কবি রূপক ঘোষের কবিতা
*
অভীপ্সা
কবি রূপক ঘোষ
রচনাকাল ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৭
কথা দাও তুমি আসবে,
আমায় তুমি ভালোবাসবে।
মনের কথা আমি বলব,
নীরবে শুধু তাই শুনবে॥
নদীর ওই কিনারাতে,
চুপচাপ বসে থেকে ,
উদাস প্রেমিক হয়ে,
তোমার ছবি যাব এঁকে॥
ফিরে চলে যাও যদি,
বলব না কিছু আমি।
দূর থেকে তবু ভালোবাসব,
তুমি যে অনেক দামী॥
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি রূপক ঘোষের পরিচিতির পাতায় . . .
*
পাঠশালা
কবি রূপক ঘোষ
রচনাকাল ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭
গ্রামে বসে পাঠশালা, একচালা ঘরেতে,
পাঠশালা ঘেরা আছে দরমার বেড়াতে।
ঢেকে আছে চারিপাশ, গাছপালা-পুকুরে,
গরম লাগে না তাই,গ্রীষ্মের দুপুরে॥
পাঠশালে ছেলে সব, হাতে নিয়ে আসে বই,
পড়াশুনায় ফাঁকিবাজি, শুধু করে হই-চই।
গুরুমশাই ছাতা মাথায়, পাঠশালে ঢোকে যেই,
ছেলেগুলো চুপচাপ,মুখে কোন 'রা' নেই॥
তালপাতার পাখা দিয়ে, হাওয়া খায় সজোরে,
ছিপছিপে বেত নিয়ে, বসে আছে চেয়ারে।
এরপরে গুরুমশাই, নামতা টা পড়ছে,
দুলে দুলে, সুর করে, ওরা তাই বলছে॥
খাতাগুলো বার করে, অঙ্কটা লিখে নে,
মন দিয়ে তাড়াতাড়ি, অঙ্কটা কষে নে।
এই বলে গুরুমশাই, মাথা রাখে চেয়ারে,
ঘন ঘন নাক ডাকে, কি যে সুর আহা রে!
এই ফাঁকে ছেলেরা,গুটি গুটি বেরিয়ে,
কাঁচা আম পেড়ে খায়, নুন দিয়ে মাখিয়ে।
তারপরে মেতে ওঠে, গল্প আর খেলাতে,
ঠেলাঠেলি, হাতাহাতি তাও চলে ঘরেতে॥
হঠাৎ জেগে বলে, অঙ্কটা কষেছিস?
খাতাগুলো দেখা দেখি, কি তোরা শিখেছিস?
এরই ফাঁকে ঢং ঢং, ঘণ্টা যেই বাজলো,
আজ নয় কাল হবে, বলে বাড়ি ছুটলো॥
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি রূপক ঘোষের পরিচিতির পাতায় . . .
*
অব্যক্ত প্রেম
কবি রূপক ঘোষ
রচনাকাল ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭
আঁচল উড়িয়ে, হলুদ শাড়িতে তুমি,
হিল্লোল তুলেছ আনমনে।
খোলা ওই কালো চুল দমকা হাওয়াতে তাই,
অবিরাম পড়ছে মুখপানে॥
লাজে রাঙা, স্নাত বেশ,
সৌরভ ছড়ালে তুমি।
স্পর্ধিত চলনে তোমার,
মুগ্ধ হয়েছি আমি॥
কাজল নয়না হরিণী যে তুমি,
গোলাপ পাপড়ির ডানা মেলেছ ।
অধর পল্লবের মৃদু হাসি দিয়ে,
হৃদয় কে জয় করেছ॥
স্পর্ধা হয় নি তোমাকে জানার,
দূর থেকে যৌবন আমি দেখেছি।
নুপুরের রিনিঝিনির আবেশ কে নিয়ে সাথে,
হৃদমাঝারে তোমায় ধরে রেখেছি॥
নাই বা পেল প্রেম পূর্ণতা,
নীরবে রচিব তবু গাথা।
যেদিন দেখেছি তোমায়,
নিয়ে তার স্মৃতি কথা॥
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি রূপক ঘোষের পরিচিতির পাতায় . . .
*
প্রেম
কবি রূপক ঘোষ
রচনাকাল ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭
রিমঝিম বরষায়
চল পড়ি বেরিয়ে।
যেখানেতে মন চায়
সব চোখ এড়িয়ে॥
নদী বহে কলকল
ঝরনার ঝরঝর।
কান পেতে শুধু শোনো
পল্লব মরমর॥
হাত ধরাধরি করে
চল যাই আনমনে।
কথা থাকবে না মুখে
বুঝে নিতে হবে মনে॥
এক হয়ে গেছে মন
মনে তাই লাগে ঢেউ
ভালবাসা একাকার
কাছে পিঠে নেই কেউ॥
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি রূপক ঘোষের পরিচিতির পাতায় . . .
*
ঝড়
কবি রূপক ঘোষ
রচনাকাল ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭
ওই দেখো কালো মেঘে,
আকাশ টা ঢাকছে।
শনশন শব্দে,
ঝড় বুঝি আসছে॥
গাছ গুলো দুলে দুলে,
গায়ে গায়ে পড়ছে।
কড়কড় করে ওই,
মেঘ শুধু ডাকছে॥
পাখি সব পাখা মেলে,
দ্রুত উড়ে যাচ্ছে।
নিরাপদ আশ্রয়ের,
শুধু খোঁজ করছে॥
মাঠেতে চরছে গোরু,
ডাক খালি ছাড়ছে।
খোঁটা খানা খুলে ফেলে,
ফিরে যেতে চাইছে॥
আম গাছ থেকে ওই,
কাঁচা আম ঝরলো।
ওই দেখো মড়মড়,
গাছ ভেঙে পড়লো॥
নদীতে ঢেউ দেখো,
ফুলে ফেঁপে উঠছে।
মাল্লার দল সব,
হরিনাম জপছে॥
কাঁখেতে কলসি নিয়ে,
কুলবধূ আসছে।
ঝড়ের দাপটে ওই,
আঁচল টা উড়ছে॥
লজ্জায় কুলবধূ,
দেহখানি ঢাকছে।
দ্রুত পায়ে আল বেয়ে,
ঘর পানে ধাইছে॥
মাঠ-ঘাট ধুলোময়,
ঝড়ের ওই দাপটে।
বৃষ্টির ফোঁটা বুঝি,
ঝরে পড়ে মাটিতে॥
মেঘ খানা সরে গেছে,
ঝড়টা ও থেমে গেছে।
নেই কোনো ভয় আজ,
আনন্দ এসে গেছে॥
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি রূপক ঘোষের পরিচিতির পাতায় . . .
*
আশা
কবি রূপক ঘোষ
রচনাকাল ১৫ই বৈশাখ, ১৪২৭
মন যেটা চাইছে, পারছে না করতে,
মনে তাই বিদ্রোহ জাগছে।
চেগুয়েভারা আর ফিদেল কাস্ত্রোকে ,
বারবার মনে তাই পড়ছে॥
মুছে যাক দুর্নীতি, ঘুচে যাক বিদ্বেষ,
এটুকুই পারি শুধু চাইতে ।
বঞ্চিত, অসহায় নরনারী যতসব,
পারে যেন জীবনের জয়গান গাইতে॥
মনে আশা জেগে থাকে, যখন তাকিয়ে দেখি,
দেশে দেশে বিপ্লবের ধ্বজা ওই উড়ছে।
মরে ও মরে নি 'চে',
ইতিহাস আজ ও তার বিদ্রোহের জয়গান গাইছে॥
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি রূপক ঘোষের পরিচিতির পাতায় . . .
*
আগমনী
কবি রূপক ঘোষ
রচনাকাল ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭
শরতের নীল আকাশ সোনা মাখা রোদ্দুর,
মাঠে মাঠে ছেয়ে আছে ঘন সাদা কাশ ফুল।
ভোরের ঘাসে জমে শিশিরের বিন্দু,
কোথা থেকে ডেকে যায় শিষ দিয়ে বুলবুল।
ভোর রাতে হিম পড়ে গায়ে লাগে শিহরণ,
শেফালীর সুবাসেতে ভরে ওঠে দেহমন।
আগমনী সুর ভাসে মনে তোলে হিল্লোল,
আসবে 'সবার মা' ঘরে ঘরে জাগরণ।
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি রূপক ঘোষের পরিচিতির পাতায় . . .
*
আমফান
কবি রূপক ঘোষ
রচনাকাল ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭
সাইক্লোন আমফান,
হয়ে তেজে বলিয়ান্ ।
বাংলাতে ঢুকে এসে,
আঘাতটা হানে শেষে॥
ঝড়ো হাওয়ার গতিবেগ,
বেড়ে চলে উদ্বেগ।
কত চাল উড়ে যায়,
গাছ -পালা ভেঙে যায়॥
কাঁচা বাড়ি পড়ে ধসে,
হাহাকার নেমে আসে।
বাঁধ ভাঙে তোড়েতে,
জল ঢোকে বাড়িতে॥
ভাঙে কত জেটি- ঘাট,
বানভাসি মাঠ ঘাট।
নোনা জলে ডোবে ক্ষেতি,
ফসলের হল ক্ষতি॥
মাথা 'পরে নেই ছাত,
খোলা মাঠে সারারাত।
খাবে কি তা জানে না,
পেট খিদে মানে না॥
চিড়ে-মুড়ি-গুড়-খই,
পায় যদি তাই সই।
হারিয়েছে বাড়ি-জমি,
ঠিকানাটা পরভূমি॥
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি রূপক ঘোষের পরিচিতির পাতায় . . .
*
গাজনের মেলা
কবি রূপক ঘোষ
রচনাকাল ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭
গাজনে বসেছে মেলা মাঠের এক ধারে,
পসরা সাজিয়ে দোকানী বসে সারে সারে।
কেউ বেচে তেলে ভাজা, কেউ ভেলপুরী,
কেউ বেচে জামা কাপড়, কেউ মনিহারী॥
কত কিছু বেচা-কেনা চলছে মেলায়,
কিছুই থাকে না পড়ে সহজে বিকায়।
ফুচকার দোকানেতে মেয়েদের মেলা,
গাজনেতে একপাশে চলে লাঠি খেলা॥
ভেঁপু বাঁশি নিয়ে মুখে কচি-কাঁচা দল,
চলেছে বীরের মত হাতে পিস্তল।
ভেঁপুর আওয়াজে তে কানে লাগে তালা,
ওদিকে হয়েছে শুরু গাজনের পালা॥
ঘুরছে নাগরদোলা লেগে গেছে ভীড়,
চড়ার সময়ে কেউ ভয়ে অস্থির।
গাজনে সেজেছে 'সঙ' দেবতার বেশে,
দিচ্ছে প্রণামী তাদের সরল বিশ্বাসে॥
কবিয়াল করেছে শুরু কবির লড়াই,
মন দিয়ে কবি গান শুনছে সবাই।
হই-চই থেমে আসে যত বাড়ে বেলা,
চুপচাপ হয়ে পড়ে গাজনের মেলা॥
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি রূপক ঘোষের পরিচিতির পাতায় . . .
*
লিপিকা
কবি রূপক ঘোষ
রচনাকাল ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭
দেখিনি লিপিকা তোমাকে কতদিন,
হারিয়ে গেছ তুমি বহুদিন।
নীল বেশে ধরা দিয়েছিলে তুমি,
কতবার তোমায় লুকিয়ে দিয়েছি চুমি॥
তোমাকে কাছে টেনে লিখেছি প্রেমের কথা,
আজ ও মনে পড়ে পুরানো দিনের সেই গাথা।
তোমাকে পাশে নিয়ে কাটিয়েছি কত বিনিদ্র রাত,
লুকিয়ে তোমাকে স্পর্শ করেছি সারারাত॥
তোমার বিরহে হয়েছি যে আমি পাগল,
তোমার আশাতে খুলেছি মনের আগল।
অভিমান করে তুমি অভিমানী, গিয়েছ হঠি,
'"লিপিকা " আমার নীল খামে ভরা ছোট চিঠি॥
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি রূপক ঘোষের পরিচিতির পাতায় . . .