কবি শম্ভু রক্ষিতের কবিতা
*
উপজ্ঞা
কবি শম্ভু রক্ষিত
১৯৮২ সালে প্রকাশিত,
উত্তম দাশ, মৃত্যুঞ্জয় সেনপরেশ মণ্ডল সম্পাদিত, “কবিতা : ষাট
সত্তর” সংকলন, ১৪৯-পৃষ্ঠা।

সরল এবং রসিকতাপ্রিয় বলে আমাদের বেশ সুনাম
আমদের ভুল, হঠকারিতা আমাদের নিজস্ব নয়

আমরা কবিরা যদি বেশ করে দাড়ি গোঁফ কামিয়ে, এমন কি ব্যারেজ ডিঙিয়ে
ভরাপেটেও বিদ্রুপের ধরনে নিজের নিজের আসন গ্রহণ করে বসি?
.                                                        --- সেটাই তো রীতি!

আমাদের সাক্ষীগোপাল চেহারা ছাপাখানার বর্ধিত বর্ণে হঠাৎই উঠে আসে
.        আমাদের চতুষ্কোণ দেয়ালগুলো, ভেটেরাখানা
.                ও আমাদের সাক্ষর গিঁটটাকে, যারা ধরে টানতে শুরু করে
.        তাদের সাঁট উৎকট সাঁড়াশি কেউ ধরতে পারে না

আমাদের বর্ণিনীর পিঠছাড়া কিছু দেখা যায় না

আমাদের মতলবটা কোন ঝলমল প্রতিষ্ঠানের? ---না।
আমরা চাই বর্গীয় বেতন? ---তাও না।

মার্কস-লেনিনে সাঁতলানো-বাচ্চারা বলে আমাদের, বুর্জোয়া
ধুত শালা, আমরা কিছুই না।

আমরা আমদের সব কিছুকে সাঁচি করে বর্ণনা দিয়েছি
আমরা যাদের কাজ শিখিনি তাদের মত জীবনযাপন করিনি
আমাদের বইগুলি : ‘শিশুদের ওপর রচিত’
.                ‘একটা অবাস্তব আদর্শবাদের আজগুবি কল্পনামান্র'
.                ‘এখানে শিশুরাই সব বক্তা' বলতে পারেন

আমরা শখের প্রগাতিনামা কম্যুনিষ্টও নয় ভাই, লাল ধ্বজাও নেই আমাদের
যদিও কেউ, অ.মাদের সীসার গোলক ভেবেছেন

.        কেউ : আমাদের বদান্য পরিকল্পক লেখক
.        কেউ, এদের জীইয়ে রাখার কোনো মানে হয় না
.        কেউ, এরা জাল্ম, এরা ফিকে বিবর্ণ ফিতেয় বাঁধা।
.                কাগজের গোল টুকরো বানিয়ে টিটকিরি ছুঁড়েছেন

আমরা চিমড়ে বয়সে একটা ঢাকনায় নিজেদের পুরেছিলাম
বলাবাহুল্য : পুলিশ, বিস্কুটের ব্যবসায়ী, সাহিত্যিক, সম্পাদক
.        ও জালিকের দল আমাদের বহাল অনুসরণ করতে আসে না

.              ****************             
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আমার স্ত্রী
কবি শম্ভু রক্ষিত
১৯৮২ সালে প্রকাশিত,
উত্তম দাশ, মৃত্যুঞ্জয় সেনপরেশ মণ্ডল সম্পাদিত, “কবিতা : ষাট
সত্তর” সংকলন, ১৪৯-পৃষ্ঠা।

আমার স্ত্রী পুষ্টিকর দ্রব্যে সমৃদ্ধ যেন এক উদ্ভিদাণু
আমার শূন্যগর্ভ উক্তিতে সুমুদ্রিত মোমের ছাপ

তার কণ্ঠস্বর অতি গম্ভীর, ঈষৎ কর্কশ
তার মুখের ডৌলটা নিরেট, রঙটা অর্থময় সাদা

আমার স্ত্রীর অপ্রত্যাশিত সব উদ্যোগ, উদ্বেগ
আর তার অপরূপ ভাগ্য

সে সৌহার্দ্য আঁধারে ভূমিকম্পনের পবিত্র অনুষ্ঠান করে প্রতিনিয়ত
আর উত্তুঙ্গ সমুদ্রের ঢেউয়ে আমার কীর্তিকর-দিওতিমাকেও বার্নিশ করে

তার শোলার জুতো, কাঁচা রেশমের দস্তানা
তার ছত্রিশ ব্লাউজ ধীরে শাস্তভাবে
.                মাঝে মাঝে বিরতি দিয়ে কথা বলে

আমি তাকে কী আর প্রেমিকার মতো ব্যবহার করতে পারি!

আমার উদ্ধত ঘোষণা : বহু শিলাবৃষ্টির আঘাতে
.                তার রূপ কুৎসিত আর চরিত্র আঞ্চলিক হতে পারে না
তার সৌরভ : শশিকান্তর স্পর্শ-ঝলক

বর্ণিত : আমার স্ত্রীর গা-বাঁচানোর প্রশ্রয় নেই
.                পৈশাচিক কোনো কৃপণতা নেই
আমি শেক্সপিয়ারওয়ালা হয়ে তার কাছে ভজনপূজনও শিখিনি

যেটা বাহুল্য : আমার স্ত্রীর গোমড়া মুখের বিরক্তি শুত্রতা
.                দেখতে দেখতে আমার চোখ লংক্লথ হয়ে যাচ্ছে

সত্যি, আমি তার স্বামী হবার অনুপযুক্ত

.              ****************             
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
তবু তোমার সন্মোহনে জন্ম নিয়ে
কবি শম্ভু রক্ষিত
১৯৮৭ সালে প্রকাশিত,
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়দীপক রায় সম্পাদিত, “এই শতাব্দীর প্রেমের
কবিতা” সংকলন, ১৮০-পৃষ্ঠা।

তোমার সামনে তন্ময় হয়ে বসে আমার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিলাম
আমার নিঃসঙ্গতার সঙ্গ দেবার জন্য তোমার স্বর্ণতন্তুরচিত শাড়ি ধরে কাঁদলাম
এবং লাল পাথরের রোষ থেকে তোমাকে ত্রাণ করার জন্য
.                অস্পষ্ট আবছায়ার মত উড়লাম অকাশে
তুমি জীবিত, মৃত, তোমার গর্ভগৃহের ধুক্ ধুক্ শব্দই শুনতে চেয়েছিলাম
তুমি কার শব আবর্জনার মধ্যে নিক্ষেপ করলে,
.                কার তীর্থপথ মিশে গেল সূর্যের গভীরে
নির্মিত অনুষঙ্গ নিয়ে এখন আনুপূর্ব সম্রাটেরা দীর্ঘদিনের ঘুম থেকে জেগে উঠছে

আমি তো রৌদ্রে তাগের হিরণ্ময় বেদীতে বসে
.                তোমার সাথে যৌনতাবিহীন প্রেম করেছিলাম
অনুভব করেছিলাম সমগ্র মাটির ভিতর পা ঢুকিয়ে দেবার এক ধূম্রবর্ণ আকাঙ্ক্ষাকে
স্বপ্নলোকের অচ্ছাভস্তরে রেখেছিলাম তোমার নিরাময় যতো স্বগতোক্তি
তবু তোমার সন্মোহনে জন্ম দিয়ে বিষণ্ণতা অসুখের মত ভেসে উঠেছে

আমি এক বন্দীর জীবনযাপন করেছি, তুমি আমায় ইসারা দাও
আমি সারাদিন দু'হাত আলোকিত করে লজ্জাহীন ঘুমিয়ে পড়েছি
আমি আলোকবিন্দু সম্মুখে রেখে পরিশ্রান্ত হয়ে শান্ত হতে চাই,
.                আমি প্রায় নগ্ন কৃষ্ণকায় মানুষ,
.                আমি গৈরিক জানালার নীচে মাংসাশী ফুলের মত
.                        তোমাকে গ্রাস করতে আশ্চর্য উৎসুক
আমার শাশ্বত আনন্দ হয়, যখন দেখি তোমার চোখে রূপের আকর

আমি তোমার শাপে জরাগ্রস্ত হয়েছি, তুমি আমার বাধা পেরিয়ে যাও
তুমি স্থির, নিঃশব্দ রক্তমাংস, তোমার যৌনাঙ্গকে আমার প্রণতি
তোমার উন্মুখ স্তনে মুখ দিয়ে আমি ব্যবধাহীন বেঁচে রয়েছি

আমি এতদিন আত্মাতে বিশ্বাসী ছিলাম, তোমায় গর্ভবতী করে রেখেছিলাম
আমি চন্দ্রমাশীতল রাত্রে খুঁজেছিলাম তোমার গাল আমার গলার পাশে
আমি উত্তর জলোচ্ছাসে তোমাকে ভাসিয়ে দিয়ে বলেছিলাম :
.                        সব মানুষ জন্মকাল থেকে সমান

.                           ****************             
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
প্রিয় ধ্বনির জন্য কান্না
কবি শম্ভু রক্ষিত
২০০৪ সালে প্রকাশিত,
অজিত বাইরি সম্পাদিত, “দুই বাংলার শ্রেষ্ঠ লেখকদের ১৫০
বছরের প্রেমের কবিতা” সংকলন, ১০৯-পৃষ্ঠা।

.                                           ****************             
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
তুমি ঈশ্বরকন্যা, তুমি আমাকে 'বিশুদ্ধ কবির জনক হতে সেদিন শেখালে
বাক্তিগত মৌলিক দৃশ্য থেকে ধূসর বিষয় নিয়ে আমি, ব্যক্ত অব্যক্তের
অবাস্তব মুহূর্তের স্বতন্ত্র আমি, আমার গভীরতর সাম্রাজ্যে
তুমি আছ, তুমি নেই

তোমার আশ্চর্য হবার মতো বিশুদ্ধপ্রীতি, কৃত্রিম পদ্ধতিতে আকাশে
ওড়ার ব্যাপারে তুমি বয়সে প্রবীণ
তুমি ঈশরকন্যা, অত মেহনত ও অর্থব্যয় পণ্ড করে কেন ভেসে যাবে
যখন ধাবমান দিনে বস্তুপিণ্ড ও ধোঁয়া-ঢাকা বরফ আবিষ্কার
তুষার ঝড়ে আমি নিজ মর্তসীমা চূর্ণ করে তোমারই জগতে প্রবেশ করেছি
সাদা অস্বচ্ছ ধোঁয়া ও শৃগালের গুঞ্জরণ নিয়ে
প্রলয়ের আকর্ষণীয় স্বচ্ছ পর্দার মতো আন্দোলিত তরঙ্গে চলে গিয়ে
অন্য অনেক স্বপ্ন ভুলে তোমাকেই ভেবেছি
তুমি বৃত্তাকার ঘুরে ঘুরে এসেছ, আপাত-অবাস্তব রং যেমন ঘুরে ঘুরে
আসে
তুমি দূরত্বের ধারণা থেকে অতি নিপুণভাবে কখনো এসো না আর
আমি কি বয়সে নবীন?
*
আমি স্বেচ্ছাচারি
কবি শম্ভু রক্ষিত
হাংরিয়ালিস্ট আন্দোলনের কবিতা
তবুও প্রয়াস ওয়েবসাইট-এ ২৯.৫.২০২০ তারিখে প্রকাশিত, মলয় রায়চৌধুরীর প্রবন্ধ “কবি শম্ভু রক্ষিত :
হাংরি আন্দোলন থেকে মহাপৃথিবী”, থেকে প্রাপ্ত।
হাংরি আন্দোলনের সময়ে কবি মলয় রায়চৌধুরী,
“জেব্রা” পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন, তার ২য় সংখ্যায় কবি শম্ভু রক্ষিতের এই কবিতাটি ছিল। এই
কবিতায় কবি বলছেন যে তিনি রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছেনি-শাবল চান।
মিলনসাগরে কবি মলয় রায়চৌধুরীর কবিতার পাতায় যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .


এইসব নারকেল পাতার চিরুনিরা, পেছন ফিরলে, এরাও ভয় দেখায়।
কিছুই, এক মিনিট, কিছুই জানি না, সাম্যবাদী পার্লামেন্টে জনশ্রুতি সম্পর্কে বা।
চণ্ডাল কুকুরদের আর্তনাদ আমাকে ঘিরে— এবং আমাকে আলবৎ জানতে হবে, আলবৎ আমাকে
ডুবতে দিতে হবে, যেতে দিতে হবে যেখানে যেতে চাই না, পায়চারি করতে দিতে হবে ।
আমার গলা পরিষ্কার— আমি স্বেচ্ছাচারী— কাচের ফেনার মধ্যে চুল— স্পষ্ট করে কথা বলতে দিতে হবে
আর কথাবার্তায় তেমন যদি না জমাতে পারি সেরেফ
পায়চারি করে ঘুরে বেড়াবো— সমস্ত পৃথিবীর মেঘলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে।
ক্রোধ ও কান্নার পর স্নান সেরে। ঘামের জল ধুয়ে— শুদ্ধভাবে আমি সেলাম আলয়কুম জানিয়ে
পায়চারি করে ঘুরে বেড়াবো ১ থেকে ২ থেকে ৩, ৪, ৫ গাছের পাতার মতো। রিরংসায়।
মাটিতে অব্যর্থ ফাঁদ পেতে রেখে। রাস্তায়। ব্রিজের ফ্ল্যাটে। ট্রেনে,
যে কোনো কিশোরীর দেহে। শেষ রাতে— পৃথিবীর মানচিত্র এঁকে, কেবল স্হলভাগের
হু হু করে জেটপ্লেনে আমি যেতে চাই যেখানে যাবো না, এর ভেতর দিয়ে
ওর ভেতর দিয়ে— আর। হুম। একধরনের ছেনি-শাবল আমার চাই—
যা কিছুটা অন্যরকম, রবীন্দ্রনাথ বা জীবনানন্দের নয়— ঠিক
খেলার মাঠে স্টার্টারের পিস্তলের মতো— রেডি— আমি বাঘের মতন লাফিয়ে পড়ব। খবরদার।

.              ****************             
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
রাজনীতি
কবি শম্ভু রক্ষিত
হাংরিয়ালিস্ট আন্দোলনের কবিতা
তবুও প্রয়াস ওয়েবসাইট-এ ২৯.৫.২০২০ তারিখে প্রকাশিত, মলয় রায়চৌধুরীর প্রবন্ধ “কবি শম্ভু রক্ষিত :
হাংরি আন্দোলন থেকে মহাপৃথিবী”, থেকে প্রাপ্ত। ইন্দিরা গান্ধির চাপানো এমারজেন্সির সময়ে জেলে
পোরা হয়েছিল কবি শম্ভু রক্ষিতকে। প্রেসিডেন্সি জেলে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে থাকার সময়ে ২ ডিসেম্বর
১৯৭৬ তিনি এই কবিতাটি লিখেছিলেন। মিলনসাগরে কবি মলয় রায়চৌধুরীর কবিতার পাতায় যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .


চ্যান্টার— অশ্ব আর গ্রহদের নিয়ে আমি এখন আর পালিয়ে বেড়াই না
নির্দোষদের বন্দি করার নীতি ধ্বংস করে আমি আমার খনন শুরু করি
এবং বস্তুতঃ এমন একটা বক্তব্য উচ্চকণ্ঠে তুলে ধরতে চেষ্টা করি
ঐন্দ্রজালিক উদোম ন্যাংটো সব বিশ্লেষণকে যা আগেই এড়িয়ে যায়
আমি চিন্তানায়কদের দিকে কখনও তাকাইনি, এখনও তাকাচ্ছে না
তবে জেলের টাইপরা সুপারকে কয়েকবার বলেছি:
আপনাদের শ্রুতিঘোড়াটি একমাত্র ‘সর্বশক্তিমান’ নয়, আপনিও!
বন্দিনিবাসেও দু-দশদিন অন্তর তাই আমার চামড়া ভাঁজ করে শুকিয়ে ফেলা হয়
ভোঁ… ভোঁ… ও অশান্ত অঞ্চল গান শব্দে ‘পাগলি’ বেজে ওঠে…

.              ****************             
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মুক্তিবাদ
কবি শম্ভু রক্ষিত
হাংরিয়ালিস্ট আন্দোলনের কবিতা
তবুও প্রয়াস ওয়েবসাইট-এ ২৯.৫.২০২০ তারিখে প্রকাশিত, মলয় রায়চৌধুরীর প্রবন্ধ
“কবি শম্ভু রক্ষিত : হাংরি আন্দোলন থেকে মহাপৃথিবী”, থেকে প্রাপ্ত। মিলনসাগরে কবি
মলয় রায়চৌধুরীর কবিতার পাতায় যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .


যারা আমাকে ডিগডিগে
আমার রুহকে যুদ্ধের হিরো
আমার ঈশ্বরকে অনিষ্টজনক
আমার কবিতাকে
চাকচিক্যময় আভিজাত্য বা বিক্ষিপ্ত প্রলাপ মনে করে
আহ ভাইরে
তারা বাণিজ্যের অযথার্থ ক্ষমতা দিয়ে
তাদের নাক কান মুখ দখল করে
এই শক্তিশালী প্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্রের
অস্তিত্ব রক্ষা করুক
যারা বালি ফুঁড়ে
আমাকে বাল্যপাঠ শেখাচ্ছে
আহ ভাইরে
তারা মেকি সুন্দরের মিথ্যে সীমারেখা প্রত্যাখ্যান করে
অন্তত একটা ছোটোখাটো দেবদূতের সন্ধান করুক
অকেজো জ্যুকবক্সে স্হির ডিস্ক
জীবনের আর ভাঙা ইঁটের
অশুভ যুদ্ধপরায়ণ যন্ত্রণায় আন্তর্জাতিক কোরাস
আহ ভাইরে
কবরখানা আর সুড়ঙ্গের মধ্যে গুঞ্জন-করা
আস্তাবলের ধূর্ত পিটপিটে মায়া
মধ্যে মধ্যে ফ্যাঁকড়া
আহ ভাইরে
কাঁধে অগ্নিবর্ণের ক্যামেরা
হাতে অ্যান্টিএয়ারক্র্যাফ্ট ট্রানজিসটার
অন্য সম্রাটের দায় যাতে মেটে
মাংস ভেদ করে সচল ফ্রেস্কোর মতো
এই সব রেডিও-টিভি-অ্যাকটিভ যুবশক্তি
মুক্তিবাদ এবং জাঁকজমক খুঁড়ে নৈশ-স্তব্ধতা
আহ ভাইরে

.              ****************             
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
গাঁয়ের চাষাভুষোরা আবার
কবি শম্ভু রক্ষিত
হাংরিয়ালিস্ট আন্দোলনের কবিতা
“শব্দগুচ্ছ” আন্তর্জাতিক ওয়েব-পত্রিকায় প্রকাশিত ( http://www.shabdaguchha.com/ )।
আমরা পেয়েছি তবুও প্রয়াস ওয়েবসাইট-এ ২৯.৫.২০২০ তারিখে প্রকাশিত, মলয়
রায়চৌধুরীর প্রবন্ধ “কবি শম্ভু রক্ষিত : হাংরি আন্দোলন থেকে মহাপৃথিবী”, থেকে প্রাপ্ত।
মিলনসাগরে কবি মলয় রায়চৌধুরীর কবিতার পাতায় যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .


প্রত্যেকটি পৃথ্বীর নিচে একটি করে পাহাড় গড় রয়েছে
এবং কবিতা কি? গাঁয়ের চাষাভুষোরা জানে না,
তাদের যে যা বোঝায় আর কি!
তাদের সবল স্পর্ধার শক্তি এবং গুটিয়ে থাকা ফুসফুস
তাদের ছোট ধাইমার দূরবিন দিয়ে দেখা সৌজন্য
যা বলা যায় তাই করে।
মহার্ঘ ঝুনঝুনি-নাড়া বৃক্ষের উপবাসী চোখ, শহরের সন্মুখভাগ
অতোটা বড়ো নয়
প্রকৃতির আঁচলপাতা কুশল
মিথুনজননীর স্পর্ধা
তাদের বাহুর ওপর দৌড়ে এসে উঠতে পারে—
ভিলাই সঙ্গীত, খেলনাপাতি করাত, চোঙা রেকর্ড, ফোনোগ্রাফ
এবার কি এদের সহযোগ করা যেতে পারে?
ঘুটেগেড়িয়ার ওই ধাতু তৈরি হতে যে উপকরণ লাগে
সে সমস্তই এদের আত্মীয়বর্গের জানা হয়েছে
বাস্তবিক কাছেই বারুদ-ফাঁপা লোহার গোলার মধ্যে
এদের আত্মীয়বর্গ ব্রক্ষা গৃধ্নু ছুরি নিয়ে মহাযজ্ঞ সারছে।
আর যাদের উদাসীনতা আজ দু’হাজার বর্গমাইলের খাদ্যসম্ভারের ওপরে
যাদের দাদামহাশয় কিংবা বড়োদাদা তাদের টিপ্পনীকার ও প্রযোজক
বা যারা ক্ষেপণাস্ত্রের পাথর তারামণ্ডলের কাছ থেকে
এনেছে বলে দাবি করছে
মজা, তাদের যৌবন পড়ে গেছে।
মজা, গাঁয়ের চাষাভুষোরা আবার কবিতার মধ্যে
একটা প্রাকৃত জানোয়ার কুড়িয়ে পেয়েছে
মজা, তারা শহরের মঞ্জিলে এসে পড়লো।

.              ****************             
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মৈত্রীভাবনা
কবি শম্ভু রক্ষিত
হাংরিয়ালিস্ট আন্দোলনের কবিতা
তবুও প্রয়াস ওয়েবসাইট-এ ২৯.৫.২০২০ তারিখে প্রকাশিত, মলয় রায়চৌধুরীর প্রবন্ধ
“কবি শম্ভু রক্ষিত : হাংরি আন্দোলন থেকে মহাপৃথিবী”, থেকে প্রাপ্ত। এই কবিতাটি
মিলনসাগরে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৮ সালে, “
হাংরি জেনারেশন বা হাংরিয়ালিস্ট
আন্দোলন ১৯৬১ ~ ১৯৬৫” পাতায়। মিলনসাগরে কবি মলয় রায়চৌধুরীর কবিতার
পাতায় যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .


আমার সমঘন মগজটি আবার মদিরা ও যবনীগ্রহণ করে
চাষআবাদ, মৎস্যধরা, পলুপোষার কাজে জমায়েত হয়েছে
আমার ভয় লগুড়গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে উড়ে যাবার উপায়
উপকরণ সম্পর্কে বিদেশি বণিক দেশপতির কাছে ভক্তিভাব যোগাচ্ছে
আমার শাসিত দেহটি নিচ্ছে এই অংবিঅং ববম ববম মালকোষের তালিম
আমার অনুবর্তীগণ অধরারুন কুন্দবদন ছোকরাবেশী যুবকের সুরত নিয়েছে
আমার পুরোনো অধভাঙা খেলনা আমার কোষের ভেতরে এসে অদৃশ্য
ফলে আমার কিছু কোষ এখনও অক্ষত, কিছু অতিশয় হতে চলেছে
আমার ক্ষোভ: আমি আজও গাঁদাফুলের মালা গলায় পরে মাঙ্গলিক গান গাইতে পারিনি
(কোষকারীর দেশে তাই আমার চলচিত্ত লোককবিতা নিক্কণ পায়নি)
আমি মদহিভাষী আমি ক্ষুদে প্রফুল্ল আমার বাড়ি
নবদ্বীপে বুনো রামনাথের ভিটের ওপর
আমার মিশরকুমারী শহরে ছুটে বেড়াচ্ছে
হর্ষ! আমার কাছে একটি কালো বাউথাস
একজন সন্ত পিটার আবলার্ড
অত্যন্ত হ্র-স্বীকৃতভাবে, একেবারে কোণঠাসা অবস্হায় অস্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে
আমি উলো বীরনগরের ঢিবিতে ভবেশ্বরীর মমতায় সাজিয়ে রেখে বিব্রত
আমি পরমোৎসবের কার্পেটে শয়পত্রী ফুল এখনও ছড়াইনি
রামাই, সেতাই, নেলাই আমি নয়, ধুমসা ও মাদল সংগতে
ভেসে সরবরাহ করতে চাই ভবিষ্যপুরাণ
বীরহাম্বীরের সঙ্গে মানতের হাতিঘোড়াও আমি গড়তে চাই
হ্যাঁচ্ছো! আমার গলার কোনো কোক-তেওহার ফুলের মালা নেই
কিন্তু মালার বদলে আছে এক বিত্রস্ত থলি

.              ****************             
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সেই ঘাসওয়ালা
কবি শম্ভু রক্ষিত
হাংরিয়ালিস্ট আন্দোলনের কবিতা
বাংলালাইভ.কম ওয়েবসাইটে প্রকাশিত, কবি দীপক রায়ের “দূরের বন্ধু (স্মৃতিচারণ)”
প্রবন্ধ থেকে। মিলনসাগরে কবি দীপক রায়ের কবিতার পাতায় যেতে . . . ।


সেই ঘাসওয়ালা
তার ভাষায়, ‘ঠিকমত কালো, পাতলা’
‘বুজুকুশাস’
জীবানু গজাবার উপায় খুঁজছিল

সেই ঘাসওয়ালা
তিনপায়ে দ্রুত ছুট লাগিয়ে
ভূঁই-এর প্রায় অর্ধেকটা খেয়ে ফেলেছিল

বিস্ময় ০০০ তার দেহ থেকে গজাচ্ছে
তিনটি অপ্রতিহত দ্গদগে লালচে মাথা
সংলাপঃ নিয়তির বচনের সঙ্গে জ্বলতে থাকছে

পদহীন শিশু
ভিখিরি ও মাছির তাড়া খেয়ে
কখনো ছুটে
ঘন ঘিঞ্চি বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ছে

কখনও আওড়াচ্ছে;
আলাউকম আবশো আমহারাঞ্চা আউকাল্লে
সেই ঘাসওয়ালা

আর হাতির শূঁড় যাদের গলায়
যাদের কাছে শিলমোহরের কোন গরু নেই
তাঁবুর আচ্ছাদন বিছিয়ে
তাদের জন্য ছায়ায় আশ্রয় তৈরী করছে
সেই ঘাসওয়ালা

সেই ঘাসওয়ালা
টুকরো টুকরো মেঘেদের ভর করে মরিয়া রহস্যে ফুলছে
ষাঁড়ের চামড়ায় তৈরী শাদা ঢাল নিয়ে
অনেক জলাশয়কে ঘিরে ধরছে

.              ****************             
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর