মাথা নত করে দাও হে বলতে বলতে প্রদীপেরর সলতেটা উস্কে দিতে থাকি , আগুন স্বয়ং পুড়ে খাক্ ; বৃষ্টি পড়ছে কিনা বুঝতে চেষ্টা করিনি কোনদিন, লবনাক্ত হয়ে ওঠা ব্যকুলতায় অবাধ্য দুপুরের গন্ধ ভাসে
বাতাসেরর ধানক্ষেত আর একক নৌকার জলোচ্ছ্বাস
মানুষের শূন্যতা কোথায় যেতে পারে ভাবতে ভাবতে নীল আকাশের তারার মতো উড়ে যায় দুধ সাদা বক দুটো চারটে ছটা সারি সারি নিমগ্ন ছায়ায় তীক্ষ্ণ ঠোঁটের কাব্য কৌশল, সাপের ছোবলগুলি পচা জলের মাঠে ডুব সাঁতার কাটে, থৈ নেই এমন নয়-তবুও ভেসে থাকতে থাকতে হয়তো পতন . হয়তো বাঁশির জন্য জীবন মরণ-
এই নাও আমার রাস্তাঘাট, যখন যেখানে খুসি চলে যাওয়া যায় এখান থেকে- একে তুমি মনখারাপ বলতে পারো, অবিশ্বাস করতে পারো শেষ শীত, অথবা দূরে কোন থানকুনি প্রেমিকার পাস দিয়ে বয়ে যাচ্ছে স্যাঁতসেঁতে চাষির রোগা দেহ রোদ মাখতে মাখতে সমস্ত ক্ষয় পেরিয়ে গঙ্গা ফড়িঙের দেশ, আকাশ আলিঙ্গন চায়- চোখের ভেতর জমে উঠেছে ডুব সাঁতারের ভ্যাপসা আঁধার, আর রাতের অস্থিরতায় জোনাকির শুদ্ধ কাঁপন
আশ্চর্য এই, বুকের মাঝে যে বৃষ্টি এখনও জমে আছে ঝরাপাতার দুঃখ নিয়ে সে বাঁধ বাঁধতে চায় সংসারের কাপড় মেলা দড়িতে তখনও গ্রামীণ পতাকা, বুঝে নিতে কষ্ট হয় না তার নিচেই আছে ধানখেত আর সূর্যমুখী জলসেচের শব্দ ভরে যায় বাতাসের স্নায়ু ও শিরায়--
বলরামের জন্য হাহাকারটা বেশি দিন থাকেনি ; ঘাড় সোজা করে যে যার পথ আনতে স্কুল বাড়ির ধারের জমিটায় পুঁতে দিয়েছে কদম গাছ, একই সঙ্গে কেলেঘাইয়ের বুক থেকে গঙ্গামেলার মাটি এনে জীবন লিপিময় করে এগিয়ে গেছে আগুনের কাছাকাছি - যার ফলে অস্বচ্ছ কারণগুলো নিজেদের শিরদাঁড়া থেকে নেমে গেছে মাটির ফাটলে- মাটিই পারে কার্য কারণ লুকিয়ে ফেলতে, তাই একটা কবিতার জন্য প্রকৃতির দুঃসাহস বুকে নিতে হয়, শিরদাঁড়াকে দুরন্ত অর্জুন গাছের তলায় দাঁড়িয়ে মাপতে হয় ঝড়বৃষ্টি - বুকের গোপন ঢেউয়ে অক্ষত হাওয়া ঘর - জমা থাক হিজল গন্ধ-
এখানে বৃষ্টির পূর্বাভাষ, গাছ ও শশ্মান সমেত জীবনের তিন ভাগ--
নীল অপরাজিতা হয়ে ফুটে আছেন আমার ঠাকুমা গাছের আড়াল কিংবা পাখি ডাকের সর্বত্র নির্জনে নীল রং হয়ে দুলতে থাকেন মায়ায় মায়ায় - আরও অনেক স্বপ্নঘোরে সেই কবে আমরা তিন জন, বাবা ভাই আর আমি দিয়ে এসেছিলাম সেখানে - ভিজতে ভিজতে কাঁদতে কাঁদতে কর্পূরের গন্ধের সাথে অগম্য সম্পর্কের মতো রেখে এসেছি কদম গাছের নিচে
ওদিকে মধ্যাহ্ন গড়িয়ে গোধূলি হচ্ছে এত পথ, সীমাহীন মেঘ মেঘ কূজনে নিজের বুকে পুষি সৌম্য আগুন -