কবি পূর্ণানন্দের বৈষ্ণব পদাবলী
*
ফিরাইতে কর নারে গিরিধর
ভণিতা পুণ্যানন্দ দাস
কবি পূর্ণানন্দ দাস
এই পদটি রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত প্রবাসী পত্রিকার জৈষ্ঠ ১৩২৯ ( মে ১৯২২ ) সংখ্যায় প্রকাশিত
সংগ্রাহক কালীপ্রসন্ন বিদ্যাভূষণের “এক অপরিজ্ঞাত বৈষ্ণব কবি” প্রবন্ধ থেকে পাওয়া। এই পদের ভণিতা
“পুণ্যানন্দ”। শেষ ৮টি কলির সঙ্গে নীচে দেওয়া “পূর্ণানন্দ” ভণিতার “জয় কিশোরী গোরি” পদটির শেষ ৮টি
কলির মিল উল্লেখনীয়। এ থেকেই আমরা মনে করছি যে পূর্ণানন্দ ও পুণ্যানন্দ, লিপিকরপ্রমাদের জন্য
বানানভেদ হলেও তাঁরা এক ও অভিন্ন ব্যক্তি।

ফিরাইতে কর                      নারে গিরিধর,
আকুল হইল শ্যাম।
চেয়ে নত পানে                    দেখে রাই-চরণে
লেখা আছে শ্যাম নাম॥
অঙ্গের পরশে                        নাগর হরিষে
বুঝিল রাইয়ের কাজ।
যত সখিগণ                          গেল অন্য বন,
মিলয়ে নিকুঞ্জ মাঝ॥
কাতর ভাবে হরি,                    দুই কর জুড়ি
কহে শুন প্রাণেশ্বরী।
তোমার মহিমা                    বেদে নাহি সীমা
নাহি জানে হর গৌরী॥
রাই বলে শ্যাম,                     মোর নিবেদন,
তোমা না দেখিলে মরি।
ঘর তেয়াগিয়া                   দেখিলাম আসিয়া
নটবর-বেশ-ধারী॥
সঙ্গের সঙ্গিয়া                        মিলিল আসিয়া
রাধিকা কাণুর কাছে।
প্রেম সমাধিয়া                        আনন্দে চলিলা,
কহে পুণ্যানন্দ দাসে॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে। এই পদের ভণিতা “পূর্ণানন্দ”। শেষ ৮টি কলির সঙ্গে, উপরে দেওয়া “পুণ্যানন্দ”
ভণিতার “ফিরাইতে কর নারে গিরিধর” পদটির শেষ ৮টি কলির মিল উল্লেখনীয়। এ থেকেই আমরা মনে
করছি যে পূর্ণানন্দ ও পুণ্যানন্দ
, লিপিকরপ্রমাদের জন্য বানানভেদ হলেও তাঁরা এক ও অভিন্ন ব্যক্তি।


জয় কিশোরী গোরি। আমার রাধিকা হয় গুণে অধিকারী॥ কানুর সর্ব্বস্ব
নিলে হরি। তরাসে নাগরবর, কাঁপে কলেবর, মনেতে পাইয়া ডর॥ দেখিয়া
সুবল, ভয়ে পলাইল, সঙ্গে নাহি হলধর॥ এ ঘোর কাননে, কেহ নাহি জানে,
পাছে অকস্মাৎ মরি। শুনিয়া রায়ের দয়া উপজিল, বলে ভয় নাহি হরি॥
তোমার লাগিয়ে, আইলাম ধাইয়ে, নটবর রূপ ধরি॥ শ্রীঅঙ্গ পরশে, নাগর
তরাসে, রাধার জানিল কায। যত সখীগণ, গেল দূরবন, বিলাসনিকুঞ্জমাঝ॥
কাতরে হরি, দুই কর যোড়ি, কহে শুনহে কিশোরি গোরি। তোমার মহিমা,
বেদেনাহি সীমা, না জানে শঙ্গর গৌরী॥ রাই কহে শ্যাম, মোর নিবেদন,
তোমা না দেখিলে মরি। ঘর তেয়াগিয়ে, আইলাম ধাইয়ে, নটবর বেশ ধরি॥
সঙ্গের সঙ্গিয়া, আসিয়া মিলিল, রাধিকা কানুর পাশে। প্রেম সমাধিনী, আনন্দে
মিলল, কহে পূর্ণানন্দ দাসে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর