কবি নিত্যকৃষ্ণ বসু - কলকাতা বিশ্ববিদ্যায় থেকে এম.এ. পাশ করে কোন্নগর স্কুলে হেডমাস্টার পদে
নিয়োজিত ছিলেন। কবির ‘সাহিত্য-সেবকের ডায়েরী’ থেকে জানা যাচ্ছে যে তাঁর পুত্রের নাম ছিল পঞ্চুরাম।
তিনি তাঁর স্ত্রীর নামের উল্লেখ করেননি। কিন্তু কবি বিপত্নীক ছিলেন। ১৪ই মাঘ তাঁর স্ত্রীর জীবনাবসান
ঘটেছিল। তিনি কোননগরে থাকতেন কর্মসূত্রে কিন্তু তাঁর নিবাস ছিল কলকাতায়, সেখানে সম্ভবত তাঁর
যৌথপরিবার ছিল যাঁদের দায়িত্বে তাঁর শিশুপুত্র পঞ্চুকে রেখে তাঁকে কোননগরে গিয়ে কর্মসূত্রে থাকতে হতো।
১লা জানুয়ারী ১৮৯৪ এ (১৮ই পৌষ ১৩০০) কবি নিত্যকৃষ্ণ বসুর সখা-সম্পাদক নবকৃষ্ণ বাবু (পদবী জানা
যায় না) তাঁকে একটি ডায়েরী উপহার দেন। কবি সেদিন থেকেই সেই ডায়েরীতে লেখা শুরু করেন। তা
তিনি কোনও দিন প্রকাশ করবেন এমন কথা ভাবেন নি, কল্পনাও করেননি। এখানে তিনি লিখে গিয়েছেন
তাঁর নিজের মনের কথা, তা কারও পছন্দের হোক বা না হোক। এই ডায়েরীটির শেষ পাতা অর্থাৎ ১৭ই
পৌষ বা ৩১শে ডিসেম্বর অবধি তাঁর লেখা রয়েছে। কবির মৃত্যুর তিন বছর পর “সাহিত্য” পত্রিকার বৈশাখ
১৩১০ (এপ্রিল ১৯০৩) সংখ্যা থেকে তাঁর ডায়েরীর লেখা “সাহিত্য-সেবকের ডায়েরী” নামে প্রকাশিত হতে
থাকে। শেষ বার প্রকাশিত হয় “সাহিত্য” পত্রিকার ভাদ্র ১৩১৫ সংখ্যায় (সেপ্টেম্বর ১৯০৮)। “সাহিত্য-
সেবকের ডায়েরী” প্রকাশিত হবার পর থেকেই তা সুধীজনের দৃষ্টি আকর্শন করে কারণ তাতে বহু বিখ্যাত
মানুষের সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত আলাপচারিতা, তাঁদের সম্বন্ধে কবির অভিমত, খুব খোলাখুলিভাবে লেখা
হয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, নবীনচন্দ্র সেন, গোবিন্দচন্দ্র দাস, আনন্দচন্দ্র মিত্র সহ বহু দেশ-বিদেশের
মনিষী এবং বহু সাহিত্য-কেন্দ্রিক বিষয়কে নিয়ে তাঁর লেখা আছে তাতে, যা পাঠককে সেই সব মানুষদের
একটু ভিন্নচোখে দেখতে বাধ্য করে। যেমন বঙ্কিমচন্দ্র বলেছিলেন যে তিনি স্যার ওয়াল্টার স্কটের আইভ্যান
হো না পড়েই দুর্গেশনন্দিনী লিখেছিলেন, এরকম বহু বিষয় নিয়ে অম্ল-মধুর মন্তব্যও সেখানে পাওয়া যাবে!
সংসদ বাঙালি চরিতাভিধানে রয়েছে যে তিনি “সাহিত্য পত্রিকায় “সাহিতা-সেবকের ডায়েরী" লিখে
সুপরিচিত হন। তা সঠিক নয়। কারণ লেখাটি তাঁর মরণোত্তর প্রকাশিত হয়। তাঁর জীবিতাবস্থাতেই তিনি
কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ “মায়াবিনী”, নাটক “প্রেমের পরীক্ষা” (১৮৭৫?), কবির মৃত্যুর পরে
১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয় গল্পগ্রন্থ “ভবানী” প্রভৃতি। এখানে একটি কথা বলতে হয় যে, প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা
যাচ্ছে যে কবির জন্মের সাল ১৮৬৫ খৃঃ। শিশিরকুমার দাশ তাঁর বাংলা সাহিত্যসঙ্গী গ্রন্থে কবির প্রকাশিত
“প্রেমের পরীক্ষা” নাটকটির প্রকাশকাল দিয়েছেন ১৮৭৫। তাহলে ধরে নিতে হয় যে এই গ্রন্থটি প্রকাশিত
হবার সময় কবির মাত্র ১০বছর বয়স ছিল! এ বিষয়ে আরও তথ্য পেলে প্রকৃত সত্য জানা যাবে।
২৯শে আষাঢ় ১৩০৭ (জুন ১৯০০) তারিখে বিসূচিকা রোগে অর্থাৎ কলেরায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আমরা মিলনসাগরে কবি নিত্যকৃষ্ণ বসুর কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।
উত্স -
- সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার আষাঢ় ১৩০৭ এবং অন্যান্য সংখ্যা।
- শশিভৃষণ বিদ্যালঙ্কার, জীবনীকোষ ৪র্থ খণ্ড, ১৯৩৯।
- শিশিরকুমার দাশ, সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী, ২০০৪।
- সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, ২০১০।
কবি নিত্যকৃষ্ণ বসুর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২১.১১.২০২০ ^^ উপরে ফেরত
...