কবি সর্ফতোল্লার বৈষ্ণব পদাবলী
*
ও মন দেখরে! সতত মুরলী ফুকে কে
কবি সর্ফতোল্লা
এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় বিদ্যারত্ন সম্পাদিত “সাহিত্য-সংহিতা” পত্রিকা-র ১৩০৮ বঙ্গাব্দের
আষাঢ় সংখ্যায় (১৯০০খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী”
প্রবন্ধের ১৮২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীত-সারঙ্গ॥

ও মন দেখরে! সতত মুরলী ফুকে কে॥ ধ্রু।
নন্দিয়া (২) কিনারে,                কদস্ব শিখড়ে,
শুন মূরলীর স্বরে।
হারাইএ জ্ঞান,                        ছট ফট প্রাণ,
রহিতে না পারি ঘরে॥
শুনিতে মুরলী,                     ছাড়ি গৃহ বাড়ী,
স্থির নহে নারীর চিত।
হেন হি মাধুরী,                   সে বাঁশীতে ভরি,
সদা গাহে হেন গীত॥
মুইত অভাগী,                  ঋতু সঙ্গী (৩) লাগি,
নিকলিতে নাহি পারি।
গৃহকর্ম্ম ছাড়ি,                      সঙ্গে আর চারি,
তার ভয় করি নারী॥
দেয়রিয়া ঘরে,                        ননদিনী ডরে,
শাশুড়ী কালের কাল।
সতিণীর জ্বালা,                      সদা মুখ কালা,
বিষপ্রিয় হৈল জ্বাল॥ (৪)
সদা মনে দুখ,                        গৃহে নাহি সুখ,
পড়শী হইল অরি।
কহিতে লাঘব,                        নাহিক বান্ধব,
সতত এ দুঃখে মরি॥
সকল হারাই,                        পন্থ নাহি পাই,
গুরু বিত লক্ষ্য আর।
সেই পদ বিনে,                      লক্ষ্য ত্রিভুবনে,
সেই বস্তু নাহি সার॥
কাতর কিঙ্করে,                   ডাকে বারে বারে,
সাহা আলিরাজা পায়।
সারঙ্গের স্বরে,                     কান্দিয়া নির্ভরে,
হীন সর্ফতোল্লা গায়॥

ই পদটি ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন মুসলমান
কবি” গ্রন্থের ৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীত-সারঙ্গ॥ বংশী॥

ও মন দেখরে! সতত মুরলী ফুকে কে॥ ধু॥
নন্দিয়া কিনারে                        কদস্ব শিখড়ে
শুন মূরলীর স্বরে।
হারাই এ জ্ঞান                            ছটফট প্রাণ
রহিতে না পারি ঘরে॥
শুনিতে মুরলী                          ছাড়ি গৃহবাড়ী
স্থির নহে নারীর চিত।
হেন হি মাধুরী                      সে বাঁশীতে ভরি
সদা গাহে কেন গীত॥
মুই তো অভাগী                       ঋতুসঙ্গী লাগি
নিকলিতে নাহি পারি।
গৃহকর্ম্ম ছাড়ি                        সঙ্গে আর চারি
তার ভয় করি নারী॥
দেয়ারিয়া ঘরে                        ননদিনী ডরে
শাশুড়ী কালের কাল।
সতিণীর জ্বালা                        সদা মুখ কালা
বিষ প্রিয় হৈল জ্বাল॥
সদা মনে দুখ                         গৃহে নাহি সুখ
পড়শী হইল অরি।
কহিতে লাঘব                         নাহিক বান্ধব
সতত এ দুঃখে মরি॥
সকল হারাই                          পন্থ নাহি পাই
গুরুবিত লক্ষ্য আর।
সেই পদ বিনে                       লক্ষ্য ত্রিভুবনে
সেই বস্তু নাহি সার॥
কাতর কিঙ্করে                   ডাকে বারে বারে
সাহা আলিরাজা পায়।
সারঙ্গের স্বরে                     কান্দিয়া নির্ভরে
হীন সর্ফতোল্লা গায়॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর