কবি সোনালী গুহ বসুর কবিতা
*
নাভীজন্ম কিংবা পুরুষফুল
কবি সোনালী গুহ বসু

আর –
ভ্রুনও তার কাতরতা রেখে যায় মাটির
দানায়।
যেন দেবদারু আদলে ছোঁওয়া নাভিজন্ম
জলযত্নে তুলে রাখা নোনতা পেরিয়ে
পা-এ পা-এ পেচিয়ে উঠছে বেড়ালতলা
আরো কোন ভোরে, বাইপাসে গজানো
পুরুষফুল!
ক্যালেন্ডার সব লিখে রাখে
নিষেধ পেরোনো চৈত্রদিন
এই নিপুন পাঁড় ভাঙা
আর জড়িয়ে থাকা বুক তোর
ঘামে-নুনে
তবু রোদে দেওয়া শোক
তবু চোখেনখে নীলশিটে
যেন পরে আছে,  
চারহাত শিউলি
পড়ে আছে ষাটআয়ু !

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ও মৌতাত
কবি সোনালী গুহ বসু

যদি শীতকার! তোমায় চৈত্রমাস দিই –
শিউরে ওঠে আকাশ ...
কোমড়কুচিতে নেমে আসে শঙ্খের আয়ু।
পাহাড়ি বাক তখন শরীরময়,

আমার শ্বাস-প্রশ্বাস বেয়ে
গড়ে ওঠে ঝাপসা সুর

যেন আলোর পাশে অবাধ্য ধুপের দল
শেকর হতে থাকে ...

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ফানুস
কবি সোনালী গুহ বসু

বহু বিজারণ সয়ে অঘ্রাণ বিনয়ে আসে, আলের মতো
পশলা নয়।
লাঙলের কুহক এতো পিপাসী, ব্যাকারণ মোহনায় _
আউস আসলে তো চাকার এটেল, মৌফল সব।
...নখে এই আলোবোধ...

সোমের পরশে থাকুক না কেন;

বুকে সিড়ি... ধূপ-এ ধূপ-এ বিপ্লব !

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আবির
কবি সোনালী গুহ বসু

মনে হয় জিওনগাঙ, আঙুলময়
ইমনবোধ থেকে নবান্নের-ই মতো, বহু দোমোহনা রয়েছে
রাতের ওপারে ... ফ্রক-ফ্রক... সাইরেন

এই ইশারা থেকে চাতক নামে না,
খোপার পাজরের মতোই!

গণিতের ময়ূর সরে গেলে ; সিদুরের ভাঙনটুকু......
সেসব হ্রদের পাশে,
আড়মোড়ায় সানাই পেতে বাকি।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ইশারা
কবি সোনালী গুহ বসু

পরম পেরোলেই জরিপ বাগান

শুধু কুয়াশা আর কঙ্কাল! তেপায়া তুলে
উড়ে যায়।

কখনো শর্ষে নামে না এখানে, খুব আলো করে

লাঙলে কি গহন
এটেল হচ্ছে। তবুও হচ্ছে না!
ঘুমের প্রুফ থেকে উঠে আসছে লোন

নথের পরিসীমা পাচ্ছি না
ঘাসের ভুমিকায় ... তখন টিলায় দুপুর।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বাসি কেবিন ও আমি
কবি সোনালী গুহ বসু

কখনও _
স্যাতলানো ঠোটের ওমে বাজিয়ে দেখো
চারবাসি মুসুর। আর
গ্রামোফোনের পাশে তোমার
আধখাওয়া ছবি

আমিও জুড়িয়ে দিতে চাই
ভরা চুরুটে ধোয়া নিভে এলে
খোলা ডেক-এ মেজসারেঙের
ফুটপাথ...

অথচ সূর্যাস্ত হলে শাঁখের আজান লেগে,
থাকে নাবিকের দক্ষিণ পাঁজরে_

কেবিনগুলো নেড়েচেড়ে দেখি কেবল
শীতকার!

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ইতি লিখিত আরো
কবি সোনালী গুহ বসু

চুমু থেকে এক একটা সা তুলে
ল্যাম্পপোস্টের শেকর পর্যন্ত
পাতার সব ধ্বনি ঝরে গেছে

কাদের থালায় নড়ে উঠছে গত প্লাবনের কাহিনী?
আজ শুধুই পিপাসা আর খসখস আলো

গরম পিচ মারিয়ে মারিয়ে দুটো স্লিপার
পাগল পাগল চারগোছা
সুখটানের মৃদু আলো, এবং
অনেক জনতার দিন

হরিণের কাছে
কয়েদির আজান পেয়ে
যাব!

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আঁচল
কবি সোনালী গুহ বসু

আজানে ফিরেছি, ঘর হয়ে!
শোণিত আষাঢ়, নীল কিশোরীর ভেতর পেসার ডাক _

ওই গ্রহনের বাঁকে ফেরার দিন আঁচ হয়ে গেছে।
রেলিং জুড়ে ঋতু বদলের অবকাশ

দক্ষিণে লাবন্য এলে, পড়ন্ত ধূপের ভাঁজে
ইস্পাত নিভলে যে নোনতা ওঠে

তারপর উপোসী ডানা!

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সিড়ি অথবা জুলাই
কবি সোনালী গুহ বসু

তবু _
আয়নার স্রোতে আমি দুপুর হারাই
লালনের পর কত লালন মহিমা
শুধুই জরিপ ও পিপাসা এখানে, ঘ্রান নেই

ভাঙা কুয়ো দুর্বার অনন্ত সংসার

আজ এই শুনশান খুড়লেই, সবাই ঘর হয়ে যাব।
ঠুমরি পেরলেই, গত রাত!

মোমফলে বাউল ও গজল লেগে যাবে _
তখনো দুটো পায়রা, তখনো ভাঙা মই

বিরতির পর নিস্প্রান হলুদ গড়িয়ে যায়...

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
তারপর আলপথ
কবি সোনালী গুহ বসু

তোমারই চাদরের পাশে  বা  বালিশে জড়ো হই
চুরচুর মহুয়া গন্ধে দুইজনা!

ততদুর আমার টিলা পেতে বসে;

নখছাপ বুঝি স্মরনযোগ্য
লেবুসাবানের কলঙ্কে...

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর