কবি কুমকুম বৈদ্যর কবিতা
*
একলা জ্বলার দিন
কবি কুমকুম বৈদ্য

আজ সারাদিন রৌদ্রকরোজ্জল
গাছেদের আজ রোদে ভেজবার ডেট
আমি ও আমার চাতক আঁখির কোণ
রোদে পোড়া কোনো মরুভূমি মরশুম

তুমিও তো আজ ছায়ার আশায় বাঁচো
রোদ পিঠে মেখে আমি তো বাড়াই ঘাম
বড় গাছেদের নিরাপদ আশ্রয়
তোমার শরীরে নিরাপত্তার দাম

ভেজা কার্নিসে মনমরা আলো আসে
বুকের ভিতর আমার শহর কাঁদে
সাদা আর নীলে অদ্ভুত নোনা ধরা
জল রঙ নিয়ে কারা যেনো পথ হাঁটে
আগামী জন্মে শহর মাতাবে যারা

তুমিতো আমায় ছেড়ে গেয়েছিলে কবেই
তোমার সাথে রোদ পোহানোর ঋণ
কাতর চাতক আকন্ঠ ডেকে চলে
আজ তো আমার একলা জ্বলার দিন

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মিলনান্তক ব্ল্যাকহোল
কবি কুমকুম বৈদ্য

আমার যত সাহস ছিল জমা
শীতের দিনের গরম কোটের ভিতর
ক্ষুদ্র এই প্রাণে সঞ্চার করেছে জীবন
অন্ধকার মহাশূন্য মিলনাত্মক ব্ল্যাকহোল
.
তোমার উপেক্ষা শীতল ব্যবহার
অনুভবে খেলা করে ওই দুটি চোখ
তুমিই এই ধরিত্রীর প্রতিনিধি
আবার কখন ভাবি স্বর্গের দূত
.
সমস্ত রাত জুড়ে ঘুরে ঘুরে
আহ্নিক গতি করি উদ্‌যাপন
এখন ও তেমন জমে নি আলাপ
তারপর অকস্মাৎ জীবনের ডাক
.
তোমার কণ্ঠে অপূর্ব ছন্দ বন্ধন
রাত্রি ও তাই বড়ো অনিন্দ্য সুন্দর
তোমাকে ছুঁয়ে থাকার চেষ্টা অবিরাম
অজান্তে জীবনে জীবন দান
.
যা কিছু বলেছি আমি মিছিমিছি
অস্থির আবেগ মাখা আস্ত প্রলাপ
পেয়েছি উত্তর তার নিঃশব্দ
ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের মত নিশ্চিন্ত দুই চোখ

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আমাদের পূজো
কবি কুমকুম বৈদ্য

আকাশের গায়ে শরতের মেঘ ভাসে
ফুটপাত জুড়ে নতুন জামার সুখ
তোমার শরীরে শিউলি গন্ধ জমায়
লাস্ট ট্রামে আমি বাড়ি ফিরে যাই রোজ

ফুটপাত জুড়ে এলো চুম্বন ওড়ে
শহর জুড়ে  পূজোর মরশুম
রাস্তা জোড়া বাঁশের ব্য়ারিকেড
সারারাত ধরে প্যান্ডেলে জাগে ঘুম

আমি নিশাচর, তুমি বিশ্বাস করো
তোমার স্পর্শ আজন্মকাল চেনা
তোমার দুচোখে কোজাগরী পুর্ণিমা
জ্য়োৎস্নায় ভেসে আমি  বেঁচে থাকি রোজ

আজ থেকে হবে নতুন চলার শুরু
জোনাকির থেকে ধার করে আনি আলো
তোমার কপালে সবুজ রঙের টিপ
সময় জিতছে অলিম্পিকের রেস।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
Dejection
কবি কুমকুম বৈদ্য

সন্ধ্যে হলে পাড়ার মোড়ে ফুচকা ঝাল
নামছে রাত, পাড়ায় এখন
Power Cut
বকুল গাছে দু এক খানা জোনাক থাক
পাখিরা সব ফিরছে নীড়ে, অশ্বত্থ গাছ
বারান্দা তে একলা শুধু কফির কাপ
হঠাৎ মনে এক দু মুঠো মন খারাপ
আগের মতই গরম চায়ে এক চুমুক
আগের মতই তোমার জিভ পুড়ল কই?
বরফ জলে জমছে কতক উষ্ণতা
Dejection এর আসল meaning মনমরা

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
নামহীন কবিতা
কবি কুমকুম বৈদ্য

আমি তোকে ডাক দিয়েছি সূর্যালোকে
সবাই কি আর স্পর্শ দিয়ে ডাকতে পারে?

রূপোর কাঠি সোনার কাঠি ছুঁইয়ে দিলে
রূপকথাতে যেমন করে জ্যান্ত করে

আমার থেকে তোমার কাছে পৌঁছে যাওয়া
দৈত্য পুরির গুপ্তধনের চাবির গোছা

এই আলো আর আঁধারিতে মায়ার আলো
আমায় তুমি বাইরে যাবার রাস্তা বলো

জানলা গুলো মুক্ত হাওয়ার মন্ত্র যোগায়
যেমন করে একলা পাখি দল খুঁজে পায়

ঠিক যেভাবে রাজপুত্র দৈত্য মারে
এই আঁধারে ভালোবাসার কেতন ওড়ে

ধার নিয়ে এই ভোরের বেলার অলোর কুঁচি
আমরা সাজাই জ্যান্ত দাবার জ্যান্ত ঘুঁটি

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হুজুগে গাজন
কবি কুমকুম বৈদ্য

পিনাকপানি ডমরু হাতে
ভরা শ্রাবন মাসে
গাজনের বাদ্য়িবাজায়
কৃচ্ছসাধন আশে।

কৃচ্ছসাধন কৃচ্ছযাপন কৃচ্ছ বারো মাস
জলের মতন আমাদের সব পদ্মপাতায় বাস
নন্দী নাচে, ভৃঙ্গী নাচে, নাচে সর্বনাশ-
প্রলয় নাচন ঈশান নাচে
কাঁধে দূর্গার লাশ-

কালীর গাজন সাধন ভজন
বানেশ্বরের বান
ভবতারণ আকুল হয়ে কুল খুঁজে না পান
অকাল ঝাঁপে চড়ক গাছে ধর্মরাজ ও দোলে
শূণ্য়হাতে দণ্ডপাণি আয়ু ভিক্ষা করে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
চাঁদ
কবি কুমকুম বৈদ্য

বিকেল এসে দাঁড়ায় চৌকাঠে,
বারন্দাতে কনে দেখা আলো,
তখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি ঠায়-
সন্ধে বেলার চাঁদের অপেক্ষায় –
চাঁদ ওঠে রোজ পাশের বাড়ির ছাদে,
অলস পায়ে জ্যোৎস্না মাখা গায়ে,
চাঁদের কণা ছিটকে যদি আসে,
জানলা গলে আমার বিছানায়-

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
তুমি
কবি কুমকুম বৈদ্য

তুমি সবার কাছে ভালো
বড় সাবধানে তে খেলো
কোনও শীতার্ত কল তলা
যেন কুয়াশা তে ঢাকা
তুমি সবার অনায়াস
শুধু আমার কাছেই ধাঁধা
একটা আলতো বেলি কুঁড়ি
তুমি রোজ দলছ পায়ে
আমি বসে বসে একা
তোমায় ভীষণ মিস করি
তুমি অনলাইনে এলে
ভাবি আমায় খেয়াল করো
ভুল ভাঙবে আমার কবে
তোমার ব্যস্ত সময় বড়ো
আমার একলা মেয়ে বেলা
কাটছে শুধু একা
যদি দু এক খানা কথা
দূরে পাইন গাছের সারি
তুমি শান্ত ঝোড়ো হাওয়া
এসে আমার কাছে থেমো
আমার রঙিন ফানুস চড়ে
আমি একাই ঘুরে মরি
আড় চোখে তাই দেখে
তুমি আসতে যদি কাছে
দুষ্টু শেয়াল যত
পাতছে খালি আড়ি
আমি দরজা তে খিল আঁটি
তুমি অন্য আর কারো

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ভালোবাসা
কবি কুমকুম বৈদ্য

আষাঢ়ের মেঘ ও স্মৃতিচারণ করে
বৃষ্টি হয়ে ফুরিয়ে যাবার আগে
পাখিদের ঠোঁটে নষ্ট নীড়ের স্মৃতি
মনের মধ্য নিরাপত্তার হিসেব
আগুন জ্বালায় ভালোবাসার বুকে
যদিও ধোঁয়ার মধ্যে শ্বাস নেওয়া কঠিন
মনের মধ্যে একশ খানা দ্বিধা
নিজের কাছে নিজেই কঠিন ধাঁধা
তবু ও পৃথিবীর এক কোণে
জমাট বাঁধছে ঠিক ই
নতুন এক ভালোবাসা

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আসা যাওয়া
কবি কুমকুম বৈদ্য

ইচ্ছা করে সারাদিন তাঁকে বড্ড কাছে পেতে
তিনি তো কাল সারাদিন ছিলেন প্রকৃতির কোলে
যত টুকু রোদ তার ভিটামিন ডি র প্রয়োজন
প্রাচীন বট কোল পেতে দিল কয়েক ছটাক ছায়া
ধান ক্ষেতের আলে দক্ষিণ হাওয়ার ফিসফিস
কি আকুল আবেদন , যা কিছু ছিল তাদের আশা
তাঁর জন্য় সে হাওয়ায় ছিল না আক্সিজেন
খানিক এদিক সেদিক আলত ভ্রমণ সেরে
তিনি এখন শুয়ে আছেন আকাশ ছেঁচা ব্য়থার গভীরে
এখানে তিনি কী নিতান্ত একা-
.
মনের সমস্ত মায়াটুকু দিয়ে যদি ছোঁয়া যেত তাঁকে
যদি ঠিক তার পাশটিতে আডুমপিড়ে বসা যেত একা
সমস্ত সংসার পরিপাটি নিপুণতা,নিকোনো উঠোন
শুধু একলা গাছের সারি দাঁড়িয়ে থাকে নেত্র অবনত
আর তিনি চলে যান দূর থেকে দুরে-
একটাই আশা সব কাজ সারা হলে
অখন্ড অবসর যাপনের দিনে
আসবেন তিনি,অপেক্ষা নীরব দিনের

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর