মৃত নক্ষত্রটি যদি ঝরে পড়ে তোমার তালুতে তুমি তাকে দেখিও না। বোলো না কারুর কাছে একদিন এসেছিল হিম পাড়ি দিয়ে। সে অগ্রহায়ণ বেলা পড়ন্ত দুপুর গচ্ছিত থাক জলে নিবিড় নদীতে। তুমি তাকে দেখিও না। তার শেষ ইচ্ছেটুকু কেঁপে কেঁপে তোমার তালুতে নিবিড় নৈঃশব্দ্য আশা করে।
আমি অশ্রুলোভী একখণ্ড অভিশপ্ত মেঘ, থমকে আছি আকাশ আর পৃথিবীর ঠিক মাঝখানে। অশ্রুকণার জন্য অঙ্গে ধারণ করতে রাজি আছি দুরারোগ্য রোগ। হাসপাতালে সাদা চাদরের নীচে পা থেকে মাথা অবধি ঢেকে যদি সেই আশ্রুবিন্দুটির দেখা পাই, কথা দিচ্ছি ঝরে পড়ব বৃষ্টি হয়ে তোমার সর্বাঙ্গে শিরায় শিরায়।
জমাট মেঘের থেকে কয়েকটা ফোঁটা বিষুবরেখার দিকে নামতে নামতে এমন এক চোখ খোঁজে যেখানে মরুদ্যান নেই। আছে খালি গ্রীষ্মকালীন বিনিদ্র দীর্ঘরাত; চৌকাঠ ডিঙোলেই মেঘ জানে সেখানেই কয়েকটা ফোঁটা হবে আলুথালু জলপ্রপাত।
আকণ্ঠ তৃষ্ণা নিয়ে মরে যাবে যে নদী শেষবার তার চরে চাঁদ উঠেছিল। পূর্ণিমার পরিপূর্ণ চাঁদ ---স্বার্থপরের মত দেখেছিল নিজের শরীর জলে, দূর থেকে। চাঁদ আর নদীর মধ্যবর্তী শূন্যতায় কয়েকটি চাতক শুধু উড়ে উড়ে যায়, সহজাত ভঙ্গিমায় তৃষিত ডানায়।
মনখারাপের কোন রং হয় না। তার হাতের মুঠোয় থাকে কেবল বিবর্ণ এক বরফকণা। সে কেবলি ভাঙতে থাকে চোখের ভেতর, মনের ভেতর লাল, নীল সব রঙিন পাথর। ভাঙতে ভাঙতে বিছিয়ে দেয় সে বরফ চাদর। ঠিক যেখানে হৃৎপিণ্ড তারই ওপর।
দূরত্বর একটা নিজস্ব স্বরলিপি থাকে। দূরে চলে গেলে আচমকা বদলে যায় কণ্ঠস্বর। পোশাকে চিবুকে লেগে থাকে দূরে চলে যাওয়ার গন্ধ। আলিঙ্গনের মাঝে জেগে ওঠে একটা হেমন্তের ফসল হারানো মাঠ। যে মাঠের ক্ষেত্রফল কেশব নাগের বই কিছুতেই মেলাতে পারে না।