কবি সৈয়দ শাহানূর-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
কত দুঃখ সইব শরীরে রে
ভণিতা ছৈয়দ শাহানূর
কবি সৈয়দ শাহানূর
এই পদটি ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-
ভাবাপন্ন মুসলমান কবি” গ্রন্থের ১০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গানটি শ্রীভারতী
পত্রিকার আশ্বিন ১৩৫০ সংখ্যার (সেপ্টেম্বর ১৯৪৩) ৯৬-পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছিল।

॥ রাগ - রোদন - বিরহ॥

কত দুঃখ সইব শরীরে রে।
ও প্রাণ বন্ধু! কত দুঃখ সইব শরীরে॥
ভুষির মাঝে অনল দিলে বন্ধু ধীরে ধীরে জলে
যদি লাকড়ির আগুন হৈত জ্বলি পুড়ি নিভি যাইত।
বন পুড়ে সয়ালে দেখে ও বন্ধু মন পুড়ে কেউ না দেখে
বন্ধু মনের অনল জ্বলে নিরবধি রে।
মনের আগুন নিভাইলে নিভে না রে॥
তুই বন্ধু ভাড়িলে মোরে ও বন্ধু ঘরের মাঝে অনল দিলে।
ও বন্ধু চাইয়া দেখ ঘরপোড়া পালা রে।
তুই বন্ধু চিকনকালা আমি ঘরের পোড়াপালা
বন্ধু চারিধারে জ্বলিয়া অঙ্গার রে॥
ছৈয়দ শাহনূরে বলে ও বন্ধু আমার তনে অনল দিলে
ও বন্ধু নিভাইতে নি পার মনের অনল রে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
চল রে চল রে নিলজ্জার কালা
ভণিতা ছৈয়দ শাহানূর
কবি সৈয়দ শাহানূর
এই পদটি ১৯৬৬ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, গুরুসদয় দত্ত ও ডঃ
নির্মলেন্দু ভৌমিক সম্পাদিত, “শ্রীহট্টের লোকসঙ্গীত” সংকলন, পরিশিষ্ট, ৩৮৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি শ্রীহট্ট সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকার মাঘ ১৩৪৪ সংখ্যার
(জানুয়ারী ১৯৩৮) ১২৩-১৩৬ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছিল।

॥ রাগ - মইউর (ময়ূর)॥

চল রে চল রে নিলজ্জার কালা
কলসী রহিল কাঁখে
তুমার আমার পরিহাস
ননদীয়ে দেখে। ধুয়া॥
বিহানে উঠিতে মোর পড়িছিল বাধা
তেকেনে জলেরে আইনু
কলঙ্কিনী রাধা॥

কেবা না আইসে ঘাটে
ভরিয়া নিতে জল
একাকী পাইয়া মোরে
তুমি কর বল॥

শাশুড়ী-ননদী
একে বলে পরিবাদ
বিন্দাবন ছাড়িয়া যাইমু
রহিতে নাহি সাদ॥

মায়ে-বাপে বলে মোরে
রাধা-কলক্ষিনী
যুগুনী হইয়া যাইমু
মনের ওগুনি॥

শশুড়ী-ননদী-জাল
---দেওরা হইলা বৈরী
দেখা না পাই রে বন্ধু
নিরবধি ঝুরি॥

ছৈয়দ শাহানূরে কইন
একি পরমাদ
শশুড়ী-ননদী-জালে
কই সম্ বাদ॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
পাগেলা ফকিরের সনে
ভণিতা সৈয়দ শা’ নূর
কবি সৈয়দ শাহানূর
এই পদটি ১৯৬৬ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, গুরুসদয় দত্ত ও ডঃ
নির্মলেন্দু ভৌমিক সম্পাদিত, “শ্রীহট্টের লোকসঙ্গীত” সংকলন, সারি, ৩৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

পাগেলা ফকিরের সনে
দিদার-মাদার১ নাই।
সখি গো, মন-পবন কাষ্ঠের নাও
কাণ্ডারী কানাই॥

নদী তো তরঙ্গ নদী
সোত২ চলে ধারে।
অপুরা বিরিন্দাবন৩
নদীয়ার কিনারে॥

আব৪ হইতে চলে নৌকা
বাদ৫ অইলে বন্ধ।
নায়ের মাঝে চৌদ্দ গুছা৬
শুনতে লাগে ধন্ধ॥

বারো ডাল বিশ মাথা
নাওয়ের মাঝে আছে।
বত্তিশ কাঙ্গুরা৭ নাও
গলইয়ে চেরাগ জলে॥

শুনিয়া চমকিত হুইলা
রাধিকা সুন্দরী।
গহীন বনে আজু৮ মোর॥
কে বাজায় মুররী৯ ॥

মন-পবন কাষ্ঠের নাও
সারি-সারি গুড়া।
পীর-মুরশিদ ছওয়ারী
নাও শূন্যে করে উড়া॥

সৈয়দ শা’ নূরে কয়
আল্লাকে ভাবিয়া :
মিছা গৈরব করো রে মন
খাকের১০ তনু লইয়া॥

১ - দেখাশোনা, ২ স্রোত, ৩ - অপূর্ব বৃন্দাবন, ৪ - মেঘ, জল, ৫ - বায়ু, ৬ নৌকার পাশের
তক্তা, ৭ - (?), ৮ - আজি, ৯ - মুরলী, ১০ - মাটির।

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর