কবি দয়াময় মাহান্তীর কবিতা
*
বাঘের চোখের সামনেই, জ্যোৎস্না
কবি দয়াময় মাহান্তী

ঘিরে ধরার মরসুমে,মৌসুমি মুখে
অধরা কয়েকটি কথা কাঁপে অধরে--

বাঁশপাতা, ওগো সই, তোমাকে পড়তে
কোনদিন পারি নি ; যৌবন বাতাসে
তুমি যে অস্থির হয়েছিলে,তার রহস্য
হারিয়ে গেছে,এখন জ্যোৎস্নায় চুপ করে
বসে থেকে দেখি,বাঘের দুটি চোখ থেকে
বেরিয়ে কে যেন খেলা করে, তুমি কি
তার খবর জানো ?

আর কখনও ওদিকে যাব না
বাঁশবনে ডোম কানা হব না,--
তবুও আমার মৃতদেহটি একদিন ডোমেরাই
জ্বালিয়ে দেবে, বাঁশবনের পাশের চিতায়--

সব জেনেও, তোমাকে বলা হয় নি,
একবার নেমে এসো, জ্যোৎস্নায়
বাঘের চোখের সামনেই,আমরাও খেলি
বেপরোয়া, বিপজ্জনক খেলা

ওগো বাঁশপাতা,
ক্রমশ বয়স স্থির হয়ে যাবে,
তুমি যে অস্থির হয়েছিলে সে কথাকেও
ঘিরে ধরবে মরসুমের শীতলতা

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ক্ষমা
কবি দয়াময় মাহান্তী

সুন্দরকে হারানোর ভয়ের ভিতর
হেঁটেছি কখনও...
এই ভুলের জন্য কার কাছে চাই মার্জনা?

আজ বুঝি হয়ে ওঠা যায় ,হয়ে ওঠা যায়
তাকে পাওয়া,বা হারানো যায় না।

কেন বৃথা আমাকে অনুসরণ করো আর?

তোমার বোধের বাইরে খেলা করে যে জ্যোৎস্না
তার জল হয়ে আমি ক্রীড়া করি,
আমার ভিতরে যে করে খেলা
তার ছায়া তোমার ভুবনে পড়বে না।

তবুও কি আরও কিছু দূর আসতে হবে
তোমাকে আমার পেছনে,যতটা হেঁটেছিলাম
একদিন ভুল করে?

যতটা কাছে এলে,বুঝতে পারবে--
একটি বৃত্তের অর্থ ও অনর্থের সমস্ত রহস্যগুলি...

এভাবেই একটি ভুল আরেকটি ভুলের পাবে ক্ষমা?

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জঙ্গলে জঙ্গিদের ডেরা বৃষ্টিতে ভিজে
কবি দয়াময় মাহান্তী

তোমার কপালে রহস্যের অমরতিলক
অন্ধকারে ঝুপঝুপ হেঁটে যায় বালক
শুকতারাকে দেখে
প্রথম প্রেমের চিঠির কথা
মনে পড়ে যায়

যতদিন একমুখী টান ছিল
মনে হত,সব ছেঁড়া যায়
সবখানে ওড়া যায়

জঙ্গলে জঙ্গিদের ডেরা বৃষ্টিতে ভিজে
তার ভেতর থেকে একটি ডোরাকাটা বাঘ
বেরিয়ে গভীরের দিকে চলে গেল...

কারা বুঝি জ্যোৎস্না চেয়েছিল ?
নাবালকের পায়ের চমক পড়ে
পাতাটি জ্বলে উঠল

পৃথিবীর গভীর ষড়যন্ত্রের কথা
না-বুঝেই সে পত্র লিখেছিল দূরের ডাকে
ঠিকানা তাকে নিষিদ্ধ ঘরের দিকে
ধাবিত করেছে...

দু-দিকেই টান এখন বুঝি
ব্ল্যাকবোর্ড থেকে তারাটি মুছি
অন্ধকারে বেজে উঠে নূপুর
একটি দেশলাই আঁকি

জানি না সে পথ পোড়ায়
নাকি,পথ দেখায়

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আরতি
কবি দয়াময় মাহান্তী

প্রাচীন রতির অন্ধকার
ভেঙে,সে জেগেছিল...
ধীরে শুভ্র ,অভ্রের দিকে উত্থিত,শান্ত স্থিত।

লোকাচার থেকে,আদিম খামার থেকে উড়ে
প্রজ্ঞার অধাতবীয় ডানা উজ্জ্বল বিস্তারে
বসেছিল বলয়ের মতো।

সেই থেকে সে একা।
কতদিন সে কথা বলে নি ?

নিয়ত অর্থহীন কথার মানুষ নগরে,গ্রামে
কথা সর্বস্ব কোলাহল নাগরে নাগরীতে।

অথচ,সেই অভ্রের দিকে উত্থান থেকে নীচে
একটি শব্দ নিক্ষেপন কবে হবে
তার প্রতীক্ষায় প্রত্যেকটি অপার্থিব পাতা
উদগ্রীব--

ঝিনুকের বুকে স্বাতী নক্ষত্রের জলের মতো
আশ্চর্য তার বীর্যপাত
কতকল্পকাল পরে একবার হয়,
কোন পাতায় পড়ে ?

রতির আগুন থেকে আরতির আলো ফুটে ওঠে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর