আমরা মিলনসাগরে  কবি সৈয়দ শাহানূর-এর বৈষ্ণব পদাবলী তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে
পারলে  এই  প্রচেষ্টার সার্থকতা।


কবি সৈয়দ শাহানূর-এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ৩১.৩.২০২১

...
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
এই পাতার ভণিতা
ছৈয়দ শাহানূর
যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্যর উদ্ধৃতি    
আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদের একটি অনুপ্রবন্ধ    
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি   
মুসলমান বৈষ্ণব কবি সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি   
এই কবিদের পরিচয় নিয়ে ব্রজসুন্দর সান্যালের উদ্ধৃতি    
মুসলমান বৈষ্ণব কবি সম্বন্ধে যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্যর উদ্ধৃতি   
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
*
কবি সৈয়দ শাহানূর - শ্রীহট্ট জেলার ‘সুনামগঞ্জ’ মহকুমার ‘সৈয়দপুর’ গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

আমরা যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন মুসলমান কবি” গ্রন্থে কবির একটি ও
গুরুসদয় দত্ত ও ডঃ নির্মলেন্দু ভৌমিক সম্পাদিত, “শ্রীহট্টের লোকসঙ্গীত” সংকলন থেকে দুটি পদ পেয়েছি।
যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্যর উদ্ধৃতি -                                                      পাতার উপরে . . .    
১৯৪৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত,  যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন মুসলমান কবি” গ্রন্থে
তিনি এই কবির সম্বন্ধে লিখেছেন . . .

সৈয়দ শাহনূর - ইনি শ্রীহট্ট জেলার ‘সুনামগঞ্জ’ মহকুমার ‘সৈয়দপুর’ গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। ইঁহার রচিত
“নূর নাছিহত” নামক মারিফতি গানের এক সংগ্রহগ্রন্থ বর্তমানে ‘শ্রীহট্ট মুসলিম সাহিত্যসংসদ
গ্রন্থাগারে’ রক্ষিত আছে
।"
মুসলমান বৈষ্ণব কবি সম্বন্ধে যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্যর উদ্ধৃতি -                   পাতার উপরে . . .  
১৯৪৫ সালে, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য তাঁর সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন মুসলমান কবি” গ্রন্থে, কেন
কিছু মুসলমান কবি বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন হলেন তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে, গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন . . .
“. . .
রাম ও কৃষ্ণের উপর দেবত্ব আরোপিত হওয়ায় সেই-সকল কাহিনী (রামায়ণ, মহাভারত ইত্যাদি) ইঁহারা
তাঁহাদের নবলব্ধ ধর্ম্মের আদর্শের সহিত সামঞ্জস্য করিয়া মানিতে পারিলেন না। তাই কালক্রমে এদেশীয়
মুসলমানদের নিকট বহুদেবতার পূজক হিন্দুদের ধর্ম্মকাহিনী পাঠের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হইয়া উঠিল। চর্চ্চার
অভাবে এইজাতীয় অধিকাংশ কাহিনীই মুসলমানরা কালক্রমে ভুলিয়া গেলেন। কিন্তু চৈতন্যযুগে যখন প্রেমের
প্রবল বন্যায় বঙ্গদেশ প্লাবিত, তখন তাহা মুসলমানদের আঙ্গিনার মধ্যেও প্রবেশ করিল। প্রায় সেই সময়ই
প্রেমপূর্ণ বৈষ্ণব-হৃদয়ের উচ্ছ্বাস পদাবলীরূপে পরিস্ফুট হইয়া নৃত্যে ও সঙ্গীতে বাঙ্গালার গগন-পবন মুখরিত
করিয়া তুলিল। এই প্রেমসঙ্গীত-মন্দাকিনী শুধু হিন্দুর গৃহপাশেই প্রবাহিত হয় নাই, মুসলমানদের আঙ্গিনার
পাশ দিয়াও প্রবাহিত হইয়াছে। তাহার ফলে হিন্দুরা এই মন্দাকিনীর পূতবারি পানে যেরূপ কৃতার্থ হইয়াছেন,
মুসলমানরা সেইরূপ না হইলেও প্রেমতৃষ্ণা নিবারণের জন্য এই ধারা হইতে যে সময় সময় বারি গ্রহণ
করিয়াছেন, তাহাতে সন্দেহের অবকাশ নাই। হিন্দু কবিরা এই ভাবগঙ্গায় স্নাত হইয়া জাহ্নবীর অশেষ
বীচিবিভঙ্গতুল্য অসংখ্য কবিতায় প্রেমিক-প্রেমিকার শাশ্বতমূর্ত্তি রাধাকৃষ্ণের লীলা বর্ণনা করিয়াছেন।
মুসলমানদের মধ্যে কেহ কেহ এই ভাবের প্রভাবে প্রভাবিত হইয়া রাধাকৃষ্ণ নাম উল্লেখ করিয়া প্রেমের কথা
গাহিয়াছেন
।”
.
মুসলমান বৈষ্ণব কবি সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি -                            পাতার উপরে . . .  
শিক্ষাবীদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও প্রাচীন পুথির সংগ্রাহক,
শ্রী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, জলধর সেন
সম্পাদিত “ভারতবর্ষ” পত্রিকার কার্তিক, ১৩২৩ সংখ্যায় (অক্টোবর ১৯১৬),  তাঁর “বৈষ্ণব-কবিগণের
পদাবলী” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .

মুসলমান কবিগণ এক-সময়ে কবিতাকারে রাধাকৃষ্ণের প্রেম-বর্ণনায় প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন,---এখন  এই   
ভেদবুদ্ধির দিনে এ কথা নিতান্ত বিচিত্র বলিয়াই বোধ হইবে। কিন্তু বিচিত্র বোধ হইলেও, তাহা একান্ত সত্য
কথা,---তাহাতে বিস্মিত হইবার কিছুই নাই। মুসলমান কবিগণ সত্যসত্যই রাধাকৃষ্ণের  প্রেমসুধা-পানে
বিভোর হইয়াছিলেন। সেই সুধাপানে কেহ-কেহ অমরতাও লাভ করিয়া গিয়াছেন। তাঁহাদের  লীলারস
প্রকটনে অনেকে এমনই তন্ময়চিত্ত হইয়াছিলেন যে, ভণিতাটুকু উঠাইয়া দিলে---কবিতাটি হিন্দুর, কি  
মুসলমানের রচনা, তাহা চিনিয়া লওয়া অসম্ভব বিবেচিত হইবে। জাতিধর্ম্মের ব্যবধানে থাকিয়া একজন  
কবির এরূপ প্রসংশা-লাভ করা সামান্য গৌরবের কথা নহে। সৈয়দ মর্ত্তুজা, নাছির মহাম্মদ, মীর্জ্জা ফয়জুল্লা
প্রভৃতি কবিগণের পদাবলী কবিত্বে ও মাধুর্য্যে যে-কোন হিন্দু বৈষ্ণব-কবির পদাবলীর সহিত তুলনীয়
।”
.
.
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি -                                   পাতার উপরে . . .  
শিক্ষাবীদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও প্রাচীন পুথির সংগ্রাহক,
শ্রী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, সুরেশচন্দ্র
সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯১৮), তাঁর “সঙ্গীত শাস্ত্রের
একখানি প্রাচীন গ্রন্থ” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .
“. . .
বৈষ্ণব পদাবলীর মত সুন্দর জিনিস বঙ্গসাহিত্যে আর নাই। কাণের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া প্রাণ
আকুল করিয়া তুলিতে পারে, এমন সুধাস্রাবী ঝঙ্কার বৈষ্ণব পদাবলী ভিন্ন বাঙ্গালায় আর কিছুতে নাই
।”
.
এই কবিদের পরিচয় নিয়ে ব্রজসুন্দর সান্যালের উদ্ধৃতি -                          পাতার উপরে . . .  
ব্রজসুন্দর সান্যাল তাঁর “মুসলমান বৈষ্ণব কবি, ৩য় খণ্ড”-এর “জীবনী আলোচনা”-তে লিখেছেন . . .
“ . . .
 ‘মুসলমান বৈষ্ণব কবির’ বর্ত্তমান খণ্ডে সৈয়দ আলাওল, মীর্জা ফয়জুল্লা, মীর্জা কাঙ্গালী, সৈয়দ  
আইনদ্দিন, নাছির মহম্মদ, সৈয়দ নাছিরদ্দিন, সেরচান্দ বা সেরবাজ, এবাদোল্লা, আবাল ফকির, মোছন আলী,
মহম্মদ হানিফ এবং আলিমদ্দিন,---এই দ্বাদশ জন কবির পদাবলী প্রকাশিত হইল। ইহাঁদের মধ্যে মহাকবি
আলাওলের বৃত্তান্ত পৃথকভাবে লিপিবদ্ধ হইল। অবশিষ্ট কবিগণের সম্বন্ধে আমাদের গবেষণার হুল কিছুমাত্র
প্রবেশ করিতে পারে নাই। প্রাচীন কবিগণ সাহিত্য-সংসারে একান্ত কুহেলিকাচ্ছন্ন। তাঁহাদের  জীবনী  
জানিবার অভিলাষ করা আর অন্ধকারে ঢিল ছোড়া প্রায় সমানই বটে
!”
*
আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদের অনুপ্রবন্ধ -                                     পাতার উপরে . . .    
জলধর সেন সম্পাদিত “ভারতবর্ষ” পত্রিকার পৌষ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় (জানুয়ারী ১৯১৯ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত,
আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদের মুসলমান কবির বৈষ্ণব-পদাবলী প্রবন্ধের ৭৮-পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন . . .

প্রাচীন  কালে  মুসলমান  কবিগণ  বৈষ্ণব-পদাবলী  বা  রাধাকৃষ্ণের  লীলাবিষয়ক  কবিতারাজি  রচনা  
করিয়াছিলেন,  ইহা  এখন  আর  নূতন  কথা  নহে।  অনেকেই  জানেন,  নদীয়া--- মেহেরপুরের  জমিদার  
পরলোকগত বাবু রমণীমোহন মল্লিক মহাশয়ই সর্ব্বপ্রথমে মুসলমান কবিগণের কয়েকটি বৈষ্ণবপদ সংগ্রহ ও
প্রকাশ করিয়া সাহিত্য-সমাজের গোচর করেন। তাঁহার সঙ্গে সঙ্গে এদিকে আমিও বহু পদ সংগ্রহ ও প্রকাশ
করিয়া কাব্যামোদিগণের আনন্দ বর্দ্ধন করিতে থাকি। আমার সংগৃহীত পদগুলি একত্র করিয়া রাজসাহীর
সুপ্রসিদ্ধ সাহিত্যিক বন্ধুবর শ্রীযুক্ত ব্রজসুন্দর সান্ন্যাল মহশয় কয়েক বৎসর পুর্ব্বে তাহা  পুস্তকাকারে  
প্রকাশিত করিয়া দেন। ইতোমধ্যে আমি আরও বহু পদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করিয়াছি। পাঠক পাঠিকাগণ   
শুনিয়া আনন্দিত হইবেন, একমাত্র আমার চেষ্টায় এরূপ মুসলমান কবির সংখ্যা এখন পঞ্চাশেরও উপরে  
উঠিয়াছে।

সম্প্রতি আরও অনেক নূতন ও পুরাতন কবির অনেক নূতন পদ আমার হস্তগত হইয়াছে। তন্মধ্যে  
অনেকগুলি পদ গত বৎসর "গৃহস্থে” “ভারতবর্ষে” ও “ঢাক রিভিউ ও সম্মিলন” পত্রে প্রকাশিত হইয়াছে। আজ
আবার আরও কয়েকটি নূতন পদ এস্থলে প্রকাশ করিতেছি।

এই প্রবন্ধে সৈয়দ মর্ত্তুজার ৪টি, আমানের ১টি, মীর ফয়জুল্লার ১টি, সেখ কবিরের ১টি, মনোয়ারের ২টি,  
এবাদুল্লার ১টি, আলিমুদ্দিনের ১টি, মোহম্মদ হামিরের ১টি এবং আবঝলের ১টি --- মোট ১৩টি পদ প্রকাশিত
হইল। এই সকল কবি নূতন নহেন। কিন্তু তাঁহাদের পদগুলি সম্পূর্ণ নূতন বটে।

১০৮৯ মঘী সনে বা ১৬৪০ শকাব্দে (১৭১৮ খৃষ্টাব্দ) লিখিত “রাগমালা” নামক একখানি সঙ্গীত-গ্রন্থের  ভিতর  
এই সকল পদ পাওয়া গিয়াছে। যাঁহারা কখনও প্রাচীন পুঁথির আলোচনা করিয়াছেন, তাঁহারা বেশ অবগত  
আছেন যে, একমাত্র প্রতিলিপির সাহায্যে সেকালের কিছু সম্পূর্ণ নির্ভুলরূপে প্রচার করা বড়ই কঠিন। এই  
কারণে পদগুলির স্থানে স্থানে অসংলগ্রতাদি প্রমাদ পরিলক্ষিত হওয়ার খুব সম্ভাবনা রহিয়াছে। প্রাচীন  
সাহিত্যের সংশোধনের ক্ষমতা কাহারও নাই। এজন্য আমরা পদগুলি প্রায়ই “যথা দৃষ্টং তথা লিখিতং”  
করিয়া প্রকাশ করিলাম।

যে দেশে বড়-বড় কবিগণেরই পরিচয় পাওয়া যায়া না, সে দেশে এ সব ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র পদ-রচয়িতা কবিগণের  
পরিচয় কোথায় পাওয়া যাইবে?

ব্রজসুন্দর বাবুর “মুসলমান বৈষ্ণব কবি” নামক সংগ্রহ-গ্রন্থগুলির ভূমিকায় ইহাঁদের জীবনী-সম্বন্ধ  জ্ঞাতব্য  
সকল কথা একবার প্রকাশ করিয়াছিলাম। এখানে তাহার পুনরুক্তি না করিয়া কেবল এই কথা বলিয়া রাখি,
ইহাঁরা খুব সম্ভব চট্টগ্রামেরই কাব্য-কাননের কোকিল ছিলেন। তাঁহাদের নস্বর দেহ কোন্‌ সুদূর অতীতে  
মাটীতে মিশিয়া গিয়াছে ; কিন্তু তাঁহাদের পরিত্যক্ত বীণা এত দিন পরে আবার ঝঙ্কৃত হইয়া উঠিয়া,  
দেশবাসীর প্রাণে কি অভূতপুর্ব্ব আনন্দের সঞ্চার করিতেছে
!”