রাজকৃষ্ণ রায়ের কবিতা
*
অনন্ত শয়নে, হেরো নারায়ণে
কবি রাজকৃষ্ণ রায়
১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত "বাঙ্গালীর গান" গীত সংকলন থেকে
নেওয়া।

॥ সিন্ধু - চৌতাল॥

অনন্ত শয়নে, হেরো নারায়ণে,
হেরো হেরো বিশ্ববাসিগণ |
পীকাম্বর হরি, মধুর মাধুরী,
পাদপাশে বিজলী বরণী ---
কীবা মোহনবেশে, কীবা মধুর হেসে,
হেরি হেরি লীলার স্বপন |

.                     ****************                     
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নধর অধরে আধো সুধাধারা
কবি রাজকৃষ্ণ রায়
১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত "বাঙ্গালীর গান" গীত সংকলন থেকে
নেওয়া।

॥ ঝিঁঝিট - একতালা॥

.        নধর অধরে আধো সুধাধারা
.        ঢালি শশধর লুকালো সই
.        আমি যে পিয়াসী চকোরী অধীর,
.        সুধার পিয়াসা মিটিল কই |
চাঁদ-বদনে বদন রাখি, অধরসুধা অধরে মাখি,
.        প্রেমসোহাগে ঘুমায়ে থাকি,
.        সে আশা মিটিল না ;
.        হতাশ প্রাণে, আকাশ পানে,
.        কেবলই চাহিয়ে রই ||

.                     ****************                     
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যারে তারে কেউ ভালবাসা দিসনে
কবি রাজকৃষ্ণ রায়
১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত "বাঙ্গালীর গান" গীত সংকলন থেকে
নেওয়া।

॥ সিন্ধু - মধ্যমান॥

যারে তারে ও কেউ ভালবাসা দিসনে |
যদিও সর্বস্ব দিস তবু ভালবাসা দিসনে ||
ভালোবাসা অমূল্যধন, এর যোগ্য বিশ্বাসী জন,
.        সীর করে দিয়ে, এর অপমান করিসনে |
.        যে কেউ ভালোবাসে তোরে,
.        পরখ কর তুই নিক্তি ধরে,
তবে ভালোবাসিস তারে, তা নইলে ভুলিসনে ||
আগু পিছু না ভাবিলে, আমার মত পলে পলে,
ভাসতে হবে নয়ন জলে, রূপ দেখে মজিসনে ||

.                     ****************                     
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ফুটল কলি, জুটল অলি
কবি রাজকৃষ্ণ রায়
১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত "বাঙ্গালীর গান" গীত সংকলন থেকে
নেওয়া।

॥ বেহাগ - দাদরা॥

ফুটল কলি, জুটল অলি,
ছুটল নতুন প্রেমের ধারা |
রবির করে, চাঁদের করে,
কচ্চে খেলা দিচ্চে ধরা ||
তমাল ডালে, হেলে দুলে,
উঠল লতা সোনার পারা |
নীল আকাশে, চলল ভেসে,
কিরণ-ভরা উজল তারা ||

.                     ****************                     
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অনন্ত যাতনা ভুগিতে হবে না
কবি রাজকৃষ্ণ রায়
১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত "বাঙ্গালীর গান" গীত সংকলন থেকে
নেওয়া।

॥ কীর্তন॥

অনন্ত যাতনা ভুগিতে হবে না,
অনন্ত আনন্দ খেলিবে প্রাণে |
আমি সবার প্রতি, যে সবার মতি,
সে সবার গতি শুধু এখানে |
দূর ধরাতলে, পাপ-তাপানলে,
পুড়িস কেন রে জীব,
আমা চারি জনে, স্থান দে রে মনে,
স্থান দিলে স্থান পাবি এখানে ||

.             ****************                     
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ধীরি ধীরি বহে মলয় বায়
কবি রাজকৃষ্ণ রায়
১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত "বাঙ্গালীর গান" গীত সংকলন থেকে
নেওয়া।

॥ 'হায় হায় বিধি' - সুর॥

ধীরি ধীরি বহে মলয় বায়,
ধীরি ধীরি ফুল দুলিছে তায়,
ধীরি ধীরি চাঁদ ভাসিয়ে যায়,
হাসিয়ে হাসিয়ে গগন-গায় |
ঝুরঝুর ঝরে চাঁদের হাস,
ভুরুভুরু উড়ে ফুলের বাস,
চাঁদের কিরণে কোকিলার সনে,
রাম-গুণ-গান কোকিলা গায় ||
ছোট ছোট ফুল ফোট ফোট মুখে,
গলে গল রাখি খেলা করে সুখে |
রামলছমন ভাই দুইজন
গলা ধরাধরি করিয়ে যায় ---
আকাশের চাঁদ সরসে ভাসে,
যেন দুই চাঁদ দুদিকে হাসে,
রাম লছমন ভাই দুইজন,
দুই চাঁদ চাঁদ-হাসি বিলায় ||

.          ****************                     
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পাষাণের ভার নয় রে গুরু
কবি রাজকৃষ্ণ রায়
১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত "বাঙ্গালীর গান" গীত সংকলন থেকে
নেওয়া।

.        পাষাণের ভার নয় রে গুরু,
.        পাপের ভারই গুরু অতি |
.        পাপকে আমি ডরাই বড়ো,
.        শিলায় আমার কিসের ক্ষতি ||
.        তিল পরিমাণ পাপের ভার,
.        বইতে পারে সাধ্য কার,
জগৎ কোটি অনেক লঘু, তুচ্ছ পাষাণ রতি রতি
.        কোথায় হরি দাও হে দেখা,
পাপের গিরি মাথায় রাখা, সাধ্যাতীত মোর,
.        পায়ে ঠেলে দাও হে ফেলে
.        পাপের পাষাণ পাপীর গতি ||

.                     ****************                     
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রভাত হইল, ভূবন গাইল
কবি রাজকৃষ্ণ রায়
১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত "বাঙ্গালীর গান" গীত সংকলন থেকে
নেওয়া।

॥ ভৈরবী - চৌতাল॥

প্রভাত হইল, ভূবন গাইল,
জয় জয় জয় রাম |
আকাশ ছায়ায়, ঊষা সতী গায়,
শ্রীরাম মধুর নাম ||
শতদল জলে, ফোটে পরিমলে,
রাম রাম বলে অলি |
রামনাম শুনে উদ্দেশে নলিনী,
রাম-পায়ে পড়ে ঢলি ||
ফোটে শাখে শাখে, ফুল থাকে থাকে,
পাখি বলে রাম রাম বুলি |
জাগো রে সকলে, রাম রাম বলে,
ভকতিকপাট খুলি ||
হরি বল্ হরি বল্ হরি বল্ মন |
ছাড়ো মোহ মায়া ভ্রম ছায়া সংসার-স্বপন ||
( একবার হরি বলো বলোরে )
আমরা প্রেম-ভিখারি প্রেমের হরি,
.        করে প্রেম বিতরণ ||

.               ****************                     
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভ্রমরে বিশ্বাস করে, পদ্মিনীর আঁখি ঝরে
কবি রাজকৃষ্ণ রায়
১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত "বাঙ্গালীর গান" গীত সংকলন থেকে
নেওয়া।

ভ্রমরে বিশ্বাস করে, পদ্মিনীর আঁখি ঝরে |
হূতাশের রূপে মজি, হতাশে পতঙ্গী মরে ||
পুরুষে যে করে আশা, সে নারীর এই দশা,
হৃদয়ের ভালোবাসা নিয়ে সে পালায় সরে ||
প্রাণ মন কেড়ে নেয়, অবশেষে দাগা দেয়,
অবলা সরলা বালা সয় জ্বালা কেমন করে ||

.                     ****************                     
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঘুমন্ত চাঁদের ওই নিরন্ত জোছনা
কবি রাজকৃষ্ণ রায়
১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত "বাঙ্গালীর গান" গীত সংকলন থেকে
নেওয়া।

ঘুমন্ত চাঁদের ওই নিরন্ত জোছনা |
শেষ হাসি হাসি নিশি ও হাসি মুছো না ||
আধো ঘোর আধো ছায়া, প্রকৃতি রাণীর কায়া,
জোছনায় দেখা যায়, সে কায় ঢেকো না ||
প্রকৃতির ছেলে মেয়ে, ফুলেরা শিশিরে নেয়ে,
চাঁদের জোছনা পিয়ে, এখনো হাসে ---
জোছনার হাসি গেলে, ও হাসি রবে না ||

.                     ****************                     
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর