোমার জননী যে আমার গৌরব সে জানাই তাহারে প্রণিপাতে। আমার যে বন্ধুগণে তাদের নাম সবে জানে কহি পূর্ণানন্দের সাক্ষাতে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সখীর সহিতে বেশের মন্দিরে ভণিতা দাস পূর্ণানন্দ কবি পূর্ণানন্দ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৩০-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রাধিকা গোষ্ঠ শ্রীরাধার বেশ পরিবর্ত্তন সখীর সহিতে বেশের মন্দিরে পশিলা আনন্দ চিতে। ত্যজি নীলশাড়ী পীতধড়া পরি পাগ্ ড়ী বাঁধিল মাথে॥ মৃগমদে তনু মাখে সখীগণ যেমত হইল কানু। সিন্দুর ঝাঁপিয়া তিলক রচিল চূড়াটি প্রভাত ভানু॥ মকর কুণ্ডল করে ঝলমল দোলয়ে রাধার কাণে। কটিতে ঘুঙ্গুর চরণে নূপুর রাখাল সাজে সথীগণে॥ নব নব বালা রাখাল সাজিলা রাধার সুখের তরে। কহে পূর্ণানন্দ হয়ে প্রেমানন্দ যাইবা কেমন করে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৯৫৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখীর সহিতে বেশের মন্দিরে পশিলা আনন্দ চিতে। ত্যজি নীলশাড়ী পীতধড়া পরি পাগ্ ড়ী বাঁধিল মাথে॥ মৃগমদে তনু মাখে সখীগণ যেমত হইল কানু। সিন্দুর ঝাঁপিয়া তিলক রচিল চূড়াটি প্রভাত ভানু॥ মকর কুণ্ডল করে ঝলমল দোলয়ে রাধার কাণে। কটিতে ঘুঙ্গুর চরণে নূপুর রাখাল সাজে সথীগণে॥ নব নব বালা রাখাল সাজিলা রাধার সুখের তরে। কহে পূর্ণানন্দ হয়ে প্রেমানন্দ যাইবা কেমন করে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কহয়ে কিশোরী শুন সহচরী ভণিতা দাস পূর্ণানন্দ কবি পূর্ণানন্দ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৩০-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রাধিকা গোষ্ঠ শ্রীরাধার বেশ পরিবর্ত্তন কহয়ে কিশোরী শুন সহচরী দেখিয়ে লাগয়ে ভয়। রাখালের বেশে কাননে আইলাম কিসে ঢাকে কুচদ্বয়॥ হাসিয়া হাসিয়া কহয়ে ললিতা শুন বলি বিনোদিনী। তাহার লাগিয়া কত না ভাবিহ যাহা বলি কর তুমি॥ কবরী এলায়ে কুচ ছাপাইয়ে বনেতে চরাব ধেনু। যমুনার কূলে বসি নীপমূলে বাজাইব শিঙ্গা বেণু॥ ঐছন করিয়া ধেনুগণ লইয়া যমুনা পুলিনে যায়। বসি নীপমূলে নবীন রাখাল মোহন মুরলী বায়॥ বাঁশীর শবদে জগত ভূলিল সুস্থির নাহিক হয়। রাখাল সকলে লাগিল ধন্ধ দাস পূর্ণানন্দ কয়॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৯৫৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কহয়ে কিশোরী শুন সহচরী দেখিয়ে লাগয়ে ভয়। রাখালের বেশে কাননে আইলাম কিসে ঢাকে কুচদ্বয়॥ হাসিয়া হাসিয়া কহয়ে ললিতা শুন বলি বিনোদিনী। তাহার লাগিয়া কত না ভাবিহ যাহা বলি কর তুমি॥ কবরী এলায়ে কুচ ছাপাইয়ে বনেতে চরাব ধেনু। যমুনার কূলে বসি নীপমূলে বাজাইব শিঙ্গা বেণু॥ ঐছন করিয়া ধেনুগণ লইয়া যমুনা পুলিনে যায়। বসি নীপমূলে নবীন রাখাল মোহন মুরলী বায়॥ বাঁশীর শবদে জগত ভূলিল সুস্থির নাহিক হয়। রাখাল সকলে লাগিল ধন্ধ দাস পূর্ণানন্দ কয়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আর এক দিই লেখা সকলেই বন্ধু সখা ভণিতা দাস পূর্ণানন্দ কবি পূর্ণানন্দ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৩১-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধার পারিচয় দান আর এক দিই লেখা সকলেই বন্ধু সখা দুই চারি দাসী মোর আছে। কহি শুন আর কথা পাছে হেঁট কর মাথা ননী চুরি করো ব্রজমাঝে॥ যতেক ব্রজের নারী দধির পশরা সারি মথুরার বিকে তারা যায়। পথ আগুলিয়া রও দধিদুগ্ধ কাড়ি খাও এই কি উচিত তোরে ভায়॥ নারীগণ সিনান করে বসন রাখিয়া তীরে তাহা চুরি কর কি লাগিয়ে। বাজায়ে মোহন বাঁশী ব্রজবধূ কর দাসী আপনা আপনি বড় হৈয়ে॥ খাওয়াও পরের খন্দ এখনি করিব দণ্ড লয়ে যাব কংস বরাবরে। দাস পূর্ণানন্দ কয় এই মোর পরিচয় শ্যাম নাগর পড়িল ফাঁপরে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৯৫৫-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আর এক দিই লেখা সকলেই বন্ধু সখা দুই চারি দাসী মোর আছে। কহি শুন আর কথা পাছে হেঁট কর মাথা ননী চুরি করো ব্রজমাঝে॥ যতেক ব্রজের নারী দধির পশরা সারি মথুরার বিকে তারা যায়। পথ আগুলিয়া রও দধিদুগ্ধ কাড়ি খাও এই কি উচিত তোরে ভায়॥ নারীগণ সিনান করে বসন রাখিয়া তীরে তাহা চুরি কর কি লাগিয়ে। বাজায়ে মোহন বাঁশী ব্রজবধূ কর দাসী আপনা আপনি বড় হৈয়ে॥ খাওয়াও পরের খন্দ এখনি করিব দণ্ড লয়ে যাব কংস বরাবরে। দাস পূর্ণানন্দ কয় এই মোর পরিচয় শ্যাম নাগর পড়িল ফাঁপরে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জয় কিশোরী গোরি ভণিতা পূর্ণানন্দ দাস কবি পূর্ণানন্দ দাস এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদের ভণিতা “পূর্ণানন্দ”। শেষ ৮টি কলির সঙ্গে, নীচে দেওয়া “পুণ্যানন্দ” ভণিতার “ফিরাইতে কর নারে গিরিধর” পদটির শেষ ৮টি কলির মিল উল্লেখনীয়। এ থেকেই আমরা মনে করছি যে পূর্ণানন্দ ও পুণ্যানন্দ, লিপিকরপ্রমাদের জন্য বানানভেদ হলেও তাঁরা এক ও অভিন্ন ব্যক্তি। জয় কিশোরী গোরি। আমার রাধিকা হয় গুণে অধিকারী॥ কানুর সর্ব্বস্ব নিলে হরি। তরাসে নাগরবর, কাঁপে কলেবর, মনেতে পাইয়া ডর॥ দেখিয়া সুবল, ভয়ে পলাইল, সঙ্গে নাহি হলধর॥ এ ঘোর কাননে, কেহ নাহি জানে, পাছে অকস্মাৎ মরি। শুনিয়া রায়ের দয়া উপজিল, বলে ভয় নাহি হরি॥ তোমার লাগিয়ে, আইলাম ধাইয়ে, নটবর রূপ ধরি॥ শ্রীঅঙ্গ পরশে, নাগর তরাসে, রাধার জানিল কায। যত সখীগণ, গেল দূরবন, বিলাসনিকুঞ্জমাঝ॥ কাতরে হরি, দুই কর যোড়ি, কহে শুনহে কিশোরি গোরি। তোমার মহিমা, বেদেনাহি সীমা, না জানে শঙ্গর গৌরী॥ রাই কহে শ্যাম, মোর নিবেদন, তোমা না দেখিলে মরি। ঘর তেয়াগিয়ে, আইলাম ধাইয়ে, নটবর বেশ ধরি॥ সঙ্গের সঙ্গিয়া, আসিয়া মিলিল, রাধিকা কানুর পাশে। প্রেম সমাধিনী, আনন্দে মিলল, কহে পূর্ণানন্দ দাসে॥ এই পদটি রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত প্রবাসী পত্রিকার জৈষ্ঠ ১৩২৯ ( মে ১৯২২ ) সংখ্যায় প্রকাশিত সংগ্রাহক কালীপ্রসন্ন বিদ্যাভূষণের “এক অপরিজ্ঞাত বৈষ্ণব কবি” প্রবন্ধ থেকে পাওয়া। এই পদের ভণিতা “পুণ্যানন্দ”। শেষ ৮টি কলির সঙ্গে ওপরে দেওয়া “পূর্ণানন্দ” ভণিতার “জয় কিশোরী গোরি” পদটির শেষ ৮টি কলির মিল উল্লেখনীয়। এ থেকেই আমরা মনে করছি যে পূর্ণানন্দ ও পুণ্যানন্দ, লিপিকরপ্রমাদের জন্য বানানভেদ হলেও তাঁরা এক ও অভিন্ন ব্যক্তি। ফিরাইতে কর নারে গিরিধর, আকুল হইল শ্যাম। চেয়ে নত পানে দেখে রাই-চরণে লেখা আছে শ্যাম নাম॥ অঙ্গের পরশে নাগর হরিষে বুঝিল রাইয়ের কাজ। যত সখিগণ গেল অন্য বন, মিলয়ে নিকুঞ্জ মাঝ॥ কাতর ভাবে হরি, দুই কর জুড়ি কহে শুন প্রাণেশ্বরী। তোমার মহিমা বেদে নাহি সীমা নাহি জানে হর গৌরী॥ রাই বলে শ্যাম, মোর নিবেদন, তোমা না দেখিলে মরি। ঘর তেয়াগিয়া দেখিলাম আসিয়া নটবর-বেশ-ধারী॥ সঙ্গের সঙ্গিয়া মিলিল আসিয়া রাধিকা কাণুর কাছে। প্রেম সমাধিয়া আনন্দে চলিলা, কহে পুণ্যানন্দ দাসে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হোথা শিশু সব ফিরয়ে কানাই কানাই বলে শিশু সব ফিরে অন্বেষিয়া ভণিতা দাস পূর্ণানন্দ কবি পূর্ণানন্দ দাস এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। হোথা শিশু সব ফিরয়ে কানাই কানাই বলে। ফিরে সবে অন্বেষণে কোথা গেলি কানাইরে ভেয়ে॥ কংশচর কত কত, আইসে যায় শত শত, না জানি পড়িল কোন দায়। কি বলিয়ে ঘর যাব, নন্দ আগে কি বলিব, কি বলিব যশোমতী মায়॥ কি কাজ করিল বিধি, কোথা গেল গুণনিধি, বজর পড়িল মোদের মাথে। আর নাহি সহে তাপ, যমুনায় দিব ঝাপ, যদি দেখা না হয় তার সাথে॥ রাখাল আকুল হয়ে, পড়ে অঙ্গ আছাড়িয়ে, সুবল আইল হেন কালে। উঠ ভাই তেজ দুখ, কি লাগি কর শোক, দাস পূর্ণানন্দে ইহা বলে॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২২২-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠলীলা ॥ মায়ূর - দশকুশী॥ শিশু সব ফিরে অন্বেষিয়া॥ কানাই কানাই বলি, ডাকে দুই বাহু তুলি, কোথা গেলি কানু ওরে ভাইয়া॥ ধ্রু॥ কংসচর অবিরত, আইসে যায় কত শত, না জ্ঞানি পড়িবে কোন দায়। কি বলিয়া ঘরে যাব, নন্দ আগে কি বলিব, কি কহিব যশোমতী মায়॥ কি কাজ করিলি বিধি, কেবা নিল গুণনিধি, বজর পড়িল মোর মাথে। যমুনাতে দিব ঝাঁপ, ঘুচাব হৃদয়ের তাপ, প্রাণ ত্যাগ করিব নিশ্চিতে॥ রাখাল আকুল হইয়া, পড়ে অঙ্গ আছাড়িয়া, সুবল আইল হেনকালে। উঠ ভাই তেজ দুখ, কি লাগিয়া এত শোক, দাস পূর্ণানন্দে ইহা বলে॥ এই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শিশু সব ফিরে অন্বেষিয়া॥ কানাই কানাই বলি, ডাকে দুই বাহু তুলি, কোথা গেলি কানু ওরে ভায়্যা॥ কংস-চর অবিরত, আইসে যায় কত শত, না জ্ঞানি পড়িল কোন দায়। কি বলিয়া ঘরে যাব, নন্দ-আগে কি বলিব, কি কহিব যশোমতী মায়॥ কি কাজ করিলি বিধি, কেবা নিল গুণনিধি, বজর পড়িল মোর মাথে। যমুনাতে দিব ঝাঁপ, ঘুচাব মনের তাপ, প্রাণ ত্যাগ করিব নিশ্চিতে॥ রাখাল আকুল হয়্যা, পড়ে অঙ্গ আছাড়িয়া, সুবল আইল হেনকালে। উঠ ভাই ত্যজ দুঃখ, কি লাগিয়া এত শোক, দাস পূর্ণানন্দ ইহা বলে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কাতর শ্রীহরি দুই কর যোড়ি কাতরে শ্রীহরি দুই কর যুড়ি ভণিতা পূর্ণানন্দ দাস কবি পূর্ণানন্দ দাস এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২২১-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ - জপতাল॥ কাতর শ্রীহরি, দুই কর যোড়ি, কহে শুন প্রাণেশ্বরী॥ তোমার মহিমা, বেদে নাহি সীমা, নাহি জানে হর গৌরী॥ রাই বলে শ্যাম, মোর নিবেদন, তোমা না দেখিলে মরি। ঘর তেয়াগিয়া, আইলাম দেখিয়া, নটবর বেশ ধরি॥ সঙ্গের সঙ্গিয়া, মিলিল আসিয়া, রাধিকা কানুর পাশে। প্রেমের পাথারে, আনন্দে মগন, কহে পূর্ণানন্দ দাসে॥ এই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কাতরে শ্রীহরি, দুই কর যুড়ি, কহে শুন প্রাণেশ্বরী॥ তোমার মহিমা, বেদে নাহি সীমা, নাহি জানে হরগোরী॥ রাই বলে শ্যাম, মোর নিবেদন, তোমা না দেখিলে মরি। ঘর তেয়াগিয়া, আইলাম দেখিয়া, নটবর বেশ ধরি॥ সঙ্গের সঙ্গিয়া, মিলিল আসিয়া, রাধিকা কানুর পাশে। প্রেমের পাথারে, আনন্দে মগন, কহে পূর্ণানন্দ দাসে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |