বন্ধন মুক্তি কবি মহারাজ জগদিন্দ্রনাথ রায় ১৩২৩ বঙ্গাব্দে (১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, কবির “সন্ধ্যাতারা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
. আমার এ কি হল দায়, এই পথে যায় চিকন কালা . চাইতে নারি হায় ! ওগো এ কি বিষম জ্বালা, কেন দিবানিশি মোহন বাঁশী . বাজায় মোহন কালা? আমি কেমনে রই ঘরে আবার কুঞ্জপথে যাই কেমনে . কাল-ননদীর ডরে? হানি’ লাজের মাথায় বাজ, . জল ফেলে জল আনতে যাওয়া ---- . সেকি সহজ কাজ?
এই দিনের পরে দিন, . গলায় শিকল কাল কাটানো . বড়ই যে কঠিন। ও তার দুটি পায়ে ধরি, . বলে আয় তার বাঁশের বাঁশী . রাখুক বন্ধ করি। আর নয়ত একেবারে . হাত ধরে, সে নিয়ে চলুক . গোপ্-সমাজের পারে। আমি তারি চরণ ধরি’ . গোপ-গোয়ালার গোঁয়ার শাসন . ভয় কি আমি করি?
কি ফল হলো মথুরাতে মাতুল বধে’ এসে, রুক্মিণী আর সত্যভামার কি ফল ভালবেসে। কি ফল আমার সন্দীপনীর বেদ-বেদাঙ্গ পাঠে, ছিলাম ভাল ব্রজভূমির গোচারণের মাঠে। পার্থ কুরুক্ষেত্রজয়ী---তাতেই কিবা ফল, রইবে শুধু ভারত জুড়ে নারীর অশ্রজল ; দ্বারাবতীর স্বর্ণপুরী---হাই ক'দিনের তরে ! লক্ষ কোটি বংশ যদুর---সবাই যাবে মরে’।
চোখের জলে নন্দ-নয়ন অন্ধ হল প্রায়--- যশোমতীর গৃহের বাতি আর জ্বলেনা হায়, গোপীর গৃহে মাখন ননী কেইবা চুরি করে, আর কে বাজায় মোহনবাঁশী রাধার নামটি ধরে ইচ্ছা করে---সকল ছেড়ে ব্রজেই কিরে যাই, দুষ্ট নাশন, রাজ্য-শাসন---কিছুরই কাজ নাই ; আমার রাধার গলা ধরে বেড়াই বনে বনে, জীবন-মরণ বাঁধা যে মোর সেই চরণের সনে।