কবি শম্ভু রক্ষিত - জন্মগ্রহণ করেন হাওড়ায়, তাঁর
মামাবাড়ী ১১, ঠাকৃরদাস দত্ত
 ৯ম লেন-এ। কবির পিতা
নন্দলাল
 রক্ষিত  এবং  মাতা  রাধারানী দেবী। তাঁদের
আদি নিবাস
 পূর্ব মেদিনীপুর  জেলার  সুতাহাটার গ্রাম
বিরিঞ্চিবেড়িয়ায়।
 তাঁর  পুত্র কীর্তিকর এবং দুই কন্যা
দিওত্তিমা ও পৃথা।

পিতা নন্দলাল রক্ষিতের হাওড়ার দাশনগরে লোহার সিন্দুকের কারখানা ছিল আর তিনি চাষাবাদ করতেন।
কবির শিক্ষা শুরু হয় সুতাহাটার পূর্ব শ্রীকৃষ্ণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন হাওড়ার
ব্যাঁটরা মধুসূদন পালচৌধুরী স্কুল থেকে। পরবর্তীতে নরসিংহ দত্ত কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হলেও তা
শেষ করেন নি। কর্মজীবনে সাংবাদিকতা ছিল তাঁর পেশা।
করোনা  ভাইরাসের  জন্য  লকডাউনের  সময়  কবি  ভাল  ছিলেন  না।  দীর্ঘদিন ধরে পারকিনসনস রোগে  
ভুগছিলেন। কবি  বহুদিন  ঘরবন্দি  ছিলেন।  এরই  মধ্যে তাঁর বাড়িতেই তাঁর সম্পাদিত ত্রৈমাসিক কবিতা  
পত্রিকা  ‘মহাপৃথিবী’র  পঞ্চাশ  বছর  পূর্তি  অনুষ্ঠান  হয়।  পূর্ব  মেদিনীপুর  জেলার  সুতাহাটার  গ্রাম  
বিরিঞ্চিবেড়িয়ায় নিজের বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আমরা  
মিলনসাগরে  কবি শম্ভু রক্ষিতের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে  এই  
প্রচেষ্টার  সার্থকতা।



উত্স -   



কবি শম্ভু রক্ষিতের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


৯টি কবিতা নিয়ে এই পাতার প্রথম প্রকাশ -  ১৮.১০.২০২০                                          ^^ উপরে ফেরত   




...
*
হাংরিয়ালিস্ট কবি শম্ভু রক্ষিত    
এমারজেন্সির সময়ে কবি শম্ভু রক্ষিতের কারাবাস    
কবি শম্ভু রক্ষিতের রচনাসম্ভার    
কবি শম্ভু রক্ষিতের প্রাপ্ত সম্মাননা    
হাংরিয়ালিস্ট কবি শম্ভু রক্ষিত -                                                        পাতার উপরে . . .  
হাংরি জেনারেশন বা হাংরিয়ালিস্ট আন্দোলন নামে একটি সাহিত্যের, মূলত কবিতা-কেন্দ্রিক আন্দোলন
সংঘটিত  হয়েছিল  যার  নেতৃত্বে  ছিলেন  
কবি মলয় রায়চৌধুরী,  কবি সমীর রায়চৌধুরী,   কবি শক্তি
চট্টোপাধ্যায়
, কবি দেবী রায় প্রমুখরা। আন্দোলনটি ১৯৬১ সালে শুরু হয়ে ১৯৬৫ সালের মধ্যে শেষ  হয়ে
যায় কারণ ১৯৬৪-তে অশ্লীলতার দায়ে আদালতে মলয় রায়চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এই
মামলা ৩৫ মাস চলেছিল। ব্যাংকশাল কোর্টে প্রথমে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং ধোপে টিকবে না দেখে
অশ্লীলতার দায়ে “প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার” কবিতাটির জন্য
কবি মলয় রায়চৌধুরীর দুশো টাকা জরিমানা
(সেই সময়ে সর্বোচ্চ) অনাদায়ে একমাস কারাদণ্ডের সাজা হয়েছিল। উচ্চ আদালতে এই রায় খারিজ হয়ে
যায় ২৬শে জুলাই ১৯৬৭ তারিখে।

এই মামলার জন্যই কবি শম্ভু রক্ষিতের “ব্লুজ” পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। তার বেশ কিছুকাল পরে উনি প্রকাশ
করা আরম্ভ করেন “মহাপৃথিবী” পত্রিকা।

তবুও প্রয়াস ওয়েবসাইট-এ ২৯.৫.২০২০ তারিখে প্রকাশিত, মলয় রায়চৌধুরীর “কবি শম্ভু রক্ষিত : হাংরি
আন্দোলন থেকে মহাপৃথিবী” প্রবন্ধ থেকে জানা যায় যে হাংরি আন্দোলনের  পক্ষ  থেকে কবি শম্ভু রক্ষিত
“ব্লুজ”
(Blues) নামে একটি পত্রিকা চালু করেছিলেন।  তাঁর  কবিতা  কয়েকটা  হাংরি বুলেটিনেও প্রকাশিত
হয়েছিল। প্রথম যে কবিতা কবি শম্ভু রক্ষিত লিখেছিলেন তার শিরোনাম ছিল “আমি বাঁচতে চাই”। হাংরি
আন্দোলনের সময়ে
কবি মলয় রায়চৌধুরী সম্পাদিত “জেব্রা” পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যায় কবি শম্ভু  রক্ষিতের
যে কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল তার শিরোনাম ছিল “আমি স্বেচ্ছাচারী”।

মিলনসাগরে কবি শম্ভু রক্ষিতের "মৈত্রীভাবনা" কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৮ সালে, “হাংরি
জেনারেশন বা হাংরিয়ালিস্ট আন্দোলন ১৯৬১ ~ ১৯৬৫” পাতায়,
কবি মলয় রায়চৌধুরীর সঙ্গে একটি
সাক্ষাত্কার সহ।
মিলনসাগরে হাংরিয়ালিস্ট আন্দোলনের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
*
এমারজেন্সির সময়ে কবি শম্ভু রক্ষিতের কারাবাস -                                পাতার উপরে . . .  
ইন্দিরা গান্ধির  চাপানো  এমারজেন্সির  সময়ে  জেলে পোরা হয়েছিল কবি শম্ভু রক্ষিতকে। জরুরি অবস্থায়  
ইন্দিরা গান্ধীর  সেন্সারশিপ  আইনের  বিরুদ্ধে  কিছু  করা  দরকার  ভেবে জ্যোতির্ময় দত্ত শুরু করেছিলেন  
‘কলকাতা’ পত্রিকা। তার সহ-সম্পাদক ছিলেন শম্ভু রক্ষিত।
কবি গৌরকিশোর ঘোষের যে লেখা প্রতিষ্ঠিত
কাগজ ছাপতে চায়নি তা ছেপেছিল তাঁদের ‘কলকাতা’ পত্রিকা। তাই সরকারি রোষানলে পড়েন তাঁরা।

তাঁর  উপর  দৈহিক  অত্যাচার  চালানো  হয়েছিল,  কিন্তু  তাঁর  থেকে  কোনও  কথা  বার করা যায় নি।
প্রেসিডেন্সি জেলে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে থাকার সময়ে ২ ডিসেম্বর ১৯৭৬ তে তিনি লিখেছিলেন ‘রাজনীতি’ নামক
কবিতাটি। কবিতাটি আমরা কবিতার পাতায় তুলে দিয়েছি। কারাবাস সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন . . .

দেখুন জেল খুব ভালো জায়গা। এই জেলখানাতে খুব সহজে যাওয়া যায় না। আপনার টাকাপয়সা থাকলে
আপনি পৃথিবী ভ্রমণ করতে পারবেন, কিন্তু আপনি ইচ্ছেমতো জেলখানায় জেতে পারবেন না। আমার তো
জেলখানা খুব ভালো লেগেছে। আমার মনে হয় প্রত্যেক কবি যদি একবার করে জেলখানায় ঘুরে আসতে
পারতেন তো খুব ভালো হত
।”

কবি মলয় রায়চৌধুরী, কবি শম্ভু রক্ষিতের জেল খাটা নিয়ে লিখেছেন . . .
“ . . .
শম্ভু  রক্ষিত  আর  জ্যোতির্ময়  দত্ত  আট মাস জেলে ছিলেন। স্পেশাল ব্রাঞ্চের যে পুলিশ অফিসার  
তাঁদের ওপর  দৈহিক  অত্যাচার করেছিল তার নাম তারাপদ, যে কমিশন ব্যাপারটি অনুসন্ধান  করেছিল,
তার রিপোর্ট থেকে জানা গেছে।

অক্ষয়কুমার রমনলাল দেশাই সম্পাদিত “ভায়োলেশান অফ ডেমোক্র্যাটিক রাইটস”-এর তৃতীয় খণ্ডে লেখা
হয়েছে যে ১৯৭৬ সালে পুলিশ শম্ভু রক্ষিত, জ্যোতির্ময় দত্ত এবং প্রশান্ত বসুর ওপর হাজতে অকথ্য
অত্যাচার করেছিল, তারপর বিনা বিচারে তাঁদের আটমাস আটক রাখা হয়েছিল। গ্রেপ্তার করার সময়ে
তাঁদের বাসস্থানের সমস্ত জিনিস পুলিশবাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে লণ্ডভণ্ড করেছিল। জ্যোতির্ময় দত্তের বাড়ি  
শম্ভু রক্ষিতের হাওড়ার ফ্ল্যাটের তুলনায় অভিজাত ছিল। জ্যোতির্ময় দত্তের মেয়ে সেই সময়ে পুলিশের
আচরণের যে-বর্ণনা দিয়েছেন, তা পড়ে শম্ভু রক্ষিতের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়েছিল, তার হদিশ মেলে,
কেন-না গরিবের ওপর অত্যাচার করে পুলিশ যারপরনাই উল্লসিত হয়। শম্ভু রক্ষিতের তখনকার পোশাক
যেমন ছিল, এখনও তেমনই জীর্ণ ও মলিন, পায়ে রবারের চটি।

এমারজেন্সি উঠে যাবার পর নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধি হেরে গেলে প্রশাসন ও পুলিশের বাড়াবাড়ি অনুসন্ধানের
জন্য কমিশন বসানো হয়। অনুসন্ধান করে রিপোর্ট দেবার জন্য সরকার যে কমিশন নিয়োগ করেছিল, তার
রিপোর্টে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, যে-পুলিশকর্মীদের  বেআইনি  কাজ  সম্পর্কে রিপোর্টে অভিযোগ করা
হয়েছে, তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হোক। শাস্তি দেবার ভার এসে পড়ে ১৯৭৭ সালে গদিতে-বসা বামপন্হী
সরকারের ওপর, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু হাত গুটিয়ে বসে থাকেন, বরং তারাপদ আর রুণু গূহনিয়োগী
কে উঁচু পদে  প্রোমোশানের  জন্যে  সুপারিশ  করেন।  সেই  তখন  থেকেই  বামপন্হীদের প্রতিশ্রুতিভঙ্গের  
কালখণ্ড আরম্ভ হয়
।”
---
তবুও প্রয়াস ওয়েবসাইট-এ ২৯.৫.২০২০ তারিখে প্রকাশিত, মলয় রায়চৌধুরীর প্রবন্ধ “কবি শম্ভু রক্ষিত :
হাংরি আন্দোলন থেকে মহাপৃথিবী”॥
*
কবি শম্ভু রক্ষিতের রচনাসম্ভার -                                                        পাতার উপরে . . .  
কবির প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “সময়ের কাছে কেন আমি বা কেন মানুষ” (১৯৭০),  "সময়ের  
কাছে কেন আমি বা কেন মানুষ" (১৯৭১), “প্রিয় ধ্বনির জন্য কান্না” (১৯৭৩), “উত্তর দক্ষিণ”, “সাম্প্রতিক  
তিনজন”, “সুব্রত রুদ্র শম্ভু রক্ষিত”, “রাজনীতি” (১৯৭৫-৬), “সমসূত্র”, “পাঠক অক্ষরগুলি” (১৯৭৮/১৯৮২),  
“সঙ্গহীন যাত্রা” (১৯৯০), “আমার বংশধররা” (১৯৯৭), “আমি কেরর না অসুর” (২০০৪) প্রভৃতি।

তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে উপন্যাস “অস্ত্র নিরস্ত্র”। এ ছাড়া রয়েছে “শুকনো রোদ কিংবা
তপ্তদিন অথবা নীরস আকাশ” প্রভৃতি।

তাঁর  সম্পাদিত  গ্রন্থের  মধ্যে  রয়েছে  “বিদ্রোহ  জন্ম  নেয়”।  সম্পাদিত  পত্রিকার  মধ্যে  রয়েছে  হাংরি
আন্দোলনের  পত্রিকা  “ব্লুজ”  
( Blues )  এবং  মেদিনীপুর  জেলার  বিরিঞ্চিবেড়িয়া  গ্রাম  থেকে  প্রকাশিত  
“মহাপৃথিবী” পত্রিকা (১৩৭৭ বা ১৯৭০ থেকে )।

আমি মানে যে নিজে শব্দের পায়ের কাছে মনুষ্যত্বের রূপান্তর করে। আমার কবিতায় তাই সৃষ্টি বা প্রেরণার
প্রাবল্য, অঙ্কের মত নির্মাণ ও শব্দের নির্বাচন নয়
' --- নিজস্ব কবিধর্ম সম্বন্ধে কবির অভিমত।
--- উত্তম দাশ, মৃত্যুঞ্জয় সেন ও পরেশ মণ্ডল সম্পাদিত, “কবিতা : ষাট সত্তর”॥
*
কবি শম্ভু রক্ষিতের প্রাপ্ত সম্মাননা -                                                     পাতার উপরে . . .  
কবি মলয় রায়চৌধুরী মনে করেন যে যে হাংরি আন্দোলনে ছিলেন বলেই প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কারগুলো কবি
শম্ভু রক্ষিতকে দেওয়া হয়নি এবং কবি বিনয় মজুমদারকে মৃত্যুশয্যায় দেওয়া হয়েছিল।

কোথাও কোথাও লেখা পাই যে দেশ-বিদেশ থেকে তিনি কিছু সম্মান পেয়েছিলেন। তার মধ্যে একটি হলো
মহাপৃথিবী পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে বাংলা আকাদেমির মধুপর্ণী পুরস্কার।

তাঁর কবিতা দুর্বোদ্ধ হলেও “প্রিয় ধ্বনির জন্য কান্না” কাব্যগ্রন্থটি পড়ে কবি বুদ্ধদেব বসু, কবি শম্ভু রক্ষিতকে
লিখেছিলেন, “বইটি পড়ে আমি অভিভূত হয়েছি”। কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, “সত্তরের আধুনিক
কবিদের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিমান ও সম্ভাবনাময় কবি শম্ভু রক্ষিত”। কবি শঙ্খ ঘোষ বলেছিলেন, “তাঁর
কবিতা সমকালের পাঠকরা সেভাবে অনুধাবন করতে না পারলেও, আগামী দিনের পাঠকরা সঠিক মূল্যায়ন
করবে।”

কবি কখনও কোনও সরকারি আনুকূল্য নেননি। কিন্তু চরম দারিদ্র তাঁর কাব্য সাধনায় বাধা হয়ে উঠতে
পারেনি।