মানুষ খুব সহজে বেঁকে যায় বলে' সাত জনমেও মানুষ, মানুষ হয়ে ওঠে না। পর্বত কিংবা বৃক্ষরা কখনও বাঁকে না নদীরা যাত্রা পথে বাঁধা পেলে পথ বদলায় অভিমানে অন্য পথে। গাছেরা জানে না ভালো থাকার ফন্দি ফিকির, গাছেরা ভেঙে যায় কষ্ট বুকে চেপে। কেবল মানুষ ভাঙে না স্বার্থের অমোঘ সুতোর টানে সে একশোবার বেঁকে যায়, একশোবার খোলস বদলায়। মানুষ বেঁকে গেলে তার কি বা থাকে বাঁকি ? পাহাড় নদী গাছেদের কোন বিদ্যাবাড়ি নেই, মানুষ তবে সেখানে কী শেখে ?
ধার করা জীবন নিয়ে বেঁচে আছি শ্বাস টানা রুগী কিংবা মধ্যবিত্ত সংসার। বুক চাপড়াতে চাপড়াতে দিন গুজার করি, নিত্যকার ঊর্ধ্বগতি চাল চুলো টেনশান, দুবেলা দুমুঠো ডালভাতের জন্য যুদ্ধ করি, ভীড় ঠেলে পাবলিক বাসে অফিসে যাই, ধার করা আগুনে বিড়ি টানি রোগ বালাই সন্তানের বাড়তি আবদার... যদিও এসব যুদ্ধে বিজয়ীদের খেতাব অথবা বিশেষ ভাতা থাকে না। চোখের সামনে উন্নয়নের মুলো, পা দুটো আটকে থাকে চৌকাঠে, নাগালের মধ্যে থেকেও অনেক কিছু ছুঁতে পারি না।
সুদাসল কানায় কানায় পূর্ণ, এর বাইরে আর জীবন থাকে না...
ভণ্ডদের মুখ থাকে না হরেক রঙের মুখোশ থাকে। বিক্রি হতে পারলাম না বলে ভাবিসনে আমি ভজার আড়তের ফেরত মাল। ও রকম দু'চারটে মুলো আমার সামনেও মাঝে মধ্যে ঝুলিয়ে দেয় লাট বাহাদুরের চামচারা, যেমন তীর্থে যাওয়া, বিদেশ ভ্রমন, ফ্লাট বাড়ি একটা পদক। শালা আমি কি তোর মতো রে... আঘাটার জল, ঘোমটা দিয়ে লেংটা নাচি? পঁচে গেলেও ভাবিসনে তোর মতো সাত-সাতবার বেচা হবো...
এখন আর কিছুই হয় না আমার, ভীড় ঠেলে হাঁটতে পারি না, বৃষ্টিতে ভেজাদিন কিংবা এক নিশ্বাসে ডুব সাঁতার। চশমার আড়ালে হারিয়ে ফেলি খেই, উঠতে বসতে গাটে গাটে কমজুরি বৃষ্টি নামলে হাঁপাতে হাঁপাতে ঘরে ফিরি, তোয়ালে টেনে মাথা মুছি, হাতড়াই কাঁশির সিরাপ, বাতের বড়ি। কিংবা কোন বিকেল মনে পড়লে ভাঙা সাঁকোর রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকি, উত্তরের আকাশ দেখি। কখনও কিছুদূর রেলপথ ধরে হাঁটি হুইসেল বাঁজিয়ে ট্রেন চলে যায়, বগিগুলো এখন আর গোনা হয়না আমার। ভুলে যাই চাকার নিচে একটা পয়সা দেওয়া। অথচ একটা চ্যাপটা পয়সা আমাকে বেমালুম চঞ্চলসুখ এনে দিত একদিন।
মাঝ বয়সে দিলিপ মাথা কেটে দেলোয়ার হলো সাতপাকের বাঁধন ছেড়ে, এখন সে ঘোমটা সরিয়ে বায়স্কোপ দেখে... রিপন ভালো আছে মাঝে মাঝে দেখা হয়, ডারবি ছেড়ে ঘর পেতেছে বান্ধবীর সাথে, এখন বেনসন ফোঁকে। আর আমি কবিতা করে জীবন চলে ? তাইতো অনিতা'র বাবা বুঝলো না চৌহদ্দি লিখে দিলো রনেনের হাতে। শুনেছি ওদের দুধে ফসলে বারোমাস, ওরা ভালো আছে। দিলিপ সময় করে দেখে যা শিপ্রা বৈদি এখনও কপালে সিঁদুর মাখে। তোরা কি এখনও যাস কৈবল্যধামে ? পাচনের ধোঁয়ার গন্ধ আমার ছেলেবেলা টানে।