কবি সেরচান্দ-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
পন্থ ছাড় ঘরে যাই রে
কবি সেরচান্দ
এই পদটি ১৯০৪ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, ব্রজসুন্দর সান্ন্যাল সম্পাদিত “মুসলমান বৈষ্ণব কবি, ৩য় খণ্ড”
সংকলনের ২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

পন্থ ছাড় ঘরে যাই রে, নিলাজ কানাই। ধু।
মাথায় পসরা করি,
চলিছ গোপালের নারী ;
কোথায় তোর ঘর বাড়ী?
মথুরাতে যাইতে চাহ,
কিছু দাম দিয়া যাহ,
অনাদানে(১) ছাড়িতে না পারি॥
হওম্ (২) মুই গোপালের নারী,
গোকুলেতে ঘর করি,
মথুরাতে করি হাট ঘাঠ।
চিরকাল এই পন্থে,
না দেখিছি দান লৈতে,
আজু কেনে নিরোধিছ বাট॥
তুমিত নন্দের সুত,
কর্ম্ম কর অদভুত,
পন্থ মধ্যে কর বাটোয়ারি।
রাজা আছে কংসাসুর,
বড়াই করিব চূর,
পাছে দোষ না দিও আমারি॥
হীন সের চান্দের বাণী @
শুন রাধে ঠাকুরাণী,
ভজ গিয়া কানু গুণসার।
তরিতে পাতকী লোক,
না ভাবিও মনে দুখ,
কানু বিনে গতি নাহি আর॥ ১॥

১) অনাদানে - বিনা দানে। ২) হওম - হই।
@ - অপর পাণ্ডুলিপিতে “সের বাজ” ভণিতা দেখা যায়।

ই পদটি ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন মুসলমান
কবি” গ্রন্থের ৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥ দানলীলা॥

পন্থ ছাড় ঘরে যাই রে, নিলাজ কানাই॥ ধু॥
মাথায় পসরা করি,                      চলিছ গোপালের নারী
কোথায় তোর ঘর বাড়ী?
মথুরাতে যাইতে চাহ,                    কিছু দাম দিায় যাহ
অনাদানে ছাড়িতে না পারি॥
হওম্ মুই গোপালের নারী,                গোকুলেতে ঘর করি
মথুরাতে করি হাটঘাট।
চিরকাল এই পন্থে,                        না দেখিছি দান লৈতে
আজু কেনে নিরোধিছ বাট॥
তুমি তো নন্দের সুত                        কর্ম্ম কর অদভুত
পন্থ মধ্যে কর বাটোয়ারি।
রাজা আছে কংসাসুর,                        বড়াই করিব চূর
পাছে দোষ না দিও আমারি॥
হীন সেরচান্দের বাণী                       শুন রাধে ঠাকুরাণী
ভজ গিয়া কানু গুণসার।
তরিতে পাতকী লোক,                     না ভাবিও মনে দুখ
কানু বিনে গতি নাহি আর॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর